Category Archives: জাতীয় সমস্যা

মন খারাপের ডায়েরি

রাজধানীর পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাননি রায়হানের মা। অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান!

প্রতিদিন বিপর্যয়ের নতুন রেকর্ড আমাদের মন ভেঙে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা দেয়ালে রায়হানের অসহায় অর্তনাদের ছবি দেখে কে-ই বা নিজেকে ধরে রাখতে পারে! রাজধানীর পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাননি রায়হানের মা। অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান! গত বছর করোনা সংক্রমণের পর থেকেই এমন অসহায় দৃশ্য আমরা দেখে আসছি। এবারের পরিস্থিতি যে আরও নাজুক; এক সপ্তাহের চিত্রেই তা স্পষ্ট। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল ২০২১) সর্বোচ্চ ৬৬ জনের মৃত্যু ও ৭ হাজার ২১৩ জনের সংক্রমণের খবরের হিসাব মেলাতে যখন সবাই ব্যস্ত; পরদিন বুধবারই সেই হিসাব ভেঙে আমরা দেখেছি, নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত ৭ হাজার ৬২৬ জন। করোনাকালে বাংলাদেশে এটাই এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এভাবে পরিসংখ্যান আমাদের কতদূর নিয়ে যাবে, জানি না।

আমরা ভাবছিলাম, করোনা জয় করে আমরা বুঝি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি। সবার টিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিগগিরই বাংলাদেশ বুঝি করোনামুক্ত হয়ে যাবে। বছরব্যাপী বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখও ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু মাসখানেক ধরেই আমরা দৃশ্যপট পাল্টে যেতে দেখলাম। করোনা সংক্রমণের উল্লম্ম্ফন। হঠাৎ সংক্রমণ আর মৃত্যুহার বাড়তে থাকে। এমনকি তা গত বছরের রেকর্ডও ভেঙে দেয়। নতুন রেকর্ড হয়, পুরাতনটা ভাঙে। সপ্তাহখানেক ধরে এই ভাঙা-গড়ার খেলাই চলছে। আর তার পেছনে ঘটে চলেছে কত মানবিক-অমানবিক গল্প! কোনো গল্প সংবাদমাধ্যমে আসে; ইন্টারনেটের কল্যাণে ভাইরাল হয়; আর কোনো গল্প চোখের আড়ালেই থেকে যায়।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ‘স্বাস্থ্য’। অথচ আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন হযবরল, স্বাস্থ্যবিধিও তথৈবচ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা নাজুক; এ ভাইরাসের সংক্রমণ না হলে মনে হয় তা এতটা স্পষ্ট হতো না। Continue reading

প্রচলিত উন্নয়ন কৌশলের কারণে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে-ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পিপিআরসির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান। দীর্ঘ সময় তিনি বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইউএসএইড, জাইকাসহ বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষার্থী হোসেন জিল্লুর রহমান পিএইচডি করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে। ১৯৫১ সালে চট্টগ্রামে তার জন্ম।


সমকাল: যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ, যাকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলা হয়েছে। সেখান থেকে আমাদের উত্তরণ কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: বাংলাদেশের শুরুর কথা চিন্তা করলে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত, আপনি যেটা বললেন, বিদেশিরা কী বলেছে, অর্থাৎ তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা ইত্যাদি। আরেকটা হলো, আমরা কী স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং সেখান থেকে কতদূর এগোলাম। তলাবিহীন ঝুড়ির প্রশ্নে আসি- এ অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। বাংলাদেশের যে বহুমুখী পরিবর্তন হয়েছে, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। দুর্যোগপ্রবণ দেশে আগে দুর্যোগ হলে আমরা ভেঙে পড়তাম। এখন ভেঙে পড়ি না, বরং দাঁড়াতে শিখেছি। আমাদের সবদিক থেকে সক্ষমতা বেড়েছে। যদিও উপরি কাঠামোতে নানা পালাবদল ঘটেছে।

সমকাল: উপরি কাঠামো বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: উপরি কাঠামোতে পরিবর্তন মানে আমরা রাজনৈতিক নানা পরিবর্তন দেখেছি। সামরিক শাসন দেখেছি; ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখেছি। এখানে নানা টানাপোড়েন হলেও দেশের অর্থনীতি কিন্তু ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে। Continue reading

এত সহজেই খাবার অপচয় করি!

একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের কঙ্কালসার দেহ, আরেকদিকে প্লেটভর্তি নষ্ট করা খাবার- দুটি বিপরীত চিত্র। উভয়টিই পৃথিবীর নিদারুণ বাস্তবতা। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী বছরে প্রায় ১০০ কোটি টন খাবার নষ্ট হয়। জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক সংস্থা-ইউএনইপির ‘ফুড ওয়াস্ট ইনডেক্স রিপোর্ট ২০২১’ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতি ঘরে বছরে গড়ে ৬৫ কেজি খাবারের অপচয় হয়। এমনকি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকান ও জাপানিদের তুলনায় বাংলাদেশিরা বেশি খাবার অপচয় করে। খাদ্যশস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ঘরে তোলা এবং থালা পর্যন্ত নানাভাবে খাবারের অপচয় হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চলে যেন খাবার নষ্টের প্রতিযোগিতা। মনে রাখা দরকার, খাবার অপচয় করা কোনো ফ্যাশন নয় বরং এটি অমানবিকতা এবং অপরাধ।

খাবারসহ জীবন ধারণের যে কোনো বিষয়ে অপচয় না করার তাগিদ রয়েছে বিভিন্নভাবে। কেবল খাবার নষ্ট করাই নয়; সময় এবং জীবনের উপায়-উপকরণেও সব ধরনের অপচয় পরিত্যাজ্য। এর মধ্যে খাবার অপচয়ের বিষয়টি একেবারে ভিন্ন। কেউ যদি মনে করেন, আরেকজনের বিয়েতে এসেছেন; খেতে যেমন বারণ নেই, তেমনি ফেলতেও সমস্যা নেই; বিষয়টি তা নয়। এটা মনে করা যাবে না, অপচয়ের ফলে নিজের টাকা খরচ হচ্ছে না। আমাদের মানসপটে যদি আফ্রিকার ক্ষুধার্ত শিশুর চেহারা ভেসে ওঠে কিংবা না খেয়ে থাকা ইয়েমেনের কোনো মানুষের কথা; তখন কেমন লাগবে? বেশি দূরে যাওয়া নয়, হয়তো আমাদের পাশের কোনো ঘরেই সবার ঠিকমতো তিন বেলা খাবার জোটে না। তাহলে কীভাবে খাবার অপচয় সম্ভব! খাবারের যদি কথা বলার সামর্থ্য থাকত, জানি না নষ্ট হওয়া খাবারগুলো ঠিক কী বলত! যে খাবার এত মজা করে খাওয়া হচ্ছে, অর্ধেক খাওয়ার পরই যদি বলা হয়, আর পারছি না, তাহলে এ খাবার যাবে কোথায়? কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সুস্বাদু খাবারটা পরিণত হলো স্রেফ ঝুটায়? আপনি কতটুকু খেতে পারবেন, খাবার নেওয়ার আগেই তা চিন্তা করা উচিত।

রেফ্রিজারেটর তথা ফ্রিজ আসায় খাবার অপচয় অনেকখানি রোধ করা সহজ হয়েছে; এটা সত্য। কিন্তু সদিচ্ছা না থাকলে ওই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রটি কিছুই করতে পারবে না। আবার ইচ্ছা থাকলে ফ্রিজ ছাড়াও খাবার সংরক্ষণ করা অসম্ভব নয়। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি, কীভাবে আমাদের মা-দাদিরা ফ্রিজ ছাড়া খাবার সংরক্ষণ করতেন। অপচয় বন্ধে সদিচ্ছাই যখন প্রধান, তখন ধনী কী, আর গরিবই বা কী? জাতিসংঘের পরিসংখ্যানে আমরা দেখছি, উন্নত দেশগুলোতে যত খাবার অপচয় হয়, তার চেয়ে বেশি অপচয় হয় নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। অপচয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, এর পর নেপাল। Continue reading

ইসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এনআইডি জালিয়াতি সম্ভব নয়- এম সাখাওয়াত হোসেন

