Category Archives: অন্যদৃষ্টি

চোখ রাঙাচ্ছে করোনা

কেবল সংবাদকর্মীই নন, এ মুহূর্তে দেশের সব সচেতন নাগরিকই বোধ করি প্রতিদিন করোনা সংক্রান্ত সরকারের প্রেস ব্রিফিংয়ের জন্য অপেক্ষা করেন। দেশে করোনা পরিস্থিতি বুঝতে এটা জরুরিও বটে। এতদিনের ব্রিফিং যা-ই হোক, রোববারের ব্রিফিংয়ে নিশ্চয়ই অনেকে নড়েচড়ে বসেছেন। একদিনে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৮ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হওয়ায় অনেক হিসাব-নিকাশও নিশ্চয়ই পাল্টে যাবে। দেশে করোনা পরিস্থিতি যে খারাপের দিকে যাবে, তা অনেকেই অনুমান করেছিলেন। দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর আমরা দেখছি, দিন দিন বাড়ছে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। রোববার ২৮তম দিনে এক লাফে এত করোনা পজিটিভ খবর আমাদের বৈশ্বিক পরিসংখ্যানের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। করোনা যদি বাংলাদেশে একই রূপ ধারণ করে তাতে বলতে হবে, এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছি আমরা। বিশ্বের যেসব দেশে এ ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়েছে, সেখানে প্রথম মাসের লক্ষণে বোঝাই যায়নি পরবর্তী মাসে ঠিক কী অপেক্ষা করছে। সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী যে আমেরিকায়, সেখানে প্রথম ব্যক্তি শনাক্ত হন ২০ জানুয়ারি। মার্চের প্রথম দিন পর্যন্ত সেখানে ৭৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। এর এক মাস পর এসে প্রায় দুই লাখ রোগী আক্রান্ত হয়। এখন সেখানে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। করোনায় সর্বাধিক মৃত্যু ১৫ হাজারের বেশি যে ইতালিতে, সেখানে জানুয়ারি মাসের শেষ দিনে দু’জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর মাস খানেক পর শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১শ’ জনে। আর সেখানে ৩১ মার্চ করোনা পজিটিভ মানুষের সংখ্যা বেড়ে লক্ষাধিক হয়ে যায়। স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের অবস্থাও তথৈবচ। Continue reading

মায়া

মেয়েটি আমার যত বড় হচ্ছে মায়া মনে হচ্ছে ততই বাড়ছে

গতকাল আমার পিতৃত্বের এক বছর পূর্ণ হলো আলহামদুলিল্লাহ। ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসার পর থেকেই কেবল নয়, বরং তারও প্রায় নয় মাস আগ থেকে আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েটি। সন্তান-মা-বাবাকে ঘিরে পৃথিবীর যে মায়ার জগৎ এতদিন তা কেবল সন্তান হিসেবেই দেখে আসছিলাম এখন সেটা বাবা হিসেবেও আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।
প্রথম প্রথম মেয়েটিকে দেখতাম বিস্ময়ের সঙ্গে। নবজাতকের কান্না, হাসি, আড়মােড় ভাঙ্গার মধ্যে কতটা শিল্প, কতটা সৌন্দর্য রয়েছে মেয়ে না হলে তা দেখার সৌভাগ্য হয়তো হতো না। মেয়েটি যখন আরেকটু বড় হচ্ছে শিশুর কাজ দেখারও সুযোগ হচ্ছে, এক সেকেন্ডের জন্যও তার ফুরসত নেই; যতক্ষণ সজাগ থাকবে, ততক্ষণ ব্যস্ত। এই এটা ধরবে, ওটা ধরবে। এক হাতে না পারলে দুই হাতে, এক হাত ছাড়ালে আরেক হাতে। মেয়েটার কাজ দেখে আমরা হয়রান হই। মেয়েটি যখন কথা বলা শিখছে ওর মুখ থেকে ফুটছে- আম্মা, বাব্বা, দাদ্দা, নান্না। মুখ থেকে একটা কথা বেরুবে সেটাই বলতে থাকবে। এক নাগাড়ে, এ নিশ্বাসে, একই শব্দ সুন্দর করে, দরদ দিয়ে এভাবে কাউকে বলতে দেখিনি।
মেয়েটি যতই একটু করে বড় হচ্ছে ততই চিনছে বাবাকে। বাবা হিসেবে সেটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনি মধুর বিড়ম্বনারও। বাবাকে সবসময় সামনে থাকা চাই। মেয়েকে রেখে বাইরে বেরুবার অধিকার, অফিসে যাওযার সুযোগ নেই। আহা প্রতিদিন অফিসের জন্য বেরুতে মেয়েকে যেভাবে বাসায় রেখে আসতে হয় সেটা এক কষ্টের ব্যাপার। অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি কিন্তু মেয়েটি কোলে এসে বসে আছে। এমনভাবে বসবে যে, তাকে ছাড়া সহজ নয়। Continue reading

