Monthly Archives: জানুয়ারি ২০১৭

খবরের ‘ডোজ’

Newsখবর অবশ্য সবই_ সঠিক কিংবা ভুয়া। সংবাদমাধ্যমের বাইরেও সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ও নানাভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সকলের সামনে আসে। এর মধ্যে সঠিক খবর যেমন রয়েছে, তেমনি ভুয়াও হতে পারে। ভুয়া খবর অনেক সময় পাঠকের কাছে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে সহজেই সঠিক হিসেবে তা অনেকে বিশ্বাস করে। এটা নিশ্চয়ই চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে ইন্টারনেট যখন সহজলভ্য। নতুন ওয়েবসাইট খোলা যখন মামুলি ব্যাপার, প্রতিটি ফেসবুক-টুইটার ইত্যাদির একেকটি অ্যাকাউন্ট যখন খবর সরবরাহের একেকটা মাধ্যম, তখন ভুয়া খবর ঠেকানোর উপায় কী? উপায় উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ আসলে থেমে নেই। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিবিসির খবর তা-ই বলছে। কেমব্রিজ সায়েন্টিস্টস কনসিডার ফেইক নিউজ ‘ভ্যাকসিন’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ভুয়া খবর ঠেকাতে ভ্যাকসিনের কথা বলছেন। ভ্যাকসিন কীভাবে ভুয়া খবর ঠেকাতে বা শনাক্ত করতে পারে, বিষয়টি ব্যাপক কৌতূলেরই বিষয়। খবরটি বিবিসি ছাড়াও নিউজউইক, ফোর্বস, আরটিসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। বলাই বাহুল্য, এ ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আদতে চমক লাগানো কিছু নয়। এটি আসলে গ্গ্নোবাল চ্যালেঞ্জেস জার্নালে প্রকাশিত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণা। দুই হাজার জনের ওপর পরিচালিত জরিপ থেকে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কিছু কিছু মনস্তাত্তি্বক বিষয়ই ভুয়া খবরের ভ্যাকসিন হতে পারে। তা হলো, পাঠকদের আগে থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল তথ্য সম্পর্কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ‘ডোজ’ দিয়ে রাখতে হবে। তাতে করে পরবর্তী সময় ভুল তথ্য তারা সহজেই এড়িয়ে যেতে পারবে। মিথ্যা তথ্য আকর্ষণীয় এবং তা ভাইরাসের মতো দ্রুত ছড়ায়_ গবেষকদের এ পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর বিপরীতে গবেষকরা যে ডোজের কথা বলছেন, তাতে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। Continue reading

সেকেন্ড-হ্যান্ড কিন্তু পুরনো নয়!

