Category Archives: শিক্ষা

ভাষার গৌরব বনাম নিরক্ষরতার লজ্জা

নিরক্ষরতা মানুষের জীবনের প্রাত্যহিক জরুরি প্রয়োজন মেটানোর পথে বাধা হলেও সাক্ষরতা কার্যক্রম প্রকল্প ও দিবসে বন্দি হয়ে পড়েছে।

বিষয়টির চিন্তা আরও উস্কে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমানের সাম্প্রতিক এক ‘ফেসবুক স্ট্যাটাস’। আমার এ শিক্ষক যথার্থই লিখেছেন, ‘বিস্ময়কর ও বেদনাদায়ক হলেও সত্য, যে জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সৃষ্টি করেছে, সে জাতির কোটি কোটি মানুষ পড়তে ও লিখতে পারে না!’ এটা লজ্জারই বিষয়, যে বাংলা ভাষা আমাদের এত আবেগ-অনুভূতির জায়গা; দেশের অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষ সে বাংলার আবেদন অনুধাবন করতে পারছে না। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের ভাষিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মাধ্যম- পড়া ও লেখার ক্ষেত্রে তারা বাংলা ব্যবহার করতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিষয়টি নিয়ে সব পর্যায়ে যে ধরনের সক্রিয়তার প্রয়োজন ছিল, তাও নেই। বাস্তবতা হলো, নিরক্ষরতা মানুষের জীবনের প্রাত্যহিক জরুরি প্রয়োজন মেটানোর পথে বাধা হলেও সাক্ষরতা কার্যক্রম প্রকল্প ও দিবসে বন্দি হয়ে পড়েছে।
ভাষার মাসে সাক্ষরতার আলোচনা বইমেলার কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর বইমেলায় বাংলা ভাষায় যে হাজার হাজার বই প্রকাশ হয়; নিরক্ষর মানুষ সে বইয়ের অক্ষরগুলোর কাছে যেন অসহায়। বাংলার জ্ঞানভান্ডারের এত রস থেকে তারা বঞ্চিত। লেখকদের চিন্তার প্রতিফলন যে বইয়ের মাধ্যমে ঘটে; যে বইগুলো জাতিকে পথ প্রদর্শন করে; যে বই আলোর ইশারা দেয়- যারা পড়তে পারে না, সেগুলো তাদের জন্য যেন অন্ধকার। জাতি হিসেবে এ ব্যর্থতা আমাদেরই। দেশের অধিকাংশ নাগরিক যেখানে সাক্ষর; সেখানে একটি অংশ এতদিন ধরে আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদেরই সদিচ্ছা এবং উদ্যোগের অভাবে! প্রতিদিন যে এত আয়োজন নিয়ে সংবাদপত্র প্রকাশ হয়; সাপ্তাহিক, মাসিক, ষাণ্মাসিক তথা মেয়াদভিত্তিক যে সাময়িকী প্রকাশ হয়; যারা পড়তে জানে না- এগুলো তাদের জন্য নিরর্থক কাগজ। এমনকি ফেসবুক বা মুখবইও তাদের পড়ার সুযোগ কই! বাস্তব জগতের বাইরে ভার্চুয়াল জগৎ যে মানুষের আরেকটি বিশাল জগৎ হয়ে পড়েছে; সেখানেও সবাই নিজ নিজ ভাব প্রকাশ করছে; নিরক্ষরতা তাদের সেখানে প্রবেশের পথেও সবচেয়ে বড় বাধা।
দেশে ঠিক কত কোটি মানুষ এখনও সাক্ষর নয়- তার হিসাব পেতেও আমাদের সাক্ষরতা দিবসের দিকে তাকাতে হয়। কারণ প্রশাসনের তরফ থেকে বলা চলে, ওই একটি দিনেই এ তথ্য জানানো হয়। গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে আমরা দেখেছি, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সে হিসাবে এখনও দেশে অন্তত ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর। Continue reading

করোনায় ঝরে পড়ার পূর্ণাঙ্গ চিত্র কোথায়

করোনায় দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে তিন মাস হতে চলেছে। এ সময়ের মধ্যে করোনার ধকল সামলে শিক্ষা কার্যক্রম কতটা সচল হলো, শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম কেমন হচ্ছে, কত শিক্ষার্থী এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসেনি- এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক কোনো চিত্র সংবাদমাধ্যমে আসেনি। যদিও গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে এবং পরে প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, করোনায় ঝরে পড়াদের তালিকা করা হবে। সেই তালিকার সবশেষ অবস্থা কী, তাও আমরা জানি না।

