Monthly Archives: অক্টোবর ২০২০

কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ

যদি কর্তৃত্ববাদের আচরণ একই হয়, সেখানে প্রতিবাদের ক্ষেত্রে অভিন্ন কারণও স্পষ্ট।

লেখক: অমর্ত্য সেন

দার্শনিক এমানুয়েল কান্ট যেমনটা বলেছেন, ‘যে কোনো বিষয়ে কারও মত প্রকাশ্যে তুলে ধরার স্বাধীনতার’ মতো গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কান্ট এটাও বলেছেন, সমাজই তর্কের সুযোগ প্রায়শ বন্ধ করে দেয়। কখনও কঠোরভাবেই বন্ধ করে। আজকের বিশ্বের একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রবণতা লক্ষণীয়। অপ্রিয় হলেও সত্য, এ তালিকায় আমার দেশ ভারতকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভারতও সেই দুর্ভাগ্যজনক দেশগুলোর অন্যতম।

ভারত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর কয়েক দশক ধরে ব্যক্তিস্বাধীনতাসহ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছিল। মানুষ তাদের স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়। তারা কঠোর ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার বিলোপ সাধন করে সেই স্বাধীনতার প্রতি তাদের সংকল্পও প্রদর্শন করে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের কথা বলা যায়। যে নির্বাচনে স্বৈরাচারী আইন যাকে ‘জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করা হয়, তাকে মানুষ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সরকার দ্রুতই তা মেনে নেয়।

যা হোক, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাধীনতা দৃশ্যত অনেকের ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তারই আলোকে বর্তমান সরকার সেখানে ভিন্ন ধরনের সমাজ গড়তে আগ্রাসী নজির হাজির করছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, যাকে বিস্ময়করভাবে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় উপাত্ত হাজির করে ও বিরোধী নেতাদের বন্দি করে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করছে সরকার। এ প্রক্রিয়ার ভেতরে স্বৈরাচারী মনোভাবের বাইরেও চিন্তার গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ সরকারের সঙ্গে দ্বিমত মানে রাষ্ট্রদ্রোহ কিংবা কাউকে উৎখাত নয় Continue reading

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কথা ভাবতে হবে- অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভারতের নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ঔষধবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী এ কে আজাদ চৌধুরী ১৯৪৬ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন
সমকাল: কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষায় সেশনজট ছিল না বললেই চলে। করোনায় নতুন করে সেশনজটের কথা শোনা যাচ্ছে। আপনার কী মনে হয়।
এ কে আজাদ চৌধুরী: হ্যাঁ, দীর্ঘদিন উচ্চশিক্ষায় সেশনজটের সমস্যা ছিল না। আমি যখন (১৯৯৬-২০০১) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলাম, তখনই সেশনজটমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এ থেকে মুক্ত হয়। এটা সত্য যে, করোনাদুর্যোগের কারণে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সেশনজট খুব বেশি হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন শিক্ষা চালু করেছে।
সমকাল
: প্রশাসন কি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারত?
এ কে আজাদ চৌধুরী: করোনার মধ্যেও আমরা দেখেছি পোশাক শিল্পকারখানাসহ অর্থনৈতিক সবকিছুই খোলা রয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সে সাহসিকতা প্রশাসন দেখাতে পারেনি। এর বাস্তব কারণ অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য সচেতন বটে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তো আবাসিক হলও খুলতে হবে। আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের কোনো কোনো রুমে ১৬/১৭ জনও থাকে। সেখানে কীভাবে শারীরিক দূরত্ব থাকবে? Continue reading

ইসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এনআইডি জালিয়াতি সম্ভব নয়- এম সাখাওয়াত হোসেন