খুব সম্ভবত বইয়ের মতো সেকেন্ড-হ্যান্ড ও পুরাতন আর কোনো কিছুর এমন বাজার নেই

খুব সম্ভবত বইয়ের মতো সেকেন্ড-হ্যান্ড ও পুরাতন আর কোনো কিছুর এমন বাজার নেই

নতুন বই পড়ার স্বাদ আলাদা বটে, কিন্তু বই কখনও পুরনো হয় কি-না তা নিশ্চয় আলোচনার বিষয়। হয়তো বইটি সেকেন্ড-হ্যান্ড, কেউ বাজার থেকে নতুন কিনে পড়া শেষে আবার বিক্রি করেছে। হতে পারে বইটি জীর্ণ-শীর্ণ, শত বছর আগের বই লাইব্রেরিতে রাখা আছে; হয়তো বইটি দেখতে পুরনো; পুরাতন বই হিসেবে কম দামে দোকানি বিক্রি করছে। কিন্তু বইটি তো পুরনো নয়, যতক্ষণ না আপনি পড়ছেন। কিংবা অনেক আগে পড়েছেন, ভুলে গেছেন; আবার পড়ূন, নিশ্চয় নতুনের স্বাদ পাবেন। অথবা কিছু পুরাতন বই বারবার পড়ছেন, বারবার নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করছেন; তাতেও যেন আপনার তৃষ্ণা মেটে না। সুতরাং তা পুরনো হয় কী করে! ফলে খুব সম্ভবত বইয়ের মতো সেকেন্ড-হ্যান্ড ও পুরাতন আর কোনো কিছুর এমন বাজার নেই। আলজাজিরা অনলাইনে ৯ জানুয়ারি ‘ইন্ডিয়া :ফর দ্য লাভ অব সেকেন্ড-হ্যান্ড বুকস‘ নামে একটি ফিচার প্রকাশ করে। ‘ভারতে সেকেন্ড-হ্যান্ড বইয়ের জন্য ভালোবাসা’র ফিচারটি যে আমাদের জন্যও প্রাসঙ্গিক। আজকালকার স্কুল শিক্ষার্থীরা হয়তো বছরের প্রথমেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রজন্ম কিংবা তারও আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ রকম সব নতুন বই পাওয়ার ঘটনা ছিল বিরল। নতুন-পুরাতন বই দিয়েই শুরু হতো নতুন বছরের পড়াশোনা। অনেকে পুরনো বই অত্যন্ত যত্ন করে আলাদা কাভার লাগিয়ে পড়ত। দেখতে হোক না পুরাতন, আমার কাছে যে তা খুবই নতুন। শিক্ষা স্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে এ পুরনো বই পড়া স্বাভাবিক বিষয়। একই বিষয়ের হয়তো কয়েকটি বই থাকে; সবার পক্ষে সব বই কেনা সম্ভব হয় না। তখন কাছের বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে কিংবা বড় ভাইয়ের ব্যবহৃত বই পড়তে হয়। আবার লাইব্রেরিতেও তো সব বই সে অর্থে নতুন থাকে না। পুরনো এমনকি অনেক সময় লাইব্রেরির পোকায় খাওয়া বই-ই তখন ভরসা। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে অন্যান্য বই পড়তেও পুরাতনই বেশি পড়া হয়। Continue reading

ঢাকার শীত, গ্রামের শীত

gai-winter-36441গ্রামে ঘুমুতে যখন লেপ-কম্বলেও শীত মানছে না, রাজধানীতে তখন এক-দুটো পাতলা কাঁথায় দিব্যি চলছে। গ্রামে পৌষের শীতে যখন সবাই গরমের পোশাকে জবুথবু, ঢাকায় পাতলা জামায় চলছে তখন। দূরত্বের দিক থেকেও যে খুব বেশি তা নয়। তার পরও রাজধানী বলে কথা। মানুষের কোলাহলে শীত বুঝি আসতে ভয় পায়! আর প্রায় সর্বক্ষণ দরজা বন্ধ থাকা রুমে শীত ঢুকবেই বা কীভাবে!
এ বছর অবশ্য এতদিনে ঢাকায় তেমন শীতের দেখা না মিললেও শনিবার মাঘ আসার সঙ্গে সঙ্গে ভালোভাবেই শীত অনুভূত হচ্ছে। বাইরে বের হলেই শৈত্যপ্রবাহ টের পাওয়া যাচ্ছে। অন্যের গায়ে গরমের পোশাক দেখেও তো বলা যায়, শীত যে সত্যি জেঁকে বসেছে।
শীতে গ্রামের চিত্র একরকম, শহরের অন্যরকম। গ্রামে সবাই মিলে লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর মধুর চিত্র দেখা যায়, দেখা যায় সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির আঙিনায় রোদ পোহানোর দৃশ্য। প্রকৃতির পরিবর্তনও গ্রামে লক্ষণীয়; মাঠে-জমিতে সবুজ শাকসবজি আর রসের হাঁড়ি নিয়ে খেজুর গাছে কৃষক। রাজধানীতে এসব চিত্র বিরল। রাজধানীর চিত্র অবশ্য দু’রকম। কৃত্রিম উপায়ে শীত নিবারণের ব্যবস্থা এখানে যেমন রয়েছে একই সঙ্গে শীতবস্ত্রহীন অসহায় মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। রাজধানীতে যারা পথেঘাটে থাকে অনেকে অনেক কষ্টে শীতের দিন কাটায়। কম শীত হলে না হয় রাজধানীর ‘গরমে’ তাদের সমস্যা কম হয় কিন্তু শীতের প্রকোপ যখন বেশি তখন ভোগান্তিও কম নয়। Continue reading

কাজের মাঝে ঘুম!

