Category Archives: পরিবেশ

সাইকেলের ‘স্বর্ণযুগে’ আমাদের দুর্দশা

আলাদা লেন না থাকায় ঢাকায় সাইকেল চালানো যেমনি কঠিন, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও

করোনাদুর্যোগের সুযোগ হিসেবে সাইকেলের আলোচনা স্পষ্ট। সংবাদমাধ্যমে ইতোমধ্যে আশাজাগানিয়া কিছু খবর আমরা দেখেছি। সমকালের খবর- ভরসা দিচ্ছে দুই চাকার যান। প্রথম আলো বলছে- করোনায় ঘুরছে বাইসাইকেলের চাকা। করোনা থেকে বাঁচতে গণপরিবহনের বদলে অনেকেই সাইকেলে ঝুঁকছেন; এ সময়ে সাইকেলের বিক্রি বেড়েছে; ব্যবসায়ী ও সাইকেল উৎপাদনকারীদের বক্তব্য, কেবল দেশেই সাইকেলের চাহিদা বাড়েনি, বিদেশেও সাইকেল রপ্তানির আদেশ বাড়ছে। এটি সাইকেলের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর। কিন্তু সাইকেলের সুযোগ বাড়লেও ব্যবহার কতটা বাড়বে সে শঙ্কা রয়ে গেছে নানা কারণেই। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় বড় শহরে চাইলেই দুই চাকার এ বাহনটি স্বাচ্ছন্দ্যে চালানো সম্ভব নয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকের পক্ষেই সাইকেল চালানো সম্ভব হয় না। নিয়মিত সাইকেল আরোহী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা বলছে, আলাদা লেন না থাকায় শহরে সাইকেল চালানো যেমনি কঠিন, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও বটে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে সাইকেলকে অগ্রাধিকারে রেখে যেভাবে করোনা ও পরিবহন- দুই সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে আমাদের দেশে তা দেখা যায়নি বললেই চলে। অন্তত প্রতিবেশী কলকাতার উদাহরণও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। সেখানে কিছু সড়কে নিরাপত্তার কারণে সাইকেল চালানো বন্ধ ছিল। জুন মাসে কলকাতার সড়কে সাইকেল চালানোর অনুমতি দেয় পুলিশ। বাসের ঠাসাঠাসি ভিড়ে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা থেকেই শহরের রাস্তায় সাইকেলে ছাড় দেওয়া হয় কলকাতায়। সেখানে সাইকেল বিক্রি দুই-তিন গুণ বেড়ে গেছে। এমনকি সম্প্রতি সরকারি উদ্যেগে স্বল্প খরচে নিউ টাউন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদ (এনকেডিএ) মানুষের জন্য সাইকেল শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে কলকাতায় সাইকেল লেন তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে কলকাতা পৌরসভা, কলকাতা পুলিশ ও পরিবহন দপ্তর। Continue reading

স্যালুট চাকা!

প্রায় ১০ বছর আগে মার্কিন সাময়িকী স্মিথস অনিয়ানে ‘অ্যা স্যালুট টু দ্য হুইল’ শিরোনামে একটি ফিচার প্রকাশ হয়। সেখানে লেখক মেগান গাম্বিনো চাকাকে স্যালুট জানিয়েছেন। এই স্যালুট একেবারে সাদামাটা অর্থে কোনো অভিবাদন নয়, এর গোড়া আরও গভীরে।
সৈয়দ শামসুল হক ২০১২ সালে কালের খেয়ায় ধারাবাহিক এক উপন্যাস লেখেন, যার শিরোনাম- ‘কেরানীও দৌড়ে ছিল’। উপন্যাসের বিষয় যা-ই হোক, তিনি দেখিয়েছেন, কেরানি তো বটেই, আসলে আমরা সবাই দৌড়াচ্ছি। জীবনযাপনের জন্য সবাইকে দৌড়াতে হয়। জীবনের এ দৌড় শুধু দু’পায়ে হয় না, বরং সময়ের যত আধুনিক ও দ্রুতযান আছে সবই অন্তর্ভুক্ত। আর যখনই যানবাহনের কথা আসছে তখনই হাজির চাকা। আজ চাকা ছাড়া জীবনের কোনো গতিই নেই।

