Monthly Archives: ডিসেম্বর ২০২০

দুর্যোগের পৃথিবী এবং আমাদের দায়

Secretary-General António Guterres holds a lecture at Columbia University entitled “State of the Planet”.

লেখক: আন্তেনিও গুতেরেস

আমরা একটি বিধ্বংসী মহামারি মোকাবিলা করছি। একটি সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের বিপরীতে আমরা দেখছি, বৈশ্বিক তাপমাত্রার নতুন উচ্চতা, বাস্তুসংস্থান অবক্ষয়ের নতুন মাত্রা ও বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের নতুন সংকট। এক কথায় বলতে গেলে, আমাদের এই পৃথিবীর এক ভঙ্গুর দশা।

মানুষ যেন প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে। এটি আত্মঘাতী। প্রকৃতি সবসময়ই তা ফিরিয়ে দেয়। আর তার প্রকাশ আমরা দেখছি আরও শক্ত ও রুদ্ররূপে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। দশ লাখ প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাস্তুতন্ত্র আমাদের চোখের সামনেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। মরুভূমি প্রসারিত হচ্ছে। জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবছর আমরা এক কোটি হেক্টর বন হারাচ্ছি। সমুদ্রগুলোতে মাছ নিঃশেষ হয়ে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হচ্ছে। এগুলো কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করছে বলে সমুদ্রকে বিষাক্ত করে ফেলছে। কোরাল দ্বীপগুলো মরে যাচ্ছে। প্রতিবছর বায়ু ও পানিদূষণে ৯০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে, যা বর্তমান মহামারির চেয়েও ছয়গুণ বেশি। মানুষ যেভাবে প্রাণীর আবাসন ধ্বংস করছে এবং বন্যপ্রাণীর বসবাসে হস্তক্ষেপ করছে, তাতে আমরা হয়তো আর এক ভাইরাসের অস্তিত্ব দেখতে পাব, যেটা প্রাণী থেকে মানুষের দেহে আসছে। ভুলে যাওয়া চলবে না, মানুষের সংক্রামক রোগের ৭৫ ভাগই প্রাণী থেকে আগত।

Continue reading

ভর্তিতে শিক্ষার্থীর করোনাভাগ্য!

দুর্যোগের মধ্যেও শিশুদের একটি চাপমুক্ত ও স্বস্তির বছর শিক্ষার্থীর করোনা ভাগ্য বৈকি

শিশুদের স্কুলে লটারির মাধ্যমে ভর্তির বিষয়টি ২০১০-১১ সালের পর আবার আলোচনায় এসেছে। ২০১১ সালে সমকালেই লিখেছিলাম ‘ভাগ্যই বিজয়ী হোক‘। এবার করোনার সময় যখন লটারির পরিধি বাড়ছে, অর্থাৎ এতদিন কেবল প্রথম শ্রেণিতেই ছিল, এখন নবম পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে লটারি হলেও বিজয়টা করোনার নয় বরং ভাগ্যেরই। এ সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই অনেকে খুশি হয়েছেন, আবার অনেক অভিভাবকই মন খারাপ করেছেন। লটারি যেখানে ভাগ্যের বিষয়, সেখানে ‘প্রত্যাশিত’ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার বেদনা কাউকে না কাউকে তো সইতে হবেই। প্রশ্ন হলো, প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান কোনগুলো? তার আগে বলা দরকার, শিক্ষামন্ত্রী এ-বিষয়ক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেছেন : ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ বা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকা। আমি মনে করি, প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান আর ক্যাচমেন্ট এরিয়া- এই দুটি জটিলতা নিরসনের ওপরই বহুলাংশে নির্ভর করছে স্কুলে ভর্তি সমস্যার সমাধান।

প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান মানে সবাই ভালো ফল অর্জনকারী নামিদামি প্রতিষ্ঠানই বুঝে থাকেন। ওই সব প্রতিষ্ঠানে সন্তানের ভর্তি অনেকের কাছে সামাজিকভাবে সম্মানেরও বিষয়। সেগুলোতে অভিভাবকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। ১০ বছর আগেও যখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হতো, আমরা তখন কী এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখেছিলাম। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিশুর স্বাভাবিক খেলাধুলা বাদ দিয়ে বই-খাতা-কলম নিয়ে বসে থাকা আর টিউটর-কোচিং সেন্টারে দৌড়ঝাঁপ করতে হতো। এমনকি কোনো কোনো অভিভাবক অন্য প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণিতে উঠলেও সন্তান নামিদামি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সেখানে প্রথম শ্রেণিতেই ভর্তি করিয়ে দিতেন!

প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে লটারির প্রচলন করায় অন্তত শিশুরা কিছুটা হলে স্বস্তি পেলেও তা থেকে একেবারে মুক্তি মেলেনি। কারণ দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই আবার সেই ভর্তি পরীক্ষা। Continue reading