Category Archives: জাতীয় সমস্যা

ঈদযাত্রা কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি প্রয়োজন

সাক্ষাৎকার: ড. মো. সামছুল হক

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মাহফুজুর রহমান মানিক

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. সামছুল হক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক। ঢাকার মেট্রোরেল, হাতিরঝিল প্রকল্পসহ উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক এবং কুড়িল ইন্টারচেঞ্জের পরিকল্পনাকারীও তিনি। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে বিএসসি ও এমএসসি অর্জনকারী সামছুল হক পিএইচডি করেছেন ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটন থেকে।

সমকাল: ঈদে বাড়িফেরা আমাদের নিয়মিত অনুষঙ্গ হলেও ঈদযাত্রায় আমরা প্রতি বছরই বিশৃঙ্খলা দেখছি। এখানে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়?

মো. সামছুল হক: ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা ফেরানো অসম্ভব নয়। কিন্তু আমরা সে পথে হাঁটছি না। সংকট মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অগ্রসর না হয়ে আমরা কেবল গায়ের শক্তি দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি। এ সময় অধিকসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামিয়ে দিলেই তো সমাধান হবে না। এ জন্য সারা বছর কাজ করতে হবে। নানা কারণে আমাদের সড়কগুলো সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারছে না। সেখানে কোথাও সড়কের পাশে বাজার আবার কোথাও অকারণে ভবন উঠাচ্ছি। সড়ক ঠিক না হলে তো ঈদযাত্রাও নির্বিঘ্ন হবে না।

সমকাল: ঈদযাত্রায় অসহনীয় যানজট আমরা দেখি। বিশেষ করে রাজধানী ছাড়তেই দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

সামছুল হক: রাজধানীতে সারা বছরই যানজট থাকে। ঈদের সময় এ সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। বিশেষত ঢাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে আমরা দেখি মোড়গুলোতে প্রচণ্ড চাপ থাকে। সানারপাড়, মৌচাক- এসব মোড়ে কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা যায়। এর সমাধান হিসেবে আমরা কেবল ওই মোড়গুলো মোটাতাজাকরণেই ব্যস্ত থাকি। কিন্তু যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নিচ্ছি না। আমরা কুড়িল মোড়ের মতো ব্যবস্থা নিতে পারি, যাতে সব গাড়ি তার নিজ নিজ গন্তব্যে যানজট ছাড়াই সহজে যেতে পারে। এদিকে ঢাকার উত্তরা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে চলছে নির্মাণকাজ। সেখানে সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। Continue reading

প্রযুক্তির মেলবন্ধন না ঘটলে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ শঙ্কায়

সাক্ষাৎকার: জাকারিয়া স্বপন

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মাহফুজুর রহমান মানিক

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন বাংলাদেশের প্রথম অনলাইনভিত্তিক অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আইপে সিস্টেমস লিমিটেড’ ও বাংলা ভাষার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট প্রিয় ডটকমের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক জাকারিয়া স্বপনের জন্ম ময়মনসিংহে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মাহফুজুর রহমান মানিক।

সমকাল: ‘মাতৃভাষা বাংলার সর্বস্তরে প্রচলন’- এর সঙ্গে ইন্টারনেটে বাংলার বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

জাকারিয়া স্বপন: আমরা তো সবাই প্রত্যাশা করি, সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন হোক। এই প্রত্যাশার আলোকে ইন্টারনেটে বাংলা প্রচলনের বিষয়টিও দেখার অবকাশ রয়েছে। ইন্টারনেটের ফলে বাংলা ভাষার ব্যবহার বেড়েছে। মানুষে মানুষে বেশি যোগাযোগ হচ্ছে। আর যোগাযোগের মূল মাধ্যম যেহেতু মাতৃভাষা, তাই এর ব্যবহারও বেড়েছে। ভাষা সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত নানাভাবে ভাষার রূপান্তর ঘটেছে। বর্তমানে ভাষা ব্যবহারের অন্যতম মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। যেমন হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে আগে ইংরেজিতে কথোপকথন হতো। এখন সেখানে বাংলায় হচ্ছে।

সমকাল: তার মানে, ভাষা হিসেবে বাংলাকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিরও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

জাকারিয়া স্বপন: ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তি এখন আমাদের জীবনের অংশ। সুতরাং ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রশ্নে প্রযুক্তির ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। Continue reading

শিশুদের আমরা কী খাওয়াচ্ছি!