শিক্ষা প্রশাসন না জানালেও কত শিক্ষার্থী এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসেনি, অর্থাৎ ঝরে পড়েছে তাদের হিসাব নানাভাবে আসছে। বেসরকারি গবেষণা তো বটেই এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সুবাদে দাপ্তরিক হিসাবও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ২৬ নভেম্বর সমকালে প্রকাশিত ‘বইপত্র ছেড়ে ওরা কোথায়’ শিরোনামের প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি, এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় আটাত্তর হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ১৪ থেকে ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া ওই পরীক্ষা শুরুর আগেই ফরম পূরণের হিসাবে দেখা গেছে, ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এর সঙ্গে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর হিসাব ধরলে মাধ্যমিক পর্যায়ে যে একটি বড় অংশ ঝরে গেছে, তা স্পষ্ট। একইভাবে ২ ডিসেম্বর শুরু হওয়া উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায়ও ফরম পূরণের হিসাবে ইতোমধ্যে ১১ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষায় সাড়ে ১৫ হাজার অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষাটি শেষ হওয়ার পর আমরা এখানেও পূর্ণাঙ্গ ঝরে পড়ার হিসাবটিও নিশ্চয়ই দেখব। Continue reading

পরীক্ষার জন্য এখনই তোড়জোড় কেন

সপ্তাহে একদিন নয়, পরীক্ষার পরিবর্তে এখন পূর্ণদমে শ্রেণিকার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে হবে

দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও এখনও পুরোদমে শ্রেণি কার্যক্রম চালু হয়নি। প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণি আর মাধ্যমিকে দশম কিংবা এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাড়া বাকিরা সবাই সপ্তাহে এক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। এক-দুই ঘণ্টা করে ক্লাস হচ্ছে। এরই মধ্যে এক মাস না পেরুতেই কয়েকদিন আগে মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষার রুটিন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। যেখানে শ্রেণি কার্যক্রমই নিয়মিত হচ্ছে না, সেখানে এত দ্রুত পরীক্ষার রুটিন দেওয়া এবং আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার যৌক্তিকতা কী?

এটা ঠিক যে, আগের নিয়মে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। রুটিন অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষায় তিন বিষয় এবং মাদ্রাসায় চার বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। বাকি ৫০-এর ৪০ অ্যাসাইনমেন্ট এবং ১০ নম্বর স্বাস্থ্যবিধি মানা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর। এই রুটিন নিঃসন্দেহে অভিনব। কিন্তু সময়টা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কেবল তিন বিষয় তথা বাংলা, ইংরেজি ও গণিতেরই কেন পরীক্ষা হবে, সে প্রশ্নও এড়াবার সুযোগ কম। এটাকে বলা যেতে পারে মন্দের ভালো। মানে গত বছর যেভাবে অটোপাস দেওয়া হয়েছিল, তা করে পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণিতে পৌঁছার ব্যবস্থা। কিন্তু এ সময়ে কেন। এ সময়ে বরং পদক্ষেপ নেওয়া উচিত শ্রেণি কার্যক্রম আরও বাড়ানো। তথা সপ্তাহে এক দিনের জন্য না করে সবাই যেন নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রুটিনে পরীক্ষার সিলেবাসের কথা এভাবে বলা আছে :’যে সকল অধ্যায় থেকে অ্যাসাইনমেন্ট (বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত বিষয়) দেওয়া হয়েছে সে সকল অধ্যায় এবং ১২/০৯/২০২১ খ্রি. হতে শ্রেণি কক্ষে যে সকল অধ্যায়ের ওপর পাঠদান করা হয়েছে তা ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সিলেবাস।’ প্রশ্ন হলো ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যে পাঠদানের কথা বলা হয়েছে, তা কতটা হয়েছে। সপ্তাহে এক দিন মাত্র ২ বিষয়ে ক্লাস হলে এ ক’দিনে সংশ্নিষ্ট বিষয়ে ২/৩টার বেশি ক্লাস হওয়ার কথা নয়। তারচেয়ে বড় বিষয় গত দেড় বছরে যারা অনলাইনে সেভাবে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেয়নি, তাদের বিষয় কি আমরা ভেবেছি?
Continue reading

