Category Archives: বইমেলা

বই নিয়ে এক প্রস্থ

রুটি মদ ফুরিয়ে যাবেপ্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবেকিন্তু একটি বই অনন্ত যৌবনাযদি তা তেমন বই হয়”বই নিয়ে ওমর খৈয়ামের এ কবিতার পর বলার আর কী থাকতে পারে। বই নিয়ে এমন সময়ে কলম ধরেছি, চারদিকে বই আর বই। বইয়ের আলোচনায় মূখর সবাই। কোনটা দিয়ে শুরু করা যায়। বইয়ের ইস্যুতো কম নয়। প্রতিষ্ঠানে বিনা মুল্যে বই বিতরণ, বইমেলা, কালোবাজারিতে বই, নিষিদ্ধ বই (গাইড) বিক্রি ইত্যদি। এর সঙ্গে জুড়ে দেয়া যায় আমাদেও বই প্রীতি, বইয়ের গুরত্ব, লেখক, পাঠক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমী, লাইব্রেরী ইত্যাদি। প্রতিটি বিষয় ব্যাপক আলোচনার দাবী রাখে।২০১০ এর ফেব্রুয়ারি এখন। নতুন বছর শুরু না হতেই গনমাধ্যম সরব বইয়ের আলোচনায়। জানুয়ারি মাস জুড়েই ছিলো এ সরবতা। পত্রিকার পাতা ওল্টালেই বই। অবশ্য ফেব্রুয়ারিতেও বই নিয়ে শুরু হয়েছে লেখালেখি, গোটা মাস চলবে। এ প্রসঙ্গে পরে আসছি। বই নিয়ে জানুয়ারির যে সংবাদের কথা বলছি, সেটা ছিলো কোনোটা ইতিবাচক নেতিবাচক। প্রশ্ন জাগতে পারে বই নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ কেনো? কারণ বই মানেই ভালো কিছু। বইয়ের সংবাদের সাথে নেতিবাচক কথাটা খাটেনা। কিন্তু বাস্তবতা অন্যরকম। আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত বছরে বইয়ের ধকল খেয়ে এবছরের(২০১০) জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেন। বছরের প্রথম দিন বা তার আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌছানোর অঙ্গীকার করেন। আগে শুধু প্রাথমিক ¯তরেই বিনামূল্যে বই দেয়া হতো, এবার প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক ¯তরেও বিনামূল্যে বই দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য ১৯ কোটি বই ছাপাতে মন্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করে যান। তার চেষ্টা থাকা সত্তেও তিনি শতভাগ সফল হননি। সব শিক্ষার্থীও হাতে সময় মতো বই পৌঁছাতে পারেননি। বইয়ের নেতিবাচক সংবাদ হিসেবে প্রায় সব পত্রিকায়ই বিষয়টা উঠে এসেছে। এটা নেতিবাচক হলেও ইতিবাচক দিক হলো চেষ্টা আর সদিচ্ছার অভাব ছিলোনা। আর শতভাগ সফল না হলেও ৬৫ ভাগ সফল বলেও ধরা যায়। বাকী ৩৫ভাগ ব্যর্থতার জন্য বা¯তব কারণ ছিলো। অক্টোবরে এনসিটিবির গুদামে আগুন, অফিসারদের ঠিকমতো বই বিতরণ না করা ইত্যাদি। এরমধ্যে আবার ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক প্রতিষ্ঠান যারা বাজার থেকে বই কিনে থাকে, তারা বাজারে কেনার মতো বই অভিভাবকরা পাননি। ফলে পুরনো বই দিয়েই তাদের শ্রেণী কার্যক্রম চালাতে হয়। আবার এখনো প্রত্যšত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পুরো সেট বই পায়নি। অর্থাৎ বই না পাওয়ার নেতিবাচক সংবাদটি এখনো পাত্রিকার পাতায় লেগে আছে। আমাদের ব্যবসায় অত্যšত সিদ্ধহ¯ত! যেকোন ব্যবসাই হোক। বইয়ের ব্যবসায় এদের জুড়ি মেলা ভার। বই সিন্ডিকেট, বই কালোবাজারী, নিষিদ্ধ বই বিক্রি যার প্রকৃষ্ট প্রমান । সরকার প্রথম শ্রেণী হতে অষ্টম শ্রেণী পর্যšত নোট , গাইড নিষিদ্ধ করেছে। আদালতের রায়ও হয়েছে। এরপরও প্রকাশকরা নাছোড়বান্দা। তাদের