Category Archives: জাতীয় সমস্যা

মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াই

মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন জীবনযাপন আমাদের অধিকার। এটাই মানবাধিকার। মানবাধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা যেমন আমাদের সংবিধান দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবেও নানা উদ্যোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার বিষয়টি আসবে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যেই ১৯৪৮ সালে তৎকালীন বিশ্বনেতৃবৃন্দ মানবাধিকারের অসাধারণ এ দলিল রচনা করেন। আজ বিশ্বব্যাপী তারই ৭০ বছর পালিত হচ্ছে। মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ এ বছর সমতা, ন্যায় ও মানব মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্বে প্রতিনিয়ত নানাভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দেশেও মানবাধিকার পরিস্থিতি তথৈবচ। আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তার ওয়েবসাইটে সংবাদপত্রের হিসাব অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে। তাতে ২০১৭ সালে দেখা যাচ্ছে, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৪১৩। এর বাইরে আলাদা করে শিশুহত্যা ২৩১। এ ছাড়া ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতার মাধ্যমে (সংখ্যাটি যথাক্রমে ৬০৫, ২৯৯, ৫৪০) মানবাধিকার যেমন লঙ্ঘিত হয়েছে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি, গুম, নিখোঁজ, অপহরণ, শ্রমিক মৃত্যু ও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যাও স্পষ্টভাবে (যথাক্রমে ১৯৮, ১৫৪, ২২, ৫১, ২৩৩, ১৬৫ ও ১৪০) এসেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা একেকটা শিউরে ওঠার মতো। সংখ্যা যা-ই হোক, আমরা মনে করি, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা ভয়ঙ্কর। আর এখানে শুধু সংবাদমাধ্যমে যা এসেছে তা-ই দেখানো হয়েছে। এর বাইরেও যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আবার আমরা যদি মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা দেখি, তাতে আরও অনেক বিষয় যোগ হবে, যেখানে মানবাধিকার ঠিকভাবে রক্ষা হচ্ছে না। যেমন শিক্ষার অধিকার এখনও সবার জন্য নিশ্চিত হয়নি; মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা বাধা; ধর্ম ও বর্ণের কারণে বৈষম্যও রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয়-সামাজিক নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য, চিকিৎসাসেবাও সবার জন্য নিশ্চিত হয়নি। Continue reading

ভোক্তার আস্থা

ভালো পণ্য পাওয়া ভোক্তার অধিকার

আমরা প্রত্যেকেই প্রতিনিয়ত নানাভাবে ভোক্তা। খাওয়ার জন্য খাদ্যপণ্য কিনতে হয়, চিকিৎসার জন্য ওষুধ লাগে। ব্যবহারের জন্য মোবাইল, কসমেটিক পণ্য থেকে শুরু করে সংসারের প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রয়োজন হয়। এসব দ্রব্য কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তা হিসেবে ভালোটা পাওয়াই প্রত্যেকের অধিকার। কারণ ওইসব পণ্যের যথাযথ মূল্য পরিশোধ করেই তা ভোক্তার হস্তগত হয়। কিন্তু পণ্যটি ভেজাল হলে, মেয়াদোত্তীর্ণ হলে, ওজনে কম হলে কিংবা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হলে তাতে ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। ভোক্তা কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেলে, খাবারের ক্ষেত্রে কিংবা ওষুধের ক্ষেত্রে কোনো ভেজাল থাকলে পরিণামে অসুস্থ হওয়াসহ মৃত্যুর ঝুঁকি থাকাও অস্বাভাবিক নয়। ভোক্তার অধিকারের গুরুত্ব এখানেই।
এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখেই বিশ্বব্যাপী ১৫ মার্চ ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বিল্ডিং অ্যা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড কনজুমার ক্যান ট্রাস্ট’ (ভোক্তার আস্থার ডিজিটাল বিশ্ব গড়া)। বলা বাহুল্য, বিশ্ব যখন তথ্যপ্রযুক্তিকে সঙ্গে করে এগিয়ে চলেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাই এবারের প্রতিপাদ্য। এ সময়ে মোবাইল ছাড়া মানুষ বলা চলে অচল; অনেক কাজ কম্পিউটার ইন্টারনেটে করা হয়। এমনকি ওজনের ক্ষেত্রেও এখন ডিজিটাল মেশিনের প্রাধান্য। Continue reading