শিক্ষার্থীর ‘শিখনশূন্যতা’ পূরণই বড় চ্যালেঞ্জ-অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান

ড. ছিদ্দিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হিসেবে ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৯ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। প্রবীণ এ শিক্ষাবিদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউনিসেফসহ দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং ১৯৮২ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট ডক্টরেট অর্জনকারী ছিদ্দিকুর রহমান কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।

সমকাল: করোনার কারণে দেড় বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। এটাই খোলার যথার্থ সময়?

ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা খুব জরুরি ছিল। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই। যদিও আরও আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যেত। বিশেষ করে গত বছরের এ সময়ে করোনা সংক্রমণের হার আরও কম ছিল। তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা যেত। করোনা অতিমারি আমাদের জন্য নতুন বিষয়। করোনার কারণে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। ওই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো। দেড় বছর ধরে শিক্ষার্থীদের অনেকেই অধৈর্য হয়ে পড়েছে। অনেকেই এ দীর্ঘ সময়ে পড়াশোনার বাইরে রয়েছে। দেরিতে হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে- এটাই স্বস্তির।

সমকাল: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে প্রশাসনের তরফ থেকে বিশেষ নির্দেশনা বিষয়ে আপনার মন্তব্য…

ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা জরুরি। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, এসব নির্দেশনা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাতে বাস্তবায়ন করে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর হওয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রয়োজন নিবিড় পর্যবেক্ষণ।

সমকাল: এখনই কি পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা উচিত?

ছিদ্দিকুর রহমান: না। এখনই পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা ঠিক হবে না। আমরা জানি, করোনার কারণে মাঝখানের দীর্ঘ সময় তাদের রুটিন ছিল ভিন্ন। সকালে ঘুম থেকে ওঠা, স্কুলে যাওয়া, বিকেলে খেলাধুলা করা, রাতে পড়তে বসা- এ রকম নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে ছিল তারা। অনেকে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিল। এখন হঠাৎ প্রতিদিন পাঁচ-ছয় ঘণ্টা করে ক্লাস হলে তারা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে না। পুরোদমে শ্রেণি কার্যক্রমে তাদের মনোযোগী হতে সময় লাগবে। Continue reading

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় আমরা বিশ্ব থেকে শিক্ষা নিইনি

করোনায় সব চললেও দেড় বছর পরও বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

লকডাউন যখন ১১ আগস্ট থেকে লকমুক্ত হলো, তখনও গণপরিবহন কিংবা পর্যটনের ওপর কিছু বিধিনিষেধ ছিল। বৃহস্পতিবারের সরকারি ঘোষণায় সেটিও প্রায় মুক্ত করা হলো। ১৯ আগস্ট থেকে পুরোদমে সব খোলা। যানবাহন চলবে শতভাগ যাত্রী নিয়ে। মার্কেট চলছে আগের নিয়মে। ব্যাংকসহ সব প্রতিষ্ঠান চলছে পূর্ণ কার্যদিবস। কিন্তু যেটা খোলা প্রত্যাশিত এবং জরুরি ছিল, সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই খোলা হয়নি। একটানা এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে প্রশাসনের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত কেবল প্রায় চার কোটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীই দিচ্ছেন না; বরং জাতি হিসেবে আমরা সবাই দিচ্ছি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ১১ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি যদিও বলেছেন, সেপ্টেম্বরেই স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। তারপরও আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের দোলাচলই দেখি। বলাবাহুল্য, যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আমরা দেখেছিলাম গত বছরের ঠিক এ সময়ে। তখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সব খোলা হয়েছিল। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোল হয়নি। এভাবে নীতিনির্ধারকদের সঠিক সময়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে একটানা দেড় বছরের অধিককাল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিশ্বে রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ২২ দফায় ছুটি বেড়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সব যখন মহাসমারোহে খুলেছে, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে কেন এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব? অবস্থার বিচারে ছুটি আর না বাড়িয়ে সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা জরুরি। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে আবাসিক হল খুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলে দিতে বাধা থাকবে কেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি স্কুলের ছুটিও ৩১ আগস্টের পর আর বাড়ানো উচিত হবে না। আমরা জানি, স্কুল খোলার প্রস্তুতি শিক্ষা প্রশাসন ইতোমধ্যেই নিয়ে রেখেছে। কারণ কয়েকবারই খোলার প্রস্তুতি নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং করোনার দোহাই আর না দিয়ে সরকারকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন খুলে দেওয়া উচিত, তার স্বপক্ষে গত মাসে জাতিসংঘের দুটি সংস্থা ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো জোরালো যুক্তি প্রদর্শন করেছে। Continue reading

