Category Archives: অর্থনীতি

ভারতে বাংলাদেশি পর্যটক

cox's bazar

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার

বাঙালি বহুকাল ধরে পরিচিত ছিল ‘ঘরকুনো’ হিসেবে। এ তকমার শানে নুযুল অবশ্য জানা নেই। তবে আমরা যে একেবারে বসে নেই- নজরুলের ‘সংকল্প’ কবিতা হয়তো তার প্রমাণ। কারণ বাঙালি আজ যথার্থ অর্থেই দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো তো বটেই, দেশের বাইরেও বাঙালির জয়জয়কার। আমরা পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছি। আমাদের বসে না থাকার সাম্প্রতিক প্রমাণ হলো- প্রতিবেশী ভারতের শীর্ষ পর্যটক দেশ বাংলাদেশ।
ভ্রমণের জন্য আমাদের অনেকেরই দেশের বাইরে প্রথম পছন্দ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত। পর্যটনের জন্য, চিকিৎসার জন্য, ব্যবসা, আত্মীয়তা সূত্রসহ নানা কাজে বাংলাদেশিরা ভারতে যান। ভারতের পর্যটনে তার প্রভাবও পড়ছে নিঃসন্দেহে। সেখানকার পর্যটন মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৬ সালে ভারতে শীর্ষ পর্যটক বাংলাদেশেরবছরটিতে প্রায় চৌদ্দ লাখ বাংলাদেশি সেখানে যান। এর ফলে প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে শীর্ষস্থানে পেঁৗছে বাংলাদেশ। পাঁচ বছরের রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, ক্রমবর্ধমানভাবে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটক বাড়ছেই। ২০১২ সালে যেখানে ভারতে মাত্র প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি পর্যটক ছিল, মাত্র চার বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হয়।
ভারতের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পের অবদান একেবারে কম নয়, ২০১৫ সালের হিসাবে জিডিপির ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প জিডিপির সাড়ে চার ভাগ। পর্যটনের মাধ্যমে আয়ের দিক থেকে ভারত এগিয়ে। ভারতে বাংলাদেশের পর্যটক যখন সবচেয়ে বেশি, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের অর্থনীতিতে আমাদেরও অবদান রয়েছে। সেদিক থেকে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশে যত বাধার কথা শোনা যায়, তা বিস্ময়কর। Continue reading

অভিবাসী যখন বিশ্বগ্রামের সদস্য

অভিবাসী দিবসের পোস্টার

অভিবাসী দিবসের পোস্টার

উন্নত জীবন ও কর্মসংস্থানের আশায় মানুষ দুনিয়ার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অভিবাসী হিসেবে পাড়ি দেয়। শরণার্থী হিসেবেও অনেকে অন্যত্র যায়, নানা কারণে অন্য দেশে আশ্রয় চায় মানুষ। অভিবাসনের বিষয়টি প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। মানুষ কখনও এক জায়গায় বসে থাকেনি। মানুষের পৃথিবী জয় এভাবেই হয়েছে। তবে আজ এমন সময়ে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করছে, যখন প্রতিবেশী মিয়ানমারে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা, সাগরে ভাসছে তাদের নৌকা; যখন সিরিয়ায় চলছে যুদ্ধ, সেখানকার সাধারণ মানুষ আশ্রয় খুঁজছে; যখন আফ্রিকার লাখো মানুষ ইউরোপে কাজ খুঁজছে। আবার এটাও জানা আছে যে, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ এখন বিদেশে বাস করছেন। তারা প্রবাসে থেকে কষ্ট করে কাজ করে দেশের জন্য টাকা পাঠান।
শ্রমিকরা বিদেশে কাজ করলেও, কাজ করছেন আসলে দেশের জন্য। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের উপকার হচ্ছে। এ জন্যই এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য করা হয়েছে, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে, অভিবাসীরা সবার আগে।’ প্রবাসীরা বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছে। তাদের রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই এখন আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
অভিবাসীদের দ্বারা দেশ উপকৃত হচ্ছে। তাদের স্বার্থ দেখাও দেশেরই কাজ। নানা দেশে নানাভাবে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে। অনেকে বিদেশে কাজ করেও পারিশ্রমিক না নিয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে। এমন সমস্যায় প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। Continue reading

