Monthly Archives: মে ২০১৬

সবুজ তাজমহল!

তাজমহলের রঙ নিয়ে আলোচনা একেবারে কম হয়নি। স্থাপত্যশৈলীতেই যদিও এটি ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়; সকালে এক রঙ, দুপুরে আরেক, পূর্ণিমার রাতে ভিন্নরূপ; তাজমহলের এই রূপ-রঙ রহস্যের বাইরেও থামেনি রঙের আলোচনা। স্বচক্ষে না গিয়েও তাজমহল ডট জিওভি ডট আইএন-এর ভিউ অব তাজে গিয়ে পাঠক ডে ভিউতে দিনের পাঁচ ধরনের দৃশ্য দেখতে পাবেন। আর নাইট ভিউতে দেওয়া আছে রাতের চারটি দৃশ্য। দৃশ্যগুলো কোনোটা সাদা, কোনোটা কালো, কোনোটা হলুদাভ, কোনোটা সবুজাভ, আবার কোনোটা যেন লাল। যদিও সাদা মার্বেলের তৈরি বলে তাজমহলের রঙ অনেকে সাদাই বলেন। ঠিক এ সূত্রেই বলা চলে, কালো তাজমহলের খবর দিয়েছিল ভারতেরই টাইমস অব ইন্ডিয়া। মোগল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রীর স্মৃতি হিসেবে বিশ্বের অন্যতম এই স্থাপনা তৈরি করেন। তিনি নাকি যমুনা নদীর অন্য পারে কালো মার্বেল পাথরে তাজমহলের আরেকটা অনুকৃতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। ফরাসি পর্যটক জঁ্য ব্যাপ্টিস্ট টাভারনিয়ারের ভ্রমণকাহিনীতে তা উল্লেখ আছে, যিনি ১৬৪০ ও ১৬৫৫ সালে মোগল রাজধানী আগ্রায় ভ্রমণ করেছিলেন। তার মতে, সম্রাট শাহজাহান যমুনার অপর পারে নিজের সমাধিক্ষেত্রের নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু নিজের ছেলেদের মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেননি। তার সমর্থনে উনিশ শতকে এসে এসিএল কারলেইলি নামের এক ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ যমুনার পারে একটি পুকুরে কালো মার্বেল খুঁজে পাওয়ার দাবি করেন।
আজকের আলোচনায় অবশ্য তাজমহলের রঙের প্রসঙ্গ ভিন্ন। সেটা টাইমস অব ইন্ডিয়ারই গত বছরের প্রথম দিকের এক প্রতিবেদনের সঙ্গে মেলানো যায়। যেটি বলছে, ‘পলিউশন টার্নি তাজমহল ইয়েলো :স্টাডি’ অর্থাৎ গবেষণা বলছে, দূষণের কারণে তাজমহল হলুদ হয়ে যাচ্ছে। Continue reading

পারিবারিক শিক্ষা ও বন্ধন

familyকাজে গেলে মেয়েটি অপেক্ষা করে কখন আসবে বাবা, ছেলের ভাবনায়ও বাবা, স্ত্রীও হয়তো প্রিয় স্বামীর পথপানে চেয়ে থাকেন। বাবাকে নিয়ে এই উৎকণ্ঠা কেবল পরিবারেই সম্ভব। ছেলে পড়তে যাবে, মা যতক্ষণ চোখ যায় তাকিয়ে থাকেন। ছেলে অদৃশ্য হয়ে গেলে হয়তো শাড়ির আঁচলে চোখ মোছেন। বাবা এগিয়ে দিয়ে আসেন। যানবাহনে উঠিয়ে দেন। খেয়ে না খেয়ে রোজগারের টাকা ছেলের হাতে তুলে দেন। ছেলে পড়তে যায়, বাবা বারবার পেছনে তাকান। এটাই তো পরিবারের দৃশ্য। মেয়ে বড় হয়েছে। পছন্দমতো পাত্র খুঁজে পাত্রস্থ করবেন, তারপরও মায়ের বিলাপ, বাবার কান্না, ভাইবোনের অশ্রু। এমন আদর, সোহাগ, মমতা, ভালোবাসা কেবল পরিবারেই সম্ভব। সন্তানের অসুস্থতায় বাবা-মা উৎকণ্ঠায় থাকেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে সন্তানকে বাঁচাতে চান। এই যে রক্তের, হৃদয়ের বন্ধন তা একমাত্র পরিবারই দিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার এই সম্পর্ক প্রতিদিন প্রতিক্ষণের। একদিনের পরিবার দিবসে তাতে কিছু আসে যায় না। তার পরও জাতিসংঘ ঘোষিত আজকের আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসে পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নই বোধ হয় যথার্থ। Continue reading

সিভি অব ফেইলিয়রস-ব্যর্থতার সিভি!

