Monthly Archives: মে ২০২১

শিক্ষার্থীদের বারোটা বাজানোর কত দেরি

ডিসেম্বরে (২০২০) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খোলার আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা

করোনা দুর্যোগের প্রভাব সব খাত কাটিয়ে উঠতে পারলেও শিক্ষা খাত পিছিয়ে থাকার পেছনে প্রশাসনের দায় কম নয়। গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কিছু স্তরে সম্ভাব্য পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের ফল নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে অটোপাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতেও উঠেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা সম্পন্ন করছে। সে বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, শুধু পিছিয়ে আছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে সত্য। কিন্তু অনলাইনে পরীক্ষা না হওয়ায় সেশনজটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। খুবই আশ্চর্যের বিষয়, অনলাইনে ক্লাস হলে পরীক্ষা কেন হতে পারবে না? এখন ১৪ মাস পর এসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে!

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনার প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি ছিল না বললেই চলে। বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তারা শিক্ষা নেয়নি। অজুহাত হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। যদি অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়, তবে পরীক্ষা কেন হতে পারবে না!

প্রশ্ন শুধু অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কিংবা পরীক্ষা নিয়ে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবাসিক হল খোলা নিয়েও প্রশাসনের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার খেসারত শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে। Continue reading

বিজেপির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছি-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচনে জয়লাভ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া টুডের মুখোমুখি হন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি তার নির্বাচনী লড়াইয়ের পথপরিক্রমা, রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং করোনা প্রসঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজদ্বীপ সরদেশাই। ইংরেজি থেকে ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক

ইন্ডিয়া টুডে: শুরুতেই আপনাকে অভিনন্দন জানাই। আপনি কি এমন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয় আশা করেছিলেন? এবার এমনকি ২০১৬ সালের নির্বাচন থেকেও বেশি ভোট পেয়েছেন…

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: দেখুন, আমার টার্গেট ছিল ২২১টি আসন পাওয়া। কারণ এখন ২০২১ সাল চলে, তাই সিম্বলিক হিসেবে ২২১। এবার নির্বাচন কমিশন যে আচরণ করেছে, তা ছিল ভয়ংকর। কেন্দ্রীয় সরকারসহ সব এজেন্সিও আমাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলকভাবে কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা আমাদের জন্য কাজ করেছে এবং তাদের কারণেই আমরা যুদ্ধে জয়লাভে সক্ষম হই। মাঠে তারাই ছিল আমাদের যোদ্ধা। করোনা-দুর্যোগের এ সময়ে আমরা কোনো ধরনের বিজয় উৎসব পালন করিনি। আমরা করোনা রোগীদের জন্য কাজ করছি। দেশের সবাইকে টিকা দেওয়ার জন্য আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে আহ্বান জানাই। তারা যদি এটি না করে, তাহলে আমি অহিংস আন্দোলনে নামব। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য হবে এ আন্দোলন।

ইন্ডিয়া টুডে: আপনি বললেন, আপনার টার্গেট ছিল ২২১। এমন আত্মবিশ্বাস আপনি কীভাবে পেলেন। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, বিজেপি এবার খুব আগ্রাসী প্রচারণা চালায়। অনেকে বলেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ব্যাকফুটে আছে। এরপরও এমন আত্মবিশ্বাসের হেতু কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি শুরু থেকেই বলে আসছিলাম, আমরা ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করব। আর বিজেপি ৭০ আসনের বেশি পাবে না। নির্বাচন কমিশন যদি এভাবে তাদের সহায়তা না করত তারা ৫০টির বেশি আসন পেত কিনা সন্দেহ। আমাদের কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের ব্যালট নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের অভিবাদন জানাই। তারাই পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের জন্য লড়াই করেছেন। আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে হবে। আমি আমার জন্মভূমিকে ভালোবাসি। ভালোবাসি পশ্চিমবঙ্গকে। পশ্চিমবঙ্গ গোটা দেশকে পথ দেখাবে।

