Category Archives: অন্যদৃষ্টি

জাদুঘরের ‘শক্তি’

জাদুঘর কোনো জাদু বা মায়াবিদ্যার ঘর নয়। তবে জাদুঘরে যে এক ধরনের মায়া আছে, তা অনস্বীকার্য। সেখানে গেলে আমরা প্রাচীন নিদর্শনাবলি দেখতে পাই। অনেক বস্তু আমরা এক ধরনের আশ্চর্য নিয়ে দেখি। শত বছর আগে যে মুদ্রা অমূল্য ছিল, আজ তা প্রদর্শনীর বস্তু। আবার আজ আমাদের কাছে যেটি দামি, ১০০ বছর পর হয়তো তার স্থান এমন জাদুঘরে হবে। জাদুঘরের এই সত্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মায়া; রয়েছে বিস্ময়। বলা বাহুল্য, জাদুঘরের ক্ষমতাও সেখানেই। এ বছর আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের প্রতিপাদ্যও সেই ক্ষমতার কথা বলছে- ‘দ্য পাওয়ার অব মিউজিয়ামস’।
জাদুঘর আমাদের অতীত সম্পর্কে জানান দিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার নির্দেশনা প্রদান করে। আইকম বা ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামের ওয়েবসাইটে দিবসটির প্রতিপাদ্য বিশ্নেষণে তিনটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। টেকসই বা স্থিতিশীলতা অর্জনে ভূমিকা, উদ্ভাবনের ভূমিকা এবং শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ গঠনে ভূমিকা। এসবের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে জাদুঘর যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা অনন্য। আমরা জানি, জাদুঘর আমাদের ইতিহাস বহন করে আছে। জাদুঘরে গেলেই আমরা ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন চাক্ষুষ দেখতে পাই। আমাদের পূর্বপুরুষরা কী ব্যবহার করতেন, তাদের নির্মিত বস্তু, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ স্মরণীয় ব্যক্তিদের সংগ্রহশালাও জাদুঘরে থাকে। জাদুঘর যেমন ব্যক্তির উদ্যোগে তৈরি হতে পারে, তেমনি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠছে। কেবল গড়ে ওঠাই নয়, বরং তা প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার মধ্যেই জাদুঘরের সার্থকতা। Continue reading

বইয়ের আবেদন ও নিবেদন

বই পড়ার গুরুত্ব এবং না পড়ার কুফল নিয়ে আলোচনা কিংবা সমালোচনা কম হয়নি। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে এ আলোচনা বেশি দেখা যায়। একুশের মাসব্যাপী গ্রন্থমেলার কারণেই বলা চলে আমাদের বইয়ের আয়োজন অনেকটা ফেব্রুয়ারির মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রকাশকরা এ সময়েই অধিকাংশ প্রকাশ করেন। পাঠকও এ সময়ে নতুন বই খোঁজেন। সেদিক থেকে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ঘোষিত ২৩ এপ্রিলের ওয়ার্ল্ড বুক অ্যান্ড কপিরাইট ডে তথা বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবসটির ভিন্ন মাত্রা এখানেই, অন্তত ফেব্রুয়ারির বাইরের একটি দিনে বইয়ের আলোচনা হচ্ছে।

বইয়ের আলোচনা বহুমাত্রিক। ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে দিবসটির পেজ খুললেই একটা খোলা বইয়ের ছবি সামনে পড়বে, যার ওপর লেখা- রিড … আনটিল নো স্ট্রেঞ্জারস রিমেইন। অর্থাৎ যতক্ষণ অজানা বা অচেনা বিষয় থাকবে ততক্ষণ পড়ুন। মানুষের জ্ঞান সীমিত; যে বিষয়ই আসুক, মনে হয় কত অজানা রে। কেউ সারা জীবন দিনের অধিকাংশ সময় পড়ায় ব্যয় করলেও কি অজানা সব জানা হয়ে যাবে? বলা বাহুল্য, দিবসটির পেজে ইউনেস্কো আরও লিখেছে, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন পড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ! কারণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা জানতে এবং বৈষম্য ও গুজবের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পড়া জরুরি; বই এখানে অন্যতম অস্ত্র। বিশ্বব্যাপী শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে বই।

