Category Archives: অনুবাদ

উপমহাদেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী বিভ্রান্তি

শিল্পীর আঁকা পলাশি যুদ্ধের চিত্র

মূল: অমর্ত্য সেন

ভারতে ব্রিটিশ শাসন শুরু হয় ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে। যুদ্ধটা ছিল সংক্ষিপ্ত, প্রত্যুষে শুরু হয়ে সূর্যাস্তের ক্ষণে শেষ। পলাশি অবস্থিত কলকাতা ও মুর্শিদাবাদের মাঝামাঝি পর্যায়ে। আম্রকাননে অনুষ্ঠিত ওই যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনী নবাব সিরাজউদ্দৌলা সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয় এবং তার বাহিনীকে পরাজিত করে। তারপর ব্রিটিশরা প্রায় দুইশ বছর রাজত্ব করে। এত দীর্ঘ সময়ে তারা ভারতে কী অর্জন করে? আর তাদের ব্যর্থতাই বা কী?

১৯৪০-এর দশকে আমি যখন পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রাগ্রসর স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন এসব প্রশ্ন আমাদের আলোচনায় এসেছিল। এখনও সে প্রশ্নের গুরুত্ব শেষ হয়ে যায়নি। কেবল এ কারণে নয় যে, ব্রিটিশ রাজত্ব প্রায়ই বৈশ্বিক সুশাসনের সফলতায় এ আলোচনা সামনে আনে বরং এ কারণেও যে আজ তারা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিষয়টি দেখাতে চায়। কয়েক দশক আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনের স্কুলে এসব আলোচনায় জটিল প্রশ্নে বিরক্তই হতাম। আমরা কীভাবে গত শতকের চল্লিশের দশকে চিন্তা করতে পারতাম যে, ভারতে কখনও ব্রিটিশ শাসন ছিল না? ১৭৫৭ সালে যখন ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শুরু হয় তার সঙ্গে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের যাওয়ার সময়কার ভারতের পার্থক্য ছিল সামান্যই। যদিও একেবারে পরিবর্তন হয়নি তা নয়। কিন্তু পরিবর্তনগুলোর জবাব আমরা কীভাবে দিতে পারি?

অতীতে ভারতের ইতিহাসে বড় অর্জন হলো- দর্শন, গণিত, সাহিত্য, কলা, স্থাপত্য, সংগীত, চিকিৎসাশাস্ত্র, ভাষা ও জ্যোতির্বিদ্যা। ঔপনিবেশিক শাসনের আগে ভারতের অর্থনৈতিক অর্জন বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল। ভারতের অর্থনৈতিক সম্পদের বিষয়টি অ্যাডাম স্মিথের মতো ব্রিটিশ পর্যবেক্ষকরাও স্বীকার করেছিলেন। এসব অর্জন সত্ত্বেও ইউরোপের যে অর্জন ছিল, আঠারোশ শতকের মধ্যভাগে ভারত তা থেকে পিছিয়েই ছিল। পিছিয়ে পড়ার ধরন ও তার তাৎপর্য আমাদের স্কুলের বিকেলে বিতর্কের বিষয় ছিল। Continue reading

বাংলাদেশের উন্নতি থেকে পাকিস্তানের শিক্ষা

মূল: আবিদ হাসান

বর্তমান সরকারসহ পাকিস্তানের সব সরকারই সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাপী ধরনা ধরেছে। আমরা ঋণে হাবুডুবু খাচ্ছি এবং প্রবৃদ্ধির হার একই বৃত্তে আবদ্ধ। অদূর ভবিষ্যতে এভাবেই চলবে বলে মনে হচ্ছে। কারণ, কোনো সরকারই পাকিস্তানের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের গভীরে দৃষ্টি দেয়নি। অথচ ২০ বছর আগেও এটি অকল্পনীয় ছিল- বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় পাকিস্তানের প্রায় দ্বিগুণ হবে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে দেশটি ২০৩০ সালে অর্থনীতির বড় শক্তি হয়ে উঠবে। আর পাকিস্তানের এই দুরবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ থেকে আমাদের সহায়তা নেওয়ার অবস্থা তৈরি হবে।

