Monthly Archives: জুন ২০১৮

আসামের অভিবাসন রাজনীতি

নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধন বা এনআরসির মাধ্যমে আসামে খাঁটি ভারতীয় খোঁজা হচ্ছে!

ভারতবর্ষের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের অভিশংসন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লেখক ও দার্শনিক এডমন্ড বার্ক বলেছিলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে কথা বলা কঠিন আর চুপ থাকা অসম্ভব।’ আর আসামের ক্ষেত্রে এটা এমন নয় যে, ঘটেছে বরং অবধারিতভাবেই ঘটানো হয়েছে। কিংবা ঘটানোর প্রক্রিয়ায় ছিল। গত দশকে যেটা ঘটে গেছে, তাকে আমাদের চারদিকের অবস্থার আলোকে বোঝা দরকার। বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের আসামের নাগরিক নিবন্ধন বা এনআরসি ও তার রাজনীতির দিকে তাকাতে হবে।

আসামে আজ যা ঘটছে, তা বুঝতে ২০১৭ বা ২০১৮ সালের ঘটনাপ্রবাহ থেকে শুরু করলে হবে না, এ ক্ষেত্রে ১৯৮৩ সালের রক্তাক্ত সন্ত্রাসী ঘটনার কথা বলতে হবে, অথচ ওই ঘটনা কেউই স্মরণ করতে চান না।

যা হোক, ১৯৪৬ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আসামের রাজনীতিতে যখন কংগ্রেস প্রভাবশালী ছিল, তখন কংগ্রেসের বাঙালি সেটলারদের মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যারা সেখানে বিশ শতকের গোড়ার দিকে এসেছিল। এখন যে অভিবাসনের কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে নতুন বিষয় নয়, সেটাও প্রায় শত বছর আগের বিষয়। সে সময় অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়া হয়, তাদের থাকার জন্য ভূমি দেওয়া হয় এবং এর ফলে তারা কংগ্রেসকে ভোট দেয়। এর বিপরীতে জনপ্রিয় মত হলো, এগুলো রাজনৈতিক বা ক্যাডার বাহিনী দ্বারা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং রাজস্ব কর্মকর্তারা অভিবাসীদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

আমাদের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে অবশ্য জীবনধারণ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত আসামের দাঙ্গায় যাদের পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন, তারা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পাননি। তবে যারা পাঁচ হাজার করে ভারতীয় রুপি পেয়েছেন, তা ছিল সেসব মানুষের জন্য অপমানস্বরূপ, যারা তাদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের হারায়। তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করা হয়, এমনকি সেসব মানুষ বৃদ্ধ বয়সে এসেও আদালতে মামলা চালাচ্ছে।

Continue reading

‘স্বার্থপর’ দম্পতি

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে পরিকল্পনা প্রয়োজন

পৃথিবীতে সবাই একা আসে, একা যায়ও বটে; তারপরও কিন্তু মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে প্রত্যেকটি মানুষ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেক কাজই মানুষ একাকী করতে পারে না। অন্যজনের সাহায্য লাগে এবং অপরের সাহায্যেও এগিয়ে যাওয়া লাগে। এভাবেই মানুষের মাঝে বন্ধন তৈরি হয় সমাজে-রাষ্ট্রে। একজন আরেকজনের সেবায় যত এগিয়ে যায়, তিনি ততই মহৎ উপাধি পান। পরোপকারী মানুষের কথাই কবি বলেছেন- ‘সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’ এর বিপরীত চরিত্রের মানুষই স্বার্থপর। যারা কেবল নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। সমাজ-দেশ-দশের জন্য ভাবে না, কাজ করে না। স্বার্থপরের ইংরেজি সেলফিশ। বুধবার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জাপানের এক খবর দিয়েছে। শিরোনাম- চাইল্ডলেস কাপলস আর ‘সেলফিশ’ সেইজ জাপানিজ পলিটিক্যাল চিফ অর্থাৎ জাপানের প্রবীণ রাজনৈতিক বলেছেন, সন্তানহীন দম্পতিরা ‘স্বার্থপর’।

জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল তোশিহিরো নিকাই অবশ্য সেসব দম্পতিকে বলেছেন, যারা সন্তান নিতে ইচ্ছুক নয়। তিনি অধিক সন্তান নেওয়ার ওপর জোর দেন। বলা বাহুল্য, সন্তান নেওয়ার ব্যাপারে জোর তৎপরতার কারণ হলো দেশটিতে জনসংখ্যা ক্রমহ্রাসমান। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, দেশটিতে গত বছর জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ৯ লাখ ৪১ হাজার, যা ১৮৯৯ সাল থেকে তথ্য রেকর্ডে সর্বনিম্ন। বলা যায়, ১২ কোটি ৭০ লাখের অধিক জনসংখ্যার দেশ জাপানে এক বছরে শিশু জন্মেছে প্রায় সাড়ে নয় লাখ। ইন্টারনেট ঘেঁটে আমাদের গত বছরের তথ্যটি পাওয়া না গেলেও এ বছরের প্রথম দিনের তথ্য জানা গেছে। Continue reading

রোহিঙ্গাদের জন্য আশার বাণী নেই !

একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন তো রোহিঙ্গা শিশুদেরও প্রাপ্য

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী বসতি কক্সবাজার। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এ জেলায় গত বছর প্রথম সফরে আসি। তখন একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হই, যেটি শরণার্থীরা তৈরি করেছে। এ সাঁকো কয়েক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের পূর্ববর্তী শরণার্থী শিবিরের সঙ্গে নতুন ক্যাম্পের সংযোগ স্থাপন করেছে। সাঁকোটি এখানে শরণার্থীদের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পথ দিয়ে শরণার্থীদের ঘর তৈরির সামগ্রী, কম্বল, সোলার বাতি ইত্যাদি বিতরণ কেন্দ্র থেকে পুরনো শিবির হতে নতুন শিবিরে আনা-নেওয়া হচ্ছে। সাঁকোর নিচের পানিপ্রবাহ বৃষ্টি হলে যেন নদীতে পরিণত হয়। শরণার্থীরা প্রথম সে স্থানটি সাঁতরে পার হতো। পরে পানির ওপরে বাঁশ দিয়ে এ ব্যবস্থা তৈরি। এখন সেখানে তিনটি সাঁকো।

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থী স্রোত আসা শুরু হয় গত বছরের আগস্ট থেকে। তাতে সাত লাখ ২০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা আসে।

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসটি রোহিঙ্গাদের মতো শরণার্থীদের দুর্দশার কথা কেবল স্মরণ করেই উদযাপন নয়, বরং আমাদের উচিত, তাদের সংকটের সমাধানেও এগিয়ে আসা। আমরা যদি রোহিঙ্গাদের অন্য জীবন দেখি, সেখানে আমি অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তাদের কারও কারও এমনকি প্রকৌশলীর গুণও রয়েছে। তাদের যদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়, তারা যে কোনো কিছু তৈরি করে দিতে সক্ষম। সর্বাগ্রে সাঁকো নির্মাণে তাদের সহযোগিতা করা উচিত। Continue reading

ব্যাগে বিশ্বজয়!

সোনালি ব্যাগ আমদানির জন্য ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছে

বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগ ২০০২ সালে নিষিদ্ধ হলেও কার্যত প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ থেমে নেই। পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ ব্যাগ বিশ্বে অনেক দেশেই নিষিদ্ধ। কোনো কোনো দেশের বিশেষ শহর ও সুপার মার্কেটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার। ৮ জুন ইংল্যান্ডের দ্য গার্ডিয়ানের পরিবেশ বিভাগের অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশ হয়। শিরোনাম- প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যান : হোয়াট আর দ্য অল্টারনেটিভস অর্থাৎ প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ, তাহলে বিকল্প কী? ৫৫ সেকেন্ডের এ ভিডিও বলছে, ১ জুলাই থেকে অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ সুপার মার্কেটে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরি, কুইন্সল্যান্ড, সাউথ অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (এসিটি) ও অস্ট্রেলীয় দ্বীপ তাসমানিয়ায় একক প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ হচ্ছে ওই দিন থেকেই। এ অবস্থায় কয়েকটি বিকল্প ব্যাগের কথা এসেছে ভিডিওতে। সেগুলো হলো, রিইউজেবল বা পুনরায় ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যাগ, প্লাস্টিক মিক্স ব্যাগ, চিলের ব্যাগ, রিইউজেবল ক্যানভাস ব্যাগ। চিলের ব্যাগ একধরনের কাপড়ের ব্যাগ আর ক্যানভাস ব্যাগ তুলা দিয়ে তৈরি। তবে এগুলোর দাম অনেক। সেখানে এক ডলার তথা বাংলাদেশি ৮৪ টাকায় ৫টি রিইউজেবল প্লাস্টিক ব্যাগ পাওয়া যায়। প্লাস্টিক মিক্স ব্যাগের গড় দাম এক ডলার। চিলের ব্যাগ ও ক্যানভাস ব্যাগের দাম যথাক্রমে আড়াই ও তিন ডলার।

ওদের বিকল্প ব্যাগের তালিকায় পাটের ব্যাগ আছে কিনা সে কৌতূহল থেকেই আসলে আগ্রহ নিয়ে ভিডিওটি দেখা। কিন্তু পাটের ব্যাগ নেই। হয়তো না থাকাটাই স্বাভাবিক। যেখানে আমরা নিজেরাই পাটের ব্যাগ ব্যবহার করছি না, সেখানে ওদের ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না। বাস্তবে তা ঘটতেও পারত। বিশ্বব্যাপী এখন প্লাস্টিকের বিকল্প খুঁজছে সবাই। এ অবস্থায় আমরা সে রকম পাটের ব্যাগ তৈরি করতে পারলে, এখানে তা জনপ্রিয় হলে ওদের বিকল্পের তালিকায় থাকা অস্বাভাবিক ছিল না।
Continue reading