Monthly Archives: মার্চ ২০২২

সিনেমা নয়, সত্যি

বিয়ে-সংসার নিয়ে মানুষের যে স্বপ্ন থাকে; ফাহমিদা কামালেরও নিশ্চয় ব্যতিক্রম ছিল না। তার বিয়েও হয়েছে। তবে তা স্বাভাবিক পরিবেশে নয়। মেয়েটিও স্বাভাবিক ছিল না। অসুস্থতার মধ্যেই তার বিয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়। নাকে অক্সিজেনের নল, পরনে বিয়ের লাল বেনারসি, পাশে বর- এমন ছবি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। স্বাভাবিকভাবেই সবাই নবদম্পতিকে অভিনন্দন জানান এবং ফাহমিদার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। বলা বাহুল্য, ফাহমিদা মনের জোরে বিয়ের পরদিন বাসায়ও ফিরেছিলেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতির ফলে পরদিনই তাকে ফিরতে হয় হাসপাতালে। অবশেষে বিয়ের ১২তম দিনে ২১ মার্চ মেয়েটি চিরদিনের জন্য চলে যায়।

ফাহমিদার মৃত্যুর খবর নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাপিয়ে মূলধারায়ও খবরটি প্রকাশ পায়। এভাবে মানুষের চোখে জল আনা ফাহমিদার গল্পটা অসমাপ্তই থেকে গেল। মেয়েটি চলে গেলেও তার আলোচনা থেমে থাকেনি। বস্তুত তার জীবনে যা ঘটেছে, এমনটি আমরা সিনেমার পর্দায় দেখতে অভ্যস্ত। ফাহমিদার ঘটনা যেন সিনেমাকেও ছাড়িয়ে গেছে!

ফাহমিদার শরীরে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছিল। তার বয়স ৩০ না পেরোলেও ব্যাধি তাকে ভালোভাবেই কাবু করে ফেলেছিল। তার পরও পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। দেশের চিকিৎসার পাশাপাশি ভারতেও নেওয়া হয়েছিল ফাহমিদাকে। তার পরও মেয়েটিকে রাখা যায়নি। Continue reading

রোহিঙ্গা গণহত্যার মার্কিন স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার

মূল লেখক : ওয়াই ওয়াই নু
ভাষান্তর: মাহফুজুর রহমান মানিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা বলে সোমবার দাপ্তরিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ স্বীকৃতি আমার এবং আরও অনেক রোহিঙ্গার জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবস্থায় কাটিয়েছি, যখন অনুভব করছিলাম, বিশ্ব থেকে যেন আমরা পরিত্যক্ত। বছরের পর বছর আমরা সাহায্যের আবেদন জানিয়েছি, কিন্তু এ আহ্বানে সাড়া পাইনি। আমরা যে সহিংসতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে; এর পরও বিশ্বের আচরণে আমরা ভাবছিলাম, বিশ্ব সম্প্রদায় বুঝি আমাদের অগ্রাহ্যের নীতিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। ভয়ংকর সেসব ঘটনা স্মরণ আমাদের ফের ‘ট্রমা’য় ফেলছে। যখন বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের মানুষদের হত্যা করা হয়েছে, তখন অন্যরা কীভাবে তা অগ্রাহ্য করে থাকতে পারে? যখন হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে জোর করে আমাদের দেশ মিয়ানমার থেকে বের করে, তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারল! Continue reading

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের উভয় সংকট

মূল লেখক : শশী থারুর 
ভাষান্তর: মাহফুজুর রহমান মানিক

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে ভারতের কৌশলগত দুর্বলতাসহ আরও কিছু বিষয় সামনে এসেছে। বিশ্বে দেশটির অবস্থান, তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্কের বিচক্ষণতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন উঠছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর প্রতিবাদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ডাকা জরুরি অধিবেশনে নিন্দা প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল ভারত। প্রাথমিকভাবে ভোটের বিষয়ে ব্যাখ্যায় ভারত রাশিয়ার নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করেনি কিংবা এই আক্রমণে অনুতাপ বোধ করেনি। এমনকি ইউক্রেনের দুটি অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের স্বাধীনতায় রাশিয়ার স্বীকৃতির বিষয়েও ভারত কোনো টুঁ শব্দ করেনি।
যদিও আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইউক্রেনের এই সংকটের সমাধান করার আহ্বানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই চর্চা করেছেন। এ যুদ্ধে যখন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, এমনকি ভারতের একজন শিক্ষার্থী রাশিয়ার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন এবং খারকিভে খাদ্য সংকটের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, সে সময়ও মোদি সরকারের কোনো ধরনের সমালোচনা, নিন্দা ছাড়া কেবল শান্তির আলোচনা বেহুদা বৈকি।
ভারতের এই সংযমের গূঢ়ার্থ অনুধাবন করা কঠিন নয়। ভারতের অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের অর্ধেকই জোগান দেয় রাশিয়া। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক চুক্তি তার চেয়েও বেশি। সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকেই ক্রেমলিনের সঙ্গে ভারতের Continue reading

বই- রোহিঙ্গা সংকট : তৃতীয় নয়ন

রোহিঙ্গা সংকট : তৃতীয় নয়ন। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ

রোহিঙ্গা সংকট : তৃতীয় নয়ন
অনুবাদ- মাহফুজুর রহমান মানিক
প্রকাশনী- ঐতিহ্য
প্রচ্ছদ- ধ্রুব এষ
প্রথম প্রকাশ : মার্চ ২০২২
মলাট মূল্য- ১৬০ টাকা

রােহিঙ্গা সংকট : তৃতীয় নয়ন একটি অনুবাদ গ্রন্থ। এটি মাহফুজুর রহমান মানিকের প্রথম একক গ্রন্থ। বইটিতে স্থান পেয়েছে ১৬ টি লেখা। যা বিদেশী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়। যাদের অধিকাংশই লেখক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক। একটি লেখা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার; প্রকাশ হয়ে কম্বোডিয়ার খেমার টাইমসে।
প্রকাশিত লেখাগুলোর মাধ্যমে যেমন রোহিঙ্গা সংকটের ঘটনা প্রবাহ জানা যাবে, তেমনি বাংলাদেশ কীভাবে এগিয়ে এসেছে তার স্বরূপ বোঝা যাবে। যেমন কয়েকটি লেখার শিরোনাম, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান রোহিঙ্গাদের জন্য দুঃসংবাদ, রোহিঙ্গাদের সমর্থনে জো বাইডেনের এগিয়ে আসা উচিত, বাংলাদেশ যেভাবে মিয়ানমারকে চাপে ফেলতে পারে, রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করুন,
রোহিঙ্গা সংকট: বিশ্বের লজ্জাজনক নীরবতা ইত্যাদি।

বইটির ভূমিকা লিখেছেন সমকালে সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মোজাম্মেল হোসেন (মঞ্জু)। বইটি বোঝার জন্য ভূমিকাটি গুরুত্বপূর্ণ। যার উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে পত্রস্থ হলো। Continue reading