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এম সাখাওয়াত হোসেন ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণের পর তিনি লেখালেখি ও গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। এম সাখাওয়াত হোসেন ২০১৮ সালে নির্বাচনী ব্যবস্থায় সুশাসনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জন্ম ১৯৪৮ সালে বরিশালে
সমকাল: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পুরোনো। আমরা দেখেছি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের এনআইডির মাধ্যমে পাসপোর্ট করে বিদেশেও গেছে। রোহিঙ্গারা কীভাবে এনআইডি পেল?
এম সাখাওয়াত হোসেন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি একটি দেশের নাগরিক পরিচয়পত্র। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের এনআইডি পাওয়ার কথা নয়। তারপরও তারা এনআইডি পেয়েছে; তা দিয়ে পাসপোর্ট করে বিদেশেও গেছে। কারও জাতীয়তা প্রমাণের জন্য কিংবা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় তথ্যের ওপরেই নিবন্ধন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদত্ত সার্টিফিকেট কিংবা জন্মনিবন্ধনই প্রাথমিক ভরসা। এগুলো ইউনিয়ন পরিষদে গেলেই সহজে পাওয়া যায়; এখানে তেমন যাচাই-বাছাই করা হয় না বিধায় ভুয়া সনদ পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে যখন জাতীয় পরিচয়পত্র করা হয়, তখন আমরা খবর পেলাম রোহিঙ্গারা এনআইডি নিচ্ছে বা ভোটার হচ্ছে।
সমকাল: রোহিঙ্গারা যাতে এনআইডি না পায়, তখন আপনারা কী পদক্ষেপ নেন?
এম সাখাওয়াত হোসেন: আমরা যখন খবর পাই রোহিঙ্গারা ভোটার হচ্ছে, তখন ইসি তদন্ত করে ২০-২৫ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন বাতিল করে। ২০০৯ সালে তখন আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে সিদ্ধান্ত নিই, রোহিঙ্গা বসবাসকারী এলাকাগুলো বিশেষভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এর পর বিশেষ ফরম ও কমিটির মাধ্যমে সেখানে ভোটার করে ইসি। সাধারণত বিশেষ কমিটি অনুমোদন না করলে ওইসব এলাকায় কাউকে ভোটার করা হয় না। Continue reading

ভোক্তাবিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় দরকার- গোলাম রহমান

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের আগে তিনি বাণিজ্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ষাটের দশকের শেষের দিকে গোলাম রহমান সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন
সমকাল: মঙ্গলবার খাদ্যমন্ত্রী ১৫ দিন আগের দরে চাল বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের মনে আছে, ২০১৭ সালে হাওরে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় উঠেছিল। এরপর এবার সেটা ৪৮ টাকা দেখছি।
গোলাম রহমান: মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কারও ঘোষণা বা আদেশ দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। বাজার নিয়ন্ত্রণের একটাই উপায়, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা। চালের বাজারের জন্যও একই কথা। চালে এবার আমাদের ২০১৭ সালের মতো অবস্থা তৈরির সুযোগ আছে বলে মনে করি না।
সমকাল: তাহলে চালের এই বাড়তি মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী?
গোলাম রহমান: প্রথম কথা হলো, চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন নিঃসন্দেহে। স্বাধীনতার সময় যে জনসংখ্যা ছিল এখন তার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হলেও আমরা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ফসলের ফলন বাড়িয়ে চালে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। সবাই দেখেছে, দুর্যোগের মধ্যেও এবার চালের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে দফায় দফায় চালের মূল্য বৃদ্ধি আমার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় না। সরকার চালকল মালিকদের অসহযোগিতার কারণে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। আরেকটা কারণ আমার মনে হয়, করোনাভাইরাসের মধ্যে যারা গ্রামে ফিরে গেছে, তাদের অনেকেই বেশি করে চাল কিনে মজুদ করেছে।
সমকাল: আপনি চালকল মালিকদের অসহযোগিতার কথা বলেছেন, সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি এসেছে। Continue reading

মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াই

মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন জীবনযাপন আমাদের অধিকার। এটাই মানবাধিকার। মানবাধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা যেমন আমাদের সংবিধান দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবেও নানা উদ্যোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার বিষয়টি আসবে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যেই ১৯৪৮ সালে তৎকালীন বিশ্বনেতৃবৃন্দ মানবাধিকারের অসাধারণ এ দলিল রচনা করেন। আজ বিশ্বব্যাপী তারই ৭০ বছর পালিত হচ্ছে। মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ এ বছর সমতা, ন্যায় ও মানব মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্বে প্রতিনিয়ত নানাভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দেশেও মানবাধিকার পরিস্থিতি তথৈবচ। আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তার ওয়েবসাইটে সংবাদপত্রের হিসাব অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে। তাতে ২০১৭ সালে দেখা যাচ্ছে, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৪১৩। এর বাইরে আলাদা করে শিশুহত্যা ২৩১। এ ছাড়া ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতার মাধ্যমে (সংখ্যাটি যথাক্রমে ৬০৫, ২৯৯, ৫৪০) মানবাধিকার যেমন লঙ্ঘিত হয়েছে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি, গুম, নিখোঁজ, অপহরণ, শ্রমিক মৃত্যু ও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যাও স্পষ্টভাবে (যথাক্রমে ১৯৮, ১৫৪, ২২, ৫১, ২৩৩, ১৬৫ ও ১৪০) এসেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা একেকটা শিউরে ওঠার মতো। সংখ্যা যা-ই হোক, আমরা মনে করি, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা ভয়ঙ্কর। আর এখানে শুধু সংবাদমাধ্যমে যা এসেছে তা-ই দেখানো হয়েছে। এর বাইরেও যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আবার আমরা যদি মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা দেখি, তাতে আরও অনেক বিষয় যোগ হবে, যেখানে মানবাধিকার ঠিকভাবে রক্ষা হচ্ছে না। যেমন শিক্ষার অধিকার এখনও সবার জন্য নিশ্চিত হয়নি; মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা বাধা; ধর্ম ও বর্ণের কারণে বৈষম্যও রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয়-সামাজিক নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য, চিকিৎসাসেবাও সবার জন্য নিশ্চিত হয়নি। Continue reading