Continue reading

সামাজিক বৈচিত্র্য ও অটিজম

প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাকার্ডে অটিস্টিক শিশুর আঁকা ছবি (২০১৪)

সমাজভর্তি বিচিত্র মানুষ। কারও সঙ্গে কারও শতভাগ মিল নেই। রঙে মিল নেই, কথায় মিল নেই, আচরণে মিল নেই, চলাফেরায় মিল নেই, চিন্তা-চেতনায় মিল নেই। প্রতিভাও সবার সমান নয়। উচ্চতায়ও পার্থক্য ঢের। অমিল রয়েছে আয়ে, পারিবারিক অবস্থায় এবং বয়সে। কেউ উদার, কেউ অনুদার; কেউ কোমল, কেউ রাগী; কেউ অন্তর্মুখী, কেউ বহির্মুখী। কারও দুটি হাত থাকার বদলে একটি থাকা কিংবা পা না থাকা বা চোখে দেখতে না পাওয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ যাদের আমরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ কিংবা প্রতিবন্ধী বলি, তারাও এই বৈচিত্র্যের বাইরে নয়। অটিজম এমনি এক বৈচিত্র্যের নাম। যাদের মানসিক কিংবা শারীরিক বিকাশ সঠিকভাবে হয় না তারা সাধারণত অটিজমের শিকার। মানুষের বৈচিত্র্যের মধ্যেও শেষ দুই শ্রেণির জন্য আলাদা পরিভাষা সমাজে প্রচলিত; কারণ তাদের ধরন ও প্রয়োজন ভিন্ন। সামাজিক শৃঙ্খলা ও সংহতির জন্য আমরা যেমন ভিন্ন চিন্তার মানুষকে সম্মান করি, ঠিক একই কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের চাহিদা পূরণে আমরা এগিয়ে যাই এবং অটিজম রয়েছে এমন কারও প্রতি সহানুভূতিশীল হই। সে চিন্তা থেকেই নিশ্চয় অটিজম সচেতনতা দিবসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল জাতিসংঘ। ২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়।

অটিজম সচেতনতা দিবসে এ বছর জাতিসংঘ জোর দিয়েছে ইনক্লুসিভ এডুকেশন বা অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায়। আমরা জানি, প্রতিটি শিশুর চাহিদা ও সম্ভাবনা অনুযায়ী শিখন সম্পন্ন করা এবং সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে সবার শিক্ষা নিশ্চিত করাই অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা। এর মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, ছেলে-মেয়ে, প্রতিবন্ধী-অটিস্টিকসহ সব শিশুকে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান করা হয়। বস্তুত আমরা যখন অটিস্টিক শিশুর চাহিদা নিশ্চিত করার কথা বলছি, তাদের ব্যাপারে সচেতনতার কথা বলছি, সেখানে প্রথমেই আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে শিক্ষায়। Continue reading

সিনেমা নয়, সত্যি

বিয়ে-সংসার নিয়ে মানুষের যে স্বপ্ন থাকে; ফাহমিদা কামালেরও নিশ্চয় ব্যতিক্রম ছিল না। তার বিয়েও হয়েছে। তবে তা স্বাভাবিক পরিবেশে নয়। মেয়েটিও স্বাভাবিক ছিল না। অসুস্থতার মধ্যেই তার বিয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়। নাকে অক্সিজেনের নল, পরনে বিয়ের লাল বেনারসি, পাশে বর- এমন ছবি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। স্বাভাবিকভাবেই সবাই নবদম্পতিকে অভিনন্দন জানান এবং ফাহমিদার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। বলা বাহুল্য, ফাহমিদা মনের জোরে বিয়ের পরদিন বাসায়ও ফিরেছিলেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতির ফলে পরদিনই তাকে ফিরতে হয় হাসপাতালে। অবশেষে বিয়ের ১২তম দিনে ২১ মার্চ মেয়েটি চিরদিনের জন্য চলে যায়।