স্বাস্থ্য খাতে আরও বিনিয়োগ হোক

সাক্ষাৎকার// অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার

সাকিকো ফুকুদা-পার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম ইন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক। তিনি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির ভাইস চেয়ারম্যান। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিট অব সাসেক্স ও দ্য ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির গ্র্যাজুয়েট। ফুকুদা-পার পড়িয়েছেন কলাম্বিয়া ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে। কাজ করেছেন বিশ্বব্যাংকে। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির তৃতীয় বার্ষিক বক্তৃতার প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশে আসেন। ঢাকায় তিনি সমকালের সঙ্গে কথা বলেন
সাক্ষাৎকার গ্রহণ :মাহফুজুর রহমান মানিক
সমকাল : সিপিডির বক্তৃতায় আপনি স্বাস্থ্যসেবায় কতগুলো চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন…
সাকিকো ফুকুদা-পার : প্রকৃতপক্ষে অপর্যাপ্ত উদ্ভাবন, ওষুধপ্রাপ্তিতে সমস্যা ও নতুন ওষুধের দাম বৃদ্ধি_ এই তিনটি চ্যালেঞ্জ কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপীই আমরা দেখছি। ওষুধের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা সর্বত্রই ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি থাকার পরও বিশ্বব্যাপী বাড়ছে ওষুধের দাম। ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত হারে ওষুধ পাচ্ছে না।
সমকাল : আপনি ওষুধের দাম বৃদ্ধির কথা বলেছেন। বাংলাদেশেও একই সমস্যা। কিন্তু বিপরীত বিষয় হলো দিন দিন আমাদের গড় আয়ু বাড়ছে। সাম্প্রতিক হিসেবে আমাদের গড় আয়ু প্রায় ৭১ বছর। ওষুধের দাম কিংবা চিকিৎসাসেবার দাম বৃদ্ধির পরও এমনটা হচ্ছে। কীভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন।
ফুকুদা-পার : দেখুন গড় আয়ু বৃদ্ধি কেবল ওষুধ বা চিকিৎসার দাম বৃদ্ধির সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়, নানা কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেতে পারে। যেমন_ খাদ্য-পুষ্টি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি। এসবসহ অন্যান্য দিক থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতি লক্ষণীয়। ফলে এখানে গড় আয়ু বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আগেই বলেছি; তবে যোগ করার বিষয় হলো, অনেক ওষুধ কিংবা নতুন নতুন ওষুধ বাংলাদেশকে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিকভাবে যখন ওষুধের দাম চড়া, তখন বাংলাদেশকেও উচ্চমূল্য দিয়ে ওষুধ কিনতে হয়। তা বহন করতে হয় মানুষকেই। বাংলাদেশেও তার প্রভাব আমরা দেখেছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা রোগে ২০১৪ সালে ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও যক্ষ্মা চিকিৎসায় দুটি নতুন ওষুধ তৈরি হয়েছে এবং তা বাংলাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। Continue reading

পারিবারিক শিক্ষা ও বন্ধন

familyকাজে গেলে মেয়েটি অপেক্ষা করে কখন আসবে বাবা, ছেলের ভাবনায়ও বাবা, স্ত্রীও হয়তো প্রিয় স্বামীর পথপানে চেয়ে থাকেন। বাবাকে নিয়ে এই উৎকণ্ঠা কেবল পরিবারেই সম্ভব। ছেলে পড়তে যাবে, মা যতক্ষণ চোখ যায় তাকিয়ে থাকেন। ছেলে অদৃশ্য হয়ে গেলে হয়তো শাড়ির আঁচলে চোখ মোছেন। বাবা এগিয়ে দিয়ে আসেন। যানবাহনে উঠিয়ে দেন। খেয়ে না খেয়ে রোজগারের টাকা ছেলের হাতে তুলে দেন। ছেলে পড়তে যায়, বাবা বারবার পেছনে তাকান। এটাই তো পরিবারের দৃশ্য। মেয়ে বড় হয়েছে। পছন্দমতো পাত্র খুঁজে পাত্রস্থ করবেন, তারপরও মায়ের বিলাপ, বাবার কান্না, ভাইবোনের অশ্রু। এমন আদর, সোহাগ, মমতা, ভালোবাসা কেবল পরিবারেই সম্ভব। সন্তানের অসুস্থতায় বাবা-মা উৎকণ্ঠায় থাকেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে সন্তানকে বাঁচাতে চান। এই যে রক্তের, হৃদয়ের বন্ধন তা একমাত্র পরিবারই দিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার এই সম্পর্ক প্রতিদিন প্রতিক্ষণের। একদিনের পরিবার দিবসে তাতে কিছু আসে যায় না। তার পরও জাতিসংঘ ঘোষিত আজকের আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসে পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নই বোধ হয় যথার্থ। Continue reading