জাপানের ইনেমুরি (কাজের সময় ঘুম)

জাপানের ইনেমুরি (কাজের সময় ঘুম) কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক

জনসমক্ষে ঘুমানোর চিত্র বিচিত্র নয়। কোনো অনুষ্ঠানে, যানবাহনে, অফিসে বা ক্লাসে সবার সামনে অনেকেই ঘুমান। ঘুমের চাহিদা অনেক সময় অগ্রাহ্য করা যায় না। কিন্তু যেখানে-সেখানে ঘুমানোকে ভালোভাবে দেখা হয় না। উত্তর কোরিয়ায় তো এক অনুষ্ঠানে ঘুমানোর জন্য শীষস্থানীয় নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন কিম জং উন। তবে সেটি নাকি কিমের বক্তৃতা মনোযোগ দিয়ে না শোনার শাস্তি ছিল। ছোটবেলায় দেখেছি, শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষক কানে ধরে দাঁড় করাতেন। সংসদে বা অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছেন আমাদের মন্ত্রী-এমপিরা। মন্ত্রীদের অনুষ্ঠানে ঘুমানোর খবর তো সংবাদমাধ্যমের হট কেকই বলা যায়। জাপানের চিত্র অবশ্য উল্টো। সেখানে বরং জনসমক্ষে ঘুমালে কেউ তো কিছু মনেই করে না, উল্টো এ ঘুমকেই দেখা হয় বিচক্ষণতার প্রতীক হিসেবে। নতুন বছরে বিবিসি ফিউচার ২০১৬ সালের কয়েকটি সেরা ফিচার-প্রতিবেদন নতুন করে সামনে আনে। যার অন্যতম ফিচার ‘দ্য জাপানিজ আর্ট অব (নট) স্লিপিং’ অর্থাৎ জাপানের (না) ঘুমানোর সংস্কৃতি। ব্র্যাকেটে ‘না’ শব্দটির রহস্যের কথা বলছে ফিচারটি, যার শুরুই হয়েছে এভাবে_ জাপানিরা ঘুমায় না, হালকা নিদ্রাও যায় না; তবে তারা ইনেমুরি করে। ইনেমুরির কথা অনেকেই হয়তো জেনে থাকবেন। জাপানিরা একে কাজের সময় ঘুম যাওয়া অর্থে ব্যবহার করেন। নিউইয়র্ক টাইমসের ১৬ ডিসেম্বরের (২০১৬) এক প্রতিবেদনেও সে কথা এসেছে। শিরোনাম করা হয়েছে_ জাপানে জনসমক্ষে ঘুম অধ্যবসায়ের লক্ষণ। সেখানে হঠাৎ কাজের মধ্যে যারা ঘুমিয়ে পড়ে, তাদের অধিক দক্ষ হিসেবে দেখা হয়। Continue reading

হালের গরু দর্শন

hal-dour

পাকুন্দিয়ায় হাল দৌড় প্রতিযোগিতা

হাল আমলে হালচাষের গরুর দেখা মেলা ভার। জমিতে লাঙল কিংবা মই গরু দিয়ে টানা হালচাষ নতুন প্রজন্মের অনেকের হয়তো দেখারও সৌভাগ্য হয়নি। গরু দিয়ে হালচাষের পরিবর্তে এখন এসেছে মেশিন- ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ইত্যাদি। এ সময়ে এসে যখন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম_ ‘বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে হালচাষ’। ঠিক সে সময়ে এসে রোববারের সমকালের প্রতিবেদন, ‘পাকুন্দিয়ায় হাল দৌড় প্রতিযোগিতা’। প্রতিবেদনটি বলছে, শনিবার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হালচাষ প্রতিযোগিতা হয়েছে। স্থানীয় একটি ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২ জোড়া গরু অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় প্রতি জোড়া হালের গরুকে পেছনে মইসহ দৌড়ে পাড়ি দিতে হবে অন্তত ৭শ’ গজ জমি, যে জোড়া সবচেয়ে কম সময়ে এ পথ পাড়ি দেবে, সেই বিজয়ী হবে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই বলা চলে অনেক দিন পর সংবাদমাধ্যমে হালচাষের গরুর সাক্ষাৎ। গ্রামে আগে এ গরুই ছিল জমিতে হাল দেওয়ার প্রধান অবলম্বন। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হালচাষ করা হতো। কৃষকরাও সেভাবে গরু পালন করত, হালের জন্য আলাদা গরু থাকত। অনেকে হালচাষকে পেশা হিসেবেও বেছে নিত, নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হাল দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। ধীরে ধীরে দৃশ্যপট বদলায়। Continue reading