Monthly Archives: সেপ্টেম্বর ২০২০

বিসিএসের চেয়ে জীবন অনেক বড়-ড. মোহাম্মদ সাদিক

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক সিভিল সার্ভিসে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। তিনি শিক্ষা সচিব ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র ড. সাদিক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘সিলেটি নাগরী লিপির’ ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জন্ম ১৯৫৫ সালে সুনামগঞ্জে। লেখালেখিতে সক্রিয় ড. মোহাম্মদ সাদিক ২০১৭ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন

সমকাল: আপনি পিএসসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগের তুলনায় যে জনআস্থা ও বিশ্বাস আমরা দেখছি তার কারণ কী বলে আপনি  মনে করেন?

ড. মোহাম্মদ সাদিক: আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি যারা বাইরে আছেন আপনারা দেখবেন। পিএসসি পরীক্ষা ও ফল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী সুপারিশের কাজ করে। কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য আমাদের বিজ্ঞ সদস্যবৃন্দ, পিএসসির সচিব ও সংশ্নিষ্ট সবাই মিলে আমরা একটি টিম হিসেবে কাজ করেছি। এখানে প্রশ্নকারী, মডারেটর, পরীক্ষক, নিরীক্ষক, পরিদর্শক এবং ভাইভা বোর্ডে যারা থাকেন, সবাই মিলেই কাজটি সম্পন্ন হয়। Continue reading

সাইকেলের ‘স্বর্ণযুগে’ আমাদের দুর্দশা

আলাদা লেন না থাকায় ঢাকায় সাইকেল চালানো যেমনি কঠিন, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও

করোনাদুর্যোগের সুযোগ হিসেবে সাইকেলের আলোচনা স্পষ্ট। সংবাদমাধ্যমে ইতোমধ্যে আশাজাগানিয়া কিছু খবর আমরা দেখেছি। সমকালের খবর- ভরসা দিচ্ছে দুই চাকার যান। প্রথম আলো বলছে- করোনায় ঘুরছে বাইসাইকেলের চাকা। করোনা থেকে বাঁচতে গণপরিবহনের বদলে অনেকেই সাইকেলে ঝুঁকছেন; এ সময়ে সাইকেলের বিক্রি বেড়েছে; ব্যবসায়ী ও সাইকেল উৎপাদনকারীদের বক্তব্য, কেবল দেশেই সাইকেলের চাহিদা বাড়েনি, বিদেশেও সাইকেল রপ্তানির আদেশ বাড়ছে। এটি সাইকেলের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর। কিন্তু সাইকেলের সুযোগ বাড়লেও ব্যবহার কতটা বাড়বে সে শঙ্কা রয়ে গেছে নানা কারণেই। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় বড় শহরে চাইলেই দুই চাকার এ বাহনটি স্বাচ্ছন্দ্যে চালানো সম্ভব নয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকের পক্ষেই সাইকেল চালানো সম্ভব হয় না। নিয়মিত সাইকেল আরোহী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা বলছে, আলাদা লেন না থাকায় শহরে সাইকেল চালানো যেমনি কঠিন, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও বটে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে সাইকেলকে অগ্রাধিকারে রেখে যেভাবে করোনা ও পরিবহন- দুই সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে আমাদের দেশে তা দেখা যায়নি বললেই চলে। অন্তত প্রতিবেশী কলকাতার উদাহরণও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। সেখানে কিছু সড়কে নিরাপত্তার কারণে সাইকেল চালানো বন্ধ ছিল। জুন মাসে কলকাতার সড়কে সাইকেল চালানোর অনুমতি দেয় পুলিশ। বাসের ঠাসাঠাসি ভিড়ে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা থেকেই শহরের রাস্তায় সাইকেলে ছাড় দেওয়া হয় কলকাতায়। সেখানে সাইকেল বিক্রি দুই-তিন গুণ বেড়ে গেছে। এমনকি সম্প্রতি সরকারি উদ্যেগে স্বল্প খরচে নিউ টাউন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদ (এনকেডিএ) মানুষের জন্য সাইকেল শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে কলকাতায় সাইকেল লেন তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে কলকাতা পৌরসভা, কলকাতা পুলিশ ও পরিবহন দপ্তর। Continue reading

