Monthly Archives: জুলাই ২০১৭

হৃদয়ের গল্প

নির্মল সাদা কাগজে অসহায় কালো কালি জীবন্ত হয়ে ওঠে লেখকের তুলির আচড়ে। পাঠকের হৃদয়ে নিশ্চল শব্দ আলোড়িত করে লেখকের লেখা। লেখকের মুন্সিয়ানা, লেখার ঢং, জীবন অভিজ্ঞতা, জানার পরিধি ফুটে ওঠে তার লেখায়। পাঠকের কাছে বিষয় সহজে উপস্থাপনার মাধ্যমেই লেখকের সফলতা।

পড়ার ক্ষেত্রে পাঠকের আগ্রহ থাকে গল্প। কারণ গল্প যে মানুষের জীবনই তুলে ধরে। কোনোটা নিজের সঙ্গে মিলে যায়, কোনোটা কানের পাশ দিয়ে যায়। আবার কোনোটা যেন পরিচিত কারও জীবনকাহিনী। সোহেল নওরোজের ‘প্রেমের আলামত পাওয়া যায়নি’ ঠিক তেমন গল্পের বই। ১৪টি গল্পের প্রতিটির আয়নায় পাঠক হয়তো নিজের মুখই দেখবেন। কিংবা তা পাঠকের পারিপাশর্ি্বকতারই গল্প। ‘রোদচশমা’ এ ক্ষেত্রে প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত যেসব অন্যায় সংঘটিত হয়, সেগুলো খালি চোখে সহ্য করা সত্যিই কঠিন। তাই গল্পের রাশেদ চোখে কালো চশমা পরে থাকে। আইডিয়া ও গল্পের নামের প্রশংসা এখানেই করতে হবে। তবে জীবনঘনিষ্ঠ বললে ‘হিডেন ফোল্ডার’ গল্পের কথা বলতেই হবে। গল্পটির কলেবর একটু বড়, তবে রহস্যটা বোধহয় শেষেই। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর যে ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা এবং একে অপরকে গুরুত্ব ও সময় দেওয়ার ব্যাপার রয়েছে, তার বিপরীতটা ঘটলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। তাতে হিডেন ফোল্ডার তথা কম্পিউটারের মতোই হৃদয়ের গোপন কোনো কুঠুরিতে দুঃখ জমা হয়। সুখের সংসার হলে সেখানে সুখও জমা হতে পারে। অবশ্য ‘চুপ’ গল্পটিও এদিক থেকে কম শিক্ষণীয় নয়। কাজের ক্ষেত্রে যোগ্যতাই মূল মাপকাঠি; তেলবাজি কখনোই তার সমকক্ষ হতে পারে না। চুপ গল্পের পরতে পরতে পাঠক শিক্ষা পাবেন- ‘যোগ্য ও সৎ শত্রুর চেয়ে তেলবাজ ও অসৎ বন্ধু উত্তম হতে পারে না’। বলাবাহুল্য, পাঠক সোহেল নওরোজের বইটিতে সব গল্পই উপভোগ করবেন। গল্পের ভেতরে শিক্ষার বিষয়টি সচেতন পাঠকই ধরতে পারবেন।
Continue reading

হারিয়ে যাওয়া, হারিয়ে পাওয়া

জাপানের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে ‘কোবান’ নামে ছয় হাজারের মতো পুলিশ বক্স। কেউ কিছু পেলে সেখানে জমা দেয়

চলার পথে আমাদের কত কিছুই না হারিয়ে যায়। তা পাওয়ার আশা আমরা কতটুকই-বা করতে পারি। প্রিয় মোবাইল হারিয়েছে কতজন, দীর্ঘদিন ব্যবহারের ছাতাও হয়তো ভুলে রেখে আসেন কত জায়গায়। যে কোনো হারানো বস্তু ফিরে পাওয়া কতটা আনন্দের বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের দেশে এসব ফিরে পাওয়া আশ্চর্যের মনে হতে পারে; কিন্তু জাপানে যে এটাই বাস্তব।
২৩ জুলাই রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘লস্ট ইউর ফোন ইন জাপান? ইউ উইল প্রোবাবলি গেট ইট ব্যাক’ অর্থাৎ জাপানে কি আপনি মোবাইল হারিয়েছেন? সম্ভবত আপনি তা ফিরে পাচ্ছেন। জাপান সত্যিই তা পদ্ধতিগতভাবে সম্ভব করেছে। প্রতিবেদনটি শুরু হয়েছে একটি ঘটনা দিয়ে। এক কিশোরী জাপানের সবচেয়ে বড় জীবন্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এসোর কাছে ছবি তুলতে গিয়ে মোবাইল পড়ে গেছে বলে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশের কাছে জানিয়েছে। দুই মাস পর মোবাইলটি পাওয়া গেছে বলে পুলিশের চিঠি পেল কিয়োটোতে থাকা কিশোরী। এক পরিব্রাজক মোবাইলটি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন, তার স্ক্রিনটি কেবল ভাঙা ছিল। মোবাইল, মানিব্যাগ, ক্যামেরা, চাবি, ছাতা ইত্যাদি হারানোর পর জাপানে অধিকাংশই পাওয়া যায়। এক অধ্যাপক তাই বলছেন, যাদের হারানোর অভ্যাস তাদের স্বর্গ জাপান। Continue reading

