Category Archives: ছাত্র রাজনীতি

রাষ্ট্রভাষার সংগ্রাম:নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


একটা তথ্য দিয়ে শুরু করা যাক, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেইসবুক এবং টুইটার পৃথিবীর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভাষা হতে বাংলাকে পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফেইসবুক বা টুইটারের এ স্বীকৃতি তাদের নিজস্ব নয়; তাদের ব্যবহারকারীরা ভোট দিয়েই বাংলাকে নির্বাচন করেছে। ইউনেস্কোও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাকে এ স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে, ১৯৯৯ সালের পর মিষ্টি ভাষার এ স্বীকৃতি। বাংলার এতসব স্বীকৃতির গোড়ার কারণ একটাই ‘রাষ্ট্রভাষার সংগ্রাম’। ভাষার জন্য রক্ত দেয়া আর সংগ্রামের নজির পৃথিবীতে বিরল। বিরল এ নজিরটিই বাংলার। যা সম্ভব হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বদৌলতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য যে আন্দোলন হয়েছে, তার মাধ্যমে একদিকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে আমরা পেয়েছি, অন্যদিকে তার পথ ধরেই পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। ১৯৪৭ সালের চৌদ্দ অক্টোবর পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পরই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের তেইশ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনেই কুমিল্লার শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির সাথে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। সেখানেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চস্থানীয় অনেকেই তার বিরোধিতা করে। এ সংবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগারো মার্চে প্রতিবাদ সভা করে বিক্ষোভ করে। রাষ্ট্রভাষার প্রত্যক্ষ সংগ্রাম বলা চলে এখান থেকেই শুরু। ১৯৪৮ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান পূর্ববঙ্গ সফরে আসলে সাতাশ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে তিনি ছাত্রসভায় এক ভাষণ দেন। সে সময় ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন) এর নেতৃবৃন্দ প্রদত্ত মানপত্রে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৪৮ সালের পর ১৯৪৯ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের অন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষার সংগ্রাম তীব্রতর হয়। নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের দাবিদাওয়ার জন্য তিন মার্চ হতে ধর্মঘট করেন। ছাত্র নেতৃবৃন্দ এ ধর্মঘটে সমর্থন দেন। নয় মার্চ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। কর্মচারীরা কাজে যোগ দিতে চাইলে বাধা দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে কর্মচারীদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। তারা শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলনের সমর্থন দেয়। যৌথ সমর্থনে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের সমর্থনে আন্দোলন করার ফলে সাতাশ জন ছাত্রকে শাস্তি দেয়, যাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অন্যতম। বলে রাখার বিষয় হলো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরাও ছিলেন। বলা চলে সামনে থেকে নির্দেশনা তাঁরাই দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তমদ্দুন মজলিশ এর কথা বলতেই হবে। এ সংগঠনটির উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। যার আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঁইয়া। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রথম থেকেই বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতি এমনকি তদানিন্তন সরকারের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা অন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করার পূর্বে ১৯৪৯ সালে পাকিস্তান ভাষা নিয়ে আরেক কাহিনির জন্ম দেয়। তারা গণশিক্ষা প্রসারের নামে আরবি হরফে বাংলা প্রবর্তনের অপপ্রয়াস চালায়। সে সময় এর বিরুদ্ধে এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘পাকিস্তান শিক্ষাবোর্ড ও বর্ণমালা বিশেষজ্ঞ কমিটি’র নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে। পরে প্রতিবাদে সভা হয় কলাভবনে এবং ইকবাল হলে (বর্তমানে জহুরুল হক হল)। ১৯৫০ সালেও আরবি হরফের কার্যক্রম চলে। এ সময় বাংলার বিভিন্ন জেলায় আরবি হরফ বাংলায় শেখানোর জন্য বিশটি শিক্ষাকেন্দ্র খোলা হয়। ১৯৫১ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর খাজা নাজিমুদ্দিন তার স্থলাভিষিক্ত হন। তারপরের ইতিহাস সবার জানা। এই নাজিমুদ্দিন ১৯৫২ সালের একুশে জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান মুসলিম লীগের সম্মেলনে জিন্নাহর কথার পুনরাবৃত্তি করে ঘোষণা দেন ‘টৎফঁ ঝযধষষ নব ঃযব ংঃধঃব ষধহমঁধমব ড়ভ চধশরংঃধহ’ উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। তার এ বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সেদিন যারা ‘না’ ‘না’ করেছিলেন, তারা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী। প্রতিবাদে ত্রিশ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের’ ডাকে ধর্মঘট করেন। এ পরিষদের আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন। সেদিনই কয়েকটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় কর্মপরিষদ’। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাম মাহবুব আহবায়ক নির্বাচিত হন। তারা পুনরায় চার ফেব্রুয়ারি ছাত্রধর্মঘট ডাকেন। সেদিন সকলের সিদ্ধান্তে একুশে ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। বিশ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাকিস্তান সরকার ঢাকায় একশ চুয়াল্লিশ ধারা জারি করে। সেদিন ‘সর্বদলীয় কর্মপরিষদ’ সদস্যরা একশ চুয়াল্লিশ ধারা ভঙ্গ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগলেও ‘বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ’ এ ব্যপারে ছিলো বদ্ধপরিকর। সারারাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলোতে তার প্রস্তুতি চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনোবলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনতা একুশে ফেব্রুয়ারিতে একশ চুয়াল্লিশ ধারা ভেঙ্গে রাস্তায় নেমে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ঐতিহাসিক ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। যার মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবি পেশ করা হয়। ছাত্ররা শৃঙ্খলার সাথে একশ চুয়াল্লিশ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। দলে দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক অতিক্রম করে তারা। হঠাৎ মারমুখী হয় পুলিশ। পুলিশবাহিনী আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করতে থাকে। ছাত্রজনতার ঢল নামে। বেপরোয়া পুলিশ গুলি করে। নিহত হন রফিক, জব্বার, বরকতসহ আটজন। শতাধিক আহত হন। এখবর শহরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শহরবাসী। সেদিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের আন্দোলনই রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় বাংলা। ঊনত্রিশ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। এরপর থেকে বাংলার স্বীকৃতির অভাব নেই। সারা পৃথিবী এখন বাংলাকে চেনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই তার কারিগর।

