Monthly Archives: ডিসেম্বর ২০১৮

একাত্তরের যুদ্ধশিশু

যুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যতম ছিল নারী নির্যাতন। এর ফলে জন্ম নেয় যুদ্ধশিশু। আমাদের মহান বিজয় দিবসে শহীদদের সঙ্গে বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদেরও স্মরণ করি। কারণ যুদ্ধশিশু নিজেরাই মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য দলিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধশিশুদের নিয়ে আলোচনা কমই দেখা যায়। এমনকি যারা এ নিয়ে গবেষণা করেছেন, তারাও যুদ্ধশিশুর সংখ্যা, অবস্থান ইত্যাদি নিয়ে সরকারি তথ্য-উপাত্ত যথেষ্ট পাননি। ফলে তাদের স্বীকৃতির ব্যাপারটিও জোরালোভাবে সামনে আসেনি। উল্টো যেটা ঘটেছে, অনেক সময় যুদ্ধশিশুরা বিদেশ থেকে আমাদের দেশে ঘুরে যায়; যেন তারা ‘অপরিচিত’।

১৩ ডিসেম্বর সমকালে ‘যুদ্ধশিশুদের কে দেবে স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর আগের দিন জাতীয় জাদুঘরে এ-সংক্রান্ত আলোচনা সভায় বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। সভায় আলোচকরা যথার্থই বলেছেন, যুদ্ধশিশু বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। সুতরাং তাদের স্বীকৃতি দেওয়াসহ তারা কে কোথায় রয়েছেন, তা জানা প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের পর অনেক যুদ্ধশিশুকেই দেশের বাইরে দত্তক দেওয়া হয়। যুদ্ধশিশু ঠিক কতজন ছিল, তা নিয়ে সঠিক তথ্য নেই। তবে উইকিপিডিয়ায় এ সংখ্যা ১০ হাজারের কথা এসেছে। বাংলাদেশের যুদ্ধশিশুদের দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম এগিয়ে আসে কানাডা। মাদার তেরেসা ও তার মিশনারিজ অব চ্যারিটির সহকর্মীদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুটি কানাডীয় সংগঠন দত্তক গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। এভাবে বিভিন্ন দেশে তারা আশ্রয় গ্রহণ করে।

বলাবাহুল্য, একাত্তর সালের যুদ্ধশিশু এখন কিন্তু শিশু নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বয়সও ৪৭ বছর। তাদের অনেকেই বিভিন্ন দেশে নানাভাবে হয়তো প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন দেশে থাকলেও তাদের মূল কিন্তু বাংলাদেশেই। তাদের অনেকেই নিশ্চয় নিজের ‘মা’কে চেনে না। দেশে এলে জননী বা বসতভিটার দেখা পাওয়ারও কথা নয়। সেটা তাদের জন্য বেদনার বিষয়ই বটে। Continue reading

মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াই

মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন জীবনযাপন আমাদের অধিকার। এটাই মানবাধিকার। মানবাধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা যেমন আমাদের সংবিধান দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবেও নানা উদ্যোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার বিষয়টি আসবে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যেই ১৯৪৮ সালে তৎকালীন বিশ্বনেতৃবৃন্দ মানবাধিকারের অসাধারণ এ দলিল রচনা করেন। আজ বিশ্বব্যাপী তারই ৭০ বছর পালিত হচ্ছে। মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ এ বছর সমতা, ন্যায় ও মানব মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্বে প্রতিনিয়ত নানাভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দেশেও মানবাধিকার পরিস্থিতি তথৈবচ। আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তার ওয়েবসাইটে সংবাদপত্রের হিসাব অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে। তাতে ২০১৭ সালে দেখা যাচ্ছে, হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৪১৩। এর বাইরে আলাদা করে শিশুহত্যা ২৩১। এ ছাড়া ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতার মাধ্যমে (সংখ্যাটি যথাক্রমে ৬০৫, ২৯৯, ৫৪০) মানবাধিকার যেমন লঙ্ঘিত হয়েছে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি, গুম, নিখোঁজ, অপহরণ, শ্রমিক মৃত্যু ও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যাও স্পষ্টভাবে (যথাক্রমে ১৯৮, ১৫৪, ২২, ৫১, ২৩৩, ১৬৫ ও ১৪০) এসেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা একেকটা শিউরে ওঠার মতো। সংখ্যা যা-ই হোক, আমরা মনে করি, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা ভয়ঙ্কর। আর এখানে শুধু সংবাদমাধ্যমে যা এসেছে তা-ই দেখানো হয়েছে। এর বাইরেও যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আবার আমরা যদি মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা দেখি, তাতে আরও অনেক বিষয় যোগ হবে, যেখানে মানবাধিকার ঠিকভাবে রক্ষা হচ্ছে না। যেমন শিক্ষার অধিকার এখনও সবার জন্য নিশ্চিত হয়নি; মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা বাধা; ধর্ম ও বর্ণের কারণে বৈষম্যও রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয়-সামাজিক নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য, চিকিৎসাসেবাও সবার জন্য নিশ্চিত হয়নি। Continue reading