খাম্বা উপাখ্যান

প্রতারণার গুটি প্রাণহীন নিষ্কলুষ খাম্বা

খাম্বা উপাখ্যানের যেন শেষ নেই। সময়ে সময়ে ঘটনার রঙ, রস, রূপ বদলায় কিন্তু চরিত্র অভিন্ন। খাম্বা প্রাণহীন নিষ্কলুষ অথচ কলুষিত মানুষ একে নিয়ে খেলে। প্রতারণা করে নিজেদের পকেট ভারী করে। এ প্রতারণার গুটি কেবল খাম্বাই নয় এ রকম আরও নির্জীব পদার্থ। প্রতিনিয়ত এ রকম প্রতারণার নানা বিষয় দেখা যাচ্ছে আমাদের চারপাশে, সমাজে। মানুষের স্বপ্ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেয়ে নিষ্ঠুরতা আর কী হতে পারে!
বিদ্যুতের আলোতে যখন দেশ ভাসছে, তখনও অন্ধকারে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণের পিংড়া গ্রাম। অন্ধকার থেকে হয়তো তারা বিদ্যুতের আলোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। সে স্বপ্নই কি-না তাদের কাল হলো। যেখানে সরকারই ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পেঁৗছাতে বদ্ধপরিকর, সেখানে মতলবের পিংড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম বিদ্যুতের জন্য দালালের কাছে টাকা দিয়ে উল্টো প্রাণনাশের আশঙ্কায় রয়েছেন। ১৪ জুলাই সমকালের লোকালয়ে প্রকাশিত ‘খাম্বা দেখিয়ে টাকা আদায়’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি যা বলছে তাকে দুঃখজনক ছাড়া কীইবা বলার আছে। বৃদ্ধ নুরুল ইসলামরা বলা চলে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দিয়েছেন বিদ্যুৎ ছাড়াই। ডিজিটালের এ সময়ে যখন চারদিকে বিদ্যুতের বিস্তার, তখন তার মতো পিংড়া গ্রামের অন্যান্য মানুষও বিদ্যুতের আশায় বুক বেঁধে আছেন। সে আশায় টাকা দিয়েছেন তাও তিন বছর হলো। এতদিনে বিদ্যুৎ তো এলোই না, তার পরিবর্তে এসেছে হুমকি। ইতিমধ্যে দালালচক্র হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। সবই খাম্বার গুণে!
বিদ্যুৎপ্রাপ্তির বিড়ম্বনার ঘটনাটি হয়তো অন্যগুলোর চেয়ে পৃথক কিছু নয়। অনেকে বছরের পর বছর ঘুরে কয়েকবার টাকা দিয়ে পেয়েছেন বিদ্যুতের স্বাদ। দামি জিনিস পেতে যে একটু কাঠখড় পোড়াতেই হয়! কিন্তু মতলবের ঘটনা কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। Continue reading

ট্রাম্প-পুতিনের শরীরী ভাষা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রথম সাক্ষাতে তাদের শরীরী ভাষা বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি

মানুষের মুখই কেবল কথা বলে না, শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও কথা বলে। প্রতিটি অঙ্গেরই নির্দিষ্ট ভাষা রয়েছে, মুখ দিয়ে উচ্চারণ না করলেও সেসব শরীরী ভাষা মানুষ বোঝে। এমনকি তা দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে ভাববিনিময়ও হয়ে থাকে। সেসব শরীরী ভাষা নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা হলেও সংবাদমাধ্যমে খবর হিসেবে আসাটা আশ্চর্যের বটে। তবে ব্যক্তিটি যদি রথী-মহারথী হয়, মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে, তাকে নিয়ে খবর হতেই পারে। যেমনটা করেছে বিবিসি। শুক্রবার ৭ জুলাই শুরু হওয়া জি২০ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রথম সাক্ষাতে তাদের শরীরী ভাষা বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি। বলা প্রয়োজন, এবার শিল্পোন্নত ২০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের জি২০ শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে জার্মানিতে। ৭-৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন শুরুর আগের দিন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রণক্ষেত্র হয় জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হামবুর্গ। পুঁজিবাদ ও বিশ্বায়নের প্রতিবাদে ১২ হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস, পিপার স্প্রে ছুড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছুড়ে মানুষ। তাতে জখম অন্তত ৭৪ জন অফিসার ও পুলিশকর্মী। বিক্ষোভকারীরা আহত হয়, গ্রেফতার হয়। এ রকম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অবশ্য সম্মেলনটি সম্পন্ন হয়।
আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, ভারতের মতো ক্ষমতাধর দেশগুলোর এ সম্মেলনেই প্রথম সাক্ষাৎ হয় ট্রাম্প ও পুতিনের। ক্ষমতাধরদের মধ্যে এরা বিশেষ বটে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো উভয় দেশই ঐতিহাসিকভাবে চির-বৈরী। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পেছনে পুতিনের হাত রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। Continue reading