ব্যবসায় লোকসান হয়ে যাবে, সুতরাং ছাপানো নোট গাইড বিক্রির অনুমতি দিতেই হবে। অনুমতি ছাড়াই এখন যে বেশিদামে এগুলো বিক্রি করছে তার কথা নাই বললাম। শিক্ষা বা শিক্ষবিজ্ঞান নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা অষ্টম শ্রেণী পর্যšত নোট গাইড নিষিদ্ধের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। কিন্তু এ নোট বা গাইড বই আমাদের সমাজের এতটা গভীরে গ্রথিত হয়েছে, অনেক অভিভাবকরাও নিষিদ্ধের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেনা। গত বার থেকে আবার যুক্ত হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণী পরীক্ষা। আগে শিক্ষার্থীরা গাইড পড়ে ভালো ফরাফল করেছে এবারও ভালো ফলাফলের জন্য চাই গাইড চাই নোট। অনেকে অভিভাবকই হতাশায় পড়েছেন। অভিভাবকদের এ হতাশা দূরীকরণ আর নোট গাইড নিষিদ্ধের মূল উদ্দেশ্য তখনি সাধিত হবে যখন শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষে ভালোভাবে বই পড়াবেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন। ধরে ধরে প্রত্যেকটা বিষয় বুঝিয়ে দিবেন, প্রয়োজনে লিখে দিবেন। অন্যথায় নোট গাইড নির্ভরতা কমবেনা। অভিভাবকদের হতাশা কাটবেনা। প্রকাশনা সংস্থাগুলো চুরি করে হলেও এগুলো বিক্রি করবে। তখন পুরো পরিকল্পনাই ভে¯েত যাবে।বই নিয়ে এসব নেতিবাচক হতাশার কথা যখন বলছি, তখনি আশার আলো নিয়ে হাজির বইমেলা। গনমাধ্যমে সব খবর ছাপিয়ে প্রধান্য পেয়েছে বইমেলা। একুশের বইমেলা , ঐতিহ্যের বইমেলা, বাংলা একাডেমীর বইমেলা। ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে বইমেলা। ফেব্রুয়ারি মানেই বই মেলার মাস। গোটা বছর ফেব্রয়ারির পথ পানে চেয়ে থাকি। বই প্রেমিক মানুষের মনের ক্ষুধা মেটাতে, নতুন লেখক পাঠক উপহার দিতে আসে ফেব্রুয়ারি। আসে বইমেলা।বাংলা একাডেমী চত্বরে লেখক পাঠকের মিলন মেলা। এ বই মেলার ইতিহাস আনেক আগের। বহু আগের বলা যাবেনা। বইমেলার সাথে অর্থাৎ বইমেলা শুরুর সাথে যে মানূষটির কথা সর্বাগ্রে চলে আসে তিনি চিত্তরঞ্জন সাহা। মুক্তধারা প্রকাশণীর কর্ণধার। শরুটা করেছেন চিত্তনঞ্জন বাবু নিজেই।১৯৭০ সালের২১ ফেব্রুয়ারি, বাংলা একাডেমীর সামনের ফুটপাথে, একেবারে চট বিছিয়ে বইয়েরপসরা সাজিয়েছিলেন। সে এক কূঁড়িই আজ বিশাল বটবক্ষ।বইমেলার বিশ্বে বাংলাদেশের একুশের বইমেলাই একমাত্র যা মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য আšতর্জাতিক বই মেলার কথা বলা যেতে পারে। প্রথমেই উঠে আসবে ফ্রাংকফুর্ট বইমেলা। জার্মানীর ফ্রাংকফুর্টে আনুষ্ঠিত হয় বলে এর নাম ফ্রাংকফুর্ট বইমেলা। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে মাত্র পাঁচদিনের জন্য এ মেলা বসে। এ মেলার বয়স প্রায় পাঁচশ বছর। আয়োজক জার্মান পাবলিশার এন্ড বুক সেলার এসোসিয়েশন। এ মেলায় বিশ্বের নামিদামি লেখকদেও সমাবেশ ঘটে।অনেক দেশের প্রকাশকরা অংশ নেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তরের বই প্রেমী মানুষ ছুটে যান এ বইমেলায়।