চিপস, চকলেট, ফাস্টফুড ইত্যাদি ক্ষতিকর খাবারে শিশু অভ্যস্ত হচ্ছে

শিশুর খাবার নিয়ে মা-বাবা কিংবা অভিভাবকের অভিযোগের অন্ত নেই। শিশু খেতে চায় না- এটা যেমন সত্য; তেমনি এটাও সত্য, সচেতন কিংবা অসচেতনভাবে শিশুকে আমরা নানা ধরনের খাবারের প্রতি অভ্যস্ত করে তুলি; যা পুষ্টিকর তো নয়ই, বরং অনেক ক্ষেত্রে শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। খাবার হিসেবে শিশুর পছন্দ কী? বাংলাদেশের কথা চিন্তা করলে চিপস, চকলেট, চানাচুর, বিস্কুটসহ ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের বাইরে অন্য কিছু আছে কী? বলা বাহুল্য, শিশু এসব খাবার এমনিতেই পাচ্ছে না, বরং তাদের অনেক ক্ষেত্রে আমরাই এসবের অভ্যাস করিয়েছি। ভালোবেসে নিয়মিত এসব খাবার দেওয়ার মাধ্যমে শিশুর রুচিই নষ্ট হয় না, বরং অনেকের অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

এটা স্পষ্ট, শিশুর খাবারের ক্ষেত্রে মা-বাবা কিংবা অভিভাবকের সচেতনতা সবার আগে। অস্বীকার করার উপায় নেই, চটকদার এসব খাবার বাজারে কিংবা দোকানগুলোর সামনেই সুসজ্জিত করে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, নানাভাবে সেসব খাদ্যের বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হয়। এসব কারণে অনেক শিশু হয়তো নিজেই তার জন্য সেটি কিনতে বায়না ধরে। তা ছাড়া বলা চলে, আমরাও সেসবের বিকল্প খুঁজে পাই না। শিশুর বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেও বলছি, শিশুকে বাইরে নিয়ে অনেকে তার হাতে একটা চিপস ধরিয়ে দেন। আবার আমরাও অনেকে দীর্ঘ সময় পর বাইরে থেকে ঘরে ফিরলে শিশুর জন্য চকলেট বা এ জাতীয় খাবার নিয়ে আসি। এমনকি আত্মীয়স্বজনও শিশুর জন্য বিস্কুট, চানাচুর, চকলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি আনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাতে শিশু মহাখুশি হয় বটে, কিন্তু আদতে যে আমরা তার ক্ষতি করছি, তা বলা বাহুল্য। Continue reading

রাজনৈতিক অবক্ষয়ের কারণে নির্বাচনে প্রাণহানি- বদিউল আলম মজুমদার

ড. বদিউল আলম মজুমদার একজন অর্থনীতিবিদ, রাজনীতি বিশ্নেষক, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়নকর্মী। তিনি নাগরিক সংগঠন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সত্তরের দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৯১ সালে বদিউল আলম মজুমদার দেশে ফিরে এসে ক্ষুধামুক্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয়। তিনি জনবান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন, শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ১৯৪৬ সালে কুমিল্লার লাকসামে তার জন্ম।

সমকাল: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে এবার সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা এত বেশি হওয়ার কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

বদিউল আলম মজুমদার: স্থানীয় সরকারের একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রাম পর্যায়ে এমনকি পাড়া-মহল্লার মানুষ বেশি তৎপর থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের এবারের নির্বাচনে যে প্রাণহানি ও সহিংসতা দেখা যাচ্ছে, তা অনেককেই হতবাক করেছে। ইতোমধ্যে ইউপি নির্বাচনের মাত্র দুটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এর পরের ধাপগুলোতেও যদি সহিংসতা ও প্রাণহানির এ ধারা চলতে থাকে, তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে আমি মনে করি, নির্বাচনে এ সহিংসতা মূলত রোগ নয়, বরং কয়েকটি রোগের উপসর্গ মাত্র।

সমকাল: তাহলে রোগগুলো কী?

