Monthly Archives: আগস্ট ২০১৮

তামাক সেবন কমবে কি?

বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে- এটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর। মঙ্গলবার আমরা জানতে পারছি- গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে বা গ্যাটস প্রকাশিত জরিপে বাংলাদেশে আট বছরে আট শতাংশ তামাকের ব্যবহার কমেছে। ধূমপায়ী অর্থাৎ বিড়ি-সিগারেটের মাধ্যমে তামাক গ্রহণ আর ধোঁয়াহীনভাবে অর্থাৎ গুল, সাদাপাতা, জর্দা প্রভৃতি তামাকজাত দ্রব্য সেবনের মাধ্যমে তামাক গ্রহণ করা হয়। এ জরিপে দেখা যায়, ২০০৯ সালে সার্বিকভাবে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার ছিল ৪৩.৩ শতাংশ। আর ২০১৭ সালে এ হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫.৩ শতাংশ। ২০০৯ সালে ৫৮ শতাংশ পুরুষ তামাক সেবন করত, ২০১৭-এ তা কমে ৪৬ শতাংশ। আর নারী তামাকসেবীর হার ২৮.৭ শতাংশ থেকে ২৫.২ শতাংশে নেমেছে।

বলা বাহুল্য, ধূমপানের কারণে ব্যক্তি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পরোক্ষভাবে অন্যরাও তার শিকার হয়। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা এক কোটি ৯২ লাখ। এটি মোট তামাকসেবীর প্রায় অর্ধেক হলেও এর প্রভাব বলা চলে দ্বিগুণ। যেমন এ পরিসংখ্যানেই দেখানো হয়েছে, ২০১৭ সালে নিজ বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন ৩৯ শতাংশ জনগোষ্ঠী। ২০০৯ সালে এ হার ছিল ৫৪.৯ শতাংশ। এখানেও উন্নতি ঘটছে বটে। ঘরের বাইরে কর্মক্ষেত্রে ও গণপরিবহনেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার মানুষের হার কমেছে। এটা বিস্ময়কর যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ নিজেরা ধূমপান না করেও ক্যান্সারসহ নানা ধরনের জটিল রোগের হুমকিতে রয়েছে। ধূমপান না করে যারা ধূমপায়ীর পাশে থাকছেন, তাদের বরং ক্ষতি আরও বেশি। Continue reading

হর্স পাওয়ার

শক্তি পরিমাপের একক হর্স পাওয়ার বা অশ্বশক্তি। অশ্ব বা ঘোড়ার ক্ষমতা কীভাবে শক্তি পরিমাপের একক হলো, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। সাধারণভাবে যেটা বলা হয়, ইংল্যান্ডে খনি থেকে কাঠের দুই সমান্তরাল লাইনের ওপর দিয়ে মানুষ কয়লা বোঝাই ওয়াগন টেনে নিয়ে যেত। পরে তাতে মানুষের বদলে জুড়ে দেওয়া হলো ঘোড়া। এতে কয়লা টানার গতি বাড়ল। গতি আরও বাড়াতে বাড়িয়ে দেওয়া হতো ঘোড়ার সংখ্যা। এক ঘোড়াকে বলা হলো ১ হর্স পাওয়ার বা ১ অশ্বশক্তি, ২ ঘোড়াকে ২ হর্স পাওয়ার। এভাবেই ঘোড়া থেকে তৈরি হলো হর্স পাওয়ার বা অশ্বশক্তির ধারণা। রোববার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে সে ‘হর্স পাওয়ার’ অভিধাটি কৌতূহলের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে প্রসঙ্গ যখন শিশু। হর্স পাওয়ার :গিভিং কিডস দ্য রাইড অব দেয়ার লাইফ। অশ্বশক্তি কীভাবে শিশুদের জীবনকে গতি দিচ্ছে, সেটিই প্রতিবেদনটির আলোচ্য বিষয়। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটন সেখানকার পিছিয়ে পড়া এলাকা। ব্রিক্সটনে রয়েছে ‘এবোনি হর্স ক্লাব’। এ ক্লাবের উদ্দেশ্য হলো, ঘোড়ায় চড়ার মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের মাঝে শিক্ষা ও প্রত্যাশার আলো জ্বালানো। পিছিয়ে পড়া এলাকাটিতে মানুষের মাঝে রয়েছে কুসংস্কার আর হতাশা, যে কারণে সেখানে বেকারত্বের হারও অস্বাভাবিক। এ পিছিয়ে পড়াদের এগিয়ে নিতেই কাজ করছে ঘোড়ার ক্লাবটি। সেখানে কেবল ঘোড়াতেই চড়ানো হয় না বরং তাদেরকে জীবন ইতিবাচক ধারণা দিয়ে সামাজিক কুসংস্কারমুক্ত করা হয়। ঘোড়ায় চড়ার মাধ্যমে সেখানে জীবন নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়; তেমনি ঘোড়ার সংস্পর্শে এসে অশ্বশক্তি বলীয়ান হয়ে জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় ক্লাবটি। গার্ডিয়ানের হর্স পাওয়ার লেখার রহস্য আসলে এখানেই। প্রতিবেদনসূত্রে ক্লাবটির ওয়েবসাইটে গিয়েও তার পরিচয় পাওয়া গেল। ক্লাবটির কার্যক্রমে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে, স্কুল-কলেজ ফেরত অনেকে উৎসাহিত হয়ে স্কুল-কলেজ তথা পড়াশোনায় যোগ দিয়েছে। অনেকে সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত হচ্ছে। Continue reading

