Monthly Archives: জানুয়ারি ২০২১

উষ্ণতার এক ফালি হাসি

রথ দেখা এবং কলা বেচা- দুটোরই ইচ্ছে ছিল আমাদের। মানে, একদিকে নিঝুম দ্বীপ দেখা, অন্যদিকে সেখানকার অসহায় শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা। চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার বা ফোরসি টিম শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে যেমন চেষ্টা করছে, তেমনি মেডিকেল ক্যাম্পসহ এসব কাজের মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছে। নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার আগেই টিম ফোরসি সেখানকার স্থানীয় শিশুদের মাঝে শীতের উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। বছরের শেষ দিনের গোধূলিতে লঞ্চটি যখন হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়, আমাদের মানসপটে তখন ভেসে ওঠে ইন্টারনেটে দেখা নিঝুম দ্বীপের মনোহর দৃশ্য আর মায়াময় কিছু শিশুর চেহারা।

নতুন বছরের প্রথম সকালে চোখ মেলেই দেখি হাতিয়া দ্বীপ। নদীর পাড়ে ভিড়েছে লঞ্চ। চারদিকে শতব্যস্ত মানুষ। আমরাও নেমে পড়লাম। সৌন্দর্যের দিক থেকে হাতিয়ার মাধুরীও কম নয়। নিঝুম দ্বীপে শিশুদের বস্ত্র দেওয়ার চাপ মাথায় নিয়েও আমরা যাওয়ার পথে হাতিয়ায় দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট দেখে ফেলি। প্রথমটি কমলার দিঘি। এখানে কেবল দিঘিই নেই, আছে মনোমুগ্ধকর সৈকত। কমলার দিঘিতে একই সঙ্গে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত আর সুন্দরবনের আমেজ পাওয়া যাবে। সেখান থেকে আমরা যাই নিমতলী সৈকতে। এরপর মোক্তারিয়া ঘাট পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত নিঝুম দ্বীপ। Continue reading

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে জো বাইডেনের এগিয়ে আসা উচিত

লেখক: ম্যাথু স্মিথ ও অ্যান্ড্রু রিলে

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা ও গণহত্যা পরিচালনা করার সময় বাংলাদেশে সাত লক্ষাধিক পুরুষ, নারী ও শিশু পালিয়ে আসে। যারা পেছনে রেখে আসে বুলেট, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ। সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে দেয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনেকের দীর্ঘ শারীরিক ক্ষত সারলেও এখনও মানসিক আতঙ্ক কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে তাদের জন্য কিছু করা উচিত।

বাংলাদেশে এখন দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বাস। তারা এক ধরনের আতঙ্ক, হতাশা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এসেছে। ফর্টিফাই রাইটসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা ৮৯ শতাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীই ভীষণ হতাশায় ভুগছে। ৬২ শতাংশ ভুগছে ট্রমা-পরবর্তী বিষণ্ণতায়। এই চরম হতাশা কোন দিকে মোড় নেবে?

মিয়ানমারে চলমান গণহত্যা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশবিশেষ। অপরাধ সংঘটিত করেও সেখানে দায়মুক্তির ব্যবস্থা রোহিঙ্গাদের মানসিক অবস্থার ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলছে। ট্রমা নিয়ে গবেষণা হয় সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে ফোকাস করে। তা হলো- কোনো দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, প্রিয় কোনো মানুষের মৃত্যু কিংবা কোনো সহিংস আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া। তবে এর মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে দীর্ঘমেয়াদে শরণার্থীদের ওপর পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে সৃষ্ট ট্রমার যথাযথ আলোচনা নেই।
Continue reading

টিকা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলুক- ড. ছিদ্দিকুর রহমান

ড. ছিদ্দিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হিসেবে ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউনিসেফসহ দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ও ১৯৮২ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট ডক্টরেট অর্জনকারী ছিদ্দিকুর রহমান কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন

সমকাল: করোনা দুর্যোগের প্রভাব শিক্ষা খাত কতটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বলে আপনি মনে করেন?

ছিদ্দিকুর রহমান: গত বছরের মার্চ মাসে দেশে যখন প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়, স্বাভাবিকভাবেই সবার মধ্যে একধরনের আতঙ্ক ছিল। আমরা দেখেছি, একে একে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। লকডাউনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর ধীরে ধীরে সব খুললেও এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু হয়নি। এখন বলা চলে সবই প্রায় স্বাভাবিক। হাট-বাজার, কল-কারখানা, অফিস-আদালত, পরিবহন- কোনো কিছুই বন্ধ নেই। দীর্ঘ সময় শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকার ফলে আমাদের শিক্ষার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

সমকাল: করোনার এ সময়ে অনলাইনসহ নানাভাবে দূরবর্তী শিখন কার্যক্রম আপনি দেখেছেন নিশ্চয়ই। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

ছিদ্দিকুর রহমান: বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনলাইন কিংবা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে দূরবর্তী শিখন কার্যক্রমের বিকল্প ছিল না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশই কেবল এর মাধ্যমে শেখার সুযোগ পেয়েছে। অধিকাংশই সে সুযোগ পায়নি। তার ওপর শিশুদের জন্য সশরীরে শিক্ষাঙ্গনে উপস্থিত থেকে শেখা আর অনলাইনে শেখা এই দুইয়ের মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে।

সমকাল: শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে দেখছেন?

ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার জন্য অটোপাসের সিদ্ধান্ত যথোচিত বলে আমি মনে করি না। Continue reading

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে চল্লিশের দশকের সাম্প্রদায়িকতা ফিরিয়ে আনতে চায়-অমর্ত্য সেন

অমর্ত্য সেন নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ। সম্প্রতি তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সঙ্গে অনলাইনে ও পিটিআইর সঙ্গে ই-মেইলে সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন। সেখানে তার বাড়ির সীমানা, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন, বিজেপির রাজনীতি ও ভারতের কৃষক আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার দুটি ঈষৎ সংক্ষেপে ইংরেজি থেকে ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক

আপনার শান্তিনিকেতনের বাড়ি ‘প্রতীচী’র সীমানায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ঢুকে গেছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

অমর্ত্য সেন: আসলে এ ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি অর্থনীতির কথা বলতে পারি। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট আমরা দেখছি। এর মধ্যে আমার বাড়ি নিয়ে কী বলব? ৮০ বছর আগে ওই জায়গাটি লিজ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। এখন এসে বলা হচ্ছে, লিজে সমস্যা আছে। লিজের বাইরেও আমার বাবা আরও কিছু প্লট কিনেছিলেন। তারা যে জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে, তার আগে আমাকে কোনো চিঠি দেয়নি। আমার সঙ্গে কোনো কথাও বলেনি।

তার মানে আপনি বলতে চাইছেন, আপনার বাড়ি ‘প্রতীচী’র ব্যাপারে এত বছরেও বিশ্বভারতী কোনো লিগ্যাল নোটিশ বা চিঠি দেয়নি বা কোনোভাবে জানায়নি?

অমর্ত্য সেন: না। আমার বাবা মারা গেলেন। এর পর আমার মা। লিজ নিয়ে তাদের সঙ্গে অনেক আগে কথা হয়েছে। স্বাভাবিক কথাবার্তা। তারা মিডিয়াতে বলেছে, আমি আরও অনেক জমি নিয়েছি। জমির ব্যাপারে কোনো সমস্যা নেই। কারণ এর সব কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারা আমার সঙ্গে কথা না বলে মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। শান্তিনিকেতনের নিজস্ব ঐতিহ্য ও উপাচার্যের আচরণের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারতাম। কারণ, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ওপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত হয়েছেন। বিজেপি আমাকে মানুষ হিসেবে নীচু করছে। সত্যটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভালো করেই জানে। সামনে নির্বাচন আসছে। এর মধ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়ানোর এজেন্ডা থাকতে পারে। ১৯৪০-এর দশকে আমরা ঢাকা ও কলকাতায় বাংলার সাম্প্রদায়িকতার কদর্য রূপ দেখেছি।

আপনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। তিনি আপনাকে সমর্থন করেছেন। এমনকি আপনাকে একটি চিঠিও লিখেছেন।

অমর্ত্য সেন: যারা আমার প্রতি সমবেদনা প্রদর্শন করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আমাকে যে চিঠি দিয়েছেন, তা আমাকে স্পর্শ করেছে। তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। Continue reading

শিক্ষার্থীর সুযোগ সংকোচন কেন

শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা করোনা দুর্যোগে সৃষ্ট প্রভাব অটোপাস-অ্যাসাইনমেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে কোনো রকম কাটিয়ে উঠতে পারলেও উচ্চশিক্ষা এখনও বলা চলে পিছিয়ে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল স্নম্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সম্পন্নের আয়োজন করছে। অন্যান্য বর্ষের ব্যাপারে প্রশাসন এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এ সপ্তাহের মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিকের (অটোপাসের) ফল প্রকাশ হবে। এরপরই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির তোড়জোড় শুরু হবে। ভর্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তিতে সম্মত হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত চার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আগে থেকেই স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছে। সবাই গুচ্ছ পদ্ধতিতে এলে অন্তত করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো। তারপরও অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ পদ্ধতিতে যাচ্ছে- এটা ভালো বিষয়। কিন্তু স্বস্তি মিলছে না; বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে।

করোনা থেকে সুরক্ষা দিতে প্রশাসন পরীক্ষা কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হলে শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ উপেক্ষা করেই মাঠে নেমেছে? আগে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য তথা বিজ্ঞান বিভাগ, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরা নিজস্ব বিভাগে ভর্তি হতে না পারলেও বিভাগ পরিবর্তনের নির্দিষ্ট ইউনিটে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শর্তসাপেক্ষে অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ ছিল। এ বছর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এ রকম পৃথক কোনো ইউনিট রাখা হয়নি। ভর্তিচ্ছুরা বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছে। এই দাবিতে রাজধানী ঢাকা, বরিশাল শহরসহ বেশ কিছু জায়গায় তারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। Continue reading