ফাহমিদার মৃত্যুর খবর নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাপিয়ে মূলধারায়ও খবরটি প্রকাশ পায়। এভাবে মানুষের চোখে জল আনা ফাহমিদার গল্পটা অসমাপ্তই থেকে গেল। মেয়েটি চলে গেলেও তার আলোচনা থেমে থাকেনি। বস্তুত তার জীবনে যা ঘটেছে, এমনটি আমরা সিনেমার পর্দায় দেখতে অভ্যস্ত। ফাহমিদার ঘটনা যেন সিনেমাকেও ছাড়িয়ে গেছে!

ফাহমিদার শরীরে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছিল। তার বয়স ৩০ না পেরোলেও ব্যাধি তাকে ভালোভাবেই কাবু করে ফেলেছিল। তার পরও পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। দেশের চিকিৎসার পাশাপাশি ভারতেও নেওয়া হয়েছিল ফাহমিদাকে। তার পরও মেয়েটিকে রাখা যায়নি। Continue reading

করোনা গেলেও ভালো অভ্যাস বজায় থাকুক

করোনা সুরক্ষায় প্রায় অব্যর্থ দাওয়াই হিসেবে আমরা হাত ধোয়া বিষয়ে সবাই যেভাবে সচেতন ছিলাম, এখনও সুস্থতার জন্য সে চর্চা ধরে রাখা প্রয়োজন

সম্প্রতি হাত ধোয়া দিবসে সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সার্বিকভাবে আমাদের হাত ধোয়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার বিষয়টি এসেছে। করোনা সংক্রমণের হার যখন নিচের দিকে, স্বাভাবিকভাবেই হাত ধোয়ার ওপর তার প্রভাব পড়েছে। কিন্তু বলার বিষয় হলো, ব্যক্তিগতভাবে এ প্রবণতা যতটা না কমেছে, তার চেয়েও কমেছে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। করোনার হার যখন ঊর্ধ্বমুখী ছিল তখন এসব প্রতিষ্ঠানে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা যেমন ছিল, তেমনি ছিল কড়াকড়িও। হঠাৎ যেন সব ব্যবস্থা উধাও। অফিস, মার্কেট, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ব্যবস্থা শিথিল হয়ে গেছে। হাত ধোয়ার ব্যবস্থা যেমন কমছে; হ্যান্ড স্যানিটাইজের বিষয়টিও তথৈবচ। মাস্কের কথা বলাই বাহুল্য। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যা-ই হোক, ব্যক্তিগতভাবে এসব ভালো অভ্যাস কমে যাওয়ার বিষয়টি বেশি উদ্বেগজনক। স্বাভাবিক সময়েও মাস্ক ব্যবহার করলে নাক-মুখ দিয়ে ধুলাবালি ও জীবাণু প্রবেশ করতে পারে না। হাত ধোয়া শুধু করোনা থেকেই সুরক্ষা দেয় না, প্রাত্যহিক জীবনাচরণেও এটি অত্যাবশ্যকীয় অভ্যাস।

খালি চোখে অনেক কিছুই আমরা দেখি না; তার পরও সেসবের অস্তিত্ব রয়েছে। মানুষের সীমাবদ্ধতার কারণে নিকটে-দূরের অনেক বস্তুই আমাদের দেখা সম্ভব হয় না। শরীরে মশা-মাছি বসতে গেলে আমরা টের পাই বলে তাড়িয়ে দিই। কিন্তু হাতসহ আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে যে কত ব্যাক্টেরিয়া বা জীবাণু বাস করে, তা জীববিজ্ঞানীরাই ভালো বলতে পারবেন। ড. মার্কুস এগার্ট নামে এক জীববিজ্ঞানী বলেছেন, প্রত্যেক মানুষের শরীরে প্রায় দেড় কেজি জীবাণু বাস করে। আরেক হিসাব বলছে, হাতের প্রতি বর্গসেন্টিমিটার জায়গায় প্রায় ১৫০০ জীবাণুর বাস। তার মানে, প্রত্যেকের হাতে মোটামুটি ২০-৩০ হাজার জীবাণু রয়েছে। আমরা যখন হাত ধোয়া ছাড়া খাবার খাই তখন এসব জীবাণু পেটে গিয়ে গণ্ডগোল পাকায়, যা নানা ধরনের রোগের কারণ হতে পারে। Continue reading

