Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি ২০১৬

মামা সংস্কৃতি!

চলতে-ফিরতে বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের মুখে সম্বোধনে বহুল ব্যবহৃত যে শব্দটি শোনা যায়, তা মামা। রিকশা-গাড়িচালক, দোকানদার, হোটেল বয় থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধবও একে অপরকে মামা ডাকছে অবলীলায়। বয়সের ভেদ নেই, পেশার বালাই নেই, রক্তের সম্পর্ক নেই, পরিচিত হওয়ার ব্যাপার নেই_ যেন গণ-মামা। যাদের ডাকছে তারাও সাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। কোনো বিকার নেই। অনেকে সম্বোধনকারীকেও মামাই বলছেন। সম্প্রতি এক ভিক্ষুকের কাছ থেকেও শোনা গেল_ ‘দিয়া যান মামা।’ এ এক অদ্ভুত ব্যাপার! সহপাঠীর সঙ্গে আড্ডা-আলোচনায়ও মামার প্রাধান্য। আজকাল টিভি নাটক, বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখা যায় বন্ধু তার বন্ধুকে বলছে, জোস হইছে মামা। দেখাদেখি অন্যরাও শিখছেন। রিকশাওয়ালা সে রকম যাত্রী পেলে বলছেন, ‘যাবেন নাকি মামা?’ মামা যেন একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কীভাবে এ মামা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে উঠল তা এক গবেষণার বিষয়।
মায়ের ভাই হন মামা। মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক হয়তো বন্ধুত্বপূর্ণ। মামার সঙ্গে সময়ে সময়ে ঠাট্টা-মশকরাও করা যায়। মামারা ভাগ্নেদের অনেক ‘গোপন’ ব্যাপারে নাকি সাহায্যও করেন। তাই বলে বন্ধুকেও মামা বলতে হবে! গণভাবে যাকে-তাকে মামা বলারই-বা হেতু কী! Continue reading

স্মার্ট বটে

Touchscreen smartphone with Earth globe

স্মার্টফােনে দুনিয়া

দেশে মোবাইল ফোনের উত্থান রীতিমতো এক বিপ্লব। অনেকের চোখের সামনে দিয়ে নীরবে এ বিপ্লব সংঘটিত হয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম তো বটেই, এক যুগ আগে মোবাইল ফোন ছাড়া যাদের দিব্যি সময় কাটত, এখন এটি ছাড়া যেন তারাও অচল। মোবাইল সহজলভ্য হয়েছে। ১১ ডিজিটের নম্বর মানুষের হাতে হাতে এসেছে। এখানে গরিব-ধনীর পার্থক্য নেই। নম্বরে না হলেও পার্থক্য বোধহয় এক জায়গায় আছে_ মোবাইল সেটে। দামের তারতম্যের কারণে বেশি দামের মোবাইল সেট কেনার সামর্থ্য হয়তো সবার নেই। যাদের টাকা আছে বেশি তারা দামি সেট ব্যবহার করতে পারেন। আজকাল বেশি দামের মোবাইল সেট মানে অবধারিতভাবেই স্মার্টফোন। তবে আমাদের ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণায় বোঝা যাচ্ছে, সে পার্থক্যও তেমন থাকছে না। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তিনি ২৫ থেকে ৩০ টাকার মাসিক কিস্তিতে স্মার্টফোন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে টেলিকম সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। Continue reading

ফেসবুকের মূল্য

A 3D plastic representation of the Facebook logo is seen in this illustration in Zenica, Bosnia and Herzegovina, May 13, 2015. REUTERS/Dado Ruvicদিন দিন আমরা যখন ব্যস্ত হয়ে উঠছিলাম; ব্যস্ত জীবনে যখন আরেকজনের খবর নেওয়ার ফুরসৎ ছিল না; যখন আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছিলাম; শহুরে জীবনের এককেন্দ্রিকতা যখন আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলছিল; যখন আমরা স্বার্থপর মানুষে পরিণত হয়েছিলাম; তখনই কি ফেসবুকের আগমন? অনেকে তা বলতেই পারেন। ২০০৪ সালে ফেসবুক এসে বলছে, ‘কানেক্ট উইথ ফ্রেন্ডস অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যারাউন্ড ইউ অন ফেসবুক’। বলছে, আপনার বন্ধুবান্ধব কাছে কিংবা দূরে আছে, তাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ হচ্ছে না? আপনার অবস্থা তাদের জানাতে পারছেন না? তাহলে দেরি না করে এখনি যুক্ত হোন ফেসবুকে।
ফেসবুকের কথা শুনেছে মানুষ। বুধবার ফেসবুক নিউজরুমে প্রকাশিত ২০১৫ সাল ও একই বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় একশ’ ষাট কোটি। বাংলাদেশেই রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারী। বলাবাহুল্য, ফেসবুক সত্যিই অচেনা মানুষকে বন্ধু করেছে, হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে খুঁজে দিয়েছে, দূরের বন্ধুকে কাছে এনেছে, যোগাযোগহীনতার একটা অবসান ঘটিয়েছে। তারপরও মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতার অবসান কতটা ঘটেছে তা ভিন্ন প্রসঙ্গ। Continue reading