Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি ২০২২

ভাষার গৌরব বনাম নিরক্ষরতার লজ্জা

নিরক্ষরতা মানুষের জীবনের প্রাত্যহিক জরুরি প্রয়োজন মেটানোর পথে বাধা হলেও সাক্ষরতা কার্যক্রম প্রকল্প ও দিবসে বন্দি হয়ে পড়েছে।

বিষয়টির চিন্তা আরও উস্কে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমানের সাম্প্রতিক এক ‘ফেসবুক স্ট্যাটাস’। আমার এ শিক্ষক যথার্থই লিখেছেন, ‘বিস্ময়কর ও বেদনাদায়ক হলেও সত্য, যে জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সৃষ্টি করেছে, সে জাতির কোটি কোটি মানুষ পড়তে ও লিখতে পারে না!’ এটা লজ্জারই বিষয়, যে বাংলা ভাষা আমাদের এত আবেগ-অনুভূতির জায়গা; দেশের অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষ সে বাংলার আবেদন অনুধাবন করতে পারছে না। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের ভাষিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মাধ্যম- পড়া ও লেখার ক্ষেত্রে তারা বাংলা ব্যবহার করতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিষয়টি নিয়ে সব পর্যায়ে যে ধরনের সক্রিয়তার প্রয়োজন ছিল, তাও নেই। বাস্তবতা হলো, নিরক্ষরতা মানুষের জীবনের প্রাত্যহিক জরুরি প্রয়োজন মেটানোর পথে বাধা হলেও সাক্ষরতা কার্যক্রম প্রকল্প ও দিবসে বন্দি হয়ে পড়েছে।
ভাষার মাসে সাক্ষরতার আলোচনা বইমেলার কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর বইমেলায় বাংলা ভাষায় যে হাজার হাজার বই প্রকাশ হয়; নিরক্ষর মানুষ সে বইয়ের অক্ষরগুলোর কাছে যেন অসহায়। বাংলার জ্ঞানভান্ডারের এত রস থেকে তারা বঞ্চিত। লেখকদের চিন্তার প্রতিফলন যে বইয়ের মাধ্যমে ঘটে; যে বইগুলো জাতিকে পথ প্রদর্শন করে; যে বই আলোর ইশারা দেয়- যারা পড়তে পারে না, সেগুলো তাদের জন্য যেন অন্ধকার। জাতি হিসেবে এ ব্যর্থতা আমাদেরই। দেশের অধিকাংশ নাগরিক যেখানে সাক্ষর; সেখানে একটি অংশ এতদিন ধরে আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদেরই সদিচ্ছা এবং উদ্যোগের অভাবে! প্রতিদিন যে এত আয়োজন নিয়ে সংবাদপত্র প্রকাশ হয়; সাপ্তাহিক, মাসিক, ষাণ্মাসিক তথা মেয়াদভিত্তিক যে সাময়িকী প্রকাশ হয়; যারা পড়তে জানে না- এগুলো তাদের জন্য নিরর্থক কাগজ। এমনকি ফেসবুক বা মুখবইও তাদের পড়ার সুযোগ কই! বাস্তব জগতের বাইরে ভার্চুয়াল জগৎ যে মানুষের আরেকটি বিশাল জগৎ হয়ে পড়েছে; সেখানেও সবাই নিজ নিজ ভাব প্রকাশ করছে; নিরক্ষরতা তাদের সেখানে প্রবেশের পথেও সবচেয়ে বড় বাধা।
দেশে ঠিক কত কোটি মানুষ এখনও সাক্ষর নয়- তার হিসাব পেতেও আমাদের সাক্ষরতা দিবসের দিকে তাকাতে হয়। কারণ প্রশাসনের তরফ থেকে বলা চলে, ওই একটি দিনেই এ তথ্য জানানো হয়। গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে আমরা দেখেছি, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সে হিসাবে এখনও দেশে অন্তত ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর। Continue reading

প্রযুক্তির মেলবন্ধন না ঘটলে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ শঙ্কায়

সাক্ষাৎকার: জাকারিয়া স্বপন

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মাহফুজুর রহমান মানিক

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন বাংলাদেশের প্রথম অনলাইনভিত্তিক অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আইপে সিস্টেমস লিমিটেড’ ও বাংলা ভাষার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট প্রিয় ডটকমের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক জাকারিয়া স্বপনের জন্ম ময়মনসিংহে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মাহফুজুর রহমান মানিক।

সমকাল: ‘মাতৃভাষা বাংলার সর্বস্তরে প্রচলন’- এর সঙ্গে ইন্টারনেটে বাংলার বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

জাকারিয়া স্বপন: আমরা তো সবাই প্রত্যাশা করি, সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন হোক। এই প্রত্যাশার আলোকে ইন্টারনেটে বাংলা প্রচলনের বিষয়টিও দেখার অবকাশ রয়েছে। ইন্টারনেটের ফলে বাংলা ভাষার ব্যবহার বেড়েছে। মানুষে মানুষে বেশি যোগাযোগ হচ্ছে। আর যোগাযোগের মূল মাধ্যম যেহেতু মাতৃভাষা, তাই এর ব্যবহারও বেড়েছে। ভাষা সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত নানাভাবে ভাষার রূপান্তর ঘটেছে। বর্তমানে ভাষা ব্যবহারের অন্যতম মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। যেমন হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে আগে ইংরেজিতে কথোপকথন হতো। এখন সেখানে বাংলায় হচ্ছে।

সমকাল: তার মানে, ভাষা হিসেবে বাংলাকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিরও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

জাকারিয়া স্বপন: ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তি এখন আমাদের জীবনের অংশ। সুতরাং ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রশ্নে প্রযুক্তির ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। Continue reading

কর্ণাটকে হিজাব বিতর্কের রাজনৈতিক সমীকরণ

মূল লেখক : অরুণ দেব
ভাষান্তর: মাহফুজুর রহমান মানিক

ভারতের কর্ণাটকে অন্তত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের হিজাব পরিধানে ‘বাধা’ দেওয়ার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে, যাকে ক্লাস করতে দেওয়া হয়নি। ভারতের সংবিধানের ১৪ থেকে ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিক হিসেবে ধর্মীয় অধিকার দেওয়া আছে। মুসলিম মেয়েরা মাথায় যে স্কার্ফ বা হিজাব পরিধান করে থাকে, সংশ্নিষ্ট অনুচ্ছেদে তার অনুমোদনও সেখানে মিলছে।

হিজাব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি এবং এ ক্ষেত্রে কর্ণাটকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার পেছনে রাজনীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আগামী বছর কর্ণাটকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথম ঘটনা হিসেবে ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর কর্ণাটকের উদুপি জেলায় সরকারি পিইউ কলেজে হিজাবে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এভাবে একে একে মোট পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরিহিত শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তিনটি সরকারি আর দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভয়াবহ উপস্থিতি আমরা দেখছি। হিজাবের বিষয়টি সামনে রেখে সেখানে ভোটব্যাংক গড়ার অপচেষ্টা চলছে। কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং ভারতের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া; সব সংগঠন এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করছে। এর মধ্যে শুক্রবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোমাই সেখানকার শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেস ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। Continue reading