ভোক্তার আস্থা

ভালো পণ্য পাওয়া ভোক্তার অধিকার

আমরা প্রত্যেকেই প্রতিনিয়ত নানাভাবে ভোক্তা। খাওয়ার জন্য খাদ্যপণ্য কিনতে হয়, চিকিৎসার জন্য ওষুধ লাগে। ব্যবহারের জন্য মোবাইল, কসমেটিক পণ্য থেকে শুরু করে সংসারের প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রয়োজন হয়। এসব দ্রব্য কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তা হিসেবে ভালোটা পাওয়াই প্রত্যেকের অধিকার। কারণ ওইসব পণ্যের যথাযথ মূল্য পরিশোধ করেই তা ভোক্তার হস্তগত হয়। কিন্তু পণ্যটি ভেজাল হলে, মেয়াদোত্তীর্ণ হলে, ওজনে কম হলে কিংবা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হলে তাতে ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। ভোক্তা কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেলে, খাবারের ক্ষেত্রে কিংবা ওষুধের ক্ষেত্রে কোনো ভেজাল থাকলে পরিণামে অসুস্থ হওয়াসহ মৃত্যুর ঝুঁকি থাকাও অস্বাভাবিক নয়। ভোক্তার অধিকারের গুরুত্ব এখানেই।
এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখেই বিশ্বব্যাপী ১৫ মার্চ ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বিল্ডিং অ্যা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড কনজুমার ক্যান ট্রাস্ট’ (ভোক্তার আস্থার ডিজিটাল বিশ্ব গড়া)। বলা বাহুল্য, বিশ্ব যখন তথ্যপ্রযুক্তিকে সঙ্গে করে এগিয়ে চলেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাই এবারের প্রতিপাদ্য। এ সময়ে মোবাইল ছাড়া মানুষ বলা চলে অচল; অনেক কাজ কম্পিউটার ইন্টারনেটে করা হয়। এমনকি ওজনের ক্ষেত্রেও এখন ডিজিটাল মেশিনের প্রাধান্য। Continue reading

স্বাস্থ্য খাতে আরও বিনিয়োগ হোক

সাক্ষাৎকার// অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার

সাকিকো ফুকুদা-পার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম ইন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক। তিনি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির ভাইস চেয়ারম্যান। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিট অব সাসেক্স ও দ্য ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির গ্র্যাজুয়েট। ফুকুদা-পার পড়িয়েছেন কলাম্বিয়া ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে। কাজ করেছেন বিশ্বব্যাংকে। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির তৃতীয় বার্ষিক বক্তৃতার প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশে আসেন। ঢাকায় তিনি সমকালের সঙ্গে কথা বলেন
সাক্ষাৎকার গ্রহণ :মাহফুজুর রহমান মানিক
সমকাল : সিপিডির বক্তৃতায় আপনি স্বাস্থ্যসেবায় কতগুলো চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন…
সাকিকো ফুকুদা-পার : প্রকৃতপক্ষে অপর্যাপ্ত উদ্ভাবন, ওষুধপ্রাপ্তিতে সমস্যা ও নতুন ওষুধের দাম বৃদ্ধি_ এই তিনটি চ্যালেঞ্জ কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপীই আমরা দেখছি। ওষুধের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা সর্বত্রই ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি থাকার পরও বিশ্বব্যাপী বাড়ছে ওষুধের দাম। ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত হারে ওষুধ পাচ্ছে না।
সমকাল : আপনি ওষুধের দাম বৃদ্ধির কথা বলেছেন। বাংলাদেশেও একই সমস্যা। কিন্তু বিপরীত বিষয় হলো দিন দিন আমাদের গড় আয়ু বাড়ছে। সাম্প্রতিক হিসেবে আমাদের গড় আয়ু প্রায় ৭১ বছর। ওষুধের দাম কিংবা চিকিৎসাসেবার দাম বৃদ্ধির পরও এমনটা হচ্ছে। কীভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন।
ফুকুদা-পার : দেখুন গড় আয়ু বৃদ্ধি কেবল ওষুধ বা চিকিৎসার দাম বৃদ্ধির সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়, নানা কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেতে পারে। যেমন_ খাদ্য-পুষ্টি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি। এসবসহ অন্যান্য দিক থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতি লক্ষণীয়। ফলে এখানে গড় আয়ু বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আগেই বলেছি; তবে যোগ করার বিষয় হলো, অনেক ওষুধ কিংবা নতুন নতুন ওষুধ বাংলাদেশকে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিকভাবে যখন ওষুধের দাম চড়া, তখন বাংলাদেশকেও উচ্চমূল্য দিয়ে ওষুধ কিনতে হয়। তা বহন করতে হয় মানুষকেই। বাংলাদেশেও তার প্রভাব আমরা দেখেছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা রোগে ২০১৪ সালে ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও যক্ষ্মা চিকিৎসায় দুটি নতুন ওষুধ তৈরি হয়েছে এবং তা বাংলাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। Continue reading

