Monthly Archives: জুন ২০১৭

শিশু যখন চালকের আসনে

সিনেমার দৃশ্য হিসেবে হয়তো বিষয়টির চমক ছিল। বাস্তব বলেই তা ঘটনা হয়ে ওঠেনি, হয়েছে দুর্ঘটনা। গত ২৪ মের সমকালের খবর, ‘ধানমণ্ডিতে শিশুচালকের গাড়িচাপায় শিশু আহত’। গাড়ির চালক তখন শিশুই ছিল, যদিও শিশুটি আসল চালক নয়। ধানমণ্ডি ১৫নং সড়কে চলছিল গাড়িটি। ছায়ানট ভবনের সামনে এসে হঠাৎ করে প্রাইভেটকারটি সড়কে চলাচলকারী দু’জনকে ধাক্কা দেয়। আহত দু’জন বাবা ও মেয়ে। বাবার আঘাত তেমন গুরুতর না হলেও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ূয়া মেয়েকে স্থানীয় হাসপাতালে নিতে হয়েছে। উত্তেজিত জনতা যখন প্রাইভেটকার ভাঙতে উদ্যত, তখন জানা যায় মূল ঘটনা। দুর্ঘটনার সময় লালমাটিয়ার একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র গাড়িটি চালালেও তার আসল চালক পাশেই ছিল। শিশুটি মালিকের ছেলে। ১১ বছরের শিশু তখন রাস্তা খালি দেখে গাড়ি চালানোর বায়না ধরে। চালক তার আবদার রক্ষায় তখন শিশুটিকে চালাতে দেয়। বলা বাহুল্য_ চালকের দাবি, গাড়ি চালানোর কিছুটা অভিজ্ঞতাও নাকি রয়েছে শিশুটির!
১১ বছর বয়সে শিশুর গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকে কীভাবে! তার প্রয়োজনই-বা কী? যেখানে বাংলাদেশের আইনে ১৮ বছরের নিচে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পারে না। একটি শিশুর হাতে এভাবে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া কেবল দায়িত্বহীনতাই নয়, অজ্ঞানতাও বটে। শিশুমন অনেক অসম্ভব কিছু চাইতে পারে, তাকে বোঝানো বড়দের কাজ। শিশু আবদার করলেই তাকে সড়কে গাড়ি চালাতে দেওয়া ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জক প্রবণতা। ধানমণ্ডির দুর্ঘটনা এর চেয়েও মারাত্মক হতে পারত। Continue reading

তাঁতিদের ঘুম-নির্ঘুম

রমজানের মাঝামাঝি পর্যায় এখন, দিন পনের বাদেই ঈদ। ঈদের আনন্দের সঙ্গী যখন নতুন কাপড় তখন তাঁতিদের চোখে ঘুম থাকবে কী করে। শনিবারের সমকাল তা-ই বলছে, পাবনায় তাঁতি সম্প্রদায়ের চোখে ঘুম নেই। তাঁতিরা এখন ব্যস্ত কাপড় বুননে। প্রতিবেদনে পাবনার কথা বলা হলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তাঁতিরাও নিশ্চয়ই সমান ব্যস্ত। তাঁতপল্লীতে কেউ সুতা কাটছেন, কেউ সানা বাঁধছেন, কেউ সুতা রঙ করছেন। কেউবা শুকাচ্ছেন। এ ছাড়া তৈরি করা শাড়ির ওপর নান্দনিক শিল্পকর্ম, বল্গক, বর্ণিল সুতা ও চুমকির কাজ করছেন কেউ কেউ। প্রতিবেদক পাবনার সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সরেজমিন ঘুরে তাদের কাজকর্ম দেখেছেন। কেবল পাবনাই নয় সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রংপুর, সিলেট প্রভৃতি এলাকায় তাঁতপল্লী রয়েছে। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি তো জগৎজোড়া।
একসময় তাঁতিদের হাতে তৈরি হতো বিখ্যাত মসলিন কাপড়। সুতার সূক্ষ্মতা, বুননশৈলী ও নকশার বৈচিত্র্যে মসলিনের কদর ছিল বিশ্বব্যাপী। সে মসলিন এখন নেই, তার ঐতিহ্যে টিকে আছে জামদানি। আমাদের তাঁতপল্লীগুলোতে জামদানি, সুতি জামদানি, সুতি কাতান, চোষা, বেনারসি, শেঠ ইত্যাদি নানা রকমের শাড়ি তৈরি হয়। তবে তাঁতও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে টিকে আছে। প্রান্তিক তাঁতিদের মাঝখানে ঢুকে গেছে মহাজন। সুতা বণ্টনের সুষ্ঠু নীতিমালার অভাব, মহাজনের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে সুতা কেনা, কাপড়ের ভালো মূল্য না পাওয়া_ এসব কারণে কোনো কোনো এলাকার তাঁতশিল্পীরা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছেন। Continue reading