বিদ্যুতের বৃক্ষপ্রাপ্তি

গাছকেই বানানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি

বিদ্যুৎ নিয়ে রং-তামাশার যেন শেষ নেই। এই তামাশায় একবার আমরা দেখেছি, বিদ্যুতের খাম্বা আছে, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। আবার উল্টো দেখা গেল, বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু খাম্বা কিংবা বিদ্যুতের খুঁটি নেই। খাম্বা বা বিদ্যুতের খুঁটি ছাড়া বিদ্যুৎ থাকে কীভাবে! সে বিস্ময়ই শনিবারের সমকালে এসেছে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে। যেখানে বিদ্যুতের খাম্বা কিংবা খুঁটির বালাই নেই; তবে বিদ্যুৎ ঠিকই গ্রাহক পাচ্ছেন গাছের মাধ্যমে! ঝালকাঠির ‘নলছিটিতে গাছকেই বানানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি’। অভিনব বটে।

প্রাকৃতিক গাছই যদি বিদ্যুতের খুঁটি হিসেবে ব্যবহূত হয়, তাহলে নতুন করে খুঁটি নির্মাণ, আনয়ন ও স্থাপনসহ নানা ঝামেলা পোহানোরই বা দরকার কী! নলছিটিতে গাছকে বিদ্যুতের খুঁটি হিসেবে ব্যবহারের যুক্তি যদিও এটি নয়। সেখানে নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন স্থাপনের জন্য এক কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষও হয়েছে কিন্তু কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বিদ্যুতের তার। কিংবা গাছের সঙ্গে র‌্যাক দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, সুতরাং বাকি কাজ কখন হবে, কেউ জানে না।

কেতাবে অনেক কিছুই থাকে। যেমন- জীবন্ত গাছের সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা বিদ্যুৎ প্রবাহ আইন ও বিদ্যুৎ উনয়ন বোর্ডের নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ, জীবন্ত গাছ এমনিতেই অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ পরিবাহী। আর সেটা বর্ষায় বা কুয়াশায় যেভাবেই ভিজুক, তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেখানে এরই মধ্যে নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে সমকালের প্রতিবেদনে এসেছে। Continue reading