বদিউল আলম মজুমদার: বর্তমানে রক্তক্ষয়ী নির্বাচনের যে ধারা আমরা দেখছি, তাতে আমার বিবেচনায় রোগ তিনটি। এর মধ্যে প্রথমটি রাজনৈতিক অবক্ষয়। আমাদের রাজনীতি এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক পদ-পদবি পেলে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা থাকে। ফায়দাভিত্তিক রাজনীতির কারণে অনেকে আজ রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও এখন ফায়দা হাসিলের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছে। রাজনীতির গুণগত মান নিম্নগামী এবং নেতাকর্মীরা যখন সম্পদ বানাতে লিপ্ত, তখন অন্যকে ঘায়েল করতেও তারা দ্বিধা করছেন না। তার চেয়েও বড় বিষয়, তারা অন্যায় করে পার পেয়ে যান। আর নির্বাচনে সহিংসতার দ্বিতীয় কারণ দলভিত্তিক নির্বাচন।

সমকাল: দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে সহিংসতার কী সম্পর্ক? Continue reading

মন খারাপের ডায়েরি

রাজধানীর পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাননি রায়হানের মা। অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান!

প্রতিদিন বিপর্যয়ের নতুন রেকর্ড আমাদের মন ভেঙে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা দেয়ালে রায়হানের অসহায় অর্তনাদের ছবি দেখে কে-ই বা নিজেকে ধরে রাখতে পারে! রাজধানীর পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাননি রায়হানের মা। অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান! গত বছর করোনা সংক্রমণের পর থেকেই এমন অসহায় দৃশ্য আমরা দেখে আসছি। এবারের পরিস্থিতি যে আরও নাজুক; এক সপ্তাহের চিত্রেই তা স্পষ্ট। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল ২০২১) সর্বোচ্চ ৬৬ জনের মৃত্যু ও ৭ হাজার ২১৩ জনের সংক্রমণের খবরের হিসাব মেলাতে যখন সবাই ব্যস্ত; পরদিন বুধবারই সেই হিসাব ভেঙে আমরা দেখেছি, নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত ৭ হাজার ৬২৬ জন। করোনাকালে বাংলাদেশে এটাই এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এভাবে পরিসংখ্যান আমাদের কতদূর নিয়ে যাবে, জানি না।

আমরা ভাবছিলাম, করোনা জয় করে আমরা বুঝি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি। সবার টিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিগগিরই বাংলাদেশ বুঝি করোনামুক্ত হয়ে যাবে। বছরব্যাপী বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখও ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু মাসখানেক ধরেই আমরা দৃশ্যপট পাল্টে যেতে দেখলাম। করোনা সংক্রমণের উল্লম্ম্ফন। হঠাৎ সংক্রমণ আর মৃত্যুহার বাড়তে থাকে। এমনকি তা গত বছরের রেকর্ডও ভেঙে দেয়। নতুন রেকর্ড হয়, পুরাতনটা ভাঙে। সপ্তাহখানেক ধরে এই ভাঙা-গড়ার খেলাই চলছে। আর তার পেছনে ঘটে চলেছে কত মানবিক-অমানবিক গল্প! কোনো গল্প সংবাদমাধ্যমে আসে; ইন্টারনেটের কল্যাণে ভাইরাল হয়; আর কোনো গল্প চোখের আড়ালেই থেকে যায়।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ‘স্বাস্থ্য’। অথচ আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন হযবরল, স্বাস্থ্যবিধিও তথৈবচ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা নাজুক; এ ভাইরাসের সংক্রমণ না হলে মনে হয় তা এতটা স্পষ্ট হতো না। Continue reading