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এম সাখাওয়াত হোসেন ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণের পর তিনি লেখালেখি ও গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। এম সাখাওয়াত হোসেন ২০১৮ সালে নির্বাচনী ব্যবস্থায় সুশাসনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জন্ম ১৯৪৮ সালে বরিশালে
সমকাল: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পুরোনো। আমরা দেখেছি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের এনআইডির মাধ্যমে পাসপোর্ট করে বিদেশেও গেছে। রোহিঙ্গারা কীভাবে এনআইডি পেল?
এম সাখাওয়াত হোসেন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি একটি দেশের নাগরিক পরিচয়পত্র। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের এনআইডি পাওয়ার কথা নয়। তারপরও তারা এনআইডি পেয়েছে; তা দিয়ে পাসপোর্ট করে বিদেশেও গেছে। কারও জাতীয়তা প্রমাণের জন্য কিংবা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় তথ্যের ওপরেই নিবন্ধন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদত্ত সার্টিফিকেট কিংবা জন্মনিবন্ধনই প্রাথমিক ভরসা। এগুলো ইউনিয়ন পরিষদে গেলেই সহজে পাওয়া যায়; এখানে তেমন যাচাই-বাছাই করা হয় না বিধায় ভুয়া সনদ পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে যখন জাতীয় পরিচয়পত্র করা হয়, তখন আমরা খবর পেলাম রোহিঙ্গারা এনআইডি নিচ্ছে বা ভোটার হচ্ছে।
সমকাল: রোহিঙ্গারা যাতে এনআইডি না পায়, তখন আপনারা কী পদক্ষেপ নেন?
এম সাখাওয়াত হোসেন: আমরা যখন খবর পাই রোহিঙ্গারা ভোটার হচ্ছে, তখন ইসি তদন্ত করে ২০-২৫ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন বাতিল করে। ২০০৯ সালে তখন আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে সিদ্ধান্ত নিই, রোহিঙ্গা বসবাসকারী এলাকাগুলো বিশেষভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এর পর বিশেষ ফরম ও কমিটির মাধ্যমে সেখানে ভোটার করে ইসি। সাধারণত বিশেষ কমিটি অনুমোদন না করলে ওইসব এলাকায় কাউকে ভোটার করা হয় না। Continue reading

‘নিউ নরমাল’ ভুবনে ‘প্রমোশন’ ভ্রান্তি?

দেশে করোনায় সীমিত পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সর্বত্র অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ‘অটো পাসে’র পর সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রেও বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে ‘প্রমোশনে’র চিন্তা করছে বলে সংবাদমাধ্যমের তরফে আমরা জানছি। অবশ্য পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত কাঙ্ক্ষিতই ছিল। আগস্টের শেষ সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হয়- এ দুটি ‘পাবলিক’ পরীক্ষার বদলে শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এখন সেই বার্ষিক পরীক্ষাই যদি না হয়, তবে তাদের মূল্যায়ন হবে কীভাবে?

করোনা পরিস্থিতি আমাদের অজানা নয়। এ দুর্যোগের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত সাধারণ ছুটিতে দেশে লকডাউনের মতো পরিস্থিতি ছিল। এরপর সীমিত পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সর্বত্র অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি দফায় দফায় বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। যদিও করোনা সে অর্থে নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তার পরও ‘নিউ নরমাল’ তথা নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সবই যখন চলছে, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ থাকছে- এ প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, অনেক দেশেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। Continue reading

ভোক্তাবিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় দরকার- গোলাম রহমান

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের আগে তিনি বাণিজ্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ষাটের দশকের শেষের দিকে গোলাম রহমান সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন
সমকাল: মঙ্গলবার খাদ্যমন্ত্রী ১৫ দিন আগের দরে চাল বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের মনে আছে, ২০১৭ সালে হাওরে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় উঠেছিল। এরপর এবার সেটা ৪৮ টাকা দেখছি।
গোলাম রহমান: মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কারও ঘোষণা বা আদেশ দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। বাজার নিয়ন্ত্রণের একটাই উপায়, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা। চালের বাজারের জন্যও একই কথা। চালে এবার আমাদের ২০১৭ সালের মতো অবস্থা তৈরির সুযোগ আছে বলে মনে করি না।
সমকাল: তাহলে চালের এই বাড়তি মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী?
গোলাম রহমান: প্রথম কথা হলো, চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন নিঃসন্দেহে। স্বাধীনতার সময় যে জনসংখ্যা ছিল এখন তার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হলেও আমরা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ফসলের ফলন বাড়িয়ে চালে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। সবাই দেখেছে, দুর্যোগের মধ্যেও এবার চালের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে দফায় দফায় চালের মূল্য বৃদ্ধি আমার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় না। সরকার চালকল মালিকদের অসহযোগিতার কারণে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। আরেকটা কারণ আমার মনে হয়, করোনাভাইরাসের মধ্যে যারা গ্রামে ফিরে গেছে, তাদের অনেকেই বেশি করে চাল কিনে মজুদ করেছে।
সমকাল: আপনি চালকল মালিকদের অসহযোগিতার কথা বলেছেন, সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি এসেছে। Continue reading