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বিড়ম্বনার ৩০ মিনিট

ঘড়ি বলছে, ৩টা বাজতে ১৫ মিনিট বাকি আছে। ব্যাংক বলে কথা; দেরি করে ফেললাম কি না ভেবে দ্রুত ঢুকলাম। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একটি শাখা। ঢুকে বুঝলাম, দেরি করিনি। কারণ অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া টাকা নগদ প্রদান-গ্রহণের তিনটি কাউন্টারের দুটিই খালি। স্বস্তি পেলাম কিছুটা। কিন্তু কাছে গিয়ে যা দেখলাম, তা না বলার মতো নয়। তার আগে ব্যাংকের ভেতরকার অবস্থা বর্ণনা করা যাক।
কর্মকর্তা আছেন ১৫ জনের মতো। কাচ দিয়ে ঘেরা দুটি কক্ষ। একটিতে কর্মকর্তা গোছের একজন। ঢুকলেই বাম পাশে তার কক্ষ। বিপরীতে আছে চারজনের চারটা টেবিলসহ চেয়ার। এর পরই কাচ দিয়ে ঘেরা টাকা নগদ প্রদান ও গ্রহণের কাউন্টার। এখানে সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে আদান-প্রদানে আছেন তিনজন। এ ছাড়া আরেকজন আছেন, যিনি চেক ভেরিফাই করেন। আর এ কাচঘেরা কক্ষের বাম পাশেই আরেক কর্মকর্তা বসে আছেন।
মূল বিষয়ে আসি। কাচ দিয়ে ঘেরা টাকা নগদ প্রদান ও গ্রহণের কাউন্টারে আমার কাজ। দেখলাম অন্য সব কর্মকর্তা নিজস্ব চেয়ারে আসীন, কিন্তু এখানে আছেন তিনজনের জায়গায় একজন, যেটা আগেই বলা হয়েছে। যাকে পেলাম তিনি মুরব্বিই বলতে হবে। পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত। বয়স ৫০-এর কম হবে না। অবশ্য তার পেছনে চেক ভেরিফায়ার কিছুটা মুড নিয়ে আছেন, ভাবখানা এমন— আমি কিন্তু বস।
যাহোক, এক গ্রাহক কয়েক বান্ডিল টাকা নিয়ে এসেছেন। ৫০, ২০ ও ১০ টাকার বান্ডিল। বান্ডিলসংখ্যা শ’খানেক তো হবেই। মুরব্বি আর কী করবেন, বসে বসে টাকা গুনছেন। গুনছেন তো গুনছেনই, অন্যদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই। এদিকে অন্য গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা আলোচনা চলছে, এ লোকটা কী করছেন পাঁচ-দশ মিনিট ধরে— একজনের টাকাই গুনে যাচ্ছেন? অন্য কারও প্রতি তার নজর নেই।
আমি ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে এ অবস্থা দেখছি আর হাসছি। কারণ এখানে একটাও মানি কাউন্টিং মেশিন নেই। তার হাতে যে টাকা, তা গুনতে আরও অন্তত ২০ মিনিট লাগার কথা। এ রকম অবস্থায় গ্রাহকদের অস্বস্তিটা একটু বেড়েছে। মুরব্বি মনে হয় এবার একটু তাকালেন। বললেন, ‘ভাই কী করব? আমি একা, আবার টাকা গোনার মেশিনও নেই।’ অবশ্য পেছনের ব্যক্তির খবর নেই। গভীর মনোযোগের সঙ্গে কম্পিউটারে কাজ করেই যাচ্ছেন।
কাচের বাইরে কাউন্টারে আমরা যারা অপেক্ষমাণ, তাদের সংখ্যা এতক্ষণে ২০ হয়ে গেছে। আমাদের সামনে এবং ওই কর্মকর্তাদের পেছনে একটা দেয়াল, যেখানে ব্যাংকের লোগোসহ লেখা আছে স্লোগান। সেটা পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মন্তব্য করছেন, ‘অগ্রগতি মানে পিছিয়ে যাওয়া’! ‘সবাই যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের তখন এই দুর্গতি’ তিনি যোগ করলেন। আরেকজন বলছেন, ‘অগ্রগতি তো বটেই, ওই যে দেখেন না নষ্ট মেশিনটা পড়ে আছে’ (আসলেই লেখাটার নিচে নষ্ট একটা টাকা গোনার মেশিন পড়ে ছিল)।
ততক্ষণে শোরগোলটা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গ্রাহকরা বলছেন, ‘ওই মিয়া, আপনার টাকা গোনা রাখেন। আমাদের আগে বিদায় করেন। এতক্ষণে তো আমাদের কাজ হয়ে যেত।’ আওয়াজ আরও বেড়েছে। এবার মনে হয় ভদ্রলোকের টনক নড়েছে। যার টাকা গুনছেন, তাকে সবাই ম্যানেজ করলেন। এবার অন্যদের সেবা দেয়া শুরু করলেন তিনি।
এরই মধ্যে সময় ৩টা পেরিয়ে গেছে। মুরব্বির সঙ্গে দুটি খালি চেয়ারের একটা পূর্ণ হলো— এক
ভদ্রমহিলা বসলেন সেখানে। মাঝখানে একটি চেয়ার কিন্তু খালি। খালি কেন? উত্তরটা জানা গেল, ‘এই চেয়ারের উনি বদলি হয়েছেন’— একজন গ্রাহকই বললেন। এবার দুজন মিলেই সবার সেবা দেয়া শুরু করলেন। টাকা গোনার মেশিন নেই, হাতেই গুনে গুনে সেবা দিচ্ছেন। দেরি তো একটু হবেই। তবু মুরব্বির চাপটা যে কমল কিংবা তিনি যে ভরসা পেলেন, তা তার পরবর্তী কিছুটা দ্রুত কর্মকাণ্ডেই বোঝা গেল।
বেশি নয়, মাত্র ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে এবার আমার পালা। চেকটা পেয়েই মুরব্বি তার কাজ শেষ করে ভেরিফায়ারের কাছে দিলেন। চেক দেখে তার ভঙ্গিতে বুঝলাম, কিছুটা সমস্যা আছে। পাঁচ মিনিট ধরে দেখলাম চেকটা বিভিন্ন কর্মকর্তার হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত আমার হাতে এল। না, তারা কোনো সমাধান করতে রাজি হননি। কেন হননি, কী সমস্যা, সেটা এখন থাক। তবে ব্যাংক থেকে বের হতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য আনন্দের।