পাকিস্তানের এই মন্দাবস্থার দায় আমাদেরই। যদিও আমাদের নেতারা সহজেই আমাদের শত্রু এবং আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের দোষ দিয়ে থাকেন। এটা অস্বীকার করা যাবে না, আইএমএফ কিংবা বিশ্বব্যাংকের দুর্বল নীতি ও মন্দ ঋণের গভীর খাদে রয়েছে পাকিস্তান। দুর্নীতি ছাড়াও সন্ত্রাসবাদের প্রভাব রয়েছে অর্থনীতিতে। কর্মক্ষমতায় দুর্বলতার ফলে দায়িত্বহীন ও অযৌক্তিক নীতি এবং উদ্যমহীন সংস্কার করা হচ্ছে। বেপরোয়া নীতির দুটি উদাহরণ হলো :জাতীয় ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থের অধিক সরকারি ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় অনেক বেশি আমদানিনির্ভরতা বাইরের ঋণও বাড়িয়ে তুলছে।

নানা দিক থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সাযুজ্য থাকায় বাংলাদেশের সাফল্য একটি ভালো উদাহরণ। একই ধর্ম, কাজের ক্ষেত্রে নৈতিকতায় ঘাটতি, নোংরা রাজনীতি, সুশাসনের অভাব, দুর্বল জনপ্রশাসন ব্যবস্থা, দুর্নীতি ও অভিজাতদের তোষণের নীতিতে দুই দেশের অবস্থান প্রায় সমান হলেও বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। গত ২০ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়েছে কয়েক গুণ। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় যেখানে দুই হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার, সেখানে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় মাত্র এক হাজার ১৯০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য অর্জন আর পাকিস্তানের দুর্যোগের পেছনের গল্প কী? Continue reading

বিজেপির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছি-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচনে জয়লাভ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া টুডের মুখোমুখি হন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি তার নির্বাচনী লড়াইয়ের পথপরিক্রমা, রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং করোনা প্রসঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজদ্বীপ সরদেশাই। ইংরেজি থেকে ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক

ইন্ডিয়া টুডে: শুরুতেই আপনাকে অভিনন্দন জানাই। আপনি কি এমন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয় আশা করেছিলেন? এবার এমনকি ২০১৬ সালের নির্বাচন থেকেও বেশি ভোট পেয়েছেন…

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: দেখুন, আমার টার্গেট ছিল ২২১টি আসন পাওয়া। কারণ এখন ২০২১ সাল চলে, তাই সিম্বলিক হিসেবে ২২১। এবার নির্বাচন কমিশন যে আচরণ করেছে, তা ছিল ভয়ংকর। কেন্দ্রীয় সরকারসহ সব এজেন্সিও আমাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলকভাবে কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা আমাদের জন্য কাজ করেছে এবং তাদের কারণেই আমরা যুদ্ধে জয়লাভে সক্ষম হই। মাঠে তারাই ছিল আমাদের যোদ্ধা। করোনা-দুর্যোগের এ সময়ে আমরা কোনো ধরনের বিজয় উৎসব পালন করিনি। আমরা করোনা রোগীদের জন্য কাজ করছি। দেশের সবাইকে টিকা দেওয়ার জন্য আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে আহ্বান জানাই। তারা যদি এটি না করে, তাহলে আমি অহিংস আন্দোলনে নামব। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য হবে এ আন্দোলন।

ইন্ডিয়া টুডে: আপনি বললেন, আপনার টার্গেট ছিল ২২১। এমন আত্মবিশ্বাস আপনি কীভাবে পেলেন। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, বিজেপি এবার খুব আগ্রাসী প্রচারণা চালায়। অনেকে বলেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ব্যাকফুটে আছে। এরপরও এমন আত্মবিশ্বাসের হেতু কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি শুরু থেকেই বলে আসছিলাম, আমরা ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করব। আর বিজেপি ৭০ আসনের বেশি পাবে না। নির্বাচন কমিশন যদি এভাবে তাদের সহায়তা না করত তারা ৫০টির বেশি আসন পেত কিনা সন্দেহ। আমাদের কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের ব্যালট নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের অভিবাদন জানাই। তারাই পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের জন্য লড়াই করেছেন। আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে হবে। আমি আমার জন্মভূমিকে ভালোবাসি। ভালোবাসি পশ্চিমবঙ্গকে। পশ্চিমবঙ্গ গোটা দেশকে পথ দেখাবে।