‘মানুষমারা’ বদলে ‘মানুষগড়া’

মানুষ গড়া যে বিদ্যালয়ের কাজ, তার নাম মানুষ মারা হয় কীভাবে! বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা কেবল নির্দিষ্ট সিলেবাস সম্পন্ন করতেই যায় না, একই সঙ্গে জীবন গড়ার শিক্ষা নিতেও যায়। সেখানে একটি বিদ্যালয়ের নাম ‘মানুষমারা’ হওয়া বিস্ময়করই বটে। সেটি নিয়ে সমালোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই অবশেষে নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার ‘মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর নাম এ বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে দিয়েছে ‘মানুষগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এভাবে নাম পরিবর্তন কিংবা নাম সংশোধনের বিষয়টি নতুন নয়। মানুষ, স্থান, স্থাপনা কিংবা প্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা পারিপার্শ্বিক নানা কারণেই পরিবর্তন হয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ রকম প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কিছু স্থানের নাম নিয়ে সমালোচনা আমরা দেখেছি। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শ্রুতিমধুর ও সুশোভন নয় এমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন কেবল ‘মানুষগড়া’ দিয়েই শুরু হয়নি, এর আগেও নেত্রকোনার ‘ছেছড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর নাম বদলে ‘শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ হয়। ফলে নাম পরিবর্তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এ প্রজ্ঞাপন নতুন বিষয় নয়। তবে আগে হয়তো এ রকম কয়েকটি বিদ্যালয়ের পরিবর্তন হয়েছে; এবার সেটি ব্যাপকভাবে করার চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। Continue reading

চোখ রাঙাচ্ছে করোনা

কেবল সংবাদকর্মীই নন, এ মুহূর্তে দেশের সব সচেতন নাগরিকই বোধ করি প্রতিদিন করোনা সংক্রান্ত সরকারের প্রেস ব্রিফিংয়ের জন্য অপেক্ষা করেন। দেশে করোনা পরিস্থিতি বুঝতে এটা জরুরিও বটে। এতদিনের ব্রিফিং যা-ই হোক, রোববারের ব্রিফিংয়ে নিশ্চয়ই অনেকে নড়েচড়ে বসেছেন। একদিনে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৮ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হওয়ায় অনেক হিসাব-নিকাশও নিশ্চয়ই পাল্টে যাবে। দেশে করোনা পরিস্থিতি যে খারাপের দিকে যাবে, তা অনেকেই অনুমান করেছিলেন। দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর আমরা দেখছি, দিন দিন বাড়ছে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। রোববার ২৮তম দিনে এক লাফে এত করোনা পজিটিভ খবর আমাদের বৈশ্বিক পরিসংখ্যানের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। করোনা যদি বাংলাদেশে একই রূপ ধারণ করে তাতে বলতে হবে, এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছি আমরা। বিশ্বের যেসব দেশে এ ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়েছে, সেখানে প্রথম মাসের লক্ষণে বোঝাই যায়নি পরবর্তী মাসে ঠিক কী অপেক্ষা করছে। সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী যে আমেরিকায়, সেখানে প্রথম ব্যক্তি শনাক্ত হন ২০ জানুয়ারি। মার্চের প্রথম দিন পর্যন্ত সেখানে ৭৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। এর এক মাস পর এসে প্রায় দুই লাখ রোগী আক্রান্ত হয়। এখন সেখানে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। করোনায় সর্বাধিক মৃত্যু ১৫ হাজারের বেশি যে ইতালিতে, সেখানে জানুয়ারি মাসের শেষ দিনে দু’জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর মাস খানেক পর শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১শ’ জনে। আর সেখানে ৩১ মার্চ করোনা পজিটিভ মানুষের সংখ্যা বেড়ে লক্ষাধিক হয়ে যায়। স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের অবস্থাও তথৈবচ। Continue reading

