Monthly Archives: সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলোর আন্তর্জাতিকতা

বাংলো শুনলে আমাদের মানসপটে সেই বিশেষ ঘর বা বাড়ির চিত্র উঠে আসে, যেটি উচ্চপদস্থদের বাসগৃহ। বাংলা একাডেমির অভিধানে বাংলো শব্দের অর্থ দেওয়া আছে- চওড়া বারান্দাযুক্ত একতলা বাড়িবিশেষ; বিশেষ আদলে তৈরি বাড়ি; গ্রামবাংলার সম্পন্ন গৃহস্থের বাইরের বৈঠকখানা; পদস্থ চাকুরেদের সরকারি বাসগৃহ ইত্যাদি। বাস্তবে নানা জায়গায় আমরা দেখি, সরকারি জেলা-উপজেলার ডাকবাংলো। বিশিষ্ট কারও বাংলো। এই যে বাংলো, যাকে বাংলা হিসেবেও অভিহিত করা হয়; অনেকে ভাবতে পারেন, এই অভিধাটি বুঝি কেবল বাংলাদেশ কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ। বিষয়টি তা নয়। ৯ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান তাদের লাইফ অ্যান্ড স্টাইল বিভাগে ফিচারধর্মী একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে; শিরোনাম- দ্য রাইজ অব দ্য বাংলো: ‘পিপল ক্যান বি স্নোবিশ, বাট এটিটুডস আর চেঞ্জিং’। বোঝাই যাচ্ছে, প্রতিবেদনটি ইংল্যান্ডে বাংলোর সংখ্যা বৃদ্ধির কথা বলছে। প্রতিবেদনটির সূচনা বেশ চমকপ্রদ। যেটি বলছে, বাংলো শব্দটি এসেছে হিন্দি ‘বাংলা’ হতে। যার অর্থ বাংলা সংশ্নিষ্ট। ঔপনিবেশিক শাসনামলে এর প্রচলন হয়। ব্রিটিশদের রাজত্বের সময় প্রশাসকদের বাংলোতে এসে করদাতারা বড় বারান্দায় বসত। বারান্দা চা-চাষি কিংবা তাদের ভৃত্যদেরও বসার স্থান ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলের সেই বাংলোই ইংল্যান্ডে বাংলো প্রচলনের মূল কারণ।

বাংলাদেশের বাইরে বাংলো আজ কেবল ইংল্যান্ডেই সীমাবদ্ধ নয়; অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকারও বাংলোর কথা বলছে উইকিপিডিয়া। এদের অধিকাংশের গঠনই বাংলাদেশের বাংলোর আকৃতির। এটি সাধারণত একটি বড় কটেজের মতো। যেটি একতলা কিংবা দোতলাবিশিষ্ট। সামনে থাকছে লম্বা করিডোর। Continue reading

কাগজ-কলমের সম্পর্ক!

চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক আপাতদৃষ্টিতে কাগজ-কলমের। রোগী অসুস্থ হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র লেখেন। ব্যবস্থাপত্রে রোগের বিবরণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধপথ্যের বিস্তারিত লিখে থাকেন। চিকিৎসকের সঙ্গে অল্প সময়ের সাক্ষাতের পর সুস্থতায় পরবর্তী পদক্ষেপে ব্যবস্থাপত্রই ভরসা। স্বাভাবিকভাবেই সে ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন হওয়া উচিত সহজ-সরল, সাবলীল ও বোধগম্য। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় রোগী ব্যবস্থাপত্র বোঝেন না; এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত অন্যরাও বোঝেন না। দেখা গেল, চিকিৎসক এক ওষুধ লিখলেন আর ফার্মেসি থেকে দেওয়া হলো ভিন্ন ওষুধ। তা কারও মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এ অসুবিধার জন্য গত বছরের শুরুতে আদালত থেকে রায় আসে পরিস্কার হস্তাক্ষরে ব্যবস্থাপত্র লিখতে।
বলা বাহুল্য, ব্যবস্থাপত্র সমস্যা শুধু আমাদেরই নয়। আন্তর্জাতিক সমস্যা। এমনকি যে ইংরেজিতে ব্যবস্থাপত্র লেখা হয়, সে ইংরেজির পীঠস্থান খোদ ব্রিটেনেও সম্প্রতি এ নিয়ে নির্দেশনা জারি হয়েছে। Continue reading

ডেল্টা পরিকল্পনায় বাংলাদেশের পাশে নেদারল্যান্ডস

বাংলাদেশের সদ্যবিদায়ী ডাচ্ রাষ্ট্রদূত লিওনি কুয়েলিনায়ের নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওয়েবসাইট নেক্সটব্লুর সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের পরিবেশ, পানি, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন ও এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা বিষয়ে

নেক্সট ব্লু :বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে পানি বিষয়ক সহযোগিতা অনেক দিনের। এর অর্জন কী?

