Monthly Archives: নভেম্বর ২০১৬

ঘুমিয়ে ডিজিটাল ল্যাব!

school-locked-digital-lab

অযত্ন-অবহেলায় ধূলিধূসরিত কম্পিউটার, প্রিন্টার, প্রজেক্টর তথা ল্যাব সামগ্রী

ডিজিটাল স্কুল, ডিজিটাল ক্লাসরুম নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, সরকার যখন সব স্কুলকে ডিজিটাল স্কুল বানাতে চাইছে তখন সমকালের একটি খবর, স্কুলে তালাবদ্ধ ডিজিটাল ল্যাব। কেবল তালাবদ্ধ নয়, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটি বলছে_ শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে চার বছর আগে ডিজিটাল ল্যাব গড়ে তোলা হলেও আজও এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। চার বছর ধরে ল্যাবের দরজা বন্ধ। প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি মাধ্যমিক স্কুলে অযত্ন-অবহেলায় ধূলিধূসরিত কম্পিউটার, প্রিন্টার, প্রজেক্টর তথা ল্যাব সামগ্রী। এ অবস্থা কেবল একটি বিদ্যালয়েই নয়। প্রতিবেদনটি বলছে, উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ের একই অবস্থা। আমাদের আশঙ্কা অন্যান্য উপজেলায়ও এমন চিত্র দেখা যেতে পারে।
ডিজিটাল ল্যাব বন্ধের কারণ প্রতিবেদনটিতে উঠে না এলেও অনেক বিষয়ই যে এর পেছনে রয়েছে তা বলাই যায়। হয়তো বিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার, প্রজেক্টর, প্রিন্টার চালানোর মতো দক্ষ কেউ নেই। কিংবা অতি সতর্কতার জন্য, ধরলে নষ্ট হয়ে যাবে_ এ ভয়ে ডিজিটাল ল্যাব খোলাই হয়নি! কিংবা ব্যবস্থাপনাগত কোনো সমস্যা রয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক স্তরে যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয় রয়েছে ল্যাব ছাড়া তা এসব স্কুলে কীভাবে পড়ানো হয়েছে। এটি তো অন্য বিষয়ের মতো নয় যে, বই দেখে পড়ালেই হয়। এখানে তত্ত্বীয় বিষয়ের সঙ্গে ব্যবহারিকও রয়েছে, যেখানে কম্পিউটারে হাতে-কলমে শেখানো প্রয়োজন হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি ডিজিটাল ল্যাবকে ছাড়িয়ে গোটা শিক্ষা কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। Continue reading

নামে কিংবা গুণে

দুনিয়ার সবকিছু প্রাথমিকভাবে নামেই পরিচিত। ব্যক্তির নাম, বস্তুর নাম, জায়গার নাম ইত্যাদি নাম ছাড়া চেনা অসম্ভব। অবশ্য অনেকে নামের সঙ্গে গুণের কথাও বলেন। তা হয়তো ঠিক। কিন্তু অনেক বিষয় আছে আসলে নামের সঙ্গে কোনো মিলই নেই। যেমন হাতিরঝিলে এখন কোনো হাতি নেই। মতিঝিলে মোতি নেই, ঝিলও নেই। আর রূপনগরে রূপ থাকবে কেমনে! সম্প্রতি এক ব্লগে ব্লগার তা-ই লিখেছেন, ‘রূপনগরের’ রূপের বাহার দেখি না! মিরপুরের রূপনগর সত্যিকারার্থেই এমন এক জায়গা, যেখানে রূপের বিপরীত সব চিত্র দৃশ্যমান। রাস্তার ঠিক নেই, চলছে যখন-তখন খোঁড়াখুঁড়ি, যেখানে-সেখানে বসে আছে হকার। চলাচলের ভালো যানবাহন নেই। নিয়ম-শৃঙ্খলার বালাই নেই। এটাই রূপনগর।
কেবল রূপনগর নয়, রাজধানীর অনেক এলাকার অবস্থাই এ রকম। দোষ যে কেবল নামের তা নয়। নাম কতগুলো নিরীহ বর্ণ কিংবা শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। যদিও নাম রাখতে কেউই কম যান না। কে কত সুন্দর নামে নামকরণ করতে পারে সে প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এতে তার দোষই বা কী। শান্তিনগরের নাম যিনি রেখেছেন সেখানে অশান্তির কিছু ঘটলে দায় তার ঘাড়ে পড়বে কেন? কারও নাম ইজ্জত উল্লাহ হলে তিনি বেইজ্জতির কিছু করলে, দোষ তো আর নামকারকের নয়। আবার নামের বিপরীত চিত্রও তো আছে। বহুল ব্যবহৃত উদাহরণ বোধহয় আলমের পচা সাবান। সাবানের বিজ্ঞাপনেই রয়েছে, নামে নয়_ গুণে পরিচয়। বলাবাহুল্য, এই আলমের পচা সাবান কারখানাকেই গত বছর বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের লাইসেন্স না থাকায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। Continue reading

বন্দি সংকটে কারাগার!

নেদারল্যান্ডস: অপরাধীর অভাবে কারাগার এখন হােটেল

নেদারল্যান্ডস: অপরাধীর অভাবে কারাগার এখন হােটেল

কারাগারের কথা বললে অনেকের সামনেই হয়তো এক বন্দিশালার চিত্র ফুটে ওঠে, লোহার শিকের ভেতর দয়ামায়াহীন এক পরিবেশ। কোথাও একা কিংবা গাদাগাদি করে থাকা ‘অপরাধী’র আবাস। যেখানে স্বাধীনতা নেই, থাকার সুন্দর ব্যবস্থা নেই। কর্তৃপক্ষের হুকুম তামিল ছাড়া কোনো কাজ নেই। এর মধ্যে রিমান্ড তো মূর্তিমান এক ভীতির নাম। কিন্তু কারাগার যে তা নয় সেটা কে বলবে? বলাই বাহুল্য, আমাদের কারা অধিদপ্তরই বলছে, ‘কারাগার আধুনিক সভ্যতায় বন্দিদের সংশোধন ও সুপ্রশিক্ষিত করে সভ্য সমাজের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান’। কারাগারের এত সুন্দর সংজ্ঞা থাকার পরও আমাদের চোখে কেন এমন অসহায় চিত্র! উত্তরটা সহজ। আমরা বলছি সংশোধনাগার, কিন্তু ততটা করতে পারছি না। যারা সত্যিকারার্থেই সংশোধনাগার হিসেবে কারাগারকে ব্যবহার করছে তাদের চিত্রটা দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সম্ভবত বড় উদাহরণ।
আমাদের কারাগারে ঠাঁই নেই। জেলকোড অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দির জন্য জায়গা বরাদ্দ ৩৬ বর্গফুট। সে অনুযায়ী দেশের ৬৮টি কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৪৬০। অথচ বন্দি আছে তার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। এ বছরের জুনের তথ্যমতে, বন্দি সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০। অথচ নেদারল্যান্ডসে কারাগারগুলো বন্দি সংকটে ভুগছে। ১০ নভেম্বর বিবিসি ম্যাগাজিনে ‘দ্য ডাচ প্রিজন ক্রাইসিস : অ্যা শর্টেজ অব প্রিজনারস’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে নেদারল্যান্ডসের চিত্র। সেখানে ৫০টি কারাগারের মধ্যে ১৯টি বন্ধ হয়ে গেছে। ৮টি বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কিছু কারাগার ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, হোটেল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। Continue reading