পারিবারিক শিক্ষা ও বন্ধন

familyকাজে গেলে মেয়েটি অপেক্ষা করে কখন আসবে বাবা, ছেলের ভাবনায়ও বাবা, স্ত্রীও হয়তো প্রিয় স্বামীর পথপানে চেয়ে থাকেন। বাবাকে নিয়ে এই উৎকণ্ঠা কেবল পরিবারেই সম্ভব। ছেলে পড়তে যাবে, মা যতক্ষণ চোখ যায় তাকিয়ে থাকেন। ছেলে অদৃশ্য হয়ে গেলে হয়তো শাড়ির আঁচলে চোখ মোছেন। বাবা এগিয়ে দিয়ে আসেন। যানবাহনে উঠিয়ে দেন। খেয়ে না খেয়ে রোজগারের টাকা ছেলের হাতে তুলে দেন। ছেলে পড়তে যায়, বাবা বারবার পেছনে তাকান। এটাই তো পরিবারের দৃশ্য। মেয়ে বড় হয়েছে। পছন্দমতো পাত্র খুঁজে পাত্রস্থ করবেন, তারপরও মায়ের বিলাপ, বাবার কান্না, ভাইবোনের অশ্রু। এমন আদর, সোহাগ, মমতা, ভালোবাসা কেবল পরিবারেই সম্ভব। সন্তানের অসুস্থতায় বাবা-মা উৎকণ্ঠায় থাকেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে সন্তানকে বাঁচাতে চান। এই যে রক্তের, হৃদয়ের বন্ধন তা একমাত্র পরিবারই দিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার এই সম্পর্ক প্রতিদিন প্রতিক্ষণের। একদিনের পরিবার দিবসে তাতে কিছু আসে যায় না। তার পরও জাতিসংঘ ঘোষিত আজকের আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসে পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নই বোধ হয় যথার্থ। Continue reading

মান- বিশ্বের অভিন্ন ভাষা

standard_day1444759311বিশ্বের ৭০০ কোটিরও বেশি মানুষের ভাষার সংখ্যা সাত হাজারের ওপর। সবার ভাষা এক হলে হয়তো বিশ্বের অবস্থা অন্যরকম হতো। মানুষের মুখের ভাষা ভিন্ন হলেও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অনেক কিছুর অভিন্ন ভাষা আছে। আপনার কাছে যে ক্রেডিট কার্ড আছে সেটা সব ক্যাশ মেশিনেই খাটবে; আপনি বাজার থেকে যে বাল্বই আনবেন তা নির্দিষ্ট পোর্টের জন্য প্রযোজ্য হবে; কম্পিউটারের জেপিজি ফরম্যাট সারাবিশ্বে একই; আপনার ওজনের ইউনিটও সর্বত্র সমান। এ বিষয় সামনে রেখেই এবারের বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য : স্ট্যান্ডার্ডস_ দ্য ওয়ার্ল্ডস কমন ল্যাঙ্গুয়েজ অর্থাৎ মান_ বিশ্বের অভিন্ন ভাষা। এই প্রতিপাদ্যের পেছনের কারণও বলছে আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও)। দিবসটি উপলক্ষে আইএসওর ওয়েবসাইট বলছে, এক দেশের ক্রেতা অন্য দেশে গিয়ে যদি বলতে না পারত এটা এই পরিমাণ দিন, ওটা অতটুকু দিন_ তখন কী সমস্যাই না হতো! এই অভিন্ন ভাষা কেবল মানুষের ব্যবসার জন্যই ভালো নয়, এটি বিশ্বের সব মানুষকে একসঙ্গে কাজ করাও সহজ করেছে, বলছে আইএসও। Continue reading