Monthly Archives: অক্টোবর ২০২১

করোনা গেলেও ভালো অভ্যাস বজায় থাকুক

করোনা সুরক্ষায় প্রায় অব্যর্থ দাওয়াই হিসেবে আমরা হাত ধোয়া বিষয়ে সবাই যেভাবে সচেতন ছিলাম, এখনও সুস্থতার জন্য সে চর্চা ধরে রাখা প্রয়োজন

সম্প্রতি হাত ধোয়া দিবসে সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সার্বিকভাবে আমাদের হাত ধোয়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার বিষয়টি এসেছে। করোনা সংক্রমণের হার যখন নিচের দিকে, স্বাভাবিকভাবেই হাত ধোয়ার ওপর তার প্রভাব পড়েছে। কিন্তু বলার বিষয় হলো, ব্যক্তিগতভাবে এ প্রবণতা যতটা না কমেছে, তার চেয়েও কমেছে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। করোনার হার যখন ঊর্ধ্বমুখী ছিল তখন এসব প্রতিষ্ঠানে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা যেমন ছিল, তেমনি ছিল কড়াকড়িও। হঠাৎ যেন সব ব্যবস্থা উধাও। অফিস, মার্কেট, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ব্যবস্থা শিথিল হয়ে গেছে। হাত ধোয়ার ব্যবস্থা যেমন কমছে; হ্যান্ড স্যানিটাইজের বিষয়টিও তথৈবচ। মাস্কের কথা বলাই বাহুল্য। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যা-ই হোক, ব্যক্তিগতভাবে এসব ভালো অভ্যাস কমে যাওয়ার বিষয়টি বেশি উদ্বেগজনক। স্বাভাবিক সময়েও মাস্ক ব্যবহার করলে নাক-মুখ দিয়ে ধুলাবালি ও জীবাণু প্রবেশ করতে পারে না। হাত ধোয়া শুধু করোনা থেকেই সুরক্ষা দেয় না, প্রাত্যহিক জীবনাচরণেও এটি অত্যাবশ্যকীয় অভ্যাস।

খালি চোখে অনেক কিছুই আমরা দেখি না; তার পরও সেসবের অস্তিত্ব রয়েছে। মানুষের সীমাবদ্ধতার কারণে নিকটে-দূরের অনেক বস্তুই আমাদের দেখা সম্ভব হয় না। শরীরে মশা-মাছি বসতে গেলে আমরা টের পাই বলে তাড়িয়ে দিই। কিন্তু হাতসহ আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে যে কত ব্যাক্টেরিয়া বা জীবাণু বাস করে, তা জীববিজ্ঞানীরাই ভালো বলতে পারবেন। ড. মার্কুস এগার্ট নামে এক জীববিজ্ঞানী বলেছেন, প্রত্যেক মানুষের শরীরে প্রায় দেড় কেজি জীবাণু বাস করে। আরেক হিসাব বলছে, হাতের প্রতি বর্গসেন্টিমিটার জায়গায় প্রায় ১৫০০ জীবাণুর বাস। তার মানে, প্রত্যেকের হাতে মোটামুটি ২০-৩০ হাজার জীবাণু রয়েছে। আমরা যখন হাত ধোয়া ছাড়া খাবার খাই তখন এসব জীবাণু পেটে গিয়ে গণ্ডগোল পাকায়, যা নানা ধরনের রোগের কারণ হতে পারে। Continue reading

পরীক্ষার জন্য এখনই তোড়জোড় কেন

সপ্তাহে একদিন নয়, পরীক্ষার পরিবর্তে এখন পূর্ণদমে শ্রেণিকার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে হবে

দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও এখনও পুরোদমে শ্রেণি কার্যক্রম চালু হয়নি। প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণি আর মাধ্যমিকে দশম কিংবা এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাড়া বাকিরা সবাই সপ্তাহে এক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। এক-দুই ঘণ্টা করে ক্লাস হচ্ছে। এরই মধ্যে এক মাস না পেরুতেই কয়েকদিন আগে মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষার রুটিন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। যেখানে শ্রেণি কার্যক্রমই নিয়মিত হচ্ছে না, সেখানে এত দ্রুত পরীক্ষার রুটিন দেওয়া এবং আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার যৌক্তিকতা কী?

এটা ঠিক যে, আগের নিয়মে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। রুটিন অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষায় তিন বিষয় এবং মাদ্রাসায় চার বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। বাকি ৫০-এর ৪০ অ্যাসাইনমেন্ট এবং ১০ নম্বর স্বাস্থ্যবিধি মানা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর। এই রুটিন নিঃসন্দেহে অভিনব। কিন্তু সময়টা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কেবল তিন বিষয় তথা বাংলা, ইংরেজি ও গণিতেরই কেন পরীক্ষা হবে, সে প্রশ্নও এড়াবার সুযোগ কম। এটাকে বলা যেতে পারে মন্দের ভালো। মানে গত বছর যেভাবে অটোপাস দেওয়া হয়েছিল, তা করে পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণিতে পৌঁছার ব্যবস্থা। কিন্তু এ সময়ে কেন। এ সময়ে বরং পদক্ষেপ নেওয়া উচিত শ্রেণি কার্যক্রম আরও বাড়ানো। তথা সপ্তাহে এক দিনের জন্য না করে সবাই যেন নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রুটিনে পরীক্ষার সিলেবাসের কথা এভাবে বলা আছে :’যে সকল অধ্যায় থেকে অ্যাসাইনমেন্ট (বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত বিষয়) দেওয়া হয়েছে সে সকল অধ্যায় এবং ১২/০৯/২০২১ খ্রি. হতে শ্রেণি কক্ষে যে সকল অধ্যায়ের ওপর পাঠদান করা হয়েছে তা ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সিলেবাস।’ প্রশ্ন হলো ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যে পাঠদানের কথা বলা হয়েছে, তা কতটা হয়েছে। সপ্তাহে এক দিন মাত্র ২ বিষয়ে ক্লাস হলে এ ক’দিনে সংশ্নিষ্ট বিষয়ে ২/৩টার বেশি ক্লাস হওয়ার কথা নয়। তারচেয়ে বড় বিষয় গত দেড় বছরে যারা অনলাইনে সেভাবে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেয়নি, তাদের বিষয় কি আমরা ভেবেছি?
Continue reading

