Monthly Archives: ডিসেম্বর ২০২১

রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ’

সাক্ষাৎকার: আলী মো. আবু নাঈম

শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষের অন্যতম সম্পাদক ও সংকলক আলী মো. আবু নাঈম। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি পাঠাগারের সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত। বর্তমানে তিনি পাঠাগারটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবু নাঈম কাজ করেছেন সেন্টার ফর এশিয়ান আর্টস অ্যান্ড কালচারে। দীর্ঘ সময় তিনি বাসদের মুখপত্র ‘ভ্যানগার্ড’ প্রকাশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সরকারি বাংলা কলেজ ও ঢাকা কলেজে পড়াকালে বামপন্থি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

সমকাল: কোন প্রেরণা থেকে আপনি ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ’ রচনার কাজে হাত দেন?

আলী মো. আবু নাঈম: আমি যখন সরকারি বাংলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করি তখন শহীদজায়া জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনে যুক্ত হই। এরপর ২০১৩ সালের গণজাগরণসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রায় সব আন্দোলনে আমরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। মূলত সে চেতনা থেকেই দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী সব শহীদের প্রতি আমার এক ধরনের ভালোবাসা রয়েছে। বিশেষ করে ওই সময় যেসব বুদ্ধিজীবী শহীদ হন, তাদের অবদান বর্তমান প্রজন্ম যাতে মনে রাখে, সেটা সবসময়ই অনুভব করেছি।

সমকাল: কখন আপনারা এ কোষ রচনার কাজ শুরু করেন।

আবু নাঈম: ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি পাঠাগার’ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন ও চেতনা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের ৩ মার্চ এ পাঠাগারের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আমরা একটি প্রামাণ্য বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী আমরা পাঠাগারের টিম এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করি ২০১৭ সালের শেষ দিকে এবং ২০১৯-এর একুশের বইমেলার আগেই আমরা পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করতে সক্ষম হই।

সমকাল: বিভিন্ন উৎস থেকে আমরা সহস্রাধিক শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা দেখেছি। শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষে আপনারা ৩২৯ জনের কথা লিখেছেন।

আবু নাঈম: আপনি ঠিকই বলেছেন, ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন দেশের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ’ পুস্তিকায় ১০৭০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর কথা বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে ১২ শতাধিক শহীদ বুদ্ধিজীবীর বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তবে ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত বাংলা একাডেমির ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থে’ ২০১ জনের পরিচিতি প্রকাশ হয়। ৩২৯ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর জীবনবৃত্তান্ত, মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান ও শহীদ হওয়ার ঘটনা এ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। এ সংখ্যাটি আমরা নিজেরা ঠিক করিনি, বরং ৩২৯ জনের তথ্যই আমরা পেয়েছি। সেই আলোকেই গ্রন্থটি রচিত হয়েছে।
Continue reading

সু চির সাজা :মিয়ানমারের গণতন্ত্রের কফিনে আরেক পেরেক

সু চির বিরুদ্ধে এ রায়ের প্রতিবাদে মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান শহর মান্দালয় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে।

মূল : গ্র্যান্ট পেক

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সে দেশের জান্তার আদালতে প্রথমে চার বছর, পরে বিশ্বের নিন্দায় দুই বছরের সাজা দেওয়ার ঘটনাটি দেশটির গণতন্ত্রের ওপর বছরের দ্বিতীয় আঘাত। প্রথম আঘাতটি এসেছিল এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনীর ক্যুতে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে। সু চির বিরুদ্ধে দুই মামলায় করোনা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভঙ্গ এবং অভ্যুত্থানকারী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সু চিকে কেবল এবারের সামরিক অভ্যুত্থান থেকেই নয়, বরং এর আগেও ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গৃহবন্দি করে রাখে। পরে সু চি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গণতন্ত্রের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হন।

জান্তার আমলে ৭৬ বছর বয়সী সু চির এটি প্রথম সাজা। গত বছরের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে সামরিক জান্তা মিয়ানমারে ক্ষমতা দখল করে। সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি-এনএলডি ওই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় লাভ করে। যদিও নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ওই নির্বাচনে বড় কোনো অনিয়ম পাননি।

সু চির বিরুদ্ধে এ রায়ের প্রতিবাদে মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান শহর মান্দালয় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। ১৯৮৮ সালে গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলনের মতো সেখানেও বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও গান গেয়ে প্রতিবাদ জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববাসীও এ রায়কে প্রহসন বলে নিন্দা জানিয়েছে।

সু চির বিরুদ্ধে মামলাগুলো বস্তুত পরিকল্পিতভাবে তার ইমেজ হরণের জন্য যেমন করা হয়েছে, তেমনি এর সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচনেরও সম্পর্ক রয়েছে। বলা বাহুল্য, রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গসহ তার বিরুদ্ধে আরও ৯টি মামলা করেছে সামরিক জান্তা। এসব মামলায় সু চি দোষী সাব্যস্ত হলে তার ১০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে। সামরিক বাহিনী তাকে গোপন স্থানে নিয়ে গেছে এবং রাষ্ট্রীয় টিভির খবর অনুসারে, সেখানেই তার সাজা দেওয়া হতে পারে।
Continue reading

করোনায় ঝরে পড়ার পূর্ণাঙ্গ চিত্র কোথায়

করোনায় দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে তিন মাস হতে চলেছে। এ সময়ের মধ্যে করোনার ধকল সামলে শিক্ষা কার্যক্রম কতটা সচল হলো, শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম কেমন হচ্ছে, কত শিক্ষার্থী এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসেনি- এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক কোনো চিত্র সংবাদমাধ্যমে আসেনি। যদিও গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে এবং পরে প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, করোনায় ঝরে পড়াদের তালিকা করা হবে। সেই তালিকার সবশেষ অবস্থা কী, তাও আমরা জানি না।

শিক্ষা প্রশাসন না জানালেও কত শিক্ষার্থী এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসেনি, অর্থাৎ ঝরে পড়েছে তাদের হিসাব নানাভাবে আসছে। বেসরকারি গবেষণা তো বটেই এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সুবাদে দাপ্তরিক হিসাবও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ২৬ নভেম্বর সমকালে প্রকাশিত ‘বইপত্র ছেড়ে ওরা কোথায়’ শিরোনামের প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি, এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় আটাত্তর হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ১৪ থেকে ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া ওই পরীক্ষা শুরুর আগেই ফরম পূরণের হিসাবে দেখা গেছে, ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এর সঙ্গে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর হিসাব ধরলে মাধ্যমিক পর্যায়ে যে একটি বড় অংশ ঝরে গেছে, তা স্পষ্ট। একইভাবে ২ ডিসেম্বর শুরু হওয়া উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায়ও ফরম পূরণের হিসাবে ইতোমধ্যে ১১ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষায় সাড়ে ১৫ হাজার অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষাটি শেষ হওয়ার পর আমরা এখানেও পূর্ণাঙ্গ ঝরে পড়ার হিসাবটিও নিশ্চয়ই দেখব। Continue reading