মায়া

মেয়েটি আমার যত বড় হচ্ছে মায়া মনে হচ্ছে ততই বাড়ছে

গতকাল আমার পিতৃত্বের এক বছর পূর্ণ হলো আলহামদুলিল্লাহ। ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসার পর থেকেই কেবল নয়, বরং তারও প্রায় নয় মাস আগ থেকে আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েটি। সন্তান-মা-বাবাকে ঘিরে পৃথিবীর যে মায়ার জগৎ এতদিন তা কেবল সন্তান হিসেবেই দেখে আসছিলাম এখন সেটা বাবা হিসেবেও আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।
প্রথম প্রথম মেয়েটিকে দেখতাম বিস্ময়ের সঙ্গে। নবজাতকের কান্না, হাসি, আড়মােড় ভাঙ্গার মধ্যে কতটা শিল্প, কতটা সৌন্দর্য রয়েছে মেয়ে না হলে তা দেখার সৌভাগ্য হয়তো হতো না। মেয়েটি যখন আরেকটু বড় হচ্ছে শিশুর কাজ দেখারও সুযোগ হচ্ছে, এক সেকেন্ডের জন্যও তার ফুরসত নেই; যতক্ষণ সজাগ থাকবে, ততক্ষণ ব্যস্ত। এই এটা ধরবে, ওটা ধরবে। এক হাতে না পারলে দুই হাতে, এক হাত ছাড়ালে আরেক হাতে। মেয়েটার কাজ দেখে আমরা হয়রান হই। মেয়েটি যখন কথা বলা শিখছে ওর মুখ থেকে ফুটছে- আম্মা, বাব্বা, দাদ্দা, নান্না। মুখ থেকে একটা কথা বেরুবে সেটাই বলতে থাকবে। এক নাগাড়ে, এ নিশ্বাসে, একই শব্দ সুন্দর করে, দরদ দিয়ে এভাবে কাউকে বলতে দেখিনি।
মেয়েটি যতই একটু করে বড় হচ্ছে ততই চিনছে বাবাকে। বাবা হিসেবে সেটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনি মধুর বিড়ম্বনারও। বাবাকে সবসময় সামনে থাকা চাই। মেয়েকে রেখে বাইরে বেরুবার অধিকার, অফিসে যাওযার সুযোগ নেই। আহা প্রতিদিন অফিসের জন্য বেরুতে মেয়েকে যেভাবে বাসায় রেখে আসতে হয় সেটা এক কষ্টের ব্যাপার। অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি কিন্তু মেয়েটি কোলে এসে বসে আছে। এমনভাবে বসবে যে, তাকে ছাড়া সহজ নয়। Continue reading

বিদ্যুতের বৃক্ষপ্রাপ্তি

গাছকেই বানানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি

বিদ্যুৎ নিয়ে রং-তামাশার যেন শেষ নেই। এই তামাশায় একবার আমরা দেখেছি, বিদ্যুতের খাম্বা আছে, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। আবার উল্টো দেখা গেল, বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু খাম্বা কিংবা বিদ্যুতের খুঁটি নেই। খাম্বা বা বিদ্যুতের খুঁটি ছাড়া বিদ্যুৎ থাকে কীভাবে! সে বিস্ময়ই শনিবারের সমকালে এসেছে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে। যেখানে বিদ্যুতের খাম্বা কিংবা খুঁটির বালাই নেই; তবে বিদ্যুৎ ঠিকই গ্রাহক পাচ্ছেন গাছের মাধ্যমে! ঝালকাঠির ‘নলছিটিতে গাছকেই বানানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি’। অভিনব বটে।