CV-Failuresসিভি বা কারিকুলাম ভিটায় জীবনের বৃত্তান্ত লিখতে সবাই সচেতন। সিভির সঙ্গে যে অনেক কিছু জড়িত। আপনার স্বপ্নের চাকরিটা হয়তো সিভির কারণেই হাত ফসকে বের হয়ে যেতে পারে। সুন্দর সিভি না হলে কেউই হয়তো আপনাকে ডাকবে না। ভালো একটা সিভি তৈরি করতে তাই সবাই গলদঘর্ম হন। সেখানে নেতিবাচক বা ব্যর্থতার কথা লেখা তো দূরের কথা, ইনিয়ে-বিনিয়ে নানা ইতিবাচক দিক লিখতে আমরা ব্যস্ত। সবাই ধরে নেন, সিভি মানেই ব্যক্তির ইতিবাচক ধারণার উপস্থাপন। যেখানে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সব সফলতা, অর্জন, দক্ষতা লেখা হবে। সিভির এই প্রচলিত ধারণাকে বলা চলে একেবারে উল্টিয়েই দিয়েছেন জোহানস হাউসোফার। ৩০ এপ্রিল ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে ‘সিভি অব ফেইলিয়রস‘ নামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জোহানস হাউসোফার। ২৩ এপ্রিল তিনি টুইট করেছেন, নিউ ‘পাবলিকেশন’ :মাই সিভি অব ফেইলিয়রস! অর্থাৎ নতুন ‘প্রকাশনা’ :আমার ব্যর্থতার সিভি। টুইটের সঙ্গে তিনি ব্যর্থতার সে সিভির লিঙ্কও দিয়ে দেন। ২ পৃষ্ঠার সে সিভিতে তিনি তার ক্যারিয়ারের নানা ব্যর্থতার বিষয় তুলে ধরেন। পিএইচডি, গ্র্যাজুয়েট কোর্স ও বিএ ডিগ্রির জন্য অ্যাপ্লাই করেও কয়েক জায়গায় তিনি সুযোগ পাননি। কয়েক জায়গায় ফেলোশিপ, শিক্ষকতার চাকরি, স্কলারশিপ, রিসার্চ ফান্ড পাননি। এসব বিষয় তিনি ব্যর্থতার সিভিতে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরেছেন। যেমন তিনি লিখেছেন, ডিগ্রি প্রোগ্রামস আই ডিড নট গেট ইনটু, একাডেমিক পজিশনস অ্যান্ড ফেলোশিপস আই ডিড নট গেট, অ্যাওয়ার্ডস অ্যান্ড স্কলারশিপস আই ডিড নট গেট ইত্যাদি। Continue reading