ইন্ডিয়া টুডে: আপনার ভূমিধস বিজয় আমরা দেখছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের হিসাবে নন্দীগ্রামে আপনি হেরেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আসলে এটা হারা নয়। সেখানে আবার ভোট গণনার দাবি জানিয়েছি আমরা। নির্বাচন কমিশন ইভিএম মেশিনে কারসাজির চেষ্টা করেছে। অভিযোগ পেয়ে একটি বুথে আমি প্রায় তিন ঘণ্টা বসে ছিলাম। আমাদের ভোটারদের অনেককেই ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। নন্দীগ্রামে আসলে একটি ষড়যন্ত্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ষড়যন্ত্র। তাই আমি শুরু থেকেই ভোট পুনরায় গণনার কথা বলেছি। যাতে সেখানে কী ঘটেছে, তা জনগণ জানতে পারে। Continue reading

মোদি সরকার টিকা নিয়ে বৈষম্য করছে-সোনিয়া গান্ধী

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী সম্প্রতি করোনাদুর্যোগ, টিকা ও সেখানকার সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে দেশটির জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দুর সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক সন্দ্বীপ ফুকান। ইংরেজি থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক।


দ্য হিন্দু: করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভারতে সবচেয়ে বেশি জনস্বাস্থ্য সংকট স্পষ্ট। এ সংকটের জন্য দায় কার?

সোনিয়া গান্ধী: ভারতের এ জাতীয় বিপর্যয়ে আমার মনে হয় একটি সম্মিলিত ব্যাপক প্রচেষ্টা দরকার। আমাদের একসঙ্গে কাজ করে প্রয়োজনীয় সব জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে যত দ্রুত সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তবে এটা বলতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক মাস আগে করোনা নিয়ন্ত্রণের এক অকালপকস্ফ বিজয় উদযাপন করেছিল। সেখানে বাস্তবতা ছিল উপেক্ষিত। এমনকি সংসদীয় কমিটি করোনার প্রস্তুতির জন্য যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলোও আমলে নেওয়া হয়নি। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ভারত ও বিশ্বের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য দেশের অবস্থার আলোকে আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, কী ঘটতে পারে। অথচ আমরা তাতে কর্ণপাত না করে প্রগল্‌ভ অহংকার আর আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি। করোনা সংক্রমণের প্রভাবের কথা চিন্তা না করেই ভাইরাসটি আরও ছড়ানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

দ্য হিন্দু: এখন তাহলে করণীয় কী?

সোনিয়া গান্ধী: এখন ব্লেম গেম খেলার সময় নয়। বরং আমাদের করণীয় হলো, মানুষের জীবন রক্ষা করা। মানুষের বেদনা উপশম করা। আমাদের লাখ লাখ নাগরিকের দুর্ভোগ লাঘব করা। অক্সিজেন সংকট দূর করা। জরুরি ওষুধ এবং হাসপাতালে আসনের ব্যবস্থা করা। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসও সব রাজ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। আমরা যেভাবে পারছি, এ সহযোগিতা করে আসছি।

কৃতিত্ব নেওয়া বা এটা প্রচারের সময় এখন নয় যে, আমরা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কী করছি। কোনো ধরনের প্রচারণা পাওয়ার আশা ছাড়াই কাজ করার সময় এখন। আমি এখানে ধন্যবাদ দিতে চাই, বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যারা গত কয়েকদিন ধরে আমাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।

তবে এটা সত্যিই বেদনাদায়ক, সরকার এখনও অগ্রাধিকারের বাইরে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প। বেহুদা এখন প্রকল্পটি নির্মাণের কাজ চলছে। তবে যেসব সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগ ত্রাণসহ অন্যান্য সাহায্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রশংসা করতেই হবে। একই সঙ্গে আমাদের সম্মুখযোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মীবৃন্দ যারা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিচ্ছে, তাদের ঋণ শোধ করার মতো নয়।

দ্য হিন্দু: সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং টিকা নিয়ে ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী এবং আপনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু পরামর্শ দিয়ে চিঠি লিখেছেন। তার সমালোচনাও রয়েছে। বলা হচ্ছে, কংগ্রেস সংকট নিয়ে রাজনীতি করছে। Continue reading