প্রকল্প ও দিবসনির্ভর সাক্ষরতা

করোনাদুর্যোগের মধ্যেই এবারের সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য বহুমুখী। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোও বিষয়টি ধরে দিবসটির প্রতিপাদ্য করেছে- ‘কভিড-১৯ সংকট :সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’। অর্থাৎ করোনার নতুন পরিস্থিতিতে সাক্ষরতা শিক্ষায়ও পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখবেন শিক্ষক বা শিক্ষাবিদরা। বলাবাহুল্য, দেশে সাক্ষরতার যতটুকু অর্জন, সেখানে শিক্ষকরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে এসেছেন। আর সাক্ষরতার হার বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবদানই বেশি। রোববার সাক্ষরতা দিবসের সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪.৭ শতাংশ। গত এক বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। সাক্ষরতার হার নিয়ে বেসরকারি তথ্যে অমিল থাকলেও সরকারি হিসাব অনুযায়ীই চার ভাগের এক ভাগ মানুষ এখনও নিরক্ষর।

অথচ সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপর অর্ধযুগ পার হলেও আমরা শতভাগের কাছে যেতে পরিনি। এখানে ব্যর্থতা প্রকল্পের। সাক্ষরতা সংক্রান্ত দুটি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হলেও সেগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়নি বলেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। অবশ্য সাক্ষরতার যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, সেগুলোর ফলও সন্তোষজনক নয়। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষকে সাক্ষর করতে ২০১৪ সালে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া চলমান ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (৬৪ জেলা)’ ফলও হতাশাজনক। ৩ সেপ্টেম্বর সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে, চার বছরের এই প্রকল্প দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছর করলেও সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে বিশেষ কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে সংসদীয় কমিটি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ একে ‘ব্যর্থ’ প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংসদীয় কমিটি প্রকল্পটির মেয়াদ আর না বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন নেওয়ার পরামর্শ দিলেও মুজিববর্ষের কথা বলে প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয় দফায় ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেখার বিষয়, এই প্রকল্প আর কতদূর যায়। Continue reading

পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বন্ধ হোক- ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন ও ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছাড়াও তিনি উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ছাত্র কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ পিএইচডি করেছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই) থেকে। তিনি ২০০৯ সালে দারিদ্র্য বিমোচনে একুশে পদক লাভ করেন এবং ২০১০ সালে সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন

সমকাল : আপনি ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকার শিক্ষানীতি সংশোধন, পরিমার্জন ও সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ :সময়ের প্রয়োজনে সবকিছুর পরিবর্তন হতে পারে। শিক্ষানীতির ভূমিকায় আধুনিক মানসম্মত শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। যেটি সময়ের দাবি অনুযায়ী, বাস্তবতার নিরিখে পরিমার্জন করা যেতেই পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের আগে আমরা যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করেছি। আগের সব শিক্ষা কমিশন ও কমিটির প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা ছাড়াও শিক্ষানীতির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সব অংশীজন যথা শিক্ষক, শিক্ষা ব্যবস্থাপক, প্রশাসক, সংশ্নিষ্ট সংগঠনসহ যতদূর সম্ভব সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলা হয় এবং ওই সময়ের বাস্তবতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দক্ষ মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন করা হয়। এখন যারা শিক্ষা বিষয়ে সরকারে দায়িত্বে আছেন, তারা হয়তো ভাবছেন শিক্ষানীতিটি সংশোধন করা দরকার। তবে মনে রাখা জরুরি, শিক্ষা এমন একটি বিষয়, এ নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই। কারণ সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। Continue reading