চাকা আবিস্কার
বলাবাহুল্য, মানবসভ্যতার ইতিহাসে চাকার আবিস্কার একটি যুগান্তকারী ঘটনা। তবে কোথায় কখন এ চাকা আবিস্কার হয়, তার অকাট্য প্রমাণ নেই বললেই চলে। ফলে এ আবিস্কার নিয়ে রয়েছে নানা মুনির নানা মত। অবশ্য বিশেষজ্ঞ অনেকেই মনে করেন, যিশুখ্রিষ্টের জন্মের ৫০০০ বছর আগে তথা আজ থেকে ৭০০০ বছরেরও বেশি আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় (বর্তমান ইরাকের একটি সভ্যতা) চাকা আবিস্কৃত হয়। ককেশাসের উত্তর দিকে বেশকিছু কবর পাওয়া গেছে, যাতে ৩৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ঠেলাগাড়িতে করে মৃতদেহ কবর দেওয়া হতো। ৩৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে তৈরি করা একটি মাটির পাত্র দক্ষিণ পোল্যান্ডে পাওয়া গেছে, যাতে চার চাকার একটি গাড়ির ছবি আছে। এটিই এ পর্যন্ত প্রাপ্ত চাকাযুক্ত গাড়ির ছবির সবচেয়ে পুরনো নিদর্শন বা চিহ্ন। মনে করা হয়, গাছের গোল গুঁড়ি গড়িয়ে যেতে দেখে চাকার ধারণা আসে মানুষের মাথায়। তারা গুঁড়িটি পাতলা করে কেটে তার মাঝখানে ছিদ্র করে লাঠির মতো কিছু দিয়ে চাকতি দুটিকে যুক্ত করেছে। আর তাতেই তৈরি হয়েছে আদিম গাড়ি। ওই গাড়ির সঙ্গে বর্তমানের গরুর গাড়ির কিছুটা মিল থাকতে পারে। পরে নানাভাবে চাকার বিবর্তন হয়েছে। কাঠের চাকা দ্রুত ক্ষয়ে যাওয়া এবং ফেটে যাওয়ায় এতে লোহার পাতলা পাত লাগানো হয়। একপর্যায়ে পাতের জায়গা দখল করে পাতলা রাবার। সর্বশেষ রাবারের চাকা ও টিউব আবিস্কৃত হয়।
Continue reading

ব্যাগে বিশ্বজয়!

সোনালি ব্যাগ আমদানির জন্য ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে

বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগ ২০০২ সালে নিষিদ্ধ হলেও কার্যত প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ থেমে নেই। পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ ব্যাগ বিশ্বে অনেক দেশেই নিষিদ্ধ। কোনো কোনো দেশের বিশেষ শহর ও সুপার মার্কেটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার। ৮ জুন ইংল্যান্ডের দ্য গার্ডিয়ানের পরিবেশ বিভাগের অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশ হয়। শিরোনাম- প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যান : হোয়াট আর দ্য অল্টারনেটিভস অর্থাৎ প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ, তাহলে বিকল্প কী? ৫৫ সেকেন্ডের এ ভিডিও বলছে, ১ জুলাই থেকে অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ সুপার মার্কেটে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরি, কুইন্সল্যান্ড, সাউথ অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (এসিটি) ও অস্ট্রেলীয় দ্বীপ তাসমানিয়ায় একক প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ হচ্ছে ওই দিন থেকেই। এ অবস্থায় কয়েকটি বিকল্প ব্যাগের কথা এসেছে ভিডিওতে। সেগুলো হলো, রিইউজেবল বা পুনরায় ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যাগ, প্লাস্টিক মিক্স ব্যাগ, চিলের ব্যাগ, রিইউজেবল ক্যানভাস ব্যাগ। চিলের ব্যাগ একধরনের কাপড়ের ব্যাগ আর ক্যানভাস ব্যাগ তুলা দিয়ে তৈরি। তবে এগুলোর দাম অনেক। সেখানে এক ডলার তথা বাংলাদেশি ৮৪ টাকায় ৫টি রিইউজেবল প্লাস্টিক ব্যাগ পাওয়া যায়। প্লাস্টিক মিক্স ব্যাগের গড় দাম এক ডলার। চিলের ব্যাগ ও ক্যানভাস ব্যাগের দাম যথাক্রমে আড়াই ও তিন ডলার।

ওদের বিকল্প ব্যাগের তালিকায় পাটের ব্যাগ আছে কিনা সে কৌতূহল থেকেই আসলে আগ্রহ নিয়ে ভিডিওটি দেখা। কিন্তু পাটের ব্যাগ নেই। হয়তো না থাকাটাই স্বাভাবিক। যেখানে আমরা নিজেরাই পাটের ব্যাগ ব্যবহার করছি না, সেখানে ওদের ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না। বাস্তবে তা ঘটতেও পারত। বিশ্বব্যাপী এখন প্লাস্টিকের বিকল্প খুঁজছে সবাই। এ অবস্থায় আমরা সে রকম পাটের ব্যাগ তৈরি করতে পারলে, এখানে তা জনপ্রিয় হলে ওদের বিকল্পের তালিকায় থাকা অস্বাভাবিক ছিল না।
Continue reading