প্রচলিত উন্নয়ন কৌশলের কারণে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে-ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পিপিআরসির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান। দীর্ঘ সময় তিনি বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইউএসএইড, জাইকাসহ বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষার্থী হোসেন জিল্লুর রহমান পিএইচডি করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে। ১৯৫১ সালে চট্টগ্রামে তার জন্ম।


সমকাল: যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ, যাকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলা হয়েছে। সেখান থেকে আমাদের উত্তরণ কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: বাংলাদেশের শুরুর কথা চিন্তা করলে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত, আপনি যেটা বললেন, বিদেশিরা কী বলেছে, অর্থাৎ তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা ইত্যাদি। আরেকটা হলো, আমরা কী স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং সেখান থেকে কতদূর এগোলাম। তলাবিহীন ঝুড়ির প্রশ্নে আসি- এ অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। বাংলাদেশের যে বহুমুখী পরিবর্তন হয়েছে, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। দুর্যোগপ্রবণ দেশে আগে দুর্যোগ হলে আমরা ভেঙে পড়তাম। এখন ভেঙে পড়ি না, বরং দাঁড়াতে শিখেছি। আমাদের সবদিক থেকে সক্ষমতা বেড়েছে। যদিও উপরি কাঠামোতে নানা পালাবদল ঘটেছে।

সমকাল: উপরি কাঠামো বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: উপরি কাঠামোতে পরিবর্তন মানে আমরা রাজনৈতিক নানা পরিবর্তন দেখেছি। সামরিক শাসন দেখেছি; ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখেছি। এখানে নানা টানাপোড়েন হলেও দেশের অর্থনীতি কিন্তু ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে। Continue reading

এত সহজেই খাবার অপচয় করি!

একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের কঙ্কালসার দেহ, আরেকদিকে প্লেটভর্তি নষ্ট করা খাবার- দুটি বিপরীত চিত্র। উভয়টিই পৃথিবীর নিদারুণ বাস্তবতা। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী বছরে প্রায় ১০০ কোটি টন খাবার নষ্ট হয়। জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক সংস্থা-ইউএনইপির ‘ফুড ওয়াস্ট ইনডেক্স রিপোর্ট ২০২১’ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতি ঘরে বছরে গড়ে ৬৫ কেজি খাবারের অপচয় হয়। এমনকি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকান ও জাপানিদের তুলনায় বাংলাদেশিরা বেশি খাবার অপচয় করে। খাদ্যশস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ঘরে তোলা এবং থালা পর্যন্ত নানাভাবে খাবারের অপচয় হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চলে যেন খাবার নষ্টের প্রতিযোগিতা। মনে রাখা দরকার, খাবার অপচয় করা কোনো ফ্যাশন নয় বরং এটি অমানবিকতা এবং অপরাধ।

খাবারসহ জীবন ধারণের যে কোনো বিষয়ে অপচয় না করার তাগিদ রয়েছে বিভিন্নভাবে। কেবল খাবার নষ্ট করাই নয়; সময় এবং জীবনের উপায়-উপকরণেও সব ধরনের অপচয় পরিত্যাজ্য। এর মধ্যে খাবার অপচয়ের বিষয়টি একেবারে ভিন্ন। কেউ যদি মনে করেন, আরেকজনের বিয়েতে এসেছেন; খেতে যেমন বারণ নেই, তেমনি ফেলতেও সমস্যা নেই; বিষয়টি তা নয়। এটা মনে করা যাবে না, অপচয়ের ফলে নিজের টাকা খরচ হচ্ছে না। আমাদের মানসপটে যদি আফ্রিকার ক্ষুধার্ত শিশুর চেহারা ভেসে ওঠে কিংবা না খেয়ে থাকা ইয়েমেনের কোনো মানুষের কথা; তখন কেমন লাগবে? বেশি দূরে যাওয়া নয়, হয়তো আমাদের পাশের কোনো ঘরেই সবার ঠিকমতো তিন বেলা খাবার জোটে না। তাহলে কীভাবে খাবার অপচয় সম্ভব! খাবারের যদি কথা বলার সামর্থ্য থাকত, জানি না নষ্ট হওয়া খাবারগুলো ঠিক কী বলত! যে খাবার এত মজা করে খাওয়া হচ্ছে, অর্ধেক খাওয়ার পরই যদি বলা হয়, আর পারছি না, তাহলে এ খাবার যাবে কোথায়? কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সুস্বাদু খাবারটা পরিণত হলো স্রেফ ঝুটায়? আপনি কতটুকু খেতে পারবেন, খাবার নেওয়ার আগেই তা চিন্তা করা উচিত।

