Monthly Archives: মে ২০১৭

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অবকাঠামোগত উন্নতি দেখে ভালো লাগছে

সাক্ষাৎকার// ড. হেলেন জারভিস

ড. হেলেন জারভিস মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আয়োজনে ঢাকায় তিন দিনের ‘পঞ্চম বাংলাদেশ জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস’ সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসেন। নব্বইয়ের দশক থেকে তিনি কম্বোডিয়ার গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে কাজ করছেন। কম্বোডিয়ার গণহত্যার বিচারে গঠিত এক্সট্রা অর্ডিনারি চেম্বারস ইন দ্য কোর্ট অব কম্বোডিয়ার (ইসিসিসি) তথ্য বিভাগের সাবেক এ প্রধান কর্মকর্তা পিএইচডি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব সিডনি থেকে। কম্বোডিয়া সরকারের উপদেষ্টা ড. হেলেন অস্ট্রেলিয়া ও কম্বোডিয়া উভয় দেশের নাগরিক। বাস করেন কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে- সাক্ষাৎকার গ্রহণ :মাহফুজুর রহমান মানিক

সমকাল :আগেও আপনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এসেছেন, এবার এসে নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কেমন দেখছেন?

ড. হেলেন জারভিস :মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবন আগে দেখিনি। শুনেছি সম্প্রতি নতুন ভবন উদ্বোধন হয়েছে। অবশ্যই এটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অবকাঠামোগত উন্নতি, দেখে ভালো লাগছে। এটি সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এখানকার কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা কেবল ভবনকেই চিত্তাকর্ষক করছেন না, একই সঙ্গে কমিউনিটির সঙ্গেও কাজ বাড়াচ্ছেন। এটা নিঃসন্দেহে ভালো। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের এই পরিবেশ গবেষণা ও ডকুমেন্টেশনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই সহায়ক হবে।

সমকাল :বাংলাদেশে ‘জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস’ শীর্ষক কনফারেন্সও আপনার কাছে নতুন নয় …

ড. হেলেন : হ্যাঁ, এর আগেও আমি এই কনফারেন্সে এসেছি। লেকচার দিয়েছি। শুধু তা-ই নয়, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উইন্টার স্কুলেও এসেছি।

সমকাল :আপনি অনেক বছর ধরে কম্বোডিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা নিয়ে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. হেলেন : বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। বাংলাদেশে যে মাত্রায় মানবতাবিরোধী কাজ হয়েছে তার প্রভাব থাকবে দীর্ঘদিন। নারীরা নির্যাতিত হয়েছেন। অনেক হিডেন জেনোসাইডও হয়েছে। মানুষ আপনজন হারিয়েছে। এসব দুঃখগাথা বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জেনেছি। Continue reading

ইয়াসিনের আলো

হারিকেনের আলো আর তুষ দিয়ে বাচ্চা ফুটান ইয়াসিন মিয়া

প্রাকৃতিক উপায়ে মুরগি ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। সেখান থেকেই হয়তো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিম ফোটানোর যন্ত্র ইনকিউবেটরের আবিষ্কার। ব্যবসার জন্য একসঙ্গে অধিক পরিমাণে ডিম ফোটানোর ক্ষেত্রে ইনকিউবেটরের বিকল্প নেই। এর জন্য প্রয়োজন বিদ্যুৎ। কিন্তু যেখানে বিদ্যুৎ নেই কিংবা যাদের যন্ত্রটির কেনার সামর্থ্য নেই, তারা এটি ব্যবহার করতে পারছে না। তাদের এ অসুবিধা দূর করার তরিকা শিখিয়েছেন ইয়াসিন।
বিদ্যুতের চোখ ধাঁধানো আলো নয়, হারিকেনের টিমটিম আলোয় স্বপ্ন ধরা দিয়েছে ইয়াসিনের। দরিদ্রতার অন্ধকার থেকে স্বাবলম্বিতার আলোর সন্ধান পেয়েছেন তিনি। নেত্রকোনার মদনপুরের ইয়াসিন ১৪ মে সমকালের লোকালয়ে এসেছেন, ‘হারিকেনের আলোয় ফুটছে হাঁসের বাচ্চা’ শিরোনামে। প্রতিবেদনটি বলছে, হারিকেনের আলো ও তুষের মাধ্যমে তিনি হাঁসের বাচ্চা ফোটান। এ পদ্ধতিতে তিনি প্রতিদিন ৩-৪ হাজার হাঁসের বাচ্চা ফোটাচ্ছেন। এ বাচ্চা তার জেলা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারদের কাছে সরবরাহ করেন। এভাবে ইয়াসিন মিয়া কেবল নিজেই স্বাবলম্বী হননি, তার কাছ থেকে শিখে অনেকেই হারিকেনের আলোয় বাচ্ছা ফুটিয়ে দারিদ্র্য জয় করেছেন। এমনকি তার কাছ থেকে শিখছে প্রতিবেশী দেশও। ভারতের মেঘালয় ও নেপালে তিনি অতিথি হয়ে ৪-৫শ’ হাঁস-খামারিকে এ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