ফেসবুকের কাছে মানুষের নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফা বড়-ফ্রান্সেস হাউগেন

রোববার (৩ অক্টোবর) মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস টিভিকে সাক্ষাৎকার দেন ফ্রান্সেস হাউগেন। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বিষয়ে একের পর এক বোমা ফাটানোর মতো অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এই কর্মী। কিন্তু কখনও নিজের পরিচয় সামনে আনেননি। তবে এবার প্রকাশ্যে এসেছেন সেই তথ্যদাতা। এ নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক স্কট পেলি। সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারের প্রাসঙ্গিক অংশ পত্রস্থ হলো। ইংরেজি থেকে ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক।

স্কট পেলি: আপনি যখন গত মে মাসে ফেসবুক থেকে পদত্যাগ করেন, তখন ফেসবুকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক অভিযোগ করেন। ফেসবুকের গোপনীয় সেসব নথি গত মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকায় প্রকাশ হয়। কেন আপনি ফেসবুকের গোপন তথ্য প্রকাশ করেছেন?

ফ্রান্সেস হাউগেন: আপনাকে ধন্যবাদ। যে বিষয়টি আমি ফেসবুকে বারবার লক্ষ্য করেছি, সেটা হলো মানুষ ও ফেসবুকের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব। ফেসবুক বরাবরই তার নিজের স্বার্থ দেখেছে এবং বেশি অর্থ বানাতে মনোযোগ দিয়েছে।

স্কট পেলি: আপনি যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্য থেকে আসা ৩৭ বছরের একজন তথ্যবিজ্ঞানী। আপনি কম্পিউটার প্রকৌশলে পড়েছেন এবং হার্ভার্ড থেকে ব্যবসায় মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন। গত ১৫ বছর ধরে গুগল পিন্টারেস্টসহ উল্লেখযোগ্য কোম্পানিতে কাজ করেছেন…।

ফ্রান্সেস হাউগেন: আপনি ঠিক বলেছেন। আমি ফেসবুকেও কাজ করেছি। আপনি নিশ্চয় অনেক সামাজিক নেটওয়ার্ক দেখেছেন। তবে আমি অন্য কোথাও ফেসবুকের মতো এতটা বাজে অবস্থা দেখিনি। Continue reading

শিক্ষার্থীর ‘শিখনশূন্যতা’ পূরণই বড় চ্যালেঞ্জ-অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান

ড. ছিদ্দিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হিসেবে ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৯ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। প্রবীণ এ শিক্ষাবিদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউনিসেফসহ দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং ১৯৮২ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট ডক্টরেট অর্জনকারী ছিদ্দিকুর রহমান কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।

সমকাল: করোনার কারণে দেড় বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। এটাই খোলার যথার্থ সময়?

ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা খুব জরুরি ছিল। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই। যদিও আরও আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যেত। বিশেষ করে গত বছরের এ সময়ে করোনা সংক্রমণের হার আরও কম ছিল। তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা যেত। করোনা অতিমারি আমাদের জন্য নতুন বিষয়। করোনার কারণে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। ওই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো। দেড় বছর ধরে শিক্ষার্থীদের অনেকেই অধৈর্য হয়ে পড়েছে। অনেকেই এ দীর্ঘ সময়ে পড়াশোনার বাইরে রয়েছে। দেরিতে হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে- এটাই স্বস্তির।

সমকাল: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে প্রশাসনের তরফ থেকে বিশেষ নির্দেশনা বিষয়ে আপনার মন্তব্য…

ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা জরুরি। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, এসব নির্দেশনা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাতে বাস্তবায়ন করে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর হওয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রয়োজন নিবিড় পর্যবেক্ষণ।

সমকাল: এখনই কি পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা উচিত?

ছিদ্দিকুর রহমান: না। এখনই পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা ঠিক হবে না। আমরা জানি, করোনার কারণে মাঝখানের দীর্ঘ সময় তাদের রুটিন ছিল ভিন্ন। সকালে ঘুম থেকে ওঠা, স্কুলে যাওয়া, বিকেলে খেলাধুলা করা, রাতে পড়তে বসা- এ রকম নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে ছিল তারা। অনেকে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিল। এখন হঠাৎ প্রতিদিন পাঁচ-ছয় ঘণ্টা করে ক্লাস হলে তারা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে না। পুরোদমে শ্রেণি কার্যক্রমে তাদের মনোযোগী হতে সময় লাগবে। Continue reading