প্রত্যেকে আমরা মাটির তরে

Desertification-poster2015মানুষসহ পৃথিবীর সব সৃষ্টির জন্ম ও বেঁচে থাকায় মাটির ভূমিকা অনুধাবনযোগ্য। মাটির তৈরি আমরা যে মাটির ওপর বসবাস করি, চলাফেরা করি এবং মাটিতে উৎপন্ন জিনিস খেয়ে বেঁচে আছি সে মাটির ভালো থাকাটা আমাদের স্বার্থেই অপরিহার্য। আজকের বিশ্ব মরুময়তা প্রতিরোধ দিবসে জাতিসংঘ ঠিক এ বিষয়টিকে সামনে রেখে স্লোগান করেছে_ ‘নো সাচ থিং এজ অ্যা ফ্রি লাঞ্চ- ইনভেস্ট ইন হেলদি সয়েলস’। আমরা এভাবে বলতে পারি, খাদ্য আসে মাটি থেকে- মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় বিনিয়োগ করুন। আমরা যা খাই তা তো আসলে ফ্রি আসে না। তাই খাদ্যের নিরাপত্তার জন্য হলেও মাটি ভালো রাখার কথা বলা হচ্ছে। যদিও আমাদের দ্বারাই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিনিয়ত মাটি ক্ষয় হচ্ছে। নানাভাবে উর্বরতা হারাচ্ছে মাটি। জাতিসংঘ বলছে, পৃথিবীর ২৬০ কোটি মানুষ সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল, অথচ কৃষিতে ব্যবহৃত জমির ৫২ শতাংশের মাটিই কোনো না কোনোভাবে ক্ষয়ের শিকার। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষ। Continue reading

ট্রেনযাত্রায় প্রকৃতির কাছে

Riverএবারের ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখে কর্মব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে প্রাকৃতিক পরিবেশে কাটানোর অসাধারণ অভিজ্ঞতা স্মৃতিতে রাখতেই এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। যদিও একদিনের তারপরও এটি সার্বজনীন ছুটি। মানে ১৬ ডিসেম্বর কিংবা ২৬ মার্চের মত দিনে সংবাদপত্র খোলা থাকলেও এদিন বন্ধ। পহেলা বৈশাখের ৪/৫ দিন আগ থেকেই চিন্তা করছিলাম, একদিনের জন্য বাইরে কোথায় যাওয়া যায়। ঢাকার আশেপাশে কয়েকটা জায়গার কথা মাথায় আসলো- নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও মাওয়া ঘাট তার অন্যতম। এই চিন্তার সঙ্গে মনে মনে বুয়েটের বন্ধু জাহের ওয়াসিম ভাইকে যোগ করে নিলাম। ওয়াসিম ভাই আমার একটু-আধটু ঘুরাঘুরির অধিকাংশ সময়ের সঙ্গী হিসেবে। কিন্তু চারদিন আগে যখন তিনি গ্রামের বাড়ি গেলেন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে বাদ দিতে হল। তবে ঘুরাঘুরি আসলে একাকী হয় না সেভাবে। পরে লেখক বড়ভাই বন্ধু সোহেল নওরোজকে বললাম ঢাকার বাইরে যাইতে মন চায়। উনি খুলনা থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই বললেন, খুলনা চলে আসো। বললাম, ইচ্ছা থাকলেও একদিনের ছুটি বলে খুলনা যাওয়া যাচ্ছে না। Continue reading

অতিথি পাখি কিংবা আমাদের চড়ূই

Guestসম্প্রতি ইংল্যান্ডের গার্ডিয়ান পত্রিকার লাইফ অ্যান্ড স্টাইল বিভাগের নোটস অ্যান্ড কোয়েরিজে পাঠকদের করা হয় প্রশ্নটি– হোয়্যার ডু স্প্যারোজ গো ইন দ্য উইন্টার বা শীতে চড়ূই পাখি কোথায় যায়? অতিথি পাখির কথা চিন্তা করে উত্তরটা হয়তো আমরা আশা করব বাংলাদেশ। কিন্তু গত ১০ ডিসেম্বরে ছবিসহ পোস্ট করা প্রশ্নটিতে সোমবার বিকেল (১২ জানুয়ারি ‘১৫) পর্যন্ত পাঠকের ২৮টি মন্তব্যে কেউই বাংলাদেশের নাম বলেননি। ইংল্যান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই সেখানকার স্থানীয় জায়গার কথা বলেছেন। তবে প্রশ্নটির সঙ্গে যে মেইল ঠিকানা দেওয়া হয়েছে তাতে কে কী উত্তর দিয়েছেন জানা নেই। Continue reading

Green Economy: I’m included

I can remember my childhood, the days were very much enjoyable. Obviously the environment was favorable, very often I was used to going my grandfather’s home where a river was flown beside their home. My uncles and I enjoyed our time in the river, like the boys in the picture. I can’t express that feelings with my words and I think that was the real happiness of my life. When the river was the source of entertainment. And the rivers were full of water, the people whenever get time had passed their leisure time seeing the beauty of nature on the bank of river.

Only twelve years ago I have passed my childhood and this was the scenario of that time. But the days have been changed, the rivers are not same as that I have seen in my childhood. The pictures below are the exact condition of present rivers of Bangladesh. It has been dying day by day. I can’t but regret for my younger brother who is passing his childhood, but he has no opportunity to pass his time with nature. The river had no water, it has been constraint by encroachment of men.