সেনা অভ্যুত্থান: রোহিঙ্গাদের জন্য দুঃসংবাদ

লেখক:  মেরভে শেবনেম ওরুচ

এ সপ্তাহে ( ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। মিয়ানমারের নেত্রী ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, সু চির বিশ্বস্ত ও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি তথা এনএলডির সদস্যদের গ্রেপ্তার করে সেনা শাসক এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রায় সব ক্যু-ই নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি’ কিংবা ‘অনিয়মের’ নামে হয়ে থাকে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, যাদের দাপ্তরিক নাম তাৎমাদো-ও একই অভিযোগ এনেছে। মিয়ানমারে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এনএলএডির ভূমিধস বিজয়, যেখানে ক্ষমতাসীন দলটি ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। তারা ২০১৫ সালের চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছে। নির্বাচনে সু চির দল ভুয়া ভোটারের অভিযোগ এনেছে। মিয়ানমারের নির্বাচনে সংসদের ৪৭৬টির মধ্যে এনএলডি ৩৯৬ আসনে জিতেছে। আর সেনাসমর্থিত দি ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) মাত্র ৩৩টি আসন পেয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগমুহূর্তেই সেখানে সামরিক অভ্যুত্থান হলো। দেশটির শক্তিশালী কমান্ডার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাবাহিনীর সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইং এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

১৯৬২ সালের পর প্রায় অর্ধশতক সামরিক জান্তার শাসন দেখেছে দেশটি। যেখানে বার্মিজ জাতীয়তাবাদী ও থেরাভাডা বৌদ্ধদের মিলমিশের শাসনে দেশটির সংখ্যালঘুরা মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হয়। সেখানে অন্তত একশ জাতিগোষ্ঠী বাস করছে। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী সেখানে ১৬টি সশস্ত্র জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করে আসছে, যাদের অনেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর অন্যরা স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন কিংবা দেশটিতে ফেডারেল সরকার চায়। Continue reading

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে জো বাইডেনের এগিয়ে আসা উচিত

লেখক: ম্যাথু স্মিথ ও অ্যান্ড্রু রিলে

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা ও গণহত্যা পরিচালনা করার সময় বাংলাদেশে সাত লক্ষাধিক পুরুষ, নারী ও শিশু পালিয়ে আসে। যারা পেছনে রেখে আসে বুলেট, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ। সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে দেয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনেকের দীর্ঘ শারীরিক ক্ষত সারলেও এখনও মানসিক আতঙ্ক কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে তাদের জন্য কিছু করা উচিত।

বাংলাদেশে এখন দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বাস। তারা এক ধরনের আতঙ্ক, হতাশা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এসেছে। ফর্টিফাই রাইটসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা ৮৯ শতাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীই ভীষণ হতাশায় ভুগছে। ৬২ শতাংশ ভুগছে ট্রমা-পরবর্তী বিষণ্ণতায়। এই চরম হতাশা কোন দিকে মোড় নেবে?

মিয়ানমারে চলমান গণহত্যা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশবিশেষ। অপরাধ সংঘটিত করেও সেখানে দায়মুক্তির ব্যবস্থা রোহিঙ্গাদের মানসিক অবস্থার ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলছে। ট্রমা নিয়ে গবেষণা হয় সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে ফোকাস করে। তা হলো- কোনো দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, প্রিয় কোনো মানুষের মৃত্যু কিংবা কোনো সহিংস আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া। তবে এর মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে দীর্ঘমেয়াদে শরণার্থীদের ওপর পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে সৃষ্ট ট্রমার যথাযথ আলোচনা নেই।
Continue reading

দুর্যোগের পৃথিবী এবং আমাদের দায়

Secretary-General António Guterres holds a lecture at Columbia University entitled “State of the Planet”.

