Monthly Archives: নভেম্বর ২০১৯

অধ্যক্ষ বড় বাঁচা বেঁচেছেন…

অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় রাস্তায় নেমেছেন রাজশাহী পলিটেকনিকের শিক্ষকবৃন্দ

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বড় বাঁচা বেঁচেছেন। সাঁতার জানায় তিনি প্রাণে বেঁচেছেন, এটা তার সৌভাগ্য। কিন্তু এ বাঁচা তো আসলে ‘বাঁচা’ নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে তার জন্য এর চেয়ে বড় অপমানের বিষয় আর কী হতে পারে। তারই শিক্ষার্থী দ্বারা তিনি নিগৃহীত হয়েছেন। আসলে এটি তার নয়, আমাদেরই অপমান। লজ্জায় আমাদের মাথা নুইয়ে আসে। এ সমাজ বরাবরই শিক্ষকের সম্মান বজায় রাখতে ব্যর্থ। পুলিশের হাতে শিক্ষক মার খান রাজপথে, ক্যাম্পাসে ছাত্রের হাত থেকেও নিস্তার নেই! আমরা দেখেছি, এ বছরেরই মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হন শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মাসুদুর রহমান। এভাবে উদাহরণের শেষ নেই। রাজশাহীর ঘটনাটি এরই যেন পুনরাবৃত্তি।

রাজশাহী পলিটেকনিকের অধ্যক্ষকে যেভাবে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী টেনেহিঁচড়ে পুকুরে ফেলেছে, তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে আমরা হতবাক হয়েছি। কতটা বেপরোয়া হলে অন্যায় আবদারের কাছে নতিস্বীকার না করায় একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন ন্যক্কারজনক আচরণ করা সম্ভব? ঘটনাটি যে কারণে ঘটেছে, তাতে আমাদের বিস্ময় আরও বেড়েছে। একজন অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন। সঙ্গত কারণেই অধ্যক্ষ শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপস্থিতি না থাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দিয়ে তাদের অভিভাবকসহ বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। সংবাদমাধ্যমসূত্রে আমরা জেনেছি, ঘটনার দিন (২ নভেম্বর) সকালে তাদের মধ্যে অন্যতম কামাল হোসেন সৌরভ, যিনি মিডটার্ম পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন এবং শ্রেণিকক্ষেও তার প্রয়োজনীয় উপস্থিতি নেই। তবে তার পরিচয় তিনি রাজশাহী পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। Continue reading