Bangladesh is called the riverine country. There are very much contribution of river in our country . The river is a part of our culture. Our economy dependents on it. It is a part of our history. The writers, specially poets has written poems on it, novelists has created novels on it and also many stories and songs have been created on river; Their focus was the charming scenario of rivers and natural beauty of Bangladesh. And even these descriptions were a devastating river, Which floods its shore and even villages near the river.

But at present we see its opposite picture. Rivers are dying here day by day. Here, writer refers a survey of Bangladesh Water Development Board (BWDB) which shows that- in 2010 among three hundred and ten rivers in Bangladesh fifty-seven 50% of all sales is put into advertising.”>percent of the rivers lack proper depth. He also shows the study of Bangladesh Inland Water Transport Authority (BIWTA), which reveals that one hundred and seventeen rivers are either dead or have lost navigability.

When this is the condition of rivers, it is very easy to guess the position of environment of our country. In this moment it is emergence to save the river for saving our environment. So, to save our rivers we have taken initiatives from our ability. We have established an organization named riverine people.

Riverine people’s strength is here we all are the university students, who are young and energetic. Primarily we are doing research activities and we have already conducted a research on dying river named Baral and we have submitted it to the government for taking necessary steps to save it, Moreover we have a group in the Facebook, which has 3343 member and also page named riverine news’ where we update the regular river related news published at the dailies of home and abroad; I am specially doing this as I am secretary of online affairs of riverine people.

Water of river is important to us, like blood. But this blood has been polluted by our activities. We have encroached it and we are responsible for these dying rivers, whenever I update our page I only see the negative news. I think firstly we need our consciousness. I am doing my work relentlessly to save our river; if it includes me in the green economy, so, I am included.

Photos: Collected from different Newspapers of Bangladesh

This post has been submitted to UNEP‘s facebook fan-page to participate at world environment Day 2012 Blogging Competition Link