উল্টো পথের যাত্রী

সাধারণ মানুষ বুঝে নেন উল্টোপথে কোনো ক্ষমতাবান যাচ্ছেন

উল্টো মানেই নেতিবাচক কিছু। যা সরল নয়, সহজ নয় কিংবা সঠিক নয়। তবে ঢাকা শহরে গাড়ি নিয়ে উল্টোপথে চলা সরল কিংবা সঠিক না হলেও সহজ বটে। যখন দীর্ঘক্ষণ ধরে সঠিক পথে আপনি যানজটে পড়ে আছেন, আরেকজন সহজে উল্টোপথে চলে যাচ্ছে। তার জন্য উল্টোপথই আরামদায়ক। ভিআইপি হলে তো কথাই নেই। মন্ত্রী-এমপি, প্রভাবশালীদের ধরার মতো বুকের পাটা কার আছে? দিব্যি তারা নিয়ম ভেঙে উল্টোপথে যান। ২৯ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সে কথাই পরদিন সমকালে খবর হিসেবে এসেছে, ‘আমরা মন্ত্রী-এমপিরা রাস্তায় গাড়ির চাপ দেখলেই আর ধৈর্য রাখতে পারি না। তখন উল্টোপথে যাই। ভিআইপিদের এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।’ যারা নিয়ম তৈরি করেন, সাধারণ মানুষকে নিয়ম মানার পরামর্শ দেন, তারাই নিয়ম ভাঙেন। পুলিশ তাদের ধরবেন কি, অনেক সময় দেখা যায় পুলিশই মন্ত্রী-এমপি-ভিআইপিদের পাহারা দিয়ে উল্টোপথে নিয়ে যান। সাধারণ মানুষ তাকিয়ে থাকে, বুঝে নেন কোনো ক্ষমতাবান যাচ্ছেন। এ তালিকায় যেমন মন্ত্রী-এমপি আছে, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আছে, হয়তো কিছু সাংবাদিকও যান, পুলিশ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এ রকম অনেকের উল্টোপথে যাওয়া বিচিত্র নয়। সাধারণ মানুষও যে নিয়ম ভেঙে উল্টোপথে যায় না, তা নয়। তারাও যায়। কিন্তু তাদের জরিমানার ভয় থাকে। Continue reading

ব্রিটিশ ‘শাসন’ ব্রিটেন ‘শাসন’

ব্রিটেনের নির্বাচনে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত ২৭ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬১২ সালে ভারতে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজদের আগমন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমে এখানে তাদের কলোনি শাসন কায়েম হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান-ভারত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এখানে সে শাসনের অবসান হয়। কেবল ভারতীয় উপমহাদেশই নয়, ষোড়শ থেকে আঠারশ শতকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলোনি ব্রিটিশ উপনিবেশ। বর্তমানে বিশ্বে ৫২টি দেশ কমনওয়েলথভুক্ত। এ দেশগুলোর অধিকাংশই ছিল ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। ১৯৪৫ সাল থেকে ধীরে ধীরে ব্রিটেন কলোনি শাসন থেকে বের হতে থাকে। এর ফলেই ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান-ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। আর দক্ষিণ রোডেশিয়া ছিল ব্রিটেনের সর্বশেষ উপনিবেশ, যা ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে হিসেবে স্বাধীন হয়। ৮ জুন অনুষ্ঠিত হয় ব্রিটেনের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত ২৭ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের তিনজন আর পাকিস্তান ও ভারতের নির্বাচিত হয় ১২ জন করে। ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের ৬৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে এ সংখ্যাটি একেবারে মামুলি নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক সময় ব্রিটিশরা আমাদের শাসন করত আর এখন আমরা সেখানে গিয়ে তাদের শাসনকার্যের অংশ হয়ে উঠেছি। Continue reading