Monthly Archives: জুলাই ২০২১

অন্যের চরকায় তেল দেওয়ার বাতিক

‘পাছে লোকে কিছু বলে’- এটাই বাস্তবতা। তবে তাদের জন্য যথার্থ উত্তর ‘নিজের চরকায় তেল দাও।’

অন্যের বিষয়ে নাক গলাতে আমরা অনেকেই সিদ্ধহস্ত। একনজর দেখেই মন্তব্য করার মতো বিশেষজ্ঞ সমাজে কম নেই। সহপাঠীকে ভালোভাবে ডাকার মতো বন্ধুর সংখ্যা যেন বিরল। অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীকে সম্বোধন করে যে ‘বডি শেমিং’ করে ফেলছেন, সে হুঁশও নেই। খোশগল্পে সুযোগ পেলেই অনেক সময় কাউকে আকাশে উঠাচ্ছি, আবার কাউকে জমিনে আছড়ে ফেলছি। পরচর্চায় বাঙালির মুনশিয়ানা বলে কথা।

কারও থেকেই যেন নিস্তার নেই। কোনোভাবেই যেন রেহাই নেই। শারীরিকভাবে লম্বা হলে তো কথাই নেই। খাটো হলেও কথা শুনতে হবে। মোটা হলেও উপদেশের বান আপনার দিকে ধেয়ে আসবে। চিকন হলেও সমস্যা। কালো হওয়ার বিপদ ভুক্তভোগীরাই জানেন। আর সুন্দরী হলেও মাপ নেই। আমরা চিন্তাও করতে পারি না, অপরের দিকে মুখ নিঃসৃত যে শব্দ বেরিয়ে যাচ্ছে তার প্রতিক্রিয়া কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ বছরের কিশোর আজওয়াদ আহনাফ করিমের মৃত্যুর খবর আমরা দেখেছি। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আমাদের হতবাক করেছে। Continue reading

উপমহাদেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী বিভ্রান্তি

শিল্পীর আঁকা পলাশি যুদ্ধের চিত্র

মূল: অমর্ত্য সেন

ভারতে ব্রিটিশ শাসন শুরু হয় ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে। যুদ্ধটা ছিল সংক্ষিপ্ত, প্রত্যুষে শুরু হয়ে সূর্যাস্তের ক্ষণে শেষ। পলাশি অবস্থিত কলকাতা ও মুর্শিদাবাদের মাঝামাঝি পর্যায়ে। আম্রকাননে অনুষ্ঠিত ওই যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনী নবাব সিরাজউদ্দৌলা সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয় এবং তার বাহিনীকে পরাজিত করে। তারপর ব্রিটিশরা প্রায় দুইশ বছর রাজত্ব করে। এত দীর্ঘ সময়ে তারা ভারতে কী অর্জন করে? আর তাদের ব্যর্থতাই বা কী?

১৯৪০-এর দশকে আমি যখন পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রাগ্রসর স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন এসব প্রশ্ন আমাদের আলোচনায় এসেছিল। এখনও সে প্রশ্নের গুরুত্ব শেষ হয়ে যায়নি। কেবল এ কারণে নয় যে, ব্রিটিশ রাজত্ব প্রায়ই বৈশ্বিক সুশাসনের সফলতায় এ আলোচনা সামনে আনে বরং এ কারণেও যে আজ তারা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিষয়টি দেখাতে চায়। কয়েক দশক আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনের স্কুলে এসব আলোচনায় জটিল প্রশ্নে বিরক্তই হতাম। আমরা কীভাবে গত শতকের চল্লিশের দশকে চিন্তা করতে পারতাম যে, ভারতে কখনও ব্রিটিশ শাসন ছিল না? ১৭৫৭ সালে যখন ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শুরু হয় তার সঙ্গে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের যাওয়ার সময়কার ভারতের পার্থক্য ছিল সামান্যই। যদিও একেবারে পরিবর্তন হয়নি তা নয়। কিন্তু পরিবর্তনগুলোর জবাব আমরা কীভাবে দিতে পারি?

অতীতে ভারতের ইতিহাসে বড় অর্জন হলো- দর্শন, গণিত, সাহিত্য, কলা, স্থাপত্য, সংগীত, চিকিৎসাশাস্ত্র, ভাষা ও জ্যোতির্বিদ্যা। ঔপনিবেশিক শাসনের আগে ভারতের অর্থনৈতিক অর্জন বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল। ভারতের অর্থনৈতিক সম্পদের বিষয়টি অ্যাডাম স্মিথের মতো ব্রিটিশ পর্যবেক্ষকরাও স্বীকার করেছিলেন। এসব অর্জন সত্ত্বেও ইউরোপের যে অর্জন ছিল, আঠারোশ শতকের মধ্যভাগে ভারত তা থেকে পিছিয়েই ছিল। পিছিয়ে পড়ার ধরন ও তার তাৎপর্য আমাদের স্কুলের বিকেলে বিতর্কের বিষয় ছিল। Continue reading