তিতাসের বুকে বাঁধ


সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোয় (ব্লগ, ফেসবুক) একটা ভিডিওর ব্যাপক ছড়াছড়ি। তেমন কিছু নয়, একুশে টিভিতে প্রচারিত সংবাদের ভিডিও। ‘ট্রানজিট’ নিয়ে প্রচারিত তিন পর্বের এক পর্ব। সেখানে উঠে এসেছে আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংযোগস্থলে তিতাস নদী দ্বিখণ্ডিত হওয়ার করুণ কাহিনী। ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার নামে তিতাসের মাঝখানে রাস্তা বানিয়ে কীভাবে তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে তার প্রমাণ ভিডিওটি। যারা কখনো তিতাস দেখেননি কিংবা নদী বরাবর কীভাবে রাস্তা বানানো হলো তা দেখার কৌতূহল থেকেও অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এতে ঢুঁ মেরেছেন।
ঠিক কত মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন তার হিসাব বের করা কঠিন, তবে লেখকের দেখা মতে ফেসবুক থেকেই ছয় হাজারের ওপর মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। এটা খুবই আশ্চর্যজনক ঘটনা— আরেক দেশকে সুবিধা দিতে গিয়ে একটা নদীকেই দ্বিখণ্ডিত করে ফেলছে বাংলাদেশ। এটা বাংলাদেশের নাগরিকরা কোন যুক্তিতে মেনে নেবেন? ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসেই থাকবে হয়তো; আরেক বাস্তব উপন্যাস লেখা হতে পারে— ‘তিতাস একটি ট্রানজিট রুটের নাম’। যেটি অপ্রতিরোধ্য, দেশ অথবা মানুষ গোনে না। গোনে ফায়দা। অর্থনৈতিক ফায়দা কিংবা চকচকে নোটের কাছে ছলছল মানুষের চোখের জলের কোনোই মূল্য নেই!
বাংলাদেশের নদীগুলোর করুণ অবস্থার কথা কারও অজানা নয়। তিতাসের পরিণতি দেখছে সবাই, যেটি ভারতের ট্রানজিটের কাছে বলি হয়েছে। ঠিক এ রকম ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশের উত্স ভারতে। উজানে পানি প্রত্যাহার করে নিলে ভাটির দেশ হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই তাতে বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়। নদী নিয়ে বহু খেলা এ দেশের মানুষ দেখেছে। ফারাক্কা বাঁধ দেখেছে, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির শেষ অবস্থা দেখেছে, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের আচরণ দেখেছে, দেখেছে বাংলাদেশের হর্তাকর্তাদের আচারণ। আবার একই সঙ্গে আপসে ট্রানজিট কবুল হতে দেখেছে কিংবা মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার লোভ দেখিয়ে রক্ষক কীভাবে ভক্ষক হয়, তাও দেখেছে।
তিতাসে আসি। একুশে টেলিভিশন প্রচারিত সংবাদটি বলছে, তিতাস নদীর ওপর বাঁধ দেয়ায় চারপাশের লাখ লাখ হেক্টর জমিতে ফসল উত্পাদনের ওপর বিশাল প্রভাব পড়ছে। এ নদীর ওপর নির্ভর করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জীবনে এসেছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে জেলেদের অবস্থা খারাপ। সেখানকার মানুষ ঘরে ফসল তুলতে পারেন না। হাজার হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে পানিতে। পরিবেশ বিপর্যয় তো রয়েছেই। তিতাস পাড়ে এখন শুধুই হাহাকার। তাদের প্রিয় নদী দ্বিখণ্ডিত। রোজগারের পথ বন্ধ। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পর্যুদস্ত। এর প্রভাব যে কেবল তাদেরই ঠকাচ্ছে তা নয়, তা এখন আমাদের সবার ওপর পড়বে স্বাভাবিকভাবেই।