Monthly Archives: মে ২০২২

নজরুলকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি হয়নি বললেই চলে

সাক্ষাৎকার: ড. নাশিদ কামাল
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মাহফুজুর রহমান মানিক

নজরুলসংগীতশিল্পী অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুল অব বিজনেসের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের সংযুক্ত অধ্যাপক ছিলেন। ২০১০ সাল থেকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বায়োস্ট্যাটিসটিক বিভাগে অধ্যাপনার আগে তিনি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ১৯৯৬ সাল থেকে বিভাগীয় প্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৮৬ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে শিক্ষকতা করেন। তিনি কনসালট্যান্ট ও গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন ইউএনএফপি ও আইসিডিডিআর,বিতে। নজরুলসংগীতশিল্পী পরিষদের সহসভাপতি নাশিদ কামাল ১৯৯৬ সালে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পিএইচডি করেছেন। তিনি পরিসংখ্যানে কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তাঁর লিখিত ও অনুবাদ গ্রন্থসংখ্যা ১৭টি। ২০০৯ সালে নজরুল একাডেমি থেকে নজরুল পুরস্কার ও ২০১৪ সালে নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে নজরুল পদকসহ একাধিক পদক ও পুরস্কারপ্রাপ্ত নাশিদ কামালের জন্ম ১৯৫৮ সালে।

সমকাল: আপনি নজরুলসংগীত চর্চা করছেন। নজরুলগীতির অন্তত ছয়টি অ্যালবাম আপনার রয়েছে। প্রথম অ্যালবামের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
নাশিদ কামাল: প্রথম অ্যালবাম করার ক্ষেত্রে অনেকেরই নানা ধরনের অভিজ্ঞতা থাকে। আমাদের সময় প্রথম সিডি সাধারণত নিজের অর্থায়নেই করতে হতো। তবে আমি সৌভাগ্যবান, বেঙ্গল আমার প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করে। তার পারিশ্রমিকও আমি পেয়েছিলাম। তার চিত্রায়ণও হয়েছে। ‘আঁচল ভরা ফুল’ শিরোনামে ওই অ্যালবামের কাজ শুরু হয় ১৯৯৬/৯৭ সালের দিকে। রেকর্ডিংয়ের জন্য আমাদের তখন কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগেও আমি আমার ফুফু সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমানের সঙ্গে কলকাতায় যাই; সংগীতের রেকর্ডিং করি। আমার উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি ওঁদের খুব ভালো লাগে। তখন দেশ পত্রিকায় এ নিয়ে লেখাও হয়। সব মিলিয়ে প্রথম অ্যালবামের অভিজ্ঞতা সুখকরই বলা চলে।
সমকাল: গান রেকর্ডিংয়ের জন্য কলকাতায় কেন?
নাশিদ কামাল: ঢাকায় যে গানের রেকর্ডিং হতো না, তা নয়। তবে কলকাতায় যাওয়ার পেছনে আমি বাড়তি দুটি সুবিধার কথা বলব। Continue reading

জাদুঘরের ‘শক্তি’

জাদুঘর কোনো জাদু বা মায়াবিদ্যার ঘর নয়। তবে জাদুঘরে যে এক ধরনের মায়া আছে, তা অনস্বীকার্য। সেখানে গেলে আমরা প্রাচীন নিদর্শনাবলি দেখতে পাই। অনেক বস্তু আমরা এক ধরনের আশ্চর্য নিয়ে দেখি। শত বছর আগে যে মুদ্রা অমূল্য ছিল, আজ তা প্রদর্শনীর বস্তু। আবার আজ আমাদের কাছে যেটি দামি, ১০০ বছর পর হয়তো তার স্থান এমন জাদুঘরে হবে। জাদুঘরের এই সত্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মায়া; রয়েছে বিস্ময়। বলা বাহুল্য, জাদুঘরের ক্ষমতাও সেখানেই। এ বছর আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের প্রতিপাদ্যও সেই ক্ষমতার কথা বলছে- ‘দ্য পাওয়ার অব মিউজিয়ামস’।
জাদুঘর আমাদের অতীত সম্পর্কে জানান দিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার নির্দেশনা প্রদান করে। আইকম বা ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামের ওয়েবসাইটে দিবসটির প্রতিপাদ্য বিশ্নেষণে তিনটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। টেকসই বা স্থিতিশীলতা অর্জনে ভূমিকা, উদ্ভাবনের ভূমিকা এবং শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ গঠনে ভূমিকা। এসবের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে জাদুঘর যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা অনন্য। আমরা জানি, জাদুঘর আমাদের ইতিহাস বহন করে আছে। জাদুঘরে গেলেই আমরা ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন চাক্ষুষ দেখতে পাই। আমাদের পূর্বপুরুষরা কী ব্যবহার করতেন, তাদের নির্মিত বস্তু, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ স্মরণীয় ব্যক্তিদের সংগ্রহশালাও জাদুঘরে থাকে। জাদুঘর যেমন ব্যক্তির উদ্যোগে তৈরি হতে পারে, তেমনি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠছে। কেবল গড়ে ওঠাই নয়, বরং তা প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার মধ্যেই জাদুঘরের সার্থকতা। Continue reading

