Monthly Archives: অক্টোবর ২০১৫

গণপরিবহন ও জনজীবন

Dhakaবাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন। অগণিত যাত্রী। চাতক পাখির মতো একটা বাসের অপেক্ষা। বাস আসবে। সবাই উঠবে। কিন্তু কোথায় কি! বাস আসছে। দিব্যি দরজা বন্ধ করে আছে। বাইরের অপেক্ষমাণ মানুষের আকুতি শোনার সময় নেই। আসলে পর্যাপ্ত যাত্রী আগেই তোলা হয়ে গেছে। আবার অপেক্ষার পালা। বাস আসে। দাঁড়ায় না কেউই। এবার বুঝি প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হবে। কিন্তু বাসের দরজার বাইরেও ঝুলছে যাত্রী। যাত্রী নামবে দু’জন। উঠার জন্য অন্তত ২০ জনের হুমড়ি খেয়ে পড়া। অতঃপর ধাক্কিয়ে পাঁচজনের ওঠা। আপনিও তাদের একজন। কোনোমতে ঝুলে যাচ্ছেন। সময়মতো অফিস ধরতে হবে। কিংবা অফিস শেষে সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে বাসায় ফিরবেন। ঝুলতে ঝুলতে একসময় জায়গা পেলেন বাসের মেঝেতে। দাঁড়িয়ে আছেন। ধীরে ধীরে মানুষ নামছে। অনেক পরে একটা সিটের দেখা পেলেন। বসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। জীবন বুঝি এমনই। পৃথিবীতে কোথাও নিজের জায়গা করার উদাহরণটা যেন ঢাকার বাসে জায়গা পাওয়ার সঙ্গে মিলে যায়। যেখানে আপনার প্রবেশ কষ্টসাধ্য সেখানে অনেক কষ্টে আপনাকে কোনোমতে দাঁড়াতে হবে, তারপর ধীরে ধীরে সেখানে আপনার জায়গা হবে। Continue reading

মান- বিশ্বের অভিন্ন ভাষা

standard_day1444759311বিশ্বের ৭০০ কোটিরও বেশি মানুষের ভাষার সংখ্যা সাত হাজারের ওপর। সবার ভাষা এক হলে হয়তো বিশ্বের অবস্থা অন্যরকম হতো। মানুষের মুখের ভাষা ভিন্ন হলেও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অনেক কিছুর অভিন্ন ভাষা আছে। আপনার কাছে যে ক্রেডিট কার্ড আছে সেটা সব ক্যাশ মেশিনেই খাটবে; আপনি বাজার থেকে যে বাল্বই আনবেন তা নির্দিষ্ট পোর্টের জন্য প্রযোজ্য হবে; কম্পিউটারের জেপিজি ফরম্যাট সারাবিশ্বে একই; আপনার ওজনের ইউনিটও সর্বত্র সমান। এ বিষয় সামনে রেখেই এবারের বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য : স্ট্যান্ডার্ডস_ দ্য ওয়ার্ল্ডস কমন ল্যাঙ্গুয়েজ অর্থাৎ মান_ বিশ্বের অভিন্ন ভাষা। এই প্রতিপাদ্যের পেছনের কারণও বলছে আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও)। দিবসটি উপলক্ষে আইএসওর ওয়েবসাইট বলছে, এক দেশের ক্রেতা অন্য দেশে গিয়ে যদি বলতে না পারত এটা এই পরিমাণ দিন, ওটা অতটুকু দিন_ তখন কী সমস্যাই না হতো! এই অভিন্ন ভাষা কেবল মানুষের ব্যবসার জন্যই ভালো নয়, এটি বিশ্বের সব মানুষকে একসঙ্গে কাজ করাও সহজ করেছে, বলছে আইএসও। Continue reading

আফগান হাসপাতালে হামলা ও পাঁচ প্রশ্ন

Kunduz-hospital-bomb
অ্যামি ডেভিডসন
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রাদেশিক রাজধানী কুন্দুজে শনিবার রাত ২টায় স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিন স্যান্স ফ্রন্টিয়ার (এমএসএফ) পরিচালিত একটি হাসপাতালে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা শুরু করে। হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের তