Monthly Archives: নভেম্বর ২০২১

ভারতে আত্মম্ভরিতার পরাজয়, কৃষকের বিজয়

মূল: আর রামকুমার

ভারত সরকারের তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সেখানকার কৃষকদের আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক বিজয়। এক বছরেরও অধিক সময় ধরে হাজার হাজার কৃষক দিল্লি অবরোধ করে রাখেন। তাদের অবরোধ স্বদেশি আন্দোলনে পরিণত হয়। দেরি হলেও সরকার গত শুক্রবার একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের মাধ্যমে কৃষকদের আন্দোলনের অবসান হয়েছে। উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের নির্বাচনের আগমুহূর্তে এসে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারী কৃষকদের কাছে সরকার নতিস্বীকার করেছে। যদিও আন্দোলকারীদের সন্ত্রাসী কিংবা খালিস্তানি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাদের লংমার্চে টিয়ার শেলের গ্যাস ছোড়া হয়েছে। মারা গেছেন অনেকে। এত নির্দয় আচরণের পরও তারা যেভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন, সে জন্য তাদের স্যালুট জানাই।

বস্তুত ১৯৯১ সালের পরই ডানপন্থি অর্থনীতিবিদরা কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারের কথা বলেন। ষাটের দশকের পর ভারতের কৃষিতে সহায়তার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিল। এই সহায়তার আওতায় কৃষিপণ্যের মূল্য, ভর্তুকি, বাজারজাতকরণ, গবেষণা ও সম্প্রসারণের যে কাজ হয়, তার ফলে ভারতে ষাট থেকে আশির দশক পর্যন্ত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। কৃষির বাজারজাতকরণের ওপর প্রথম আঘাত আসে এগ্রিকালচারাল প্রডিউস মার্কেট কমিটি-এপিএমসির মাধ্যমে। এ আইন রাজ্যগুলোতে পাস হয়। যুক্তি দেওয়া হয়, ভারত যদি তার ফসলে বৈচিত্র্য এনে রপ্তানিমুখী ও উচ্চমূল্যের ফসল পেতে চায়, তবে মান্দির জন্য বেসরকারি বাজার, ভবিষ্যৎ বাজার ও চুক্তিভিত্তিক কৃষি দূরে সরাতে হবে। এপিএমসি আইন কৃষককে বৈষম্যের শিকার করেছে। কারণ, তারা বড় করপোরেট ক্রেতা ও রপ্তানিকারকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে না। তাই এপিএমসি আইন সংস্কার জরুরি। ২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষির বাজারজাতকরণে একটি মডেল তৈরি করে রাজ্যগুলোতে পাস করার জন্য প্রেরণ করে। এরপর ২০১৭ ও ১৮ সালে আরও দুটি মডেল প্রস্তুত করে। এসব মডেল যেমন রাজ্যগুলো গ্রহণ করেনি, আবার বাতিলও করেনি। কয়েকটি রাজ্য ২০০৩ থেকে ২০ সালের মধ্যে সেখান থেকে কিছু অনুচ্ছেদ গ্রহণ করে সে অনুযায়ী এপিএমসি আইন সংশোধন করে। Continue reading

তার ‘আজিকার শিশু’

বেগম সুফিয়া কামালকে কেবল ‘শিশুদের’ ফ্রেমে আবদ্ধ করা কঠিন। কারণ, তিনি শিশু-কিশোরসহ সবার জন্য লিখেছেন। সে কাজের ব্যাপ্তিও ছিল অনেক বিস্তৃত। তারপরও তিনি শিশুদের। কারণ সবাই চাইলেও শিশুদের হয়ে উঠতে পারেন না। তিনি পেরেছেন। তবে বেগম সুফিয়া কামালের প্রতিভা ও তার যাপিত জীবন ছিল বিস্ময়কর। শতবর্ষেরও আগে (১৯১১) জন্ম নেওয়া এ মহিয়সী নারীর নিবিড় সাহিত্য চর্চা, সামাজিক আন্দোলনে ভূমিকা আর নারী জাগরণের অবদানও নিঃসন্দেহে গবেষণার বিষয়। ১৯৯৯ সালের এই দিনে মৃত্যু পর্যন্ত এক দীর্ঘ জীবনের সদ্ব্যবহার করে গেছেন বেগম সুফিয়া কামাল। তিনি কেবল সময়ের তুলনায় এগিয়েই ছিলেন না, বরং সময়কেও এগিয়ে নিয়েছেন।

এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, শিশুদের নিয়ে লেখা কঠিন কাজ। শিশুতোষ লেখার জন্য শব্দচয়ন, বাক্যগঠন ও বিন্যাসে বিশেষ মনোযোগী হওয়া জরুরি। আরও জরুরি শিশুর মনস্তত্ত্ব বোঝা। বেগম সুফিয়া কামালের শিশুতোষ রচনায় আমরা এর সবক’টির উপস্থিতি দেখি। তিনি একে একে বিখ্যাত সব শিশুতোষ ছড়া ও কবিতা লিখে গেছেন। ইতল বিতল, ছোটন ঘুমায়, প্রার্থনা প্রভৃতি ছড়া কবিতা আজও কেবল প্রাসঙ্গিকই নয়, বরং এখনও শিশু-কিশোরদের মুখে মুখে। তার হাত দিয়ে শিশুতোষ যেসব লেখা প্রকাশ হয়েছে, সেসব রচনা বেগম সুফিয়া কামালকে বাঁচিয়ে রাখবে। বলাবাহুল্য বেগম সুফিয়া কামালের লেখার মুনশিয়ানা এর বাইরেও বিস্তৃত সমানতালে। সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, মোর যাদুদের সমাধি পরে, কেয়ার কাঁটা, একাত্তরের ডাইরি ইত্যাদি বিখ্যাত গ্রন্থ তার হাতে সৃষ্টি।

বেগম সুফিয়া কামাল নবাবী ঐশ্বর্যের মাঝে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। তাদের পরিবারে বাংলা শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকলেও মায়ের উৎসাহ ও সহায়তায় মামার প্রসিদ্ধ লাইব্রেরি থেকে বই পড়তেন এবং বাংলা শেখার চেষ্টা করেছেন। তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় তিন সফল। শিশুকাল থেকেই তিনি সকল বৈরী পরিবেশ উতরে এসেছেন। এমনকি ১৩ বছর বয়সে মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের পরও তিনি দমে যাননি। বরং স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি এগিয়ে গেছেন। Continue reading

বোর্ড করে পিইসি স্থায়ীর আয়োজন কার স্বার্থে

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) যখন একেবারে বন্ধ করার কথা, তখনই বিস্ময়করভাবে আমরা দেখছি উল্টো পরীক্ষাটি স্থায়ী করার আয়োজন করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য আইন করে ‘প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। ইতোমধ্যে ‘প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০২১’-এর খসড়া তৈরি করে জনমত যাচাইয়ের জন্য তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, এ বোর্ডের অন্যতম কাজ হবে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কাজ করা।

হঠাৎ করে সরকার কার স্বার্থে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাটি স্থায়ী করার বন্দোবস্ত করছে? অথচ পরীক্ষাটি চালুর পর থেকেই শিক্ষাসংশ্নিষ্টরা এর বিরোধিতা করে আসছেন। করোনার কারণে দুই বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এটি বরং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবিও উঠেছে জোরালোভাবে। এমনকি নতুন যে শিক্ষাক্রম আসছে, সেখানেও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই। নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় প্রাথমিক সমাপনী দূরে থাক, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট তথা জেএসসি পরীক্ষাও রাখা হয়নি। বরং সেখানে দশম শ্রেণিতে গিয়ে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়ার এ শিক্ষাক্রম আগামী বছর থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আইন করে তড়িঘড়ি ঘরে ‘প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার হেতু কী? সরকার একদিকে শিক্ষায় পরিবর্তন আনছে নতুন শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে, এখন তাদের সুপারিশ বাদ দিয়ে প্রাথমিকে শিক্ষা বোর্ড গঠন করে পিইসি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করছে। প্রশ্ন হলো- সরকার আসলে কী চাইছে?

আমরা জানি, সরকার তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সব পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়ার পক্ষে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও সিঙ্গাপুর ও ফিনল্যান্ডের উদাহরণ দিয়ে তাদের মতো শিশুদের পরীক্ষা উঠিয়ে আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষার কথা বলেছেন। যদিও ফিনল্যান্ডে শিশুদের ১৬ বছর পর্যন্ত পরীক্ষাই নেই। আমরা তাদেরটা পুরোপুরি না হোক, কিছু তো অনুসরণ করতে পারি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাদ দেওয়াও সমান জরুরি। শিশুদের সুন্দর, সুষম ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশের স্বার্থেই এটি দরকার। আমরা দেখছি, ছোটবেলা থেকেই যেভাবে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চাপে পিষ্ট; যেভাবে শিশু ও অভিভাবকের মধ্যে পরীক্ষায় ‘ভালো ফল’-এর জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালু রয়েছে; যেভাবে শিশুরা কোচিং-প্রাইভেট টিউটরের কাছে ধরনা দিচ্ছে, তা থেকে নিস্কৃতি পেতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাদ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। Continue reading

রাজনৈতিক অবক্ষয়ের কারণে নির্বাচনে প্রাণহানি- বদিউল আলম মজুমদার

ড. বদিউল আলম মজুমদার একজন অর্থনীতিবিদ, রাজনীতি বিশ্নেষক, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়নকর্মী। তিনি নাগরিক সংগঠন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সত্তরের দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৯১ সালে বদিউল আলম মজুমদার দেশে ফিরে এসে ক্ষুধামুক্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয়। তিনি জনবান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন, শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ১৯৪৬ সালে কুমিল্লার লাকসামে তার জন্ম।

সমকাল: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে এবার সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা এত বেশি হওয়ার কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

বদিউল আলম মজুমদার: স্থানীয় সরকারের একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রাম পর্যায়ে এমনকি পাড়া-মহল্লার মানুষ বেশি তৎপর থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের এবারের নির্বাচনে যে প্রাণহানি ও সহিংসতা দেখা যাচ্ছে, তা অনেককেই হতবাক করেছে। ইতোমধ্যে ইউপি নির্বাচনের মাত্র দুটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এর পরের ধাপগুলোতেও যদি সহিংসতা ও প্রাণহানির এ ধারা চলতে থাকে, তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে আমি মনে করি, নির্বাচনে এ সহিংসতা মূলত রোগ নয়, বরং কয়েকটি রোগের উপসর্গ মাত্র।

সমকাল: তাহলে রোগগুলো কী?

বদিউল আলম মজুমদার: বর্তমানে রক্তক্ষয়ী নির্বাচনের যে ধারা আমরা দেখছি, তাতে আমার বিবেচনায় রোগ তিনটি। এর মধ্যে প্রথমটি রাজনৈতিক অবক্ষয়। আমাদের রাজনীতি এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক পদ-পদবি পেলে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা থাকে। ফায়দাভিত্তিক রাজনীতির কারণে অনেকে আজ রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও এখন ফায়দা হাসিলের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছে। রাজনীতির গুণগত মান নিম্নগামী এবং নেতাকর্মীরা যখন সম্পদ বানাতে লিপ্ত, তখন অন্যকে ঘায়েল করতেও তারা দ্বিধা করছেন না। তার চেয়েও বড় বিষয়, তারা অন্যায় করে পার পেয়ে যান। আর নির্বাচনে সহিংসতার দ্বিতীয় কারণ দলভিত্তিক নির্বাচন।

সমকাল: দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে সহিংসতার কী সম্পর্ক? Continue reading

জলবায়ু সম্মেলন কতটা সফল

মূল: বিল ম্যাকিবেন

গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলন বা কপ২৬ যখন একটি কাঙ্ক্ষিত সমাপ্তির বদলে খোঁড়াচ্ছিল, তখন সেখানে কিছু প্রতিবাদী কর্মীর উপস্থিতি ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর তরুণদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তাদের সক্রিয়তার কারণে আমরা দেখেছি, দূষণকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণ বিজয় অর্জিত হয়। প্রথমবারের মতো এ সম্মেলনে কিছু বিষয় আলোচিত হয়। সম্মেলনে নিম্ন আয়ের দেশ বিশেষ করে যারা জলবায়ু সংকটে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের জন্য অধিক অর্থ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। জলবায়ু কর্মীদের ক্রোধান্বিত ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছে সমাবেশস্থলে। বিশ্ববাসীও তা শুনেছে।

প্রশ্ন হলো, এ সম্মেলন জলবায়ু সংকট উত্তরণে কতটা সফল? গ্লাসগো সম্মেলনে অগ্রগতি হয়েছে বটে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে কয়েকটি রাষ্ট্র যাদের আরও কিছু করার ছিল, তারা সে প্রত্যাশা পূরণ করেনি। এক কথায় সম্মেলন সম্পর্কে বলা যায়, সম্মেলনের ফল শুরুর আগে থেকেই নির্ধারিত। প্রশ্ন- তাহলে এত কনসার্ট, মানববন্ধন, লংমার্চ, সেমিনার, দরকষাকষির আলোচনা, বক্তৃতা, আলটিমেটাম, ঘোষণা ইত্যাদির কি কোনো প্রভাব নেই? আছে নিশ্চয়ই। মিডিয়াতেও তো সেটা দেখা গেছে।

অতীত বলছে, যারা বিশেষত দায়ী সেসব দেশ- সম্মেলনে আসার আগে যে অবস্থানে ছিল, সেখান থেকে তারা কমই বের হয়েছে। আমি মনে করি, আগের কপ বা জলবায়ু সম্মেলনগুলো দেখলেই তা স্পষ্ট হবে। এমনকি ব্যাপক আলোচিত কোপেনহেগেন সম্মেলন যদি আমরা দেখি কিংবা প্যারিস সম্মেলন বা এবারের গ্লাসগো সম্মেলন; প্রতিটিই সে কথা বলছে।

২০০৯ সালের জলবায়ু সম্মেলন বা কোপেনহেগেন সম্মেলন সেভাবে প্রভাব রাখতে পারেনি। কারণ, ওই সম্মেলন শুরুর আগে তেমন আন্দোলন হয়নি। Continue reading

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আমাদের দায়ী করতে না পারে

যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে রোববার শুরু হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ২৬তম আসর ‘কপ২৬’। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক ব্র্যাডি ডেনিস। ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের ইংরেজি থেকে ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক


ব্র্যাডি ডেনিস: জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আপনার অবস্থান স্পষ্ট। আপনি এ সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেছেন। বাস্তবে এ প্রত্যাশা তেমন পূরণ না হওয়ার ফলে আপনার হতাশাও আমাদের চোখ এড়ায়নি। এবারের গ্লাসগোর কপ২৬ আপনি কীভাবে দেখছেন?

আন্তোনিও গুতেরেস: আমার ৭২ বছরের জীবনে আমি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তবে এটি আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক যুদ্ধের সময়। জীবনের অভিজ্ঞতার বিচারে আমি বলতে পারি, কপ২৬ একদিকে যেমন অত্যন্ত উদ্বেগের, অন্যদিকে প্রত্যাশারও। উদ্বেগের কারণ হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী যে দুর্যোগ আর খারাপ অবস্থা আমরা দেখছি, তাতে এটা স্পষ্ট- পৃথিবী পরিবর্তিত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা এমন জায়গায় পৌঁছাব, যেখান থেকে ফিরে আসার পথ থাকবে না। আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন। কারণ আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা- ২১০০ সাল নাগাদ পৃথিবী ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণ হতে দেব না; সে লক্ষ্য পূরণে আমি তেমন আন্দোলন কিংবা কার্যকর পদক্ষেপ দেখছি না। এখানে উন্নত ও শিল্পে বিকাশমান দেশগুলোর মধ্যে যেমন অবিশ্বাস রয়েছে, তেমনি অবিশ্বাস দেখছি উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে। উন্নত বিশ্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর অভিযোজনে যে ১০০ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দেওয়ার কথা, তারা সে অনুযায়ী কথা রাখেনি। তবে আমি এখনও আশাবাদী। কারণ আমি দেখছি, জলবায়ুর দিক থেকে আমরা যে খাদের কিনারে পৌঁছে গেছি, এ বিষয়টি নিয়েও সচেতনতা বাড়ছে।

ব্র্যাডি ডেনিস: আপনি পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বলা চলে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন। এ সময়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আপনার চিন্তার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি?

আন্তোনিও গুতেরেস: আপনি ঠিকই বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরেই বিষয়টি আমার কাজের অংশ। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে একটি আইন পাস করি। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রয়োজন। Continue reading