লেখক: আন্তেনিও গুতেরেস

আমরা একটি বিধ্বংসী মহামারি মোকাবিলা করছি। একটি সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের বিপরীতে আমরা দেখছি, বৈশ্বিক তাপমাত্রার নতুন উচ্চতা, বাস্তুসংস্থান অবক্ষয়ের নতুন মাত্রা ও বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের নতুন সংকট। এক কথায় বলতে গেলে, আমাদের এই পৃথিবীর এক ভঙ্গুর দশা।

মানুষ যেন প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে। এটি আত্মঘাতী। প্রকৃতি সবসময়ই তা ফিরিয়ে দেয়। আর তার প্রকাশ আমরা দেখছি আরও শক্ত ও রুদ্ররূপে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। দশ লাখ প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাস্তুতন্ত্র আমাদের চোখের সামনেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। মরুভূমি প্রসারিত হচ্ছে। জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবছর আমরা এক কোটি হেক্টর বন হারাচ্ছি। সমুদ্রগুলোতে মাছ নিঃশেষ হয়ে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হচ্ছে। এগুলো কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করছে বলে সমুদ্রকে বিষাক্ত করে ফেলছে। কোরাল দ্বীপগুলো মরে যাচ্ছে। প্রতিবছর বায়ু ও পানিদূষণে ৯০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে, যা বর্তমান মহামারির চেয়েও ছয়গুণ বেশি। মানুষ যেভাবে প্রাণীর আবাসন ধ্বংস করছে এবং বন্যপ্রাণীর বসবাসে হস্তক্ষেপ করছে, তাতে আমরা হয়তো আর এক ভাইরাসের অস্তিত্ব দেখতে পাব, যেটা প্রাণী থেকে মানুষের দেহে আসছে। ভুলে যাওয়া চলবে না, মানুষের সংক্রামক রোগের ৭৫ ভাগই প্রাণী থেকে আগত।

Continue reading

আমেরিকান সমাজে বিপজ্জনক বিভক্তি দেখা দিয়েছে : বারাক ওবামা

বারাক ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সদ্য সমাপ্ত মার্কিন নির্বাচনের পর প্রথম তিনি সিবিএস নিউজে এক সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন সাংবাদিক স্কট পেলি। দীর্ঘ এ সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ ভাষান্তর করেছেন মাহফুজুর রহমান মানিক

স্কট পেলি: এ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

বারাক ওবামা: দেখুন, প্রেসিডেন্ট হলেন জনসেবক। নিয়ম অনুযায়ী তাদের সময় সীমিত। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আপনি চলে যাবেন। আপনার ব্যক্তিগত ইগো, আগ্রহ কিংবা হতাশার বাইরে গিয়ে আপনাকে দেশের স্বার্থ আগে চিন্তা করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আমার পরামর্শ হলো- যদি আপনি মনে করেন, আপনার শেষ কর্ম দ্বারা মানুষ আপনাকে স্মরণ করুক, যে দেশকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়েছে, তাহলে আপনাকে সেটাই করতে হবে।

স্কট পেলি: তার মানে আপনি বলছেন, তাকে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে চলে যাওয়া উচিত?

বারাক ওবামা: হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি তো মনে করি, তাকে নির্বাচনের পরদিন কিংবা দু’দিনের মধ্যেই তার ফল মেনে নেওয়া উচিত ছিল। আপনি যদি নিরপেক্ষভাবে সংখ্যার বিচার করেন, দেখা যাচ্ছিল জো বাইডেন সহজেই জিতে যাচ্ছেন। যেসব রাজ্যে নির্বাচনের ফল বাকি ছিল, তাতে নির্বাচনের উল্টো ফল হওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। স্বীকার করার চেয়েও বড় বিষয়, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস পরবর্তী প্রশাসনের জন্য সাধারণ ফান্ড ও সুবিধাদি আরও কমিয়ে দিচ্ছে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন জাতীয় নিরাপত্তার গোপন সারসংক্ষেপ পাচ্ছেন না। অথচ ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তা পেতেন।

স্কট পেলি: এ অবস্থায় আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া, চীন কী ভাবছে বলে আপনার ধারণা।

বারাক ওবামা: দেখুন, আমি মনে করি, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা কেবল এই নির্বাচন-পরবর্তী অবস্থাই দেখছে না; বরং কয়েক বছর ধরেই আমাদের পর্যবেক্ষণ করছে। আমাদের রাজনীতিতে যে ফাটল ধরেছে, তারা হয়তো এর সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। একটা প্রবাদ আছে, পানির কিনারায় থাকতেই দলীয় রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। আর বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তো অবশ্যই। কারণ, এই আমেরিকা মানে যুক্তরাষ্ট্র, বিভক্ত রাষ্ট্র নয়। Continue reading

কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ

যদি কর্তৃত্ববাদের আচরণ একই হয়, সেখানে প্রতিবাদের ক্ষেত্রে অভিন্ন কারণও স্পষ্ট।

লেখক: অমর্ত্য সেন

দার্শনিক এমানুয়েল কান্ট যেমনটা বলেছেন, ‘যে কোনো বিষয়ে কারও মত প্রকাশ্যে তুলে ধরার স্বাধীনতার’ মতো গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কান্ট এটাও বলেছেন, সমাজই তর্কের সুযোগ প্রায়শ বন্ধ করে দেয়। কখনও কঠোরভাবেই বন্ধ করে। আজকের বিশ্বের একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রবণতা লক্ষণীয়। অপ্রিয় হলেও সত্য, এ তালিকায় আমার দেশ ভারতকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভারতও সেই দুর্ভাগ্যজনক দেশগুলোর অন্যতম।

ভারত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর কয়েক দশক ধরে ব্যক্তিস্বাধীনতাসহ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছিল। মানুষ তাদের স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়। তারা কঠোর ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার বিলোপ সাধন করে সেই স্বাধীনতার প্রতি তাদের সংকল্পও প্রদর্শন করে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের কথা বলা যায়। যে নির্বাচনে স্বৈরাচারী আইন যাকে ‘জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করা হয়, তাকে মানুষ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সরকার দ্রুতই তা মেনে নেয়।

যা হোক, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাধীনতা দৃশ্যত অনেকের ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তারই আলোকে বর্তমান সরকার সেখানে ভিন্ন ধরনের সমাজ গড়তে আগ্রাসী নজির হাজির করছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, যাকে বিস্ময়করভাবে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় উপাত্ত হাজির করে ও বিরোধী নেতাদের বন্দি করে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করছে সরকার। এ প্রক্রিয়ার ভেতরে স্বৈরাচারী মনোভাবের বাইরেও চিন্তার গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ সরকারের সঙ্গে দ্বিমত মানে রাষ্ট্রদ্রোহ কিংবা কাউকে উৎখাত নয় Continue reading

বাংলাদেশ যেভাবে মিয়ানমারকে চাপে ফেলতে পারে

মিয়ানমারকে অপরাধী রাষ্ট্র হিসেবে তার অপরাধের জন্য শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

মূল : মং জারনি

গত সপ্তাহে লন্ডনে একত্রিত হয়েছিলেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তথ্য-অনুসন্ধান মিশনের ক্রিস সিডটি, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দল। ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারা আলোচনা করেন। এটা এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত রোহিঙ্গাদের আদিবাস সম্পর্কে ‘মিথ্যাচারের’ জন্য দায়ী করেন। যদিও বাংলাদেশ-মিয়ানমার গত বছরের অক্টোবরে প্রত্যাবাসনের একটি চুক্তি করে, কিন্তু জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়নি। প্রত্যাবাসনের জন্য সম্ভাব্য ৮০০ গ্রামের মধ্যে মাত্র দুটি গ্রামের পরিবেশ ইতিবাচক বলে জানা যায়।

আর সমস্যাটা এখানেই। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এত বেশি রোহিঙ্গার উপস্থিতি সাধারণ কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশ সরকার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালামের মত, চাহিদার (রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বার্ষিক পরিকল্পনা ৯২০ মিলিয়ন ডলার) মাত্র ২২ শতাংশ মিটেছে। মিয়ানমারের গণহত্যা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় ও খাবারের বন্দোবস্ত করা বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদের দেশের জন্য বোঝাস্বরূপ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যাপ্ত সাহায্য ছাড়া কেবল ঢাকার এ শরণার্থীর বোঝা বহন করা অন্যায্য।

অধিকন্তু, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থাকরণ প্রকারান্তরে মিয়ানমারের গণহত্যাকেই স্বীকৃতি দেবে। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল নে উইনের সময়কালে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পিত প্রচার শুরু করা হয়। এর পর তারা মিয়ানমারে রাখাইনের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে নৃশংস ও সন্ত্রাসী প্রচারণায় অংশ নেয়। নে উইন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের পরবর্তী শাসনগুলোতে সামরিক কিংবা বেসামরিক উভয় আমলে সবাই একই পথে হাঁটে। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত নিপীড়নকে জায়েজ করার চেষ্টা করছে।
Continue reading