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক খবর দিয়েছে, ট্রানজিটের জন্য কেবল তিতাস নয়, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত করিডোর পেতে ১৮টি নদী এবং খালে বাঁধ দেয়া হয়েছে এভাবে। এ কাজ বাংলাদেশীরা করেনি, সরাসরি ভারতীয় কোম্পানি এবিসি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে করেছে। এ কাজে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানকেও জানানো হয়নি, বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। একুশে টেলিভিশন এ বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে পায়নি। অবাক ঠেকছে, ঘটনা ঘটেছে এক বছর আগে আর তার আলোচনা চলছে এক বছর পর। মিডিয়া এর আগেই সংবাদটি সংগ্রহ করতে পারত। এক বছর ধরে ভারত যখন তাদের সব কাজ শেষ করেছে, ঠিক তখন কিনা টনক নড়লো!
মজার বিষয় হলো, ২০ ডিসেম্বর সংবাদটি প্রচারের পর ২১ তারিখ একই টিভির টকশোতে এ বিষয়ে সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য বলছেন, তিতাস তো মরা নদী আর মরা নদীতে বাঁধ দিলেই কী? এ হলো আমাদের জনপ্রতিনিধিদের চিন্তা। ভাবখানা এমন— নদী মরে গেলেই কী। দেশের দায়িত্বশীলদের আচরণ বরাবরই এ বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। তিতাস নদীতে বাঁধ দেয়া হয় ট্রানজিটের জন্য। অথচ গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশে আসেন তখন ভারত তিস্তা চুক্তিতে সই করেনি বলে আমাদের সরকারও নাকি ট্রানজিটে সই করেনি। জনগণকে এটা শোনালেও বাস্তবতা হচ্ছে, ভারত আরও আগেই ট্রানজিট পেয়ে গেছে। যদি তা-ই না হতো, চুক্তির আগেই কীভাবে ভারত তিতাসসহ অন্যান্য নদীর ওপর বাঁধ দিতে পারে? সরকারের বোঝা উচিত, জনগণকে ফাঁকি দেয়া এখন আর সম্ভব নয়।
ট্রানজিটে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়ে জ্ঞান আমার নেই। তবে এটা স্পষ্ট যে, ভারতের ট্রানজিট দরকার। ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারত লাভবান হবে। ভারতের জন্য যেহেতু এটা আবশ্যক, সেহেতু দরকষাকষির এই একটা পথই বাংলাদেশের সামনে খোলা আছে। কারণ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশেকে ভারতের সঙ্গে কথা বলতে হবে। পানি, নদী, করিডোরসহ নানা ইস্যু রয়েছে। ভারত বড় দেশ বলে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেবে না, এটা স্বাভাবিক। এটা বাস্তবে হয়েছেও, ভারতের আচরণ বরাবরই বিমাতাসুলভ। সুতরাং কথা বলার মাধ্যম হিসেবে ভারতকে যখন সহজে ট্রানজিট দিয়ে দেয়া হলো, তার পরিণতি কী হবে বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন।
ব্লগে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তিতাস যদি ভারতের নদী হতো তারা কি বাংলাদেশকে এর ওপর বাঁধ নির্মাণ করতে দিত? উত্তর হলো, না। তাদের ক্ষেত্রে উত্তর না হলে বাংলাদেশের জন্য সেটি কীভাবে হ্যাঁ হতে পারে? দ্বিখণ্ডিত তিতাসের বিষয়ে একটা গণজাগরণ হবে না তার নিশ্চয়তা নেই। এ দেশের মানুষের সহ্যক্ষমতা যখন শেষ হয়ে যাবে তখন কী ঘটবে বলা যায় না। শাসকবর্গের বিষয়টা মাথায় রাখা দরকার।
বাঁধের প্রভাব প্রভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। সেখানকার কৃষকের মাঠের ফসল, জেলেদের আয় রোজগারের মাধ্যম ছিল এই নদী। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব সরকারেরই। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রক্ষকরা সেটা রক্ষায় কতটা তত্পর তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ। তিতাস দ্বিখণ্ডিত হলো, ঢাকা দ্বিখণ্ডিত হলো, এরপর কী আমরা জানি না। তবে অনুরোধ, বাংলাদেশটা অখণ্ড রাখবেন।