ইন্ডিয়া টুডে: আপনার ভূমিধস বিজয় আমরা দেখছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের হিসাবে নন্দীগ্রামে আপনি হেরেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আসলে এটা হারা নয়। সেখানে আবার ভোট গণনার দাবি জানিয়েছি আমরা। নির্বাচন কমিশন ইভিএম মেশিনে কারসাজির চেষ্টা করেছে। অভিযোগ পেয়ে একটি বুথে আমি প্রায় তিন ঘণ্টা বসে ছিলাম। আমাদের ভোটারদের অনেককেই ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। নন্দীগ্রামে আসলে একটি ষড়যন্ত্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ষড়যন্ত্র। তাই আমি শুরু থেকেই ভোট পুনরায় গণনার কথা বলেছি। যাতে সেখানে কী ঘটেছে, তা জনগণ জানতে পারে। Continue reading

মোদি সরকার টিকা নিয়ে বৈষম্য করছে-সোনিয়া গান্ধী

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী সম্প্রতি করোনাদুর্যোগ, টিকা ও সেখানকার সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে দেশটির জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দুর সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক সন্দ্বীপ ফুকান। ইংরেজি থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক।


দ্য হিন্দু: করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভারতে সবচেয়ে বেশি জনস্বাস্থ্য সংকট স্পষ্ট। এ সংকটের জন্য দায় কার?

সোনিয়া গান্ধী: ভারতের এ জাতীয় বিপর্যয়ে আমার মনে হয় একটি সম্মিলিত ব্যাপক প্রচেষ্টা দরকার। আমাদের একসঙ্গে কাজ করে প্রয়োজনীয় সব জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে যত দ্রুত সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তবে এটা বলতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক মাস আগে করোনা নিয়ন্ত্রণের এক অকালপকস্ফ বিজয় উদযাপন করেছিল। সেখানে বাস্তবতা ছিল উপেক্ষিত। এমনকি সংসদীয় কমিটি করোনার প্রস্তুতির জন্য যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলোও আমলে নেওয়া হয়নি। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ভারত ও বিশ্বের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য দেশের অবস্থার আলোকে আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, কী ঘটতে পারে। অথচ আমরা তাতে কর্ণপাত না করে প্রগল্‌ভ অহংকার আর আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি। করোনা সংক্রমণের প্রভাবের কথা চিন্তা না করেই ভাইরাসটি আরও ছড়ানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

দ্য হিন্দু: এখন তাহলে করণীয় কী?

সোনিয়া গান্ধী: এখন ব্লেম গেম খেলার সময় নয়। বরং আমাদের করণীয় হলো, মানুষের জীবন রক্ষা করা। মানুষের বেদনা উপশম করা। আমাদের লাখ লাখ নাগরিকের দুর্ভোগ লাঘব করা। অক্সিজেন সংকট দূর করা। জরুরি ওষুধ এবং হাসপাতালে আসনের ব্যবস্থা করা। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসও সব রাজ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। আমরা যেভাবে পারছি, এ সহযোগিতা করে আসছি।

কৃতিত্ব নেওয়া বা এটা প্রচারের সময় এখন নয় যে, আমরা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কী করছি। কোনো ধরনের প্রচারণা পাওয়ার আশা ছাড়াই কাজ করার সময় এখন। আমি এখানে ধন্যবাদ দিতে চাই, বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যারা গত কয়েকদিন ধরে আমাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।

তবে এটা সত্যিই বেদনাদায়ক, সরকার এখনও অগ্রাধিকারের বাইরে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প। বেহুদা এখন প্রকল্পটি নির্মাণের কাজ চলছে। তবে যেসব সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগ ত্রাণসহ অন্যান্য সাহায্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রশংসা করতেই হবে। একই সঙ্গে আমাদের সম্মুখযোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মীবৃন্দ যারা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিচ্ছে, তাদের ঋণ শোধ করার মতো নয়।

দ্য হিন্দু: সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং টিকা নিয়ে ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী এবং আপনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু পরামর্শ দিয়ে চিঠি লিখেছেন। তার সমালোচনাও রয়েছে। বলা হচ্ছে, কংগ্রেস সংকট নিয়ে রাজনীতি করছে। Continue reading