রেফ্রিজারেটর তথা ফ্রিজ আসায় খাবার অপচয় অনেকখানি রোধ করা সহজ হয়েছে; এটা সত্য। কিন্তু সদিচ্ছা না থাকলে ওই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রটি কিছুই করতে পারবে না। আবার ইচ্ছা থাকলে ফ্রিজ ছাড়াও খাবার সংরক্ষণ করা অসম্ভব নয়। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি, কীভাবে আমাদের মা-দাদিরা ফ্রিজ ছাড়া খাবার সংরক্ষণ করতেন। অপচয় বন্ধে সদিচ্ছাই যখন প্রধান, তখন ধনী কী, আর গরিবই বা কী? জাতিসংঘের পরিসংখ্যানে আমরা দেখছি, উন্নত দেশগুলোতে যত খাবার অপচয় হয়, তার চেয়ে বেশি অপচয় হয় নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। অপচয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, এর পর নেপাল। Continue reading

ইসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এনআইডি জালিয়াতি সম্ভব নয়- এম সাখাওয়াত হোসেন

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এম সাখাওয়াত হোসেন ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণের পর তিনি লেখালেখি ও গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। এম সাখাওয়াত হোসেন ২০১৮ সালে নির্বাচনী ব্যবস্থায় সুশাসনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জন্ম ১৯৪৮ সালে বরিশালে
সমকাল: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পুরোনো। আমরা দেখেছি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের এনআইডির মাধ্যমে পাসপোর্ট করে বিদেশেও গেছে। রোহিঙ্গারা কীভাবে এনআইডি পেল?
এম সাখাওয়াত হোসেন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি একটি দেশের নাগরিক পরিচয়পত্র। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের এনআইডি পাওয়ার কথা নয়। তারপরও তারা এনআইডি পেয়েছে; তা দিয়ে পাসপোর্ট করে বিদেশেও গেছে। কারও জাতীয়তা প্রমাণের জন্য কিংবা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় তথ্যের ওপরেই নিবন্ধন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদত্ত সার্টিফিকেট কিংবা জন্মনিবন্ধনই প্রাথমিক ভরসা। এগুলো ইউনিয়ন পরিষদে গেলেই সহজে পাওয়া যায়; এখানে তেমন যাচাই-বাছাই করা হয় না বিধায় ভুয়া সনদ পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে যখন জাতীয় পরিচয়পত্র করা হয়, তখন আমরা খবর পেলাম রোহিঙ্গারা এনআইডি নিচ্ছে বা ভোটার হচ্ছে।
সমকাল: রোহিঙ্গারা যাতে এনআইডি না পায়, তখন আপনারা কী পদক্ষেপ নেন?
এম সাখাওয়াত হোসেন: আমরা যখন খবর পাই রোহিঙ্গারা ভোটার হচ্ছে, তখন ইসি তদন্ত করে ২০-২৫ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন বাতিল করে। ২০০৯ সালে তখন আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে সিদ্ধান্ত নিই, রোহিঙ্গা বসবাসকারী এলাকাগুলো বিশেষভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এর পর বিশেষ ফরম ও কমিটির মাধ্যমে সেখানে ভোটার করে ইসি। সাধারণত বিশেষ কমিটি অনুমোদন না করলে ওইসব এলাকায় কাউকে ভোটার করা হয় না। Continue reading