বণিক বার্তা, 25.১১.১১

অর্থনীতির নোবেল সমাচার

নোবেল পুরস্কার ২০১১ কারা পেলেন তা ১০ অক্টোবরের মধ্যেই সবাই জেনে গেছে। হাল দুনিয়ায় যত বিতর্কই থাকুক, নোবেলটাই বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। আমাদের এটা বুঝতে মোটেও কষ্ট হয় না। কারণ সুইডেন থেকে হোক কিংবা নরওয়ে থেকেই হোক, অক্টোবরের প্রথম থেকে পুরস্কার ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশের পত্রিকায় পরদিন সে সংবাদ ছাপা হচ্ছে। আর যারা অনলাইনে থাকেন, তারা তো সঙ্গে সঙ্গেই জানতে পারেন। তবে ‘আদার বেপারীর জাহাজের খবর নেয়া’ আর আমাদের নোবেল পুরস্কারের খবর নেয়া অনেকটা একই কথা। অর্থনীতির কথা তো বলাই বাহুল্য। অবশ্য শান্তিতে একটা পুরস্কার আছে বলে আমাদের রক্ষা।
পদার্থ, রসায়ন, চিকিত্সা, শান্তি, সাহিত্য ও অর্থনীতি— নোবেল পুরস্কারের এ ছয়টি বিষয়ের মধ্যে অর্থনীতির মাহাত্ম্য একটু অন্যরকম। এ পর্যন্ত কোনো মুসলমান এ পুরস্কার পাননি। অবশ্য আট শতাধিক নোবেল মুকুটপ্রাপ্তদের মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা মাত্র ১২। উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে, ইহুদিদের সংখ্যাটা ১৬০-এর কম নয়। অর্থনীতিতে সর্বপ্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী নোবেলবিজয়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এলিনর অস্ট্রম। যদিও নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদের অধিকাংশই আমেরিকান।
অর্থনীতির পুরস্কারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কারের সময় এটা ছিল না। অর্থাত্ এ পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেলও অর্থনীতিকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেননি বা করে যেতে পারেননি। পরে ১৯৬৮ সালে সেরিজ রিকস ব্যাংক প্রাইজ নামে অর্থনীতিতে পুরস্কার চালু হয়। এটা অবশ্য আলফ্রেড নোবেলের স্মরণেই এবং এ বিষয়ের গুরুত্বের কথা বিবেচনায় রেখেই করা হয়।
নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার বিজয়ী লিওনিদ হারউইজ। তিনি ৯০ বছর বয়সে অর্থনীতিতে পুরস্কার পান। প্রথম এশীয় হিসেবে অর্থনীতির নোবেল বিজয়ী হলেন অমর্ত্য সেন। তিনি ১৯৯৮ সালে কল্যাণ অর্থনীতি, সামাজিক চয়ন তত্ত্বের (দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্য) জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন। অর্থনীতির পুরস্কার ঘোষণা ও বাছাই করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমী অব সায়েন্স। যদিও তারা কেবল অর্থনীতির পুরস্কারই নয়, একই সঙ্গে পদার্থ এবং রসায়নের পুরস্কারও দিয়ে থাকেন।
এ বছরের অর্থনীতির বিষয়ে আসা যাক, নোবেলের ছয়টি বিষয়ের মধ্যে সবার শেষে ঘোষণা হয় অর্থনীতি। অক্টোবরের প্রথম থেকে পুরস্কার ঘোষণা হয়, ১০ অক্টোবর অর্থনীতির ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঘোষণা। আমরা সাদামাটাভাবে যে অর্থনীতি ব্যবহার করছি, নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.nobelprize.org তাকে বলছে Economic Sciences । এ বছর অর্থনীতির পুরস্কার জয়ীরা হলেন টমাস সার্জেন্ট ও ক্রিস্টোফার সিমস।