pataka, February2011

ছাত্র রাজনীতি না দলবাজী?


ছাত্র রাজনীতি না দলবাজী?
মাহফুজুর রহমান মানিক
অনেকে বলেন ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আমি একমত নই। আমি মনে করি ছাত্র রাজনীতি চালু করতে হবে। ছাত্ররা এখন যে রাজনীতি করছে এটাকে হয়তো সবাই ছাত্র রাজনীতি বলবেন। এটা কীভাবে ছাত্র রাজনীতি হয়? এটা ছাত্র রাজনীতি নয়। ছাত্র রাজনীতি আমাদের দেশে বর্তমান নেই। এটা দলবাজী।১৮ জানুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া সশস্ত্র সংঘাতের কথা বলি। এটা কী কারণে হয়েছে, দলবাজীর কারণেই। বিদ্রোহী গ্রুপ পদ না পেয়ে বিদ্রোহ করেছে। দলবাজীর অন্যতম নিদর্শন হলো বিএনপি ঠিক করেছে ছাত্রদলের কমিটি। বিএনপি যাদেরকে তার দলের জন্য লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে যোগ্য মনে করেছে, তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দিয়েছে। গত বছরের জুলাইতে প্রথম নতুন প্রথম চার সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করে। পরে ২০১০ এর ১ জানুয়ারিতে ১০১ জনের কমিটি গঠনের কথা থাকলেও গঠন করা হয় ১৭১ জনের কমিটি। ছাত্রদলের এ কমিটি হলেও কার্যত কেউ আত্র নন। টাকা দিয়ে, লবিং করে অনেকে কমিটিতে স্থান নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমের সংবাদ। এদের অধিকাংশই বিবাহিত। ব্যবসায়ী চাকুরীজীবিদের নিয়ে কমিটি। সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তার বয়স চল্লিশের ওপরে। তার স্ত্রী আছে, সন্তান আছে। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। ছাত্রদলের এ কমিটিকে নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের ম্যাগাজিন মজা করে লিখেছে ‘আমরা শক্তি আমরা বল, বিবাহিত বৃদ্ধ দল”। এ কমিটির ওপর ছাত্রনেতৃত্ব দেয়ার অর্থ কী-দলবাজী। ছাত্রদলের কমিটি যেমন বিএনপি করেছে তদ্রুপ ছাত্রলীগের কমিটিও আওয়ামী লীগ করে থাকে।এ দলবাজীর কারণেই শিক্ষাঙ্গণে প্রতিনিয়ত হচ্ছে সংঘর্ষ। নিহত হচ্ছে শিক্ষার্থী। বন্ধ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ছাত্র রাজনীতির নামে এ দলবাজীর চিত্র নতুন নয়। এখন তো সেটা অহরহই ঘটছে। গত বছর এ ছাত্র সংঘর্ষের সংখ্য ছিলো কয়েক শ। সংঘর্ষে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিহত হয়েছে মেডিকেলের শিক্ষার্থীসহ কয়েক জন।২০১০ শুরু না হতেই সে ধারা চালু হয়ে যায়। অস্ত্রের ঝনঝনানি বেজে ওঠে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মরিয়া ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন। রাজশাহী পলিটেকনিকে ছাত্র মৈত্রীকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা তার অনন্য নজীর। শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। আর নিজেদের মাঝে গ্রুপ মারামারি তো লেগেই আছে।আজকে ছাত্ররাজনীতির নাম করে বড় বড় দলগুলো প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনী রাখছে। এদের নেতৃত্বে যারা আসেন তারা বড় নেতাদের অত্যন্ত স্নেহ ধন্য। এদের চলার খরচ মেটানোর ব্যবস্থাতো রয়েছেই টে-ারবাজী, চাঁদাবাজী। এগুলো ছাত্রদলবাজী।