মাওলানা আজাদ : শিক্ষা আন্দোলনের অগ্রপথিক

শিক্ষা বিস্তারে উজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণে রেখে প্রতি বছর মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জন্মদিন (১১ নভেম্বর) সমগ্র ভারতে ‘জাতীয় শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। যদিও মাওলানা আজাদের খ্যাতি শিক্ষার চেয়েও রাজনীতিতে বিস্তৃত হয়েছে বেশি। তিনি আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’-এর উৎসর্গে লিখেছেন ‘ফর জওহরলাল নেহরু ফ্রেন্ড অ্যান্ড কমরেড’। বলাবাহুল্য, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ও স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সঙ্গে কেবল তার বন্ধুত্বের সম্পর্কই ছিল না, একই সঙ্গে উভয়ই ছিলেন একই আন্দোলনের সহযোদ্ধা। এমনকি নেহরুর মন্ত্রিসভার মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

আনন্দবাজার পত্রিকা তার অবয়ব এভাবে বর্ণনা করেছে, ‘ছিপছিপে চেহারায় রোদচশমা চোখে, কালো টুপি আর ধোপদুরস্ত পোশাক’। আমরা তাকে দেখি মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে। তিনি ১৯১৯ সালে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে মাহাত্মা গান্ধীর অহিংস মতবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে অসহযোগ আন্দোলন সংঘটনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৩ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মাওলানা আজাদ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে সভাপতি নির্বাচিত হন।

মাওলানা আজাদের সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও রাজনীতি সমানতালে চলেছে। এর মধ্যেও তিনি শিক্ষাচিন্তা সযতনে লালন করেছেন। ২০১৫ সালে প্রকাশিত ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার ফ্রাইডে রিভিউতে ‘মাওলানা অ্যান্ড মাও’ শিরোনামের একটি প্রবন্ধে বলা হয় মহাত্মা গান্ধী মাওলানা আজাদকে ‘দ্য এম্পেরোর অব লানির্ং’ বলে জ্ঞানের দিক থেকে প্লেটো, অ্যারিস্টটল ও পিথাগোরাসের সমমর্যাদার ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। Continue reading

টিকা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলুক- ড. ছিদ্দিকুর রহমান

ড. ছিদ্দিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হিসেবে ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউনিসেফসহ দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ও ১৯৮২ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট ডক্টরেট অর্জনকারী ছিদ্দিকুর রহমান কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন

সমকাল: করোনা দুর্যোগের প্রভাব শিক্ষা খাত কতটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বলে আপনি মনে করেন?

ছিদ্দিকুর রহমান: গত বছরের মার্চ মাসে দেশে যখন প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়, স্বাভাবিকভাবেই সবার মধ্যে একধরনের আতঙ্ক ছিল। আমরা দেখেছি, একে একে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। লকডাউনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর ধীরে ধীরে সব খুললেও এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু হয়নি। এখন বলা চলে সবই প্রায় স্বাভাবিক। হাট-বাজার, কল-কারখানা, অফিস-আদালত, পরিবহন- কোনো কিছুই বন্ধ নেই। দীর্ঘ সময় শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকার ফলে আমাদের শিক্ষার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

সমকাল: করোনার এ সময়ে অনলাইনসহ নানাভাবে দূরবর্তী শিখন কার্যক্রম আপনি দেখেছেন নিশ্চয়ই। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

ছিদ্দিকুর রহমান: বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনলাইন কিংবা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে দূরবর্তী শিখন কার্যক্রমের বিকল্প ছিল না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশই কেবল এর মাধ্যমে শেখার সুযোগ পেয়েছে। অধিকাংশই সে সুযোগ পায়নি। তার ওপর শিশুদের জন্য সশরীরে শিক্ষাঙ্গনে উপস্থিত থেকে শেখা আর অনলাইনে শেখা এই দুইয়ের মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে।

সমকাল: শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে দেখছেন?

ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার জন্য অটোপাসের সিদ্ধান্ত যথোচিত বলে আমি মনে করি না। Continue reading

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কথা ভাবতে হবে- অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভারতের নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ঔষধবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী এ কে আজাদ চৌধুরী ১৯৪৬ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন
সমকাল: কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষায় সেশনজট ছিল না বললেই চলে। করোনায় নতুন করে সেশনজটের কথা শোনা যাচ্ছে। আপনার কী মনে হয়।
এ কে আজাদ চৌধুরী: হ্যাঁ, দীর্ঘদিন উচ্চশিক্ষায় সেশনজটের সমস্যা ছিল না। আমি যখন (১৯৯৬-২০০১) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলাম, তখনই সেশনজটমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এ থেকে মুক্ত হয়। এটা সত্য যে, করোনাদুর্যোগের কারণে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সেশনজট খুব বেশি হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন শিক্ষা চালু করেছে।
সমকাল
: প্রশাসন কি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারত?
এ কে আজাদ চৌধুরী: করোনার মধ্যেও আমরা দেখেছি পোশাক শিল্পকারখানাসহ অর্থনৈতিক সবকিছুই খোলা রয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সে সাহসিকতা প্রশাসন দেখাতে পারেনি। এর বাস্তব কারণ অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য সচেতন বটে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তো আবাসিক হলও খুলতে হবে। আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের কোনো কোনো রুমে ১৬/১৭ জনও থাকে। সেখানে কীভাবে শারীরিক দূরত্ব থাকবে? Continue reading

‘নিউ নরমাল’ ভুবনে ‘প্রমোশন’ ভ্রান্তি?

দেশে করোনায় সীমিত পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সর্বত্র অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ‘অটো পাসে’র পর সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রেও বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে ‘প্রমোশনে’র চিন্তা করছে বলে সংবাদমাধ্যমের তরফে আমরা জানছি। অবশ্য পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত কাঙ্ক্ষিতই ছিল। আগস্টের শেষ সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হয়- এ দুটি ‘পাবলিক’ পরীক্ষার বদলে শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এখন সেই বার্ষিক পরীক্ষাই যদি না হয়, তবে তাদের মূল্যায়ন হবে কীভাবে?

করোনা পরিস্থিতি আমাদের অজানা নয়। এ দুর্যোগের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত সাধারণ ছুটিতে দেশে লকডাউনের মতো পরিস্থিতি ছিল। এরপর সীমিত পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সর্বত্র অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি দফায় দফায় বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। যদিও করোনা সে অর্থে নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তার পরও ‘নিউ নরমাল’ তথা নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সবই যখন চলছে, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ থাকছে- এ প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, অনেক দেশেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। Continue reading

বিসিএসের চেয়ে জীবন অনেক বড়-ড. মোহাম্মদ সাদিক

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক সিভিল সার্ভিসে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। তিনি শিক্ষা সচিব ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র ড. সাদিক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘সিলেটি নাগরী লিপির’ ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জন্ম ১৯৫৫ সালে সুনামগঞ্জে। লেখালেখিতে সক্রিয় ড. মোহাম্মদ সাদিক ২০১৭ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন

সমকাল: আপনি পিএসসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগের তুলনায় যে জনআস্থা ও বিশ্বাস আমরা দেখছি তার কারণ কী বলে আপনি  মনে করেন?

ড. মোহাম্মদ সাদিক: আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি যারা বাইরে আছেন আপনারা দেখবেন। পিএসসি পরীক্ষা ও ফল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী সুপারিশের কাজ করে। কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য আমাদের বিজ্ঞ সদস্যবৃন্দ, পিএসসির সচিব ও সংশ্নিষ্ট সবাই মিলে আমরা একটি টিম হিসেবে কাজ করেছি। এখানে প্রশ্নকারী, মডারেটর, পরীক্ষক, নিরীক্ষক, পরিদর্শক এবং ভাইভা বোর্ডে যারা থাকেন, সবাই মিলেই কাজটি সম্পন্ন হয়। Continue reading