ইফা, তুমি পথ হারাইয়াছ?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন জাতি সোচ্চার, যখন সরকারি নানা অফিসে শোভা পাচ্ছে ‘আমি এবং আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’; সেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) ও এর মহাপরিচালকের (ডিজি) নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি কতটা দুর্নীতিমুক্ত, সেটি আমরা জানি না। তবে এটা অন্তত অনুধাবন করা যায়, দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিদের সদিচ্ছা রয়েছে। কিন্তু যেখানে গোড়ায় পচন ধরে, অর্থাৎ খোদ প্রতিষ্ঠানপ্রধান দুর্নীতিগ্রস্ত হন, অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতায় বেপরোয়া হন, সেখানে গোটা প্রতিষ্ঠানই তার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ভুলে একজনের আজ্ঞাবহ ও সেবাদাসে পরিণত হতে বাধ্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ঠিক তা-ই হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য ‘পথিক, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’ উক্তিই যথার্থ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামের সমুন্নত আদর্শ প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে। এমন মহান উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন যখন দুর্নীতির জন্য টানা খবর হয়, তার চেয়ে দুঃখজনক বিষয় আর কী হতে পারে! রোববার সমকালের প্রতিবেদন ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জেঁকে বসেছে দুর্নীতি’ পড়ে যে কেউ অবাক হবেন; হেন কোনো প্রকল্প নেই যেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়নি। এক টাকা, দুই টাকা নয়; প্রতিষ্ঠানটিতে অডিট করে প্রায় আটশ’ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের নেতৃত্বে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ১০ বছর ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পুরো সময়টির তদন্তে দেখা গেছে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, বেশি ব্যয়, অপচয়সহ তিনি নানা অপকর্ম করেছেন। সমকালের প্রতিবেদন বলছে, নিরীক্ষায় প্রথমে ১৩২টি অনিয়ম ও ৯০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়। পরে ৩৬টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়। ডিজি ১০০ কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে ফেরতও দেন।

এত বড় দুর্নীতি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার বিষয়। আর সেখানে যদি একজনই অভিযুক্ত হন, তাহলে তো কথাই নেই। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দুর্নীতিতে তোলপাড়ের কারণ কেবল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, ব্যক্তির কারণেই নয় বরং কারণটি খোদ প্রতিষ্ঠানের ধরন-ধারণের জন্যও। প্রতিষ্ঠানটির নামের সঙ্গেই রয়েছে ইসলাম। Continue reading

ট্রাম্পের নোবেল আবদার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল পুরস্কার নিয়ে যা বলেছেন, তাকে কেবল আবদারই বলা যায় না বরং নোবেল না পাওয়ায় তিনি একে প্রশ্নবিদ্ধও করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, নোবেল পুরস্কার পক্ষপাতহীন ও সুষ্ঠু হলে অনেক কিছুতেই তিনি নোবেল পেতেন। তিনি আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামাকে কেন নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো, তা তিনি নিজেও জানতেন না।

ট্রাম্প বিষয়টি কতটা সিরিয়াসলি বলেছেন, বোঝা মুশকিল। তবে ট্রাম্পের আচরণ আসলে এমনি। তিনি এমন কথা বলবেন, সেই কথায় লোকে হাসছে; অথচ তিনি কিন্তু হয়তো তার মনের কথাই বলে ফেলেছেন। ২০১৭ সালের শেষ দিকে একবার ট্রাম্প বলেছিলেন, তার আইকিউ রেক্স টিলারসন (তার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী) থেকে বেশি। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ারও আগে ২০১৩ সালে তিনি এক টুইটে বলেছিলেন, তার আইকিউ বারাক ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ থেকেও বেশি। আমরা জানি না, ট্রাম্পের আইকিউ বেশি কি-না। তবে কমন সেন্সের বিষয়টি বলাই বাহুল্য। অবশ্য কমন সেন্স বা কাণ্ডজ্ঞানের ব্যাপারটা ট্রাম্পের সঙ্গে কতটা যায়, সেটাই প্রশ্ন। যে বিষয়টিকে আমরা মনে করি, জনসমক্ষে বলা মানায় না, ট্রাম্প সেটা থোড়াই কেয়ার করেন। সেটাকে ট্রাম্পের স্টাইল না বলে রাজনীতি বলাই বোধহয় অধিক যুক্তিযুক্ত। Continue reading

শিক্ষক যখন ‘মডেল’

সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অনন্য। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নানা সমস্যা ও চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকা সত্ত্বেও এখানকার শিক্ষকরা শিক্ষাদানসহ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা দায়িত্ব পালনে নিরলস ভূমিকা পালন করে আসছেন। দেশের অনেক মেধাবীও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় আগ্রহী হচ্ছেন। এমনকি বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডারদের অনেকে এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। ফলে প্রাথমিক শিক্ষায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে একই জাতীয় বিদ্যালয়ের মধ্যেও আমরা মানের দিক থেকে আকাশ-পাতাল ফারাক দেখি। এ কারণেই আমরা দেখছি, সরকার ‘মডেল শিক্ষক’ পুল তৈরি করতে যাচ্ছে। ১৬ আগস্ট সমকালে এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। যেখানে বলা হচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষকদের নিয়ে মডেল শিক্ষক তৈরি করা হবে, যারা সংশ্নিষ্ট উপজেলার পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়গুলোর দুর্বল শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেবেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গণিত ও ইংরেজিতে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

বলা বাহুল্য, বিদ্যালয়ের এই যে পিছিয়ে পড়া কিংবা এগিয়ে যাওয়া বিষয়টি নির্ধারিত হচ্ছে ফলের ওপর। এখন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বা পিইসির কারণে কোন বিদ্যালয় কেমন ‘ফল’ করছে, তা সহজেই বোঝা যায়। কেবল ফলের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়া নির্ধারণ করা কতটা যৌক্তিক। ফলের ওপর যখন এই এগোনো-পেছানোর ব্যাপারটা নির্ভরশীল, তখন এটি কেবল বিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীর ব্যাপার। এখানে শিক্ষকদের যোগ্যতার প্রশ্নে এগোনো-পেছানোর ব্যাপার নেই। কারণ সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যোগ্যতা একই বলে আমরা মনে করি। মডেল শিক্ষক বিষয়টি বরং শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্যই তৈরি করবে। এটা হয়তো ঠিক, ওই যোগ্যতার মধ্যেও একই বিদ্যালয়ে অধিক শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক যেমন রয়েছেন, তেমনি কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকও রয়েছেন। এটা ভালো কিংবা খারাপ উভয় ফলধারী বিদ্যালয়ের জন্যই সমান। কেবল ‘ভালো’ ফলধারী বিদ্যালয় থেকেই ‘মডেল শিক্ষক’ গ্রহণ করলে একই শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ‘খারাপ’ ফলধারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দোষ কোথায়।

এই দুটি বৈষম্য সামনে রেখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘মডেল শিক্ষক’ তৈরির প্রকল্প নিচ্ছে, তখন মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য ‘সকল বিদ্যালয়ের মানের ইতিবাচক পরিবর্তন’ কীভাবে হাসিল হবে, তা বোধগম্য নয়। এমনকি এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতভেদও তৈরি হয়ে গেছে। খোদ প্রাথমিক বিদ্যালয়েরই অনেক শিক্ষক এর বিরোধিতা করছেন। মন্ত্রণালয় যে পদ্ধতিতে ‘মডেল শিক্ষক’ নির্বাচনের কথা বলছে, সে পদ্ধতিতে শিক্ষকদের মধ্যে যেমন দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে, তেমনি দুটি বিদ্যালয়েও পরস্পরের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হতে পারে। বরং শিক্ষকদের ধারাবাহিক দু’তিন বছরের মূল্যায়নের ভিত্তিতে মডেল শিক্ষক নির্বাচন করা যেতে পারে। এ রকম প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক বাছাই করে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য পাঠানোই যথেষ্ট হবে। Continue reading

গরুর গলায় বোমার বর্বরতা

নিরীহ প্রাণীটি জানে না কী বিপজ্জনক বোমা বয়ে বেড়াচ্ছে

কোরবানি এলে গৃহপালিত ও নিরীহ গরু কীভাবে উত্তাপ ছড়ায়, তা আমরা দেখে আসছি। রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক বিষয় হিসেবে গরু এক অন্য মাত্রায় হাজির হয়। যদিও গরুর প্রতি বাঙালির রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা। শরৎচন্দ্রের মহেশ গল্পে গরুর প্রতি যে মমতা-দরদ প্রম্ফুটিত, তা এখনও বিদ্যমান। অথচ কোরবানির সময় গরুর এমন অনেক বিষয় হাজির হয়, যাতে আমরা অভ্যস্ত নই। এ কলামেই একবার আমি লিখেছিলাম ‘ভেজাল গরু!’। আর এখন যে বিষয় সামনে এসেছে, সেটি আরও ভয়ঙ্কর। রোববার সমকালের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম– ‘ভয় দেখাতে গরুর গলায় বোমা’। হ্যাঁ, একেবারে বোমা বাঁধা গরুর ছবিসহ সংবাদটি প্রকাশ হয়। ভারতীয় দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফে আরও দু’দিন আগেই খবরটি আসে। ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের সময় নদীপথে গরু যাতে না আটকায়, সে জন্যই পাচারকারীদের এই ব্যবস্থা!
কী ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ কৌশল! নিরীহ প্রাণীটি জানে না কী বিপজ্জনক বোমা বয়ে বেড়াচ্ছে। পাচারকারীরা ভেবেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বুঝি বোমা দেখে ভয় পেয়ে গরু ছেড়ে দেবে। ছাড়া পেয়ে ওপারের গরু এপারের চোরাকারবারিদের হাতে আপসে চলে আসবে। যদিও তা হয়নি। বিএসএফ সতর্কতার সঙ্গেই কয়েকটি গরু আটক করেছে। পাচারকারীরা কীভাবে এ কাজ করছে! এটি তো তাদের জন্যও বিপদের কারণ হতে পারে। Continue reading

সোনার ডিমপাড়া হাঁস

হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান যে বিমানের ঘাড়ে, সে বিমানের কর্মীরা কীভাবে ফ্রি টিকিটে দেশে-বিদেশে আরামে ঘোরেন?

কেউ কেউ ফ্রি পেলে নাকি আলকাতরাও খান। আলকাতরার বিষয়টি হয়তো অতিরঞ্জন। কিন্তু ছাড়- একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি কিংবা সুযোগ পেলে মাগনা খাওয়া-নেওয়া ইত্যাদিতে যে আমরা অনেকেই সিদ্ধহস্ত, তা বলাই বাহুল্য। এ তো গেল বৈধ ফ্রির কথা। আবার অবৈধভাবে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিংবা কৌশলেও ফ্রি খাওয়া বা নেওয়ার অপপ্রবণতা রয়েছে অনেকেরই। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট নিয়ে এমনটিই ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই ২০১৯) সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম– ‘এত ফ্রি টিকিট পান বিমান কর্মীরা!’ কতটা পান? প্রতিবেদন বলছে, এক কর্মকর্তাই নিয়েছেন ৮৭টি টিকিট। আরেকজন ৬৮টি। পঞ্চাশের ঘরে আছেন অনেকেই। আরও নিচে তো আছেনই। তাদের অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে টিকিটগুলো পেয়েছেন। অনেকে নিজ নামের পাশাপাশি স্ত্রী-পরিজনের নামেও নিয়েছেন। ১০ বছরে প্রায় ৪৫ হাজার টিকিট নিয়ে তারা দেশ-বিদেশ ঘুরেছেন। এর মধ্যে কেউ শতভাগ কমিশনে পেয়েছেন, অন্যরা পেয়েছেন ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ কমিশন। কী সৌভাগ্য বিমান কর্মীদের! অথচ আমাদের এ রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা কেবল গত অর্থবছরেই লোকসান গুনেছে ২০১ কোটি টাকা। পবিত্র হজের ২ মাস ছাড়া প্রায় সারা বছরই বিমানকে লোকসান গুনতে হয়। এ বছরের এপ্রিলে সমকালে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- তেলেই ২ হাজার কোটি টাকা বাকি বিমানের। Continue reading

