Monthly Archives: আগস্ট ২০১৭

টাইপরাইটারের আসা যাওয়া

রাশিয়া তথ্য ফাঁস ঠেকাতে কম্পিউটারের পরিবর্তে টাইপরাইটার ব্যবহার করছে!

সময়ের পরিবর্তনে কত কিছুই না হারিয়ে যায়। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় নতুনের আগমন পুরাতনকে বিদায় জানায়। ডিজিটাল দুনিয়ায় আজ অ্যানালগ প্রায় অচল। টাইপরাইটার যার অন্যতম উদাহরণ। কম্পিউটারের আগমনে এক সময়ের জনপ্রিয় টাইপরাইটার আজ বিলুপ্তির পথে। ৯ আগস্ট বুধবার বিবিসির প্রতিবেদনে ভারতের অবস্থা উঠে আসে। ‘দ্য স্যাড ডিক্লাইন অব দি ইন্ডিয়ান টাইপরাইটার’ শিরোনামে ভারতীয় টাইপরাইটারের দুঃখজনক হারিয়ে যাওয়ার গল্প ফুটে ওঠে। তাতে দেখানো হয়, টাইপরাইটাইরের সঙ্গে জড়িত টাইপিস্ট বা মুদ্রাক্ষরিকরা তাদের পেশা নিয়ে শঙ্কিত। প্রতিবেদনে ভারতে ৮৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এক টাইপরাইটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কথা উঠে এসেছে। শুরুতে তাদের ১০০টি টাইপরাইটার ছিল, এখন সেখানে ৪৫টি রাইপরাইটারে ১০০ জনের মতো প্রশিক্ষণার্থী কাজ শিখছেন। দিন দিন সংখ্যাটি আরও কমছে। কারণ, সব অফিসে এখন টাইপরাইটারের জায়গা দখল করে নিয়েছে কম্পিউটার। টাইপরাইটার যাও আছে তাদের অধিকাংশই কাজ করে আদালতের বাইরে, মানুষ কোনো আইনি ডকুমেন্ট টাইপ করায়। সেখানেও তাদের কাজ অনেক কমে গেছে। অথচ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু বলেছিলেন, টাইপরাইটার তাদের শিল্পায়নের প্রতীক। সে ভারতে ২০০৯ সালে টাইপরাইটার প্রতিষ্ঠান গোদরেজ বন্ধ হয়ে যায়। যন্ত্রটির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বে টিকে ছিল নাকি এই ‘গোদরেজ অ্যান্ড বয়েস’।
আমাদের দেশেও টাইপরাইটারের অবস্থা বলা চলে ভারতের মতোই। আদালতপাড়া এক সময় টাইপরাইটারের খটখট শব্দে ছিল মুখর, এখন সেটা কমে গেছে। অনেকেই পেশা বদল করেছেন। যারা এখনও টাইপরাইটার নিয়ে আছেন, তারা বেশি কাজ পাচ্ছেন না। অলস বসে সময় পার করেন অনেকেই। কোনোদিন কাজ হয়, আবার কখনও সারাদিন বসেও কাজ পান না। অবশ্য সরকারি অফিসে এখনও সাঁটলিপি ও মুদ্রাক্ষরিকের পদ রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ যন্ত্র এখন আর নেই। Continue reading

সাঁতার কেটে অফিসে!

বৃষ্টিতে ঢাকার সড়ক যখন নদী!

জার্মানির বেঞ্জামিন ডেভিডের সাঁতার কেটে অফিসে যাওয়ার খবর ২৪ জুলাই ‘দি ম্যান হু সুইমস টু ওয়ার্ক’ শিরোনামে বিবিসিতে প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের সঙ্গে ৩ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে তার সাঁতরে অফিসে যাওয়ার বিস্তারিত রয়েছে। বেঞ্জামিন ব্যস্ত সড়কপথে গাড়ির জ্যামে অতিষ্ঠ। তিনি অফিসে যাওয়ার বিকল্প মাধ্যম খুঁজছিলেন। জার্মানির মিউনিখের ইসার নদীতে সাঁতার কাটতে কাটতে তিনি পেঁৗছে যান কর্মস্থলে। নদীতে দুই কিলোমিটার সাঁতার কেটে তিনি সড়কপথের চেয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পেঁৗছতে পারেন। সাঁতারের পোশাক পরে ল্যাপটপ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে ঢুকিয়ে তিনি নেমে পড়েন নদীতে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আল্পস পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন ইসার নদীর স্বচ্ছ পানি। নদীর দুই পাড় যেন সবুজের মেলা। পরিবেশ দেখে যে কারও সাঁতার কাটতে ইচ্ছা হবে। জার্মানির মিউনিখের ইসার নদী সাঁতরে অফিসে যাওয়া যায়। আমাদের ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে কি তা সম্ভব? উত্তরটা বলার অপেক্ষা রাখে না। দখল-দূষণে বুড়িগঙ্গা মৃতপ্র্রায়। নানা উদ্যোগ নিয়েও বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো যাচ্ছে না। বুড়িগঙ্গার কোনো কোনো অংশ যেন ময়লার ভাগাড়। সেখানে সাঁতার কাটা দূরে থাক, তীরে দাঁড়ানোও দায়। পানিতে উৎকট দুর্গন্ধ। অতিরিক্ত দূষণের ফলে বুড়িগঙ্গা জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। Continue reading