শ্রীলঙ্কার ‘নতুন’ প্রধানমন্ত্রীর পুরোনো চ্যালেঞ্জ

প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবিতে এক মাস ধরে আন্দোলন চলছে শ্রীলঙ্কায়

মূল লেখক: মারিও আরুলথাস

ভাষান্তর: মাহফুজুর রহমান মানিক

শ্রীলঙ্কায় ২০১৯ সালের বোমা হামলার পর গত সপ্তাহের গণবিক্ষোভে বিস্ম্ফোরণ ছিল সবচেয়ে বড় ঘটনা। প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবিতে গত এক মাস ধরে কলম্বোতে যে আন্দোলন চলছিল; সেখানে সরকার সমর্থকরা হামলা চালায়। আন্দোলনকারীরা পাল্টা প্রতিশোধ নেয়। ওই সময় সহিংসতায় নিহত হয় ৮ জন। সরকারি দলের শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অতঃপর প্রেসিডেন্টের ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন এবং পালিয়ে রক্ষা পান।

এখন মাহিন্দা রাজাপাকসের জায়গায় নতুন মুখ এসেছে। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে। এর আগে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী হলেও কোনোবারই তিনি মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। বলার অপেক্ষা রাখে না, দশকের পর দশক ধরে চলা শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং জনতুষ্টিমূলক সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের জের ধরেই মাহিন্দা রাজাপাকসের অবিশ্বাস্য পতন হয়।
মাত্র দুই বছর আগে শ্রীলঙ্কার জাতীয় নির্বাচনে সেখানকার বিখ্যাত রাজাপাকসে পরিবারের ভূমিধস জয় হয়। তারা দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পায়। রাজাপাকসেরা ক্ষমতায় আসীন হন। ২০১৯ সালে গোটাবায়া তাৎপর্যপূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এভাবে শ্রীলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাজাপাকসে পরিবারের ক্ষমতা ও আধিপত্য নিশ্চিত হয়। প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া, প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা ছাড়াও রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রাণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। বর্তমান পার্লামেন্টে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) একমাত্র প্রতিনিধি রনিল বিক্রমাসিংহে। যদিও তাঁর দল রাজনীতিতে এক সময় বেশ শক্তিশালী ছিল। কিন্তু গত নির্বাচনে ইউএনপি দলের ভরাডুবি হয়। Continue reading

সৈন্যবিশেষ নয়, ইসরায়েল রাষ্ট্রই শিরিনের ঘাতক

আলজাজিরার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ

মূল লেখক: মারওয়ান বিশারা 

ভাষান্তর: মাহফুজুর রহমান মানিক

শিরিনকে অতীতের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে লেখার জন্য আমি প্রস্তুত নই। আজকে তো নয়ই, সম্ভবত কখনোই লিখতে পারব না। আলজাজিরার সংবাদিক শিরিন কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের নির্মমতার খবর সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। যে উন্মত্ততা তুলে ধরার কাজে তিনি সারাজীবন কাটিয়ে দেন, অবশেষে তিনি নিজেই রক্তাক্ত এই উন্মত্ততার শিকার হন। আরব বিশ্বে আবু আকলেহ একটি পারিবারিক নাম। শিরিন হয়তো শারীরিকভাবে অনেক দূরে; কিন্তু তার উপস্থিতি রয়েছে মরক্কোর রাবাত থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ পর্যন্ত অগণিত গৃহে।
শিরিন ছিলেন এক অভিজ্ঞ সাংবাদিক। ফিলিস্তিন থেকে ধ্বনিত তার সাহসী কণ্ঠ সারাবিশ্বে প্রতিধ্বনিত হতো। মৌসুমি প্রতিবেদকরা সেখানে স্বল্প সময়ের জন্য ছিলেন; আবার চলে গেছেন। কিন্তু শিরিন সেখানে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ছিলেন। তিনি তার মাতৃভূমি দখলদারদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং কণ্ঠহীন ফিলিস্তিনির কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে গেছেন। Continue reading