আমাদের বর্তমান এ ছাত্রদলবাজীর কারণে সরকার বদলের সাথে সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রূপও বদলে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলগুলো হয়ে যায় সরকারী দলের। মজার বিষয় হলো বিরোধীদলের ছাত্রদলবাজী যারা করেন নিজেরাই জায়গা করে দেন সরকাররি দলকে। কারণ তারাতো জানেন সরকারি দলে থাকতে অন্যের ওপর কতোটা অত্যাচার করেছেন। আগেই হল ছেড়ে দেন। অবশ্য আগেই হল না ছাড়লে যে তাদের রক্ষা নেই সেটাও বুঝেন। সরকারি দলের ছাত্রদলবাজরাতো আরো ক্ষীপ্ত। হলে তো নয়ই ক্যাম্পাসেও যায়গা হবেনা বিরোধীদলের। ক্যাম্পাসে আসলেই মাইর। লুকিয়ে কেউ ক্লাস করলেও ক্লাস থেকে ধরে এনে হলেও তাকে উত্তম মধ্যম দিতে হবে। এভাবে ক্ষমতাসীনরা ক্যাম্পাস এবং হল থেকে অন্যদের তাড়িয়ে নিজেদের প্রভূত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এতেও স্বাদ মেটে না। নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দেখা দেয় কোন্দল। একক রাজত্বে কেউ ভাগ বসাতে আসলে তার রেহাই নেই। গত বছর ঢাকা মেডিকেলের একজন মেধাবী ছাত্র এ জন্যই প্রাণ হারান। দলবাজী থাকলে এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতেই থাকবে। কোন সুরাহা হবে না।বর্তমান এ ছাত্র দলবাজী শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণতো নয়ই বরং অকল্যাণ বললেও অত্যুক্তি হবেনা। যার কারণে শিক্ষার্থী মাতা-পিতার কাছে উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি নিয়ে সোনার মানুষ হয়ে যাওয়ার পরবর্তে যাচ্ছে লাশ হয়ে, আহত হয় শিক্ষার্থী, লাঞ্ছিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটা নিশ্চয়ই কেউ চাইবেন না।দলগুলো ঠিকই এসব থেকে আয়দা লুটছে। ছাত্রদের ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসছে। টে-ার, চাঁদাবাজির ভাগ পাচ্ছে অনেক নেতা। মারামারিতে লেলিয়ে দেয়ার মতো সংঘবদ্ধ শক্তি পাচ্ছে। নানা কর্মসূচিতে কাজে লাগাতে পারছে। সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের কায়েম করতে পারছে। এসব যদি পাওয়া যায় মন্দ কিসের! পড়াশোনায় গোল্লায় যায়, যাক।শিক্ষাঙ্গণে দলাদলি থাকবে না। ছাত্রদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানিক সংগঠন থাকবে। সে সংগঠনের নির্বাচন হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবে। এখন ও অবশ্য ছাত্রদের ইউনিয়ন আছে, কিন্তু নির্বাচন নেই। নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। যেমন ডাকসু (ঢাকা ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন)। দুই দশক ধরে অচল। এভাবে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছাত্র ইউনিয়নগুলো কয়েক বছর ধরে অচল।ছাত্র রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ছাত্রদের দলমুক্ত হতে হবে। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর যে ছাত্র সংগঠন আছে তা আর থাকবে না। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ থাকবে না। বিএনপির ছাত্রদল থাকবে না। জাতীয় পার্টির ছাত্র সমাজ থাকবে না। এভাবে অন্যান্য দলের কোন ছাত্র শাখা থাকবে না। ছাত্ররা নিজেদের রাজনীতি নিজেরা করবে। তখন আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্রের সংজ্ঞার মতো ছাত্ররাজনীতির সংজ্ঞা হবেÑ ছাত্রদের দ্বারা ছাত্রদের জন্য ছাত্রদের কল্যাণে পরিচালিত রাজনীতিই ছাত্ররাজনীতি।এ ছাত্র রাজনীতি চালু হলে সরকার পরিবর্তনে পরিবর্তন হবে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র। হল দখল করতে কেউ আসবে না। কারো ভয়ে হল ও ত্যাগ করতে হবে না। ছাত্রদের ক্ষমতার ধান্দা থাকবে না। টে-ারবাজি আর চাঁদাবাজি করতে হবে না। পড়াশোনায় সবাই মনোযোগ দেবে। ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় অতীতের কথা প্রায়ই শুনি, পড়ি। খুঁজি। ১৯৭১ এর পর আর এগুতে পারি না। ১৯৭১ এর আগের ইতিহাসই বলা গৌরবের। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ঐক্যবদ্ধ সকল ছাত্রের দৃপ্ত শপথের ফল। এরপর ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুথান এর পথ ধরে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১। একাত্তরের পর স্বাধীন বাংলাদেশের নেতৃত্বে যারাই এসেছে নিজেদের স্বার্থে গঠন করেছে ছাত্র রাজনৈতিক দল। ছাত্রদেরকে সবাই নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তখন থেকেই ছাত্ররা যা করে আসছে তাকে আমরা ছাত্র রাজনীতি বলতে পারি না, সেটা দলবাজী। এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে দলবাজীর সংঘর্ষ, সংঘাত, হত্যাকা-, টে-ারবাজী, চাঁদাবাজী তখনো আজকের মতো এতো ভয়ংকর রূপ ধারণ করেনি। নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও ছাত্ররা ছিলো সোচ্চার। এরপর গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলো। তখন থেকেই দলবাজীর চিত্র মানুষের সামনে ভয়ংকরভাবে উপস্থিত হয়। দেদারছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয় সংঘর্ষ। সে কলুষিত অধ্যায় যে শুরু হয়েছে দিন দিন তা বেড়ে আজ এক কঠিন রূপ ধারণ করেছে। এ বছরে এসে রাজশাহীতে হত্যাকা- এবং সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ। প্রকাশ্যে অগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। আহত হয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রায় ৫০ জন।বিবেকবান মানুষ মাত্রই এ ছাত্র দলবাজী বন্ধ হোক তা চান। মানুষ গড়ার আঙ্গিনায় মানুষ হওয়ার পরিবেশ চান। আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে ছাত্রসমাজকে তার মূল দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। এ জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশের নেতৃবৃন্দের। রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র সমাজকে কীভাবে দেখতে চায়। তারা যদি চায় ছাত্ররা মারামারি করুক, নিহত হোক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হোক, পড়াশোনা গোল্লায় যাক। তো ঠিক আছে দলবাজী চলছে চলবে। দেশ যথা যায় যাক, আমার দল তো ঠিক আছে। আবার এরা যদি দেশের কল্যাণ চান। শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস দেখতে না চান। গবেষণাগারে দেখতে চান ছাত্রদের। দেশের উন্নতি চানÑ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। দলবাজী নয় ছাত্র রাজনীতি করবে ছাত্ররা। লেখাটা যখন শেষ করবো তখনি খবর পেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ইনস্টিটিউট শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিটের (আইইআরের) প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন। পরীক্ষার আগের রাতে (২১.০১.২০২১) এ ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ভাগ্য ভালো কর্র্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করতে পেরেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটা কতোটা ন্যক্কারজনক ঘটনা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটাই প্রথম প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। এ ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের ব্যাপারে একটি ছাত্র সংগঠনের কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কী তথ্য আসে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু যা ঘটে গেলো তা কীভাবে মানা যায়। এজন্য দল ক্ষমতায় আছে বলে কোন ছাত্র যাতে যে কোন খারাপ কাজের সাহস না সেটা ও বড় বিষয়। ছাত্রদের মূল রাজনীতি এ চ্যাঞ্জেময় পৃথিবীর সময়ের দাবী রাজনীতিবিদদের এ বোধোদয় আদৌ হবে কী না জানি না।