আসাম : ঠিকানাবিহীন ৪০ লাখ মানুষ!

৩০ জুলাই প্রকাশিত আসামে জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন তথা এনআরসির চূড়ান্ত খসড়ায় বাদ পড়ে ৪০ লাখ মানুষ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে যখন ৪০ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন আমার মনে পড়ছে রাজা উশিনারার ঘটনা। ঘটনাটি মহাভারতের, যেটি আসলে একটি চমৎকার উদাহরণ যে, আমরা কীভাবে পোস্ট অফিসহীন মানুষের সঙ্গে আচরণ করব এবং তাদের রক্ষা করব।

ঘটনা হলো, একদিন এক ঘুঘু পাখি রাজা উশিনারার আদালতে আশ্রয় প্রার্থনা করে। পাখিটিকে একটি বাজপাখি দৌড়াচ্ছিল। রাজা বাজপাখিকে বলল, ঘুঘু পাখি তার আশ্রয়ে রয়েছে। সুতরাং তার দায়িত্ব হলো পাখিটিকে রক্ষা করা। উত্তরে বাজপাখি বলল, ঘুঘু হলো তার খাদ্য, তাকে না খেলে উপোস থাকতে হবে, সেটা সম্ভব নয়। তখন রাজা বলল, ঘুঘুর বদলে যে কোনো কিছু খেতে পার। কিন্তু বাজপাখি সিদ্ধান্তে অনড়, ঘুঘুই তার চাই। অবশেষে বাজপাখি বলল, আপনি যদি ঘুঘু পাখিকে রক্ষা করতেই চান, তাহলে আপনার শরীর থেকে কিছু গোশত দিন; তা আমি খাব। রাজা উশিনারা এ শর্তে রাজি হলেন এবং তার শরীরের গোশত থেকে বাজপাখিকে খেতে বললেন।

এ ঘটনার এক গভীর তাৎপর্য আছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আমরা বাংলাদেশি শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছিলাম। তারা হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মের মানুষই ছিল। যদিও আমাদের কাছে তাদের বড় পরিচয় মানুষ, মানুষ হিসেবেই আমরা তাদের সংকটে আশ্রয় দিয়েছিলাম। আর আজ আসামে খাঁটি ভারতীয়দের বাস নিশ্চিত করার জন্য আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি; তাতে ৪০ লাখ মানুষ এখন দেশে অবৈধ নাগরিক হয়ে গেছে। Continue reading