কল্পনায় জীবন্ত গল্প

রাফিক হারিরির ফুলবানু ও অন্যান্য গল্প পড়ে চরিত্রদের কথা চিন্তা করি। ফুলবানু, হাবিবুল্লাহ, নুরু, হাজেরাদের কথাই বারবার মনে পড়ছে। কত শত চরিত্রের মাঝে কবি চরিত্রটাও ভোলার মতো নয়। ৩৩টি গল্পে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চরিত্র রয়েছে। একেকটা গল্প ধরে হয়তো বর্ণনা করা যাবে। কিন্তু মোটের ওপর কয়েকটি চরিত্র হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। চরিত্র কতটা শক্তিশালী তা লেখকের ওপর নির্ভর করে। লেখকের চিত্রায়ন পাঠক অনুধাবনের চেষ্টা করে। কখনও কখনও পাঠকের কাছে তা জীবন্ত হয়ে ওঠে। হয়তো পাঠক নিজের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে, পরিচিতজনের সঙ্গে তুলনা করার চেষ্টা করেন। ভাবেন, ওর জীবনে তো ঠিক এমনটাই ঘটেছে। একইভাবে লেখকও তার অভিজ্ঞতা থেকেই চোখের সামনে ঘটনাগুলোই তার লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন। হাজেরার কথাই ধরা যাক। প্রতিনিয়ত শাহবাগের পথে কত হাজেরার দেখাই না আমরা পাই। আমাদের কাছে সে হয়তো হাজেরাই। কিন্তু লেখকের কাছে সে অন্য কিছু। রাফিক হারিরি তাকে কল্পনা করেছেন ছায়াময়ী হিসেবে,যে ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার প্রতিটি ঘটনার সাক্ষী সে। কিন্তু গল্পটা যে তার কুকুরকে নিয়ে। লেখক যাকে বিপদের ত্রাণকর্তা হিসেবে এনেছেন। সে এক অসাধারণ গল্প। রাফিক হারিরির এ রকম প্রতিটি গল্পই মোড় ঘুরানো। পাঠক গল্পগুলো পড়ে চমৎকৃত না হয়ে পারবেন না। Continue reading

মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক

মাতৃদুগ্ধ যে শিশুর সর্বোত্তম খাদ্য তাতে কারও দ্বিমত নেই। জন্মের পর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এ খাবার প্রতিটি শিশুর জন্য নিশ্চিত করার তাগিদ স্বাভাবিক। হয়তো সেদিক থেকেই মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ। যেসব শিশু নানা কারণে মায়ের দুগ্ধ থেকে বঞ্চিত তাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির যথাযথ জোগান নিশ্চিত করার জন্য এ ব্যাংক। ভারতের দিলি্লতে এটি চালু হওয়ার খবর দিয়েছে বুধবারের আনন্দবাজার পত্রিকা। ‘মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক চালু দিলি্লতে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি বলছে, মঙ্গলবার দিলি্লতে ‘আমারা’ নামের মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক চালু করেছে দুটি বেসরকারি সংস্থা। প্রতিবেদনটি আরও জানাচ্ছে, ভারতে এ রকম ১৪টি ব্যাংক চালু রয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, ‘অনেক সময়ই শারীরিক পরিস্থিতির জন্য দুগ্ধ উৎপাদনে মায়েরা অক্ষম হয়ে থাকেন। এ ছাড়াও রাস্তাঘাটে এমন অনেক শিশুর খোঁজ মেলে, যাদের মায়ের পরিচয় জানা যায় না। অপুষ্টিতে ভোগা এসব শিশুর জন্যই মাতৃদুগ্ধ ব্যাংকের সূচনা’। উন্নত বিশ্বে মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক অবশ্য সাধারণ ব্যাপার। মাদার্স মিল্ক ব্যাংক, দ্য মিল্ক ব্যাংক, মাদার্স মিল্ক ইত্যাদি নানা নামে বিভিন্ন দেশে এটি চালু আছে। একে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক বা ব্রেস্ট মিল্ক ব্যাংকও বলা হয়।
মাতৃদুগ্ধ ব্যাংকে সাধারণ মায়েদেরই দান করা দুগ্ধ পাস্তুরিত করে রাখা হয়। যারা দান করে তাদের সুস্থতা ও পারিপাশর্ি্বক বিষয় দেখা হয়। বিশেষ কিছু রোগ আছে কি-না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েই ডোনেশন সম্পন্ন করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাতৃদুগ্ধ ব্যাংকগুলো স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয়। উইকিপিডিয়া বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মিল্ক ব্যাংকিং ইনিশিয়েটিভ। ৩৩ দেশে রয়েছে মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক। ব্রাজিলে রয়েছে ২১০টি, ইউরোপে ২০৩টি, লাতিন আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায়ও মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক চালু রয়েছে। Continue reading