সামান্য সতর্কতা

অধিকাংশ রেলক্রসিং যখন অরক্ষিত তখন সচেনতাই পারে আমাদের রক্ষা করতে

সতর্কতা, সচেতনতা, কাণ্ডজ্ঞান, জীবনবোধ- এগুলোই ‘মানুষ’ হওয়ার মূল বিবেচ্য। অনেকে বলেন, মানুষ মানে যার মান ও হুঁশ দুটিই রয়েছে। এগুলো ছাড়া মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেই অসম্পূর্ণ, ব্যক্তিত্বহীন কিংবা ভয়ঙ্কর। যার পরিণতিও ভয়াবহ। মঙ্গলবার সমকালের শেষ পাতায় প্রকাশিত ‘বিয়ের গাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা, বর-কনেসহ নিহত ১০’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি তার অন্যতম উদাহরণ। সোমবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের বলি হলো এ মানুষগুলো। অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের দায় অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু এখানেও যে সতর্কতা ও সচেতনতার ব্যত্যয় ঘটেছে, তা অস্বীকারের জো নেই।

এটা ঠিক যে ঘটনাটি মর্মান্তিক, ট্র্যাজিক ও হৃদয়বিদারক। দুর্ঘটনায় যে কোনো মৃত্যুই আমাদের জন্য বেদনার। তারপরও কিছু ঘটনা দাগ কাটে। এ দুর্ঘটনায় বর-কনের মেহেদির রঙ শুকাবার আগেই উভয়ের মৃত্যু হলো। অথচ কিছুক্ষণ আগেই তাদের বন্ধন হলো; সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী একটি দাম্পত্য জীবনের স্বপ্ন হয়তো তাদেরও ছিল। তাদের স্বপ্নের যেমন মৃত্যু হয়েছে; একই সঙ্গে বিয়ের যাত্রী হিসেবে দুই পরিবারের স্বজনরাই প্রধানত হতাহত হয়েছে। পরিবার দুটি এমন শোক কেমনে সইবে! Continue reading

পালাবদলের ঘুম!

ঢাবির হলগুলোর গণরুম যেন উদ্বাস্তু-শিবির

দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাত আসে বিশ্রামের জন্য। রাতের ঘুম আবার পরদিন কাজের শক্তি জোগায়। মানুষের বাঁচার জন্য তাই জরুরি বিষয়গুলোর মধ্যে বাসস্থান অন্যতম। সুন্দর আবাসন, ভালো ঘুম মানুষকে প্রফুল্ল রাখে, কাজে মনোযোগী করে, জীবনবোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। ছাত্রজীবনের প্রধান কাজ পড়াশোনা করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা, পড়াশোনা ও গবেষণার পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতেই রয়েছে আবাসন ব্যবস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলার অন্যতম কারণ হলো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক। সেখানে শিক্ষার্থীরা হলের সঙ্গে সংযুক্ত এবং তাদের আবাসন নিশ্চিত করা হয়। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করত। এখনও সব শিক্ষার্থী কোনো না কোনো হলের সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসন সুবিধা খুব কম। অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থাকতে হয়। আবাসিক হলগুলোতে যে আসন রয়েছে, তার তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী হলগুলোতে থাকছেন। ফলে সেখানে আবাসন সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। সে বিষয়টিই উঠে এসেছে সোমবার প্রকাশিত একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে। ‘পালা করে কেউ ঘুমায় রাতে, কেউ বা দিনে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্‌দীন হলের শিক্ষার্থীদের এমন দুর্দশা উঠে এলেও এটি আসলে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়েরই চিত্র। হলটিতে আবাসিক সুবিধা রয়েছে ৩৮৭ জনের। অথচ থাকছেন ১০০০ শিক্ষার্থী। সেখানে রয়েছে ১০টি গণরুম, যেখানে ৪ জনের রুমে থাকছেন ২০/২৫ জন শিক্ষার্থী। স্বাভাবিকভাবেই এসব কক্ষে রাতের বেলায় সবার একসঙ্গে ঘুমানো অসম্ভব। তাই তাদের ঘুমাতে হয় পালা করে। কেউ রাতে ঘুমান, কাউকে ঘুমাতে হয় দিনে। ফলে রাতে হয়তো কাউকে ঘুরেফিরে, বসে কিংবা কষ্ট করে পড়াশোনা করে কাটাতে হয়। একজন প্রতীক্ষায় থাকেন কখন তার সহপাঠী উঠবে, সেও একটু ঘুমাবে। Continue reading