আমরা বুঝতে পারি, অনেকদিন ধরেই ইয়াসিন মিয়া এ আলোর সন্ধান পেয়েছেন। হয়তো সংবাদমাধ্যমে তিনি সেভাবে আসেননি। এটি কেবল তার দারিদ্র্যজয় নয় বরং সমাজের দরিদ্রজয়ের আন্দোলন। গ্রামের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তার সীমাবদ্ধতা, সামর্থ্য ও পরিবেশ অনুযায়ী তিনি যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তা অনন্য। ইনকিউবেটরের গ্রাম্য ও স্থানীয় সংস্করণ বলা যায়, ইয়াসিন মিয়ার হারিকেনের আলো আর তুষ দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর পদ্ধতি। Continue reading

স্বেচ্ছাশ্রমের প্রেরণা

স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত সাঁকো

মানুষ শ্রম দেয় নিজের জন্য, আবার কখনও কখনও স্বেচ্ছায় শ্রম দেয় দেশ ও দশের জন্য। ৮ মে সমকালের লোকালয়ে প্রকাশিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ’ প্রতিবেদনটিই এর প্রমাণ। প্রতিবেদনটি বলছে, সাঁকোটি নির্মাণ হয়েছে শেরপুরের কেউটা বিলের ওপর। বিলটির এক পাড়ে তিরছা পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়াসহ তিন গ্রাম। অন্যপাড়েও রয়েছে কতগুলো গ্রাম। ওই বিলে গ্রামগুলোর দরিদ্র কৃষক ও জেলে পরিবারের ৬০০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমির ধান, সবজি ও বিলের মাছ বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। বর্ষাকালে জলপথে ছোট নৌকা দিয়ে ধান ও সবজি পারাপার করেন গ্রামগুলোর শত শত কৃষক ও জেলে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। বৃষ্টি হলে বাড়ে দুর্ভোগ। এ অসুবিধা দূর করতে গ্রামের মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হয়েছে সাঁকো। সাঁকোটি নির্মাণে গ্রামের সব মানুষ উপকৃত হবেন, এটাই স্বাভাবিক।
এমন সময় স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকোটি নির্মাণ হলো, যখন এ ধরনের গণউন্নয়নমূলক কাজে সবাই সাধারণত সরকার বা স্থানীয় প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে থাকে কিংবা তাদের কাছে ধরনা দেয়। এখানে গ্রামবাসী তা না করে নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার, প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ইত্যাদি নানা কাজের খবর প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে আসে। এর মধ্যে হয়তো কোনোটি নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে স্বেচ্ছায় করেছে; আবার কোনোটি হয়তো করতে বাধ্য হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ দুর্ভোগ পোহালেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না। রাস্তাঘাট-পুল-কালভার্ট দিনের পর দিন ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে থাকলেও তা সংস্কার করা হয় না। এমনকি কোথাও তার জন্য আন্দোলন করেও কাজ হয় না। এমতাবস্থায় যে স্বেচ্ছাশ্রমই ভরসা। Continue reading