উইকিপিডিয়ায় শুরু থেকে এ পর্যন্ত অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের একসঙ্গে ছবিসহ যে লিস্ট আছে তাতে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ বছরই একাধিক অর্থনীতিবিদ একসঙ্গে এ পুরস্কার পেয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দুজন পেয়েছেন। কখনো তিনজন মিলে পেয়েছেন। একজনও পেয়েছেন, তবে সেটা কম। সাম্প্রতিক সময়ে এক বছরে একজন নোবেল পুরস্কার পাওয়া অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যান। তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৮ সালে।
এ বছর যে দুজন নোবেল পান, উভয়ের মাঝেই কিছু মিল আছে। তারা উভয়েই অধ্যাপক এবং আমেরিকান। ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের পর থেকে ৪০ বারের মতো এ পুরস্কার জিতলেন মার্কিনিরা। বয়সেও তারা সমান, বয়স ৬৮। তবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভিন্ন। টমাস সার্জেন্ট নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা ও অর্থনীতির অধ্যাপক। অন্যদিকে ক্রিস্টোফার সিমস প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ের অধ্যাপক। নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উভয়ের ছবিসহ বিস্তারিত দেয়া আছে। যাতে একটি অপশন হলো ‘কনগ্র্যাচুলেট দ্য নিউ লরিয়েটস’। এতে প্রায় এক হাজার মানুষ তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। এর মধ্যে এক নেপালির অভিনন্দনের ভাষাটা ছিল এ রকম— ‘Congratulation and Salute to both of you.’

এবারের অর্থনীতির বিষয় নিয়ে মূল বিষয়টাই বাদ পড়ে গেছে। তাদের অবদান। ম্যাক্রো অর্থনীতি ও সরকারের অর্থনৈতিক কর্মপন্থার ওপর গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। নোবেল কমিটি জানায়, সরকারের নীতি বা কর্মপন্থা কীভাবে অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে এ নিয়ে তারা গবেষণা করেছেন। সুদের হারের অস্থায়ী বৃদ্ধি এবং কর হ্রাস অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে এ সম্পর্কীয় একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ হিসেবে ড. ইউনূসকেও এখানে আনা যায়। ড. ইউনূসের পড়াশোনা অর্থনীতি বিষয়ে হলেও তিনি নোবেল পেয়েছেন শান্তিতে। তাকে অর্থনীতিতে পুরস্কার না দিয়ে শান্তিতে দেয়ায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। ২০০৬ সালে দারিদ্র্যবিমোচন ক্ষুদ্র ঋণ প্রবর্তনে গ্রামীণ ব্যাংক এবং তাকে যৌথভাবে এ পুরস্কার দেয়া হয়।
এ বছরের অর্থনীতির এ দুই অধ্যাপক নোবেল পুরস্কার স্বরূপ পাবেন ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার, ডলারে তা ১৪ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ১৫ কোটি প্রায়। তাদের এ পুরস্কার দেয়া হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর।

বণিক বার্তা, 16 অক্টোবর ২০১১

ছবি- উইকিপিডিয়া

World economic recession & Bangladesh (30 April 2009, Financial Express)