করকাতার বইমেলাকে ঠিক একই কাতারে শামিল করা যেতে পারে। ১১/১২ দিনের বইমেলা। এ বছরের মেলা এখন কলকাতায় চলছে। অনুষ্ঠিত হয় প্রত্যেক বছরের জানুয়ারির শেষ বুধবার হতে ফেব্রুয়ারির প্রথম রবিবার। কলকাতার এবারের বইমেলার চমৎকারিত্ব একটু অন্যরকম। রবীন্দ্রনাথের দেড়শ তম জন্ম বর্ষে মেলা। আšতর্জতিকতার প্রকৃত রূপ দিতে প্রত্যেক বছর বিশ্বেও বিভিন্ন দেশ এর থিম কান্ট্রি থাকে। এবারের থিম কান্ট্রি মেক্সিকো। মেক্সিকো উদযাপন করছে তাদের স্বধীনতার শত বছর।এসব বইমেলার কথা শুনে হিংসে হলেও আমাদের বইমেলার স্বাতন্ত্র্য আমাদের কাছে। অনেকেই একে আšতর্জাতিক রূপ দেয়ার কথা বলেন। অনেকে আবার নিজস্ব প্রকাশকদের দ্বারাই বইমেলা হোক তা চান। এখানে আমাদের প্রকাশকদের স্থানের ই সংকুলান হয়না। আšতর্জাতিকতার ক্ষেত্রে যেটা বলা যায়, প্রত্যেক বছর ডিসেম্বরে আšতর্জাতিক বইমেলার নামে যে মেলাটা রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে হচ্ছে, এবার হলো সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে, এ মেলার স্থায়ী ভেন্যূ নির্ধারন করে প্রকৃতই একে আšর্জাতিক বইমেলায় রূপ দেয়া যেতে পারে।একুশের বইমেলায় আসি। বইমেলার সাথে জুড়ে দেয়া একুশ শব্দটি আমাদের গৌরবের। এর সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য। সংগ্রামের এক দীপ্ত চেতনা। একুশ ১৯৫২ এর একুশে ফেব্রুয়ারি। আমাদের মুখের ভাষাকে কেড়ে নিতে চেয়েছে, পারেনি। তীব্র আন্দোলন আর শহীদের বিনিময়ে পেয়েছি বাংলা। বাংলার দামাল ছেলেরা সে যে জেগে উঠেছিলো ১৯৭১ এর স্বাধীনতার মাধ্যমেই তার সমাপ্তি হয়। ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে শহীদদর স্মরনেই বইমেলা। ১৯৫২ এর পর ১৯৫৫ তে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমী। বর্তমান বাংলা একাডেমী ভবনের আগের নাম ছিলো বর্ধমান হাউজ। বাংলা একাডেমীর মাঠজুড়ে তাই বইমেলা। এ মাঠে ও সংকুলান হয়না। চিত্তরঞ্জন বাবু এক থেকে এবারের স্টল সংখ্যা ৪৫০। মেলা নিয়ে অভিযোগ অনুযোগের শেষ নেই। ভালোবাসার জিনিসকে সবাই সুন্দরভাবেই পেতে চায়। বইমেলায় যদি বই স্বাচ্ছন্দ্যে দেখা না যায়, স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটা না যায়। ধুলোবালিদেরই যদি মেলা হয়, অভিযোগ থাকাই স্বাভাবিক। সেটা না হয় মানা যায়। কিন্তু স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রের অনিয়ম কীভাবে মানা যায়। আমরা জানিনা এ অভিযোগ কতোটা সত্য। লটারি যদি করলে তা যথার্থই করা উচিত। মাঠের সুন্দও ব্যবস্থাপনাও আবশ্যক। বর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিষয়টি দেখবে।ডিজিটাল বাংলাদেশের শ্লোগান ঘোষিত হয়েছে। বইমেলাকেও ডিজিটালের রূপ দিতে কতগুলো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্ববাসী বইমেলার আপডেট সংবাদ জানতে পারবে- িি.িবশঁংযবুনড়রসবষধ.রহভড়, িি.িবশঁংযবৎনড়র.পড়স, িি.িনড়রধিষধ.পড়স, ।আমাদের মুল বিষয় বই। মেলা হচ্ছে বইয়ের। বইকে আমরা কিভাবে দেখছি। অনেকেই আমাদের ব্যাপারে অভিযোগ করেন আমরা বই পড়িনা।সৈয়দ মুজতবা আলী যেটা তার বইকেনা প্রবন্ধের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, মহিলা তার স্বামীর জন্মদিনের উপহার কিনছে, দোকানি তাকে এটা ওটা দেখাচ্ছে, শেষে একট্ াবই দেখিয়ে বললো এটা নিতে পারেন। মহিলা কিছুটা বিব্রত হয়ে ’ সে ও তো ওর একখানি আছে” অর্থাৎ আমাদের কাছে একটা বই ই যথেষ্ট।আমাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায় একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যšত আমরা বই পড়ছি। সেটা ছাত্র জীবনে পরীক্ষায় পাশের জন্য পড়া। কর্মজীবনে বই পড়ার সময় কোথায়, পড়ার দরকারই বা-কী। যাদের সামর্থ্য আছে বই কিনিনা। অথচ অন্যান্য জাতি বই পড়ায় অভ্য¯ত। ভ্রমনে বের হলেও তাদের সঙ্গী বই। মার্কটোয়েনের কথাতো সবাই জানি, বই ঠাসা তার ঘর, মেঝেতে পা ফেলার আয়গা নেই। পড়ার জন্য বই ধার করে এনে ফেরত না দিয়ে গড়েছে লাইব্রেরী। কবি জসীম উদিদন যেটা বলেছেন, চুরি করে হলেও বই পড়। তিনি বইকে বলেছেন মনীষীদের চিঠি। বড় বড় লেখক, কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক আমাদের কাছে চিঠি লেখে গেছেন। সে চিঠি আমরা না পড়লে কারা পড়বে। বই পড়া অভ্যাসের বিষয়। এটা সু অভ্যাস। এঅভ্যাস থাকলে কখনো মানূষ নিঃসঙ্গ হয়না। একাকীত্বে পড়েনা। কারণ তার বন্ধু বই। যে তাকে ২৪ ঘন্টা সাহচর্য্য দিবে। বুড়ো সময়ের কথা চিন্তা করা যাক। যখন কেউ সঙ্গ দিবেনা। বই ই হবে একমাত্র সঙ্গী। কিন্তু যার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠেনি, ছোট বেলায় বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব পাতা হয়নি, বুড়ো অবস্থায় ইচ্ছে করেও সে বইয়ে মনযোগ দেয়া সম্ভব নয়।একটা বইকে কতভাবে চিত্রিত করা যায়-বই একটা বিশ্ববিদ্যালয়, জ্ঞানের ভান্ডার, মনের খোরাক, বিনোদনের মাধ্যম, সময় কাটানোর শ্রেষ্ঠ উপায়, জীবন সমস্যার সমাধান, পরীক্ষায় পাশ,একটা চাকরি সর্বোপরি সুন্দর একটা জীবন। আমরা জ্ঞানী তাকেই বলি যে জানে। আর তাকে এ জানানটা দেয় বই। বই ছাড়া জ্ঞানী হওয়া সম্ভব নয়। ভালো রেজাল্ট করার জন্যও প্রয়োজন বই পড়া। লেখতে চাইলে শর্ত হলো বই পড়া। এক পৃষ্ঠা লিখতে হলে দশ পৃষ্ঠা পড়া দরকার। বই যারা লিখেন অনেক তপস্যা করে লিখেন। পৃথিবীর সামান্যই আমরা দেখছি, জানি। গোটা পৃথিবীতে আমাদের জানার ও দেখার বাইরে অনেক জিনিস রয়েছে। বই না পড়লে আমরা এসব জানবো না। আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য আছে লেখকরা এসব কিছু খুজে বের করে আমাদের জন্য তৈরি করেন।প্রতিযোগিতার বিশ্বের কথা আমরা বলি। এ প্রতিযোগিতা জ্ঞানের। আজকের পৃথিবীর যে জাতি জ্ঞানে সমৃদ্ধ প্রতিযোগিতার দৌড়ে তারাই এগিয়ে। জাতি হিসেবে আমাদেও টিকে থাকতে হলে সে জ্ঞানের দৌড়ে আমাদেও ও অংশ নিতে হবে। পড়তে হবে বই।বই নিয়ে এ লেখাটা কবি জসীম উদ্দীনের ” আরো বই পড়–ন” প্রবন্ধের চুম্বক একটা অংশের মাধ্যমে শেষ করছি-” আপনারা বই কিনলে আর ও কি হবে জানেন? দেশের লেখকরা বই বিক্রি থেকে পয়সা পাবেন। দেশে একদল স্বাধীন-মত লেখক তৈরী হবে। তখন তারা যা ভাববেন তাই লিখতে পারবেন। দুর্বলের হয়ে, নিপীড়িতের হয়ে লড়াই করতে পারবেন। আপনাদের আশা আকাংখার আদর্শবাদের তারা রূপ দিতে পারবেন। দেশের অধিকাংশ লেখককে যদি জীবিকার জন্য সরকারের কোন চাকরী করতে হয়, তবে সেই সরকার কোন অবিচার করলেও লেখক দাঁড়াতে পারবেননা। লেখক স্বাবলম্বী হলে সে তা আপনারই লাভ। সরকারের সমালোচনা কওে তবে জেলে যেতে হবেনা। লেখকের বইগুলো সেই কাজ করবে। রুশো, ভলটেয়ারের লেখাগুলি তাদের দেশে মহা পরিবর্তন এনেছিলো।”এখন আমরা বই পড়বো কী পড়বোনা আমরাই বিচার করবে।