প্রাকৃতিক গাছই যদি বিদ্যুতের খুঁটি হিসেবে ব্যবহূত হয়, তাহলে নতুন করে খুঁটি নির্মাণ, আনয়ন ও স্থাপনসহ নানা ঝামেলা পোহানোরই বা দরকার কী! নলছিটিতে গাছকে বিদ্যুতের খুঁটি হিসেবে ব্যবহারের যুক্তি যদিও এটি নয়। সেখানে নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন স্থাপনের জন্য এক কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষও হয়েছে কিন্তু কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বিদ্যুতের তার। কিংবা গাছের সঙ্গে র‌্যাক দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, সুতরাং বাকি কাজ কখন হবে, কেউ জানে না।

কেতাবে অনেক কিছুই থাকে। যেমন- জীবন্ত গাছের সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা বিদ্যুৎ প্রবাহ আইন ও বিদ্যুৎ উনয়ন বোর্ডের নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ, জীবন্ত গাছ এমনিতেই অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ পরিবাহী। আর সেটা বর্ষায় বা কুয়াশায় যেভাবেই ভিজুক, তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেখানে এরই মধ্যে নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে সমকালের প্রতিবেদনে এসেছে। Continue reading

ইফা, তুমি পথ হারাইয়াছ?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন জাতি সোচ্চার, যখন সরকারি নানা অফিসে শোভা পাচ্ছে ‘আমি এবং আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’; সেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) ও এর মহাপরিচালকের (ডিজি) নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি কতটা দুর্নীতিমুক্ত, সেটি আমরা জানি না। তবে এটা অন্তত অনুধাবন করা যায়, দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিদের সদিচ্ছা রয়েছে। কিন্তু যেখানে গোড়ায় পচন ধরে, অর্থাৎ খোদ প্রতিষ্ঠানপ্রধান দুর্নীতিগ্রস্ত হন, অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতায় বেপরোয়া হন, সেখানে গোটা প্রতিষ্ঠানই তার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ভুলে একজনের আজ্ঞাবহ ও সেবাদাসে পরিণত হতে বাধ্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ঠিক তা-ই হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য ‘পথিক, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’ উক্তিই যথার্থ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামের সমুন্নত আদর্শ প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে। এমন মহান উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন যখন দুর্নীতির জন্য টানা খবর হয়, তার চেয়ে দুঃখজনক বিষয় আর কী হতে পারে! রোববার সমকালের প্রতিবেদন ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জেঁকে বসেছে দুর্নীতি’ পড়ে যে কেউ অবাক হবেন; হেন কোনো প্রকল্প নেই যেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়নি। এক টাকা, দুই টাকা নয়; প্রতিষ্ঠানটিতে অডিট করে প্রায় আটশ’ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের নেতৃত্বে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। ১০ বছর ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পুরো সময়টির তদন্তে দেখা গেছে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, বেশি ব্যয়, অপচয়সহ তিনি নানা অপকর্ম করেছেন। সমকালের প্রতিবেদন বলছে, নিরীক্ষায় প্রথমে ১৩২টি অনিয়ম ও ৯০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়। পরে ৩৬টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়। ডিজি ১০০ কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে ফেরতও দেন।

এত বড় দুর্নীতি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার বিষয়। আর সেখানে যদি একজনই অভিযুক্ত হন, তাহলে তো কথাই নেই। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দুর্নীতিতে তোলপাড়ের কারণ কেবল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, ব্যক্তির কারণেই নয় বরং কারণটি খোদ প্রতিষ্ঠানের ধরন-ধারণের জন্যও। প্রতিষ্ঠানটির নামের সঙ্গেই রয়েছে ইসলাম। Continue reading