মোটরসাইকেল ‘বীরত্ব’ নয়, আহাজারি

মোটরসাইকেল সংক্রান্ত সাম্প্রতিক খবরগুলো যতটা না ঘটনা, তার চেয়ে বেশি দুর্ঘটনা। সড়কে প্রায় প্রতিদিনই এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। মাস শেষের হিসাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবরই প্রধান হয়ে উঠছে। ৮ মে সমকালের শেষ পাতায় প্রকাশ, এপ্রিলের দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নিহত শিক্ষার্থী। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর পেছনের কারণটি মোটরসাইকেল। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে এপ্রিলে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৪৩ জন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২০৬ জন। এমনকি গত মাসের মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল সংক্রান্ত।
মোটরসাইকেল বর্তমান সময়ে তরুণদের বিশেষ আকর্ষণের জায়গা। কিশোররা বন্ধুদের সামনে নিজেকে হিরো হিসেবে জাহির করতে মোটরসাইকেল কিনতে চায়। অভিভাবকরাও অনেক সময় তাদের আবদার মেটাতে মোটরসাইকেল কিনে দেন কিংবা মোটরসাইকেলের চাবি তাদের হাতে দেন। তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ যেভাবে বেপরোয়া হয়ে দুই চাকার এ যানটি পেতে চায় এবং এটি চালাতে গিয়ে ‘বীরত্ব’ প্রদর্শন করে, তার করুণ পরিণতি আমরা দেখছি। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০২০ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৭৯ শতাংশেরই বয়স ছিল ২১ বছরের কম। ১৭ শতাংশের বয়স ৩০-এর কম। বাকি ৪ শতাংশ ৩০-এর বেশি বয়সী। এ পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে বয়সসীমার সম্পর্ক কতটা। Continue reading

ইলন মাস্কের ‘টুইটার চ্যালেঞ্জ’

মূল লেখক: জেনিফার রুবিন

ভাষান্তর: মাহফুজুর রহমান মানিক

টুইটার সোমবার (২৫ এপ্রিল ২০২২) ঘোষণা করেছে- এর পরিচালনা পর্ষদ ইলন মাস্কের ৪৪ বিলিয়ন ডলারের অফার গ্রহণ করেছে। তার মানে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে প্ল্যাটফর্মটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশেষভাবে তার রাজনীতিকে হারাতে ভূমিকা পালন করেছে; সেই টুইটার ব্যাপক জল্পনাকল্পনার জন্ম দিয়ে ইলন মাস্কের মালিকানায় যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে ব্যথা তার ঘাড়ে নিয়েছেন, সে জন্য তিনি কতটা প্রস্তুত। ইলন মাস্ক টুইটার নিয়ে তার ভিশন ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘স্বাধীন মত হলো একটি কার্যকর গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান। টুইটার হলো সেই ডিজিটাল ক্ষেত্র; ভবিষ্যৎ মানবতার প্রশ্নে যে বিতর্ক চলমান সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।’ তিনি বলেন, ‘আমি টুইটারকে আরও ভালো অবস্থানে নিতে চাই। নতুন ফিচার যুক্ত করা, আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে এর অ্যালগরিদম উন্মুক্ত (ওপেন সোর্স) করা, স্প্যাম প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সেই সঙ্গে সব ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিতের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে সে লক্ষ্য অর্জিত হবে। টুইটারের সক্ষমতা অবিশ্বাস্য এই সম্ভাবনাকে উন্মোচন করতে কোম্পানি এবং টুইটার কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’ বাস্তবে কী ঘটে তা আমরা দেখব।
বলাবাহুল্য, প্রাইভেট কোম্পানিটির মালিকানা ইলন মাস্ক নেওয়ার মাধ্যমে টুইটারের বহুমুখী সমাস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। তথ্যমতে, মাস্ক ১৫ বছরের পুরোনো কোম্পানিকে নতুন করে দাঁড় করাতে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। কয়েক বছর ধরে টুইটার ব্যবহারকারীর প্রবৃদ্ধি স্থির হয়ে আছে। তার অসম আয়ও স্পষ্ট। বিজ্ঞাপন শিল্পের কর্মকর্তারা সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, মাস্ক যদি কনটেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেন, ভুয়া তথ্য গ্রহণ করেন এবং বিষাক্ত উপাদান বিকাশের সুযোগ দেন তবে বিজ্ঞাপনদাতারা টুইটার ছেড়ে ভাগবেন। মাস্ক নিজেও হয়তো এ ব্যাপারে টুইটারের প্রায় সাড়ে সাত হাজার কর্মীর বাধার মুখে পড়তে পারেন। ওইসব কর্মীর অনেকেই মাস্কের স্বাধীন মতপ্রকাশের রাজনীতির ‘ব্র্যান্ড’ পছন্দ করেন না। Continue reading