লিওনি কুয়েলিনায়ের :হ্যাঁ, অনেক দিনের। শুরুটা হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। ১৯৫৩ সালে যখন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) বন্যা হয়, তখন দু’দেশের প্রকৌশলীরা একত্রে কাজ করেন। সেটাই ছিল শুরু। এখনও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রকৌশলী নেদারল্যান্ডসের ডেলফটে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার এডুকেশন-আইএইচইতে কাজ করছেন। ২০১৪ সালেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেদারল্যান্ডসকে পুনরায় দুর্যোগে সহায়তা করার অনুরোধ জানান। এবারের কাজ বন্যা মোকাবেলা ও নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থাপনা তথা ডেল্টা প্ল্যান।

বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যানকে ডাচ্‌ ডেল্টা প্ল্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ডাচ্‌ ডেল্টা প্ল্যান ২০০৮ সালে ভিরম্যান কমিশন প্রণয়ন করেছিল। বলা চলে, উভয় ডেল্টা প্ল্যানের উদ্দেশ্য একই রকম :নিরাপদ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ব-দ্বীপ গড়ে তোলা। যদিও দু’দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক। প্রতি বছর দেশটিতে ২০ লাখ মানুষ বাড়ছে। যা হোক ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত দিক থেকে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান বা এই ব-দ্বীপের পরিকল্পনা খুব জরুরি। কারণ আমরা দেখি, উপকূলীয় এলাকার অনেক গ্রাম প্রায়ই বন্যার পানিতে ভেসে যায়। লবণাক্ততা ও পানি জমে থাকার কারণে সেখানকার কৃষিজমি অনুর্বরহয়ে পড়ে। Continue reading

শাওনের স্মারক

শারীরিকভাবে যারা নানা ধরনের অক্ষমতার শিকার, তাদের অনেকেই প্রতিবন্ধকতা জয় করে নানাভাবে সমাজে অবদান রাখছেন। অনেকক্ষেত্রেই তারা ভালো করছেন। আমরা দেখেছি, পা দিয়ে লিখে কীভাবে শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পাচ্ছে; দু’চোখ হারিয়েও স্বউদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান দিয়ে মানুষের কর্মসংস্থান করছে; পা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অদম্য মানুষ দাপিয়ে বেড়ায় মানুষের জন্য; খেলাধুলায় অনেক শারীরিক প্রতিবন্ধীর দক্ষতা বিস্ময়কর। খেলার দিক থেকে আমাদের দেশে বর্তমানে ক্রিকেট অত্যন্ত জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবস্থান শক্তিশালী। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসির র‌্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান ৭। এমনকি আমাদের প্রতিবন্ধীরাও ক্রিকেটে ভালো খেলছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা দেশে গিয়ে তারা সে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে। এমনি এক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার মো. শাওন সিকদারের খবর দিয়েছে শুক্রবারের সমকাল। যদিও খবরে তিনি এসেছেন অন্যভাবে। ‘প্রতিবন্ধী দলের ক্রিকেটার চালাচ্ছেন ইজিবাইক’ শিরোনামের খবরে পিরোজপুরে ইজিবাইক চালানো অবস্থায় শাওনের ছবিও প্রকাশ হয়েছে। শাওন জাতীয় প্রতিবন্ধী দলের কৃতী ব্যাটসম্যান ও উইকেটকিপার। প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের নিয়ে মেধা অন্বেষণে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। এই গত জুলাইয়েই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ফিজিক্যাল ডিজঅ্যাবিলিটি ট্রাই ন্যাশন টি২০ সিরিজও খেলেন তিনি। ৮ জুলাই সেখানে শুরু হওয়া সিরিজে শাওন ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচ খেলে ১২৯ রান করেন। এ সিরিজে শাওন একটি ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং ম্যান অব দ্য সিরিজ হন।

Continue reading

সাগর দূষণ

বঙ্গোপসাগর আমাদের এক আবেগের জায়গা, বিশেষ করে সমুদ্রসীমার বিরোধ মিটে যাওয়ার পর আমাদের স্বপ্নের ডালপালা আরও গজাচ্ছিল। বঙ্গোপসাগরের তলদেশ গ্যাস, পেট্রোলিয়ামসহ নানা খনিজসম্পদে ভরপুর। আমাদের মাছের জোগানের উল্লেখযোগ্য অংশ আসছে বঙ্গোপসাগর থেকেই। আমাদের নদীগুলোর মতো বঙ্গোপসাগরেও দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। নদী দূষণের মতো সাগর দূষণেরও অন্যতম কারণ প্লাস্টিক। প্রতিদিন যে বর্জ্য তৈরি হয়, তার প্রায় ১০ ভাগ প্লাস্টিক। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী পাঁচশ’ বিলিয়ন পল্গাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। যার মধ্যে প্রায় ৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক সমুদ্রে পতিত হয়। এখানেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ফলে সমুদ্রচারী পাখি ও সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। সাগরের প্রতিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আমাদের কোনো না কোনো স্থানে ফেলে দেওয়া চিপসের প্যাকেট কিংবা প্লাস্টিকের বোতল শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হিসেবে খুঁজে নিচ্ছে সমুদ্রকে।

তাছাড়া চট্টগ্রামে সমুদ্র উপকূলীয় জাহাজ ভাঙা শিল্পের ইয়ার্ডগুলো থেকে হেভি মেটাল, জ্বালানি তেলের বর্জ্যসহ নানা ক্ষতিকর পদার্থ সমুদ্রের পানিতে মিশছে, যা সামুদ্রিক মাছের প্রজনন, মাছের পোনার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জাতের মাছের বংশ ধ্বংসে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। সেই সঙ্গে সমুদ্রের মাছেরা সমুদ্রতলের যেসব উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল, সেসব উদ্ভিদও ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তার ওপর মাছ ধরার জাহাজ ও ছোট যান্ত্রিক নৌকাগুলো বঙ্গোপসাগরে আইএমও কনভেনশন লঙ্ঘন করে প্রতিনিয়ত সমুদ্রের পানিতে নানা বর্জ্য ফেলছে। এসব কারণে সাগর থেকে আহরিত মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। যেখানে ২০১০-১১ অর্থবছরে বঙ্গোপসাগর থেকে ৫৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন সামুদ্রিক মাছ আহরণের তথ্য মিলে, সেখানে বর্তমানে সামুদ্রিক মাছ আহরণের বার্ষিক পরিমাণ ২০-৩০ মিলিয়ন টনে নেমে এসেছে।

Continue reading