Monthly Archives: ডিসেম্বর ২০১৭

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেন ট্রাম্প

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির প্রতবাদে ফিলিস্তিনীদের বিক্ষোভ

মূল : সেনিলা মোহাম্মদ

পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের বেপরোয়া স্বীকৃতি যে কোনো আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ট্রাম্পের আনাড়ি ইচ্ছার বাস্তবায়নের আরেক প্রমাণ। বিশ্বের কোনো দেশই পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের জোরপূর্বক দখল ও সম্প্রসারণকে সমর্থন দেয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত এক জটিল সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। এ সিদ্ধান্তে কেবল আন্তর্জাতিক আইনই লঙ্ঘন হয়নি, বরং এটি সম্পূর্ণরূপে মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও বহিঃপ্রকাশ; ইসরায়েলের দখল ও অবৈধ সম্প্রসারণ নীতির ফলে এমনিতেই ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য ভূমি হাতছাড়া। পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের অবৈধ সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নীতিমালাসহ আন্তর্জাতিক ঐক্য রয়েছে। এই স্বীকৃতি দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নীতিরই বরখেলাফ করল, কারণ জেনেভা কনভেনশনে কোনো অবৈধ দখলে স্বীকৃতি ও সহযোগিতা না করার কথা বলা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ রকম সিদ্ধান্ত নতুন নয়। এর আগে বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশ উভয়েই এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকি ১৯৯৫ সালে মার্কিন কংগ্রেসে জেরুজালেম অ্যাক্ট পাস হয়, যেখানে ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে জেরুজালেমকে ‘ইসরায়েলের অবিভক্ত’ রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির কথা বলা হয়। ক্লিনটন ও বুশ উভয় প্রেসিডেন্ট চেষ্টা করলেও নিরাপত্তার কারণে তখন কার্যকর হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস পরিবর্তনের শপথ নেন। ট্রাম্প তার সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন বটে। Continue reading

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবার সহায়তা চাই

মূল: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে কম্বোডিয়ায় সফরে আমি ভীষণ আনন্দিত। তিন দিনের সফরে আমার ও দেশবাসীর তরফ থেকে কম্বোডিয়ার জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ ও অভিন্ন মূল্যবোধের কারণে উভয় দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।

আমি প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের ২০১৪ সালের ১৬-১৮ জুন বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করছি। ভৌগোলিক নৈকট্য সত্ত্বেও আমাদের দু’দেশের মানুষের মধ্যে এক বড় ফারাক রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সফর সে ফারাক ঘোচাতে সাহায্য করে, যেখানে দু’দেশের জনগণ বিশেষত ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া উভয় দেশের মানুষকেই তাদের স্বাধিকারের জন্য প্রায় একই ধরনের নৃশংসতা সহ্য করতে হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতিধারায় একটি স্থিতিশীল দেশ; কম্বোডিয়ার অবস্থাও তদ্রূপ। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে এখন নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আজ কম্বোডিয়াকেও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দেখে আমি আনন্দিত।

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কখনোই মসৃণ ছিল না; পদে পদে আমাদের অনেক বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করতে হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন; দুই লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছেন। তখন পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার আন্দোলন করেনি; এর মধ্যে এমনকি কিছু মানুষ স্বাধীনতার বিরোধিতাও করেছিল।

স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় যখন যুদ্ধোত্তর দেশটি ব্যাপক পুনর্গঠন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের ১৮ সদস্যসহ হত্যা করা হয়। আমি ও আমার ছোট বোন রেহানা বিদেশে অবস্থান করার কারণে বেঁচে যাই।

বাবা নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা চায়নি, তখন সে বিরোধী শক্তিও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ হয়ে যায়। বাংলাদেশের জনগণ দুই যুগের বেশি সামরিক শাসনের জাঁতাকলে পড়ে। তখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়।

ছয় বছর নির্বাসনের পর ১৯৮১ সালে আমি দেশে ফিরে মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করি। ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবার ২০০৮ সালে বিজয়ী হয়; এখনও আমরা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়।

Continue reading