মান- বিশ্বের অভিন্ন ভাষা

standard_day1444759311বিশ্বের ৭০০ কোটিরও বেশি মানুষের ভাষার সংখ্যা সাত হাজারের ওপর। সবার ভাষা এক হলে হয়তো বিশ্বের অবস্থা অন্যরকম হতো। মানুষের মুখের ভাষা ভিন্ন হলেও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অনেক কিছুর অভিন্ন ভাষা আছে। আপনার কাছে যে ক্রেডিট কার্ড আছে সেটা সব ক্যাশ মেশিনেই খাটবে; আপনি বাজার থেকে যে বাল্বই আনবেন তা নির্দিষ্ট পোর্টের জন্য প্রযোজ্য হবে; কম্পিউটারের জেপিজি ফরম্যাট সারাবিশ্বে একই; আপনার ওজনের ইউনিটও সর্বত্র সমান। এ বিষয় সামনে রেখেই এবারের বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য : স্ট্যান্ডার্ডস_ দ্য ওয়ার্ল্ডস কমন ল্যাঙ্গুয়েজ অর্থাৎ মান_ বিশ্বের অভিন্ন ভাষা। এই প্রতিপাদ্যের পেছনের কারণও বলছে আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও)। দিবসটি উপলক্ষে আইএসওর ওয়েবসাইট বলছে, এক দেশের ক্রেতা অন্য দেশে গিয়ে যদি বলতে না পারত এটা এই পরিমাণ দিন, ওটা অতটুকু দিন_ তখন কী সমস্যাই না হতো! এই অভিন্ন ভাষা কেবল মানুষের ব্যবসার জন্যই ভালো নয়, এটি বিশ্বের সব মানুষকে একসঙ্গে কাজ করাও সহজ করেছে, বলছে আইএসও। Continue reading

‘সিগারেট-ফ্যাশন’ চাই না

Cigarette-life-burningযেখানে সিগারেট অনেকের কাছে ফ্যাশন হিসেবে গণ্য হয়; যেখানে বেশি দামের সিগারেট আভিজাত্যের পরিচায়ক; যেখানে সিগারেট আধুনি‌‌‍কতা বা স্মার্টনেস প্রকাশ করে; কিংবা অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, যেখানে সিগারেট বিনোদনের মাধ্যম; সেখানে তামাকমুক্ত দিবস বড় অসহায়। এই অসহায়ত্বের কাছে আজকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) কর্তৃক প্রণীত দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘তামাকের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ কর’ ধোপে টিকে না। তারপরও বিষয়টি যখন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ তখন হু’র মতো সংগঠনের এ নিয়ে কথা বলার বিকল্প কী। সংস্থাটি প্রতিবছরই এর ঝুঁকি সম্পর্কে নানা তথ্য প্রকাশ করে। যেমন_ প্রতিবছর বিশ্বে ৬০ লাখ মানুষ ধূমপানের কারণে মারা যায়। এর মধ্যে ছয় লাখ আবার পরোক্ষ ধূমপায়ী। তা ছাড়া প্রায় সবাই তো জানেন, ক্যান্সারসহ নানা রোগের উৎস সিগারেট। এরপরও কিন্তু সিগারেট খাওয়া কমছে না। এমনকি এর বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও নয়। Continue reading

চিকিৎসার চেয়ে প্রতিকার উত্তম

Hand washingমানুষের অত্যাবশ্যকীয় প্রায় সব কাজে হাতের ব্যবহার অপরিহার্য। বাঁচার জন্য যে খাবার আমরা গ্রহণ করি তা মুখে তুলে দেয় হাত। এ হাত সর্বাবস্থায় খোলা থাকে, যা দিয়ে সবসময় নানা জিনিস আমরা স্পর্শ করি। হাতে যে কোনো জীবাণু লেগে থাকা স্বাভাবিক। ফলে কোনো খাদ্য গ্রহণের পূর্বে হাত ধোয়া আবশ্যক। অন্যথায় হাতে লেগে থাকা জীবাণু পেটে গিয়ে যে কারও নানা ধরনের রোগ হয়ে যেতে পারে। হাত ধোয়ার গুরুত্বের উপলব্ধি থেকেই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। সুইডেনের স্টকহোমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জোট ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ফর হ্যান্ডওয়াশিং’ সর্বপ্রথম ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর দিবসটি পালন করে। দিবসটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট গ্গ্নোবাল হ্যান্ড ওয়াশিং ডট ওআরজি বলছে, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস মূলত শিশু ও স্কুলের জন্য করা হয়েছে। তবে যে কেউ হাত ধোয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে এটি পালন করতে পারে। ওয়েবসাইটটি আরও বলছে, প্রতি বছর ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের ১৭ লাখ শিশু মারা যায়, যাদের বয়স ৫ বছরেরও কম। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসই এ মৃত্যুর হার দ্রুত কমাতে পারে। Continue reading