বণিক বার্তা ২৮.১২.২০১১

ছবি কৃতজ্ঞতা- অপ্রকাশিত

জলবায়ু তহবিল: প্রয়োজন গবেষণা ও স্বচ্ছতা

হাল দুনিয়ায় ব্যাপক প্রচলিত একটি বিষয় ‘জলবায়ু পরিবর্তন’। উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত বিশ্ব তথা সবার কাছে পরিভাষাটি বেশ পরিচিত। আমরা তো এটি অহরহই শুনছি। শুধু শুনছিই না, প্রত্যক্ষও করছি। এর প্রভাবে ২০০৭ সালে সিডর দেখেছি, ২০০৮-এ দেখেছি নার্গিস, আইলা দেখলাম ২০০৯-এ। আমরা যখন এগুলোর শিকার হচ্ছি অন্যরা গবেষণা করছে— আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ ২০১০-এ প্রকাশিত তাদের ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেস্কে বাংলাদেশকে এক নম্বর ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে দেখিয়েছে।
এ রকম হাজারো গবেষণা হয়েছে। সব গবেষণায়ই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চ্যাম্পিয়নশিপটি বাংলাদেশের। এসব গবেষণায় কেবল ক্ষতিগ্রস্তদেরই চিহ্নিত করা হয়নি, বরং দায়ীদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। সহজ ভাষায় বললে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন। বিশ্বব্যাংক ক্লাইমেট ডাটাবেজ-২০০৪ থেকে জানা যায়, ২০০২ সালে একজন আমেরিকান গড়ে ২০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় এর পরিমাণ ১৬ টন, যুক্তরাজ্যে ৯ টন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮ টন আর একজন বাংলাদেশী নিঃসরণ করেন শূন্য দশমিক ৩ টন। শিল্পায়নও এর জন্য দায়ী। চীন এবং ভারতেরও এখানে দায় রয়েছে। অবশ্য এর অন্য কারণও রয়েছে।
উন্নত বিশ্বের এ দায় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বলে তারা তা মেটাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে তহবিল দিয়ে থাকে। এ লেখার মূল বিষয় হলো জলবায়ু তহবিল। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উন্নত বিশ্বকে তাদের আর্থিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার দাবির ন্যায্যতার জন্য ঠিক এ কথাটিই বলেছেন— বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কম দায়ী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে ক্ষতিকর দেশগুলোর একটি।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসি) চার নম্বর ধারা অনুযায়ী উন্নত বিশ্ব তহবিল দিতে বাধ্য। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে তারা এ তহবিল দিয়ে আসছে। বাংলাদেশও যে ওই তহবিল পায়নি, তা নয়। বাংলাদেশ সে তহবিল ও নিজস্ব ফান্ড মিলে গঠন করেছে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড। এ ফান্ড দিয়ে কাজও শুরু হওয়ার কথা। গত ২৩ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— এ ফান্ড থেকে ৫০০ কোটি টাকার বেশি কাজে লাগানোর জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠন (এনজিও) ও সরকারি সংস্থাগুলোকে দেয়া হচ্ছে।
জলবায়ু তহবিল আমাদের প্রয়োজন কেন? এর উত্তর— অভিযোজনের জন্য। অভিযোজন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়ে গেছে তার ক্ষতিপূরণ। যেমন— উপকূলীয় যেসব এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে তা নির্মাণ, যারা উদ্বাস্তু হয়েছে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতি হতে বাঁচার উপায় বের করা, পানি সহনীয় ধান বা ফসল উদ্ভাবন, গ্রিন টেকনোলজি উদ্ভাবন। পরিবেশ বিপর্যয়ে খাপ খাওয়ানোর মতো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবনও রয়েছে এর মধ্যে। এর জন্য গবেষণায়ও তহবিল দরকার, অবশ্য গবেষণায় আমরা বরাবরই কম জোর দিয়ে থাকি। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুতিসহ এ রকম নানা অভিযোজনের কাজে জলবায়ু তহবিল আবশ্যক।
প্রতি বছর ইউএনএফসিসির সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ডিসেম্বরে। ১৯৯৫ সাল থেকে চালু হওয়া কোপ (কনফারেন্স অব কান্ট্রিজ)-১৭ সম্মেলন হচ্ছে আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। একে কেন্দ্র করে ১৩ ও ১৪ নভেম্বর ঢাকায় হচ্ছে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভা। এ নিয়ে ১ নভেম্বর পররাষ্ট্র এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন করে। যেখানে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় জলবায়ু তহবিল পাওয়া বাংলাদেশের অধিকার’। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা করছেন এ সভায় অন্তত ১০টি দেশের মন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করবে এবং এর মাধ্যমে ক্লাইমেট গ্রিন ফান্ড কার্যকর করতে ভুক্তভোগী দেশগুলোকে নিয়ে একটি প্লাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড বিষয়ে আসা যাক। ২০১০ সালে গঠিত হয় এ ফান্ড। শুরু থেকেই এ ফান্ড নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এ লেখার শুরুর দিকে একটি জাতীয় দৈনিকের কথা বলা হয়েছে, যার শিরোনাম ছিল— জলবায়ু তহবিল নয়-ছয়! এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু তহবিল থেকে ৫৩টি এনজিও ২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পাচ্ছে, যেগুলোর বেশির ভাগই অদক্ষ এবং ১১টির কর্ণধার ক্ষমতাসীন দলের লোক। আর এর বাইরে ৪৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে সরকারি সংস্থার জন্য। এখানেও রয়েছে এলাকাপ্রীতির অভিযোগ। সাম্প্রতিক সময়েও এ ফান্ডের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর টিআইবি এর স্বচ্ছতা খতিয়ে দেখতে ‘ফলো দ্য মানি’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
অভিযোগের অন্ত নেই। সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্প বন্ধ রয়েছে, বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করতে চাইছে না। তদন্ত চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল যেখানে আমরা দাতা গোষ্ঠীকে রাজি করিয়ে আদায় করছি, সেখানে বাস্তবায়নের এ অসঙ্গতি দুঃখজনক। বলা চলে, বাংলাদেশ তেমন একটা তহবিল পায়নি। এখনো ১১ কোটি ২ লাখ ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ( ডেনমার্ক ১৬ লাখ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১ কোটি ৪ লাখ, সুইডেন ১ কোটি ১৫ লাখ ও যুক্তরাজ্য ৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার দেবে)। এ দেশগুলো প্রতিশ্রুত তহবিল দেয়ার আগেই যদি এখানে নয়-ছয় দেখে, তারা তা দিতে আগ্রহী হওয়ার কথা নয়।
বাংলাদেশের এখনো অনেক তহবিল প্রয়োজন। সিডর ও আইলার কয়েক বছর পার হলেও সে ক্ষত রয়েই গেছে, সেখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার সমস্যাও তীব্র। এসব বিষয়ে অভিযুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দেন-দরবারের প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য বাংলাদেশের যথেষ্ট প্রস্তুতি ও গবেষণার প্রয়োজন। যুক্তি ও বাস্তবতা ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারলে তহবিল পাওয়াটা খুব কষ্টের হবে না বলেই মনে হয়। তবে তার আগে প্রয়োজন স্বচ্ছতার।