স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক মাদক নীতি চাই: কফি আনান

্ীহুআমার অভিজ্ঞতা বলছে, কোনো কিছু বাস্তবে হচ্ছে কি-না তার নিরপেক্ষ আলোচনার মাধ্যমে একটি ভালো গণনীতি দাঁড়াতে পারে। সাধারণ অনুমান ও জনতুষ্টির লক্ষ্যে প্রণীত নীতি অনেক সময় ভুল নির্দেশনা দেয় এবং বিপথে পরিচালিত করতে পারে।
আমাদের আলোচ্য বিষয় মাদক নীতিমালা। বৈশ্বিক মাদক নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বাস্তবতার বাইরে আবেগ ও ভাবাদর্শই প্রাধান্য পেয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে গাঁজার ব্যবহার দেখা যেতে পারে। যেমন আমরা দেখছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্যও গাঁজাকে সিদ্ধ করা হয়নি। কারণ সেখানকার তরুণ প্রজন্মের মাঝে এটি গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেই অতিরিক্ত হেরোইন সেবনের কারণে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। কিন্তু এর আইন ও শাস্তি আগের মতোই আছে।
১৯-২১ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে মাদক বিষয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। আমার মনে হয়, মাদক নিয়ে ভালোভাবে ভাবার, আইন-কানুন পরিবর্তনের এটা একটা ভালো সুযোগ। এ ব্যাপারে আমাদের আগেকার নীতিগুলো কতটা সঠিক? সে প্রশ্নটি আমাদের করতে হবে। বিশেষ করে বলতে গেলে, গত পঞ্চাশ বছরে নীতির কারণে মাদকের দ্বারা যে সহিংসতা, দুর্নীতি ও অস্থিতিশীলতার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ সৃষ্টি হয়েছে, যাকে জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ অফিস ‘অপ্রত্যাশিত ফল’ বলে আখ্যায়িত করেছে, সে ব্যাপারে আমাদের পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত তা দেখা দরকার। একটু চিন্তা করুন, মাদক পাচার-সংক্রান্ত অপরাধে ২০১৩ সালে মেক্সিকোতে ১৬ হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
বৈশ্বিকভাবে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ সফল হয়নি। অনেকে হিসাব করছেন, বছরে মাদকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় খরচ নূ্যনতম ১ বিলিয়ন ডলার তথা প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ৩০ কোটি মানুষ মাদক ব্যবহার করছে এবং এ জন্য ব্যয় করছে ৩৩০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ মোটামুটি ২৬ লাখ কোটি টাকা। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পণ্যবাজার। Continue reading

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঐক্যবদ্ধ থাকুক: বারাক ওবামা

EUমার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকলিন ডি রুজভেল্ট ১৯৩৯ সালে কিং জর্জ সিক্সকে হোয়াইট হাউসে বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করাতে চাই যে, কেবল আমাদের দুই দেশের অবদান সভ্যতায় ও মানবকল্যাণে বিশ্বে অবিস্মরণীয়।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমরা একত্রে আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের মাত্রা দিয়ে এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি।’
প্রায় ৮০ বছর, যুক্তরাজ্য এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু এবং উভয়ের মিত্রতা অন্য কারও তুলনীয় নয়। আমাদের বিশেষ সম্পর্কের কারণ, আমরা যুদ্ধের ময়দানে পরস্পর রক্ত ঝরিয়েছি। আমাদের সম্পর্ক কাজের মাধ্যমে সুদৃঢ় হয়, ইউরোপের উন্নতি, সমৃদ্ধি ও টেকসই এবং বিশ্বে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত আমরা তৈরি করেছি। যুদ্ধভস্ম থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে পৃথিবীর শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগ যথাযথ ভূমিকা রাখছে সেগুলো :জাতিসংঘ, ন্যাটো, ব্রেটন উডস, দ্য মার্শাল প্ল্যান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের প্রচেষ্টা গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও আইনের শাসনে ভূমিকা রেখেছে; সাত দশকেরও বেশি সময়ে ইউরোপের শান্তি ও সমৃদ্ধির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে।
‘ইউরোপের সমাধিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো মানুষের আত্মা সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার নীরব সাক্ষী।’
আজ আমরা সন্ত্রাস, আগ্রাসন, মাইগ্রেশন ও অর্থনীতির ব্যাপারে পরীক্ষার সম্মুখীন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যখন একে অন্যের ওপর নির্ভর করতে পারবে, আমাদের বিশেষ সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব যখন বজায় থাকবে, তখনই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব হবে। লন্ডন সফরের এই সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও আমি এসব চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আমাদের লোকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আমরা অটল ও অবিচল থাকব। Continue reading