ঈদযাত্রা কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি প্রয়োজন

সাক্ষাৎকার: ড. মো. সামছুল হক

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মাহফুজুর রহমান মানিক

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. সামছুল হক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক। ঢাকার মেট্রোরেল, হাতিরঝিল প্রকল্পসহ উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক এবং কুড়িল ইন্টারচেঞ্জের পরিকল্পনাকারীও তিনি। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে বিএসসি ও এমএসসি অর্জনকারী সামছুল হক পিএইচডি করেছেন ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটন থেকে।

সমকাল: ঈদে বাড়িফেরা আমাদের নিয়মিত অনুষঙ্গ হলেও ঈদযাত্রায় আমরা প্রতি বছরই বিশৃঙ্খলা দেখছি। এখানে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়?

মো. সামছুল হক: ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা ফেরানো অসম্ভব নয়। কিন্তু আমরা সে পথে হাঁটছি না। সংকট মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অগ্রসর না হয়ে আমরা কেবল গায়ের শক্তি দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি। এ সময় অধিকসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামিয়ে দিলেই তো সমাধান হবে না। এ জন্য সারা বছর কাজ করতে হবে। নানা কারণে আমাদের সড়কগুলো সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারছে না। সেখানে কোথাও সড়কের পাশে বাজার আবার কোথাও অকারণে ভবন উঠাচ্ছি। সড়ক ঠিক না হলে তো ঈদযাত্রাও নির্বিঘ্ন হবে না।

সমকাল: ঈদযাত্রায় অসহনীয় যানজট আমরা দেখি। বিশেষ করে রাজধানী ছাড়তেই দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

সামছুল হক: রাজধানীতে সারা বছরই যানজট থাকে। ঈদের সময় এ সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। বিশেষত ঢাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে আমরা দেখি মোড়গুলোতে প্রচণ্ড চাপ থাকে। সানারপাড়, মৌচাক- এসব মোড়ে কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা যায়। এর সমাধান হিসেবে আমরা কেবল ওই মোড়গুলো মোটাতাজাকরণেই ব্যস্ত থাকি। কিন্তু যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নিচ্ছি না। আমরা কুড়িল মোড়ের মতো ব্যবস্থা নিতে পারি, যাতে সব গাড়ি তার নিজ নিজ গন্তব্যে যানজট ছাড়াই সহজে যেতে পারে। এদিকে ঢাকার উত্তরা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে চলছে নির্মাণকাজ। সেখানে সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। Continue reading

বইয়ের আবেদন ও নিবেদন

বই পড়ার গুরুত্ব এবং না পড়ার কুফল নিয়ে আলোচনা কিংবা সমালোচনা কম হয়নি। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে এ আলোচনা বেশি দেখা যায়। একুশের মাসব্যাপী গ্রন্থমেলার কারণেই বলা চলে আমাদের বইয়ের আয়োজন অনেকটা ফেব্রুয়ারির মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রকাশকরা এ সময়েই অধিকাংশ প্রকাশ করেন। পাঠকও এ সময়ে নতুন বই খোঁজেন। সেদিক থেকে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ঘোষিত ২৩ এপ্রিলের ওয়ার্ল্ড বুক অ্যান্ড কপিরাইট ডে তথা বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবসটির ভিন্ন মাত্রা এখানেই, অন্তত ফেব্রুয়ারির বাইরের একটি দিনে বইয়ের আলোচনা হচ্ছে।

বইয়ের আলোচনা বহুমাত্রিক। ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে দিবসটির পেজ খুললেই একটা খোলা বইয়ের ছবি সামনে পড়বে, যার ওপর লেখা- রিড … আনটিল নো স্ট্রেঞ্জারস রিমেইন। অর্থাৎ যতক্ষণ অজানা বা অচেনা বিষয় থাকবে ততক্ষণ পড়ুন। মানুষের জ্ঞান সীমিত; যে বিষয়ই আসুক, মনে হয় কত অজানা রে। কেউ সারা জীবন দিনের অধিকাংশ সময় পড়ায় ব্যয় করলেও কি অজানা সব জানা হয়ে যাবে? বলা বাহুল্য, দিবসটির পেজে ইউনেস্কো আরও লিখেছে, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন পড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ! কারণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা জানতে এবং বৈষম্য ও গুজবের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পড়া জরুরি; বই এখানে অন্যতম অস্ত্র। বিশ্বব্যাপী শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে বই।

Continue reading