ভোক্তাবিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় দরকার- গোলাম রহমান

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের আগে তিনি বাণিজ্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ষাটের দশকের শেষের দিকে গোলাম রহমান সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন
সমকাল: মঙ্গলবার খাদ্যমন্ত্রী ১৫ দিন আগের দরে চাল বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের মনে আছে, ২০১৭ সালে হাওরে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় উঠেছিল। এরপর এবার সেটা ৪৮ টাকা দেখছি।
গোলাম রহমান: মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কারও ঘোষণা বা আদেশ দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। বাজার নিয়ন্ত্রণের একটাই উপায়, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা। চালের বাজারের জন্যও একই কথা। চালে এবার আমাদের ২০১৭ সালের মতো অবস্থা তৈরির সুযোগ আছে বলে মনে করি না।
সমকাল: তাহলে চালের এই বাড়তি মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী?
গোলাম রহমান: প্রথম কথা হলো, চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন নিঃসন্দেহে। স্বাধীনতার সময় যে জনসংখ্যা ছিল এখন তার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হলেও আমরা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ফসলের ফলন বাড়িয়ে চালে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। সবাই দেখেছে, দুর্যোগের মধ্যেও এবার চালের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে দফায় দফায় চালের মূল্য বৃদ্ধি আমার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় না। সরকার চালকল মালিকদের অসহযোগিতার কারণে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। আরেকটা কারণ আমার মনে হয়, করোনাভাইরাসের মধ্যে যারা গ্রামে ফিরে গেছে, তাদের অনেকেই বেশি করে চাল কিনে মজুদ করেছে।
সমকাল: আপনি চালকল মালিকদের অসহযোগিতার কথা বলেছেন, সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি এসেছে। Continue reading

মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াই

মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন জীবনযাপন আমাদের অধিকার। এটাই মানবাধিকার। মানবাধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা যেমন আমাদের সংবিধান দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবেও নানা উদ্যোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার বিষয়টি আসবে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যেই ১৯৪৮ সালে তৎকালীন বিশ্বনেতৃবৃন্দ মানবাধিকারের অসাধারণ এ দলিল রচনা করেন। আজ বিশ্বব্যাপী তারই ৭০ বছর পালিত হচ্ছে। মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ এ বছর সমতা, ন্যায় ও মানব মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্বে প্রতিনিয়ত নানাভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দেশেও মানবাধিকার পরিস্থিতি তথৈবচ। আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তার ওয়েবসাইটে সংবাদপত্রের হিসাব অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে। তাতে ২০১৭ সালে দেখা যাচ্ছে, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৪১৩। এর বাইরে আলাদা করে শিশুহত্যা ২৩১। এ ছাড়া ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতার মাধ্যমে (সংখ্যাটি যথাক্রমে ৬০৫, ২৯৯, ৫৪০) মানবাধিকার যেমন লঙ্ঘিত হয়েছে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি, গুম, নিখোঁজ, অপহরণ, শ্রমিক মৃত্যু ও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যাও স্পষ্টভাবে (যথাক্রমে ১৯৮, ১৫৪, ২২, ৫১, ২৩৩, ১৬৫ ও ১৪০) এসেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা একেকটা শিউরে ওঠার মতো। সংখ্যা যা-ই হোক, আমরা মনে করি, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা ভয়ঙ্কর। আর এখানে শুধু সংবাদমাধ্যমে যা এসেছে তা-ই দেখানো হয়েছে। এর বাইরেও যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আবার আমরা যদি মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা দেখি, তাতে আরও অনেক বিষয় যোগ হবে, যেখানে মানবাধিকার ঠিকভাবে রক্ষা হচ্ছে না। যেমন শিক্ষার অধিকার এখনও সবার জন্য নিশ্চিত হয়নি; মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা বাধা; ধর্ম ও বর্ণের কারণে বৈষম্যও রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয়-সামাজিক নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য, চিকিৎসাসেবাও সবার জন্য নিশ্চিত হয়নি। Continue reading