সম্প্রীতির উদাহরণ

সব পথ, মত ও ধর্মের সহাবস্থান সামাজিক সম্প্রীতির অংশ। এ সম্প্রীতি রক্ষায় কিছু কিছু দৃষ্টান্ত অনুপ্রেরণার। সাম্প্রতিক উদাহরণ বোধ হয় ৪ জুন আনন্দবাজারে প্রকাশিত একটি খবর। ‘রমজানে নিয়মিত রোজা রাখে এই হিন্দু পরিবার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বলছে কলকাতার বারাসাতের হিন্দু পরিবারটি কেবল রোজাই রাখে না, একটি মসজিদও দেখাশোনা করে। সেখানে জুমার নামাজ, রমজানে তারাবি-ইফতার সবই হয়। প্রতিবেদনটি বলছে, ৬৭ বছর বয়সী দীপক বসু নিজে রোজা রাখতে না পারলেও তার ছেলে নিয়মিত রোজা রাখেন। মসজিদে ইমামের সঙ্গে ইফতার করেন। দীপক বসুর আদি নিবাস আমাদের খুলনার ফুলতলার আলকাগ্রামে। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে দাঙ্গার সময় কলকাতার বারাসাতের ওয়াজুদ্দিন মোড়লের বিশাল সম্পত্তি পাল্টাপাল্টি করে ওপারে চলে যান। সে জমির মালিকানায় মেলে একটি মসজিদ। মসজিদটি আজও বসু পরিবারটি রক্ষণাবেক্ষণ করে চলেছে। এমনকি আড়াই দশক আগে যখন উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙে, তখনও বসু পরিবার পাহারা দিত যাতে মসজিদের গায়ে কোনো আঁচড় না লাগে। মসজিদটিতে কোনো অনুদান গ্রহণ করা হয় না। ২৭ রমজানে লাইলাতুল কদরে কোরআন পড়া সম্পূর্ণ হলে চাঁদা তুলে পাড়ার সবাইকে খাওয়ান রোজাদাররা।
প্রায় এ রকমই আরেক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কলকাতার জোড়াসাঁকোর মার্বেল প্যালেস মসজিদ। মসজিদটি বাঙালি বাবুর মসজিদ নামে পরিচিত হলেও এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে হিন্দু ট্রাস্ট। বিশেষভাবে বললে একটি হিন্দু পরিবার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন ডট আইএন-এ প্রকাশিত ‘কলকাতার মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত হিন্দুরা!’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এর বিস্তারিত রয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, মলি্লক পরিবারের দেবোত্তর জমিতে তৈরি মসজিদটির বয়স ১৮১ বছর। মসজিদটি মলি্লক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে দেখাশোনা করে আসছে।
হিন্দুপ্রধান দেশ ও হিন্দুপ্রধান এলাকায় এ দুটি মসজিদ ও দুটি পরিবারের কাহিনী প্রেরণার। এ রকম দৃষ্টান্ত যুগে যুগে নানা জায়গায় আমরা দেখেছি। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমরের (রা.) সময়কার একটি ঘটনাও প্রাসঙ্গিক। Continue reading