World economic recession is going on since 2007. The main reason of this recession is the crisis of mortgaged loan of USA which has started in housing sector where sub prime were lending verily. The economists identified two prime reasons of this recession one is subprime lending & another is uncontrolled credit default. Its also true that, this world recession increasing also for environmental disaster e.g. conflagration of Australia & draught in California. Many people lost their jobs & back to their country as the starting of this recession is in America. About 6 lakhs & 51 thousands people lost their job in February 2008 & in January this number was 6 lakhs 55 thousands. To face this problem many companies cut their workers. Almost 1 crore people of the world lost their job in 2008. The effect of this recession is coming in small companies. On 26 January 2009 heavy machinery company CATARPILLAR, medicine company FIZER, telecom company SPRINT NEXTOR CORPORATION & infrastructure company HOME DIPO took decision to cut their workers. Bankrupt companies are increasing in number in USA. The export market of China fallen on because of Banking crisis and many people are losing work. In Japan, Spain, England, Russia, Germany, Mexico, Latin America and also Caribbean’s countries contracted their job market. Bangladesh is not free from this recession. Its telling that 3 million people can loss their job of Bangladesh in this year, side by side poverty is increasing here. This recession affected on our export. According to export development bureau during last 7 months the exporting of raw jute decreased 15.20%, jute goods 19.80%, leather 31.80% & refrigerated foods 5%. BGMEA said their export decreased in January by 4.98% in February by 17.58% as our cloth mostly goes in USA & Europe so it greatly affects our industry. This recession greatly affected our manpower export as well. In the meantime Malaysia, Kuwait, Dubai, & Saudi Arabia returned back our workers. Malaysia cancelled the visa of 55 thousands workers. All the countries who are importing our manpower are going to cut our workers. Whenever this world recession affected in our manpower exporting it also affects our remittance. It is shown that the income from remittance decreased 250 crore in February than January 2009 from Middle East. This recession also greatly affected our industry where jute, sugar, spinning mills are about to die. Our textiles are also falling in danger. From the 80 mills of jute products 17 are fully stopped, 11 of these mills are working partially & other mills also are in the way to stop. Out of 25 lakhs workers, 1 lakhs labor has lost their job in spinning mills, 50 thousands labor are jobless. The unsold goods of spinning mills are tk 30 thousands crore. To protect this recession government, already took many steps. Our minister went to Malaysia to save visa of 55 thousands labor. Prime minister went to Saudi Arabia to solve the problem of Bangladeshi workers. Finance minister A M A Muhit declared a stimulus package. This package is of 3424 crore tk where 13% is for export, 43% for agriculture, 18% for power, 11% for food & 15% for agriculture loan. In this package there is no stimulus for RMG sector which is urgently needed. Though almost all economists welcomed this package but they said there is no definite guidance there. Its true that this package is not enough to check our problem but it is a stimulus package. It requires more steps. We think this package will be implemented perfectly & Bangladesh will be succeeded to free from this ongoing recession.

Proposed national budget(16 june 2009FE)

THE proposed national budget for fiscal year (FY) 2009-10 has been announced. Finance Minister Abul Maal Abdul Muhith presented, the proposed budget, through a 98-page text, to the Jatiya Sangshad (JS) or parliament. The Taka 1138.19 billion budget has been termed ambitious by some economists, but our finance minister is very much optimistic about it.

In the budget, a spending surge is noted in case with interest payments — about 13.9 per cent of total expenditure. For public admin, the share of aggregate resources is at 13.6 per cent, education and information technology 11.9 per cent, local government and rural development 7.6 per cent, social security and welfare 7.3 per cent, subsidies 6.1 per cent, agriculture 4.5 per cent, energy and power 3.8 per cent.

In the proposed budget, the amount of allocation for education and IT sector is not satisfactory. Some student leaders were reported to have commented, following the announcement of the budget, that their expectations were high, but the government could not meet that. This writer also agrees with them, keeping the electoral pledge of the new government to achieve Digital Bangladesh and educated Bangladesh, into consideration.

Another aspect of the proposed budget is not acceptable — that is whitening of black or undisclosed money. The new rate of duty for newsprint can also not be endorsed.

This budget emphasises on accelerating the pace of economic activities in rural areas and here the promises about framing district wise budgets in the coming years and also about public private partnership (PPP) in the forthcoming fiscal are welcome. As a whole, it is a good budget.

The Finance Minister said it is a big challenge for the government. As it has taken this challenge, it should be serious right from the beginning of the forthcoming fiscal to implement it properly.