(ৈদিনক েডসিটিন ২৭ জানুয়াির ২০১০)

চিলઇেশাধਸ਼ગরা কীভােব ছাਠ হয়(Daily prothom alo15july2009)

১ জઓলাই ছাਠদেলর নতઓন কিমিট োঘািষত হেয়েছ৷ োসখােন চিলઇেশাধਸ਼ગ বઘিਡઙেদর ছড়াছিড়৷ অেনেকর মেতা অািমও িবিએੱত হেয়িছ, িববািহত িকংবা ৪২-৪৩ বছর বয়ੌ কাউেক যিদ ছাਠদেলর সভাপিত বানােনা হয়, তাহেল অার ছাਠদল, যઓবদল িকংবা জাতীয়তাবাদী দল−এত দেলর ভাগ করার পઝেয়াজন কী িছল?
ছাਠদেলর ১০১ সদেসઘর োক੯দઝীয় কিমিটর কথা বলা হেলও পઝাথিমকভােব োকে੯দઝর মূল পঁাচজেনর নাম োঘাষণা করা হেয়েছ৷ ছাਠদেলর োক੯দઝীয় োনতা হেলও কাযગত তঁারা োকউ ছাਠ নন৷ সবাই িববািহত এবং পઝেতઘেকর বয়স ৩৮ োথেক ৪৩ বছেরর মেধઘ৷ পਠ-পিਠকায় তঁােদর িবরઔেਤ সੰ੬াসী, চঁাদাবািজ, োযৗন হয়রািন, জিਔবাদ ইতઘািদর অিভেযাগ পাওয়া োগেছ৷
পিਠকা োথেক পাওয়া তথઘমেত, নতઓন কিমিটর োক੯দઝীয় সভাপিত সઓলতান সালাহ উিਣন অাহেমদ৷ ঢাকা িবশੴিবদઘালেয় એઅাতক োশઝণীেত ভিতગ হেয়িছেলন পઝায় দઓই যઓগ অােগ, ১৯৮৮-৮৯ িশਉাবেষગ৷ বઘিਡઙগত জীবেন িতিন িববািহত৷ তঁার એ੬ী ও এক সੰ੪ান রেয়েছ৷ বয়স তঁার ৪৩ বছর৷ তঁার ভাই অাਲ਼ઓস সালাম িপ੯টઓ ২১ অাগেઍটর োগઝেনড হামলার অিভযઓਡઙ অাসািম৷ সઓলতান সালাহ উিਣন অাহেমদ নবম সংসদ িনবગাচেন টাਔাইল-২ অাসন োথেক িবএনিপর পઝাথગী িহেসেব পઝিতਦি੯ਦতা কের োহের যান৷ নতઓন কিমিটর সাধারণ সઃপাদক অািমরઔল ইসলাম খান৷ ৪৩ বছর বয়স, িববািহত৷ োযৗন হয়রািনর অিভেযােগ তঁােক দল োথেকই শািએ੪ োদওয়া হয়৷ িতিনও ঢাকা িবশੴিবদઘালেয়র ১৯৮৮-৮৯ িশਉাবেষગর ছাਠ৷ িসিনয়র সহসভাপিত শহীদઓল ইসলাম৷ তঁার বয়স ৪২ বছর৷ তঁারও એ੬ী অােছ, কনઘা অােছ৷ ১৯৯২-৯৩ িশਉাবেষગ িতিন ঢাকা িবশੴিবদઘালেয় ভিতગ হন মাઍটাসગ পઝথম বেষગ৷ িতিনও িববািহত৷ বয়স োসই ঐিতেহઘর ৪২ বছর৷ এ ছাড়া যઓগઅ সઃপাদক অািমরઔਕামান খান এবং সাংগঠিনক সઃপাদক অািনসઓর রহমান উভেয়র বয়স যথাਠઙেম ৪০ ও ৩৮৷ িববািহত উভেয়ই৷
ছাਠদেলর োক੯দઝীয় োনতােদর এই িচਠ সিতઘই দઓঃখজনক৷ ছাਠেদর োনতৄতં োদেব ছাਠরাই, োসখােন মধઘবয়ੌেদর এেন ছাਠদল িক শিਡઙশালী করা যােব? ছাਠরাজনীিত িনেয় অিভেযােগর োশষ োনই৷ োসখােন এ উেদઘাগ ছাਠরাজনীিতর সઓনাম নੈ করল৷ অনઘ ছাਠ সংগঠনਊেলা যখন ছাਠরাজনীিতেত পઝকৄত ছাਠেদরই পઝাধানઘ িদে੧ছ, োসখােন ছাਠদেলর এই িবপরীত োসઝাত অগઝহণেযাগઘ৷

The new committee of Chatra Dal ( FE 12 july 2009)

The new committee of the Bangladesh Jatiyatabadi Chatra Dal, the student wing of Bangladesh Nationalist Party (BNP) has been announced. The president is Sultan Salahuddin Tuku who is 43 years in age, married and has a daughter.

How can a 43-years-old man be president of Chatra Dal? We hoped that the Chatra Dal would opt this time for young and genuine students as leaders of the party. But this has not happened. In protest, many workers and supporters of the Chatra Dal are staging demonstrations against the new committee on the Dhaka University campus and in front of the central office of the BNP at Naya Paltan.

Will the BNP leadership heed to the complaint of the general members and sympathizers of the Chatra Dal?