বণিক বার্তা, উপসম্পাদকীয় ১১.১১.১১

ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) দেশের ভূগর্ভস্থ পানি নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আপডেটিং গ্রাউন্ড ওয়াটার জোনিং ম্যাপ অব বাংলাদেশ নামে। তাতে গত সাত বছরের ভূগর্ভস্থ পানির চিত্র দেখানো হয়েছে। তাতে বলা হয়, সাত বছরে ঢাকার পানির স্তর নেমেছে ছয় মিটার। আজকের আলোচনা ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে এর সঙ্গে ঢাকার নদীগুলোও আসবে।
প্রায় সোয়া কোটি নগরবাসীর প্রতিদিন পানি জোগানের দায়িত্বে রয়েছে ওয়াসা। ওয়াসা জানাচ্ছে, প্রতিদিন পানির চাহিদা রয়েছে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন লিটার। ওয়াসা প্রতিদিন ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন লিটার পানি জোগান দিতে পারে। চাহিদার তুলনায় ওয়াসা পানি কম সরবরাহ করছে, কিংবা সরবরাহকৃত পানির মানের প্রশ্ন আছে, সেটা বিষয় নয়। বিষয়টা হলো ৮৭ শতাংশই তোলা হচ্ছে মাটির নিচ থেকে।
ওয়াসা পানির ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল, এতে পানির স্তর দিন দিন দ্রুত নিচে নেমে যাবে, এটা স্বাভাবিক। এখন গবেষণা হচ্ছে, পানির স্তর কতটা নিচে নেমে যাচ্ছে তা নিয়ে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, সাত বছরে নেমেছে ছয় মিটার। ২০০৪ সালে যেখানে সমুদ্রস্তর থেকে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানি ছিল ৪৬ মিটার নিচে, ২০১১-এ তা বেড়ে হয় ৫২ মিটার। অবশ্য ‘ওয়াটার এইড বাংলাদেশ’ বলছে, প্রতি বছর ঢাকার পানির স্তর নামছে তিন মিটার হারে।
পানির স্তর এভাবে দ্রুত নামায় একদিকে যেমন ওয়াসার পাম্প কিংবা গভীর নলকূপ থেকে পানি ওঠানো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে এটা নগরবাসীর জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে বিরাট প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হবে। ভূমিধস, খরা, পরিবেশ বিপর্যয় থেকে শুরু করে বাস্তুসংস্থান শৃঙ্খলা ভেঙে দেবে। আমাদের সামনে যে বাঁচা-মরার কঠিন বাস্তবতা উপস্থিত হয়েছে, এটা আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার আগে নদী বিষয়ে যাওয়া যাক।
ওয়াসা ভূগর্ভ থেকে ৮৭ শতাংশ পানি উত্তোলন করে। বাকি ১৩ শতাংশ আসে নদী থেকে। ঢাকার চারপাশে চারটি নদী— বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা। এর মধ্যে শীতলক্ষ্যা থেকে আসে ১০ শতাংশ, বাকি ৩ শতাংশ পানি বুড়িগঙ্গার। নদী থেকে উত্তোলিত পানি শোধনাগার থেকে শোধন করে বিতরণ করা হয়। মজার বিষয় হলো, ওয়াসার পানি নিয়ে গ্রাহকদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে— খাওয়ার অযোগ্য, দুর্গন্ধ, দূষিত, ডায়রিয়ার কারণ প্রভৃতি নদীর পানির জন্য। অর্থাত্ আমাদের নদীগুলো এতটাই দূষিত যে, তা শোধনের অযোগ্য। এই ১৩ শতাংশ দূষিত পানি ওয়াসার অন্য উেসর সঙ্গে মিশে পানিকেই ব্যবহারের অযোগ্য করে ফেলে।
চারটি নদীর সবগুলোর দূষণের মাত্রা বলার অপেক্ষা রাখে না। দূষণ আর দখলে এগুলোর অবস্থা সঙ্গিন। সদরঘাটে গিয়ে নদীর পাড়ে দাঁড়ালে যে কেউ অসুস্থ হতে পারেন। এ দূষণও আমাদের দ্বারাই হচ্ছে। হাজারীবাগ ট্যানারির বর্জ্য, ঢাকা ওয়াসার সুয়ারেজ লাইন, কলকারখানার বর্জ্য প্রভৃতির মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ধ্বংস করেছি। কঠিন ও তরল বর্জ্যে এর অক্সিজেনের পরিমাণ এতটাই কমে গেছে যে, সাম্প্রতিক পরিবেশ অধিদফতরের পরীক্ষায় বলা হয়েছে, এখানে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারবে না।
আমাদের নদীগুলোকে এভাবে না মারলে ঢাকা শহরে পানির কোনো সমস্যাই থাকত না। পরিকল্পনা ছাড়াই আমরা পানির বিষয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করেছি আর নদীগুলোকে ইচ্ছামতো দূষিত করেছি। অথচ ঢাকাবাসী শুরু থেকেই পানির বিষয়ে যদি নদীর ওপর নির্ভরশীল হতো, নদীগুলোকে ব্যবহার করে পানির চাহিদা মেটাত, তখন নগরবাসীর স্বার্থেই নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে হতো কিংবা একে ভালো রাখার সব পদক্ষেপ প্রশাসন নিত।
এখন আমরা সব হারিয়েছি। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে এর স্তর কমিয়ে জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়েছি, নদীগুলোকে দূষিত আর দখল করে বর্জ্য ফেলে মৃত করেছি। এসব পর্ব যখন শেষ, তখনই নদী উদ্ধারের তোড়জোড় দেখছি, ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। নদী উদ্ধারে হাইকোর্ট পর্যন্ত নির্দেশনা দিয়েছে। গত বছর ‘বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ রিভার ক্লিনিং প্রজেক্টের’ নামে বাবুবাজার থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত নদীর তলদেশের বর্জ্য অপসারণ শুরু হয়েছিল। সেটাও এখন বন্ধ। আবার ওই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত সমস্যায় নদীতেই পড়ছে।
ঢাকাবাসীর পানির সংকট উত্তরণে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে উপরিভাগের বিশেষ করে নদীর পানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো ছাড়া বাঁচার কোনো পথ নেই। কর্তাব্যক্তিরাও তা মনে করছেন। ওয়াসাপ্রধান এ কথাই বলেছেন, ‘আমরা ২০২১ সাল নাগাদ ভূ-উপরিভাগের পানি বর্তমানে ১৩ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করব, আর ভূগর্ভস্থ পানি ৮৭ থেকে নামিয়ে ৩০ শতাংশে নিয়ে আসব।’ বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ২০০৪ সালে ওয়াসার গভীর নলকূপ ছিল ৪৪০টি, এখন তা হয়েছে ৫৬০টি। তবুও আমরা আশাবাদী। আশা ছাড়া বাঁচার আর কোনো পথ খোলা আছে কি!

বণিক বার্তা, 30 অক্টোবর ২০১১