Monthly Archives: অক্টোবর ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও আমাদের দায়ভার

কার্জন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবেই নয় বরং নানা কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির আশা-আকাঙ্খার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। জ্ঞানচর্চার বাইরেও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অন্যায়ের প্রতিবাদের কেন্দ্র হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি যেভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে তাতে দেশের মানুষের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যখনই খারাপ কিছু ঘটে আমরা ব্যথিত হই।  নানাদিক থেকেই অতীতের সঙ্গে তুলনা করে অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অবনতি’ দেখেন। সেটা ধরেও বলা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর গৌরব, গরিমা, ঐতিহ্য, দাপট এখনও অটুট, অক্ষুণ্ন। তবে সম্প্রতি তাতে চির ধরেছে সে মন্তব্য করাও অমূলক নয়।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির ঘ ইউনিটের ভর্তির পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রশ্ন ফাঁসের কারণে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিবাদের প্রতীক তার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ হয়েছে, এখনও হচ্ছে। প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন’স কমিটির সভায় আবারও ঘ ইউনিটের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত  হয়। কিন্তু জটিলতা এখনও কাটেনি, কারণ যতটুটু জানা যাচ্ছে, আগের পরীক্ষায় পাসকৃত কেবল ১৮ হাজার শিক্ষার্থীরই পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তাতে বাদ পড়বে ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী। তবে ঘটনা যা-ই ঘটুক ডিন কমিটির এ সিদ্ধান্তে এটাই স্পষ্ট যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন ফাঁস স্বীকার করেছে এবং আমলে নিয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়েছেন। এটা খুবই লজ্জার, যখন আমরা দেখলাম ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পরেও ফল প্রকাশ করা হয়। প্রথমে পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত, তদন্ত কমিটি গঠনসহ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটিতেই ফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, এবার ৯ টা ১৭ মিনিটে ফাঁস হয়েছে; ক্রমান্বয়ে ক্লোজ ফ্রেমে নিয়ে আসবেন।

ফল ঘোষণার সিদ্ধান্ত কেউ মেনে নিতে পারেনি। সবাই দাবি করেছিলো- ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ও ঘোষিত ফল বাতিল করতে হবে, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার এবং ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ করতে হবে। Continue reading

তদবির কাজ না অ-কাজ

বিজ্ঞানী নিউটনের দেওয়া গতির তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্রিয়ারই প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কাজের ক্ষেত্রে নিউটনীয় এ বিখ্যাত সূত্র বাস্তবায়ন হওয়াই তো সার্থকতা! আপনি সারাদিন দেয়াল ধাক্কালেন, এক চুলও নাড়াতে পারলেন না। আপনি আসলে কোনো কাজই করলেন না। আপনার এ প্রচেষ্টাকে বিজ্ঞান কাজ বলে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। এ রকম যেসব কাজে ফল নেই, তা আপনি কেন করতে যাবেন? মঙ্গলবার সমকালের প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘তদবিরে বদলায় সিদ্ধান্ত’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি পড়ে তা-ই ভাবছিলাম। তদবির তো এক বড় কর্ম! আহা কত মানুষের হাত-পা ধরতে হয়, অনুনয়-বিনয় করতে হয়, কোথাও অর্থ ঢালতে হয়, এর সঙ্গে জুতা ক্ষয় তো আছেই। এত কিছুর পরও যদি তাতে ফল না হয়, সে এক হতাশার কথা। না, এখানে হতাশ হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। কারণ কাজের ফল হয়েছে, তদবিরে বদলেছে সিদ্ধান্ত (!)।

জনপ্রশাসনে বদলি নিয়ে যে কত ধরনের তদবির রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। কোথাও টাকা, কোথাও মামা-চাচা, কোথাও ক্ষমতা আবার কোথাও উচ্চপদস্থদের ধরে তদবির হয়। এসব বিবেচনায় যার তদবির যত শক্তিশালী, তারটাই কাজে আসে। বদল হয় সিদ্ধান্ত। আশ্চর্যই বটে, সেদিন ফেসবুকে দেখা গেল একজন পোস্ট দিয়েছে, স্যারের (প্রশাসনের কর্মকর্তা) বদলি আমাদের কষ্ট দিয়েছে, এমন পরোপকারী মানুষ আর হয় না ইত্যাদি। আবার ক’দিন পরই তিনি জানাচ্ছেন, স্যারের বদলি স্থগিত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। Continue reading

মানুষের ভিড়ে একা!

চারদিক লোকে লোকারণ্য। যেখানেই যাওয়া যাক মানুষের ভিড়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানো কিংবা হারিয়ে যাওয়ার অবস্থা। শহরে তো গিজগিজ করছে মানুষ; বাসে পা ফেলার জায়গা নেই; হাসপাতালে মানুষের অভাব নেই; ব্যাংকে লম্বা লাইন; রেস্টুরেন্টে বসার জায়গা নেই। সর্বত্র মানুষ আর মানুষ। অথচ এই মানুষের ভিড়ে আমরা ভীষণ একাকী। সবাই দৌড়াচ্ছে, যে যার কাজে, পাশের জনকে দেওয়ার মতো সময় নেই; প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়ার ফুরসত নেই; রাস্তায় বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যে আসার অবস্থা নেই। স্ত্রী-সন্তানকে সময় দেওয়ার অবকাশ ও প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার উপায় নেই। সবাই চলছে যে যার মতো। এই একাকিত্বে বয়সেরও বালাই নেই।
আমরা ভাবি, হয়তো বৃদ্ধ, পঁচাত্তরোর্ধ্ব মানুষই একাকিত্ব বোধ করে। কিন্তু না; ১ অক্টোবর বিবিসি প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীরাই বেশি একাকী থাকে। ‘আই অ্যাম সারাউন্ডেড বাই পিপল, বাট ফিল সো লোনলি।’ অর্থাৎ আমার চারপাশে মানুষ, কিন্তু আমি ভীষণ একাকিত্ব বোধ করি- শিরোনামে বিবিসির ওই প্রতিবেদনটি মূলত বিশ্বব্যাপী দুই শতাধিক দেশের মানুষের ওপর করা জরিপের ফল। বিশ্বব্যাপী ৫৫ হাজার মানুষের ওপর করা এই জরিপটি এমন দিনে প্রকাশ হলো, যেদিন ছিল বিশ্ব প্রবীণ দিবস। সমাজে নানাভাবে প্রবীণরা উপেক্ষিত। নানা কারণে তাদের অনেক সময় একাকিত্বে কাটাতে হয়। আমাদের পূর্বসূরি শ্রদ্ধেয় মানুষের প্রতি সবার কর্তব্য আছে, সেটা ঠিক। কিন্তু বিবিসি যেটা দেখাচ্ছে, আমাদের নতুন প্রজন্মই বেশি একাকিত্বে ভুগছে। সেটা একটি সংকেতও বটে।

Continue reading