অপহৃতের পরিবারের অপেক্ষা

Abduction-bd‘মানবাধিকার’ সৃষ্টির সেরা মানুষের শ্রেষ্ঠত্বেরই নিদর্শন। প্রত্যেক মানুষের রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু অধিকার রয়েছে। আমাদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে এসব মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। মানুষ হিসেবে আপনার চিন্তার স্বাধীনতা আছে, কথা বলার স্বাধীনতা আছে, আছে পেশাবৃত্তির স্বাধীনতাও। স্বাধীনভাবে চলাফেরাও আপনি করতে পারবেন। আপনি নিজে কোথাও গিয়ে হারিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু যখনই আপনাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ নিয়ে যাবে তখনই সেটা হবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সে অবস্থাকেই বলা হয় গুম বা অপহরণ। এটা মানবাধিকারের কতটা লঙ্ঘন অপহরণের শিকারদের নিয়ে জাতিসংঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব দ্য ভিকটিমস অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’ তার প্রমাণ। Continue reading

মেধাসম্পদ ও মেধার মূল্যায়ন

intellectual-property-e1266844349931মানুষের সৃষ্টির সবকিছুর মূলে রয়েছে মেধা। লেখকরা মেধা দিয়ে লেখেন। বিজ্ঞানী-গবেষকরা তা দিয়ে নতুন নতুন আবিষ্কার করেন। শিল্পীরা শিল্পকর্ম রচনা করেন এর মাধ্যমে। ব্যবসায়ী মেধা খাটিয়ে ব্যবসা করেন। কার্টুনিস্ট, ফটোগ্রাফার থেকে শুরু করে মুচি পর্যন্ত প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার মানুষ স্ব-স্ব মেধা দিয়েই কাজ করেন। এমনকি শারীরিক শক্তি দিয়ে মানুষ যে কাজ করে, সেখানেও মেধা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি কাজের আলাদা কৌশল রয়েছে। যিনি মাটি কাটেন তিনি এর কৌশল জানেন। মেধা খাটিয়েই তিনি এ কৌশল ব্যবহার করেন।
সব কাজের মধ্যেও বিশেষ কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো মানুষ সরাসরি মেধার সাহায্যে করে থাকে। যার মাধ্যমে মানুষের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। আজকের বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস আসলে এই সৃজনশীলতা ও সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহিত করার জন্যই পালন করা হয়। Continue reading

স্টপ শিশুশ্রম

childWorkerরনিকে না চিনলেও চলবে। কতটা উচ্ছল ছেলেটা। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর রনির একজন কাস্টমার উপযুক্ত সেবাটাই চান। রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলেই সুন্দর করে সালাম দেয়। সালাম দিয়েই ক্ষান্ত হয় না। চেয়ার দেখিয়ে দরদমাখা কণ্ঠে বলে, ‘বসেন স্যার।’ এই ‘স্যার’দের ফরমায়েশ খাটতেই দিন যায় তার। চেহারায় বুদ্ধিদীপ্ত আভা স্পষ্ট। কেবল চালাক শব্দটা যেন তার পক্ষে খাটে না। এর সঙ্গে আরও কিছু জুড়ে দেওয়াটাই যথোপযুক্ত। কিছু জিজ্ঞেস করলে অসাধারণ ভঙ্গিতে জবাব দেয়। বিস্তর কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি কোনোদিন। খেয়েছো? জি স্যার। কতইবা বয়স। বাংলাদেশের শিশুর সংজ্ঞায় যে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে তার শেষ সীমার অর্ধেকের চেয়ে কিছু বেশি হবে। চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ থাকলেও পোশাক-পরিচ্ছদ তার উল্টো। ছেঁড়া এবং নোংরা দুটি অভিধাই এখানে খাটবে। চুলগুলো উষ্কখুষ্ক, কাটার সময় যেন বহু আগেই পেরিয়েছে। তারপরও অশোভনীয় এ বড় চুলগুলোকে হাত দিয়ে মাথার সামনের দিক থেকে পেছনে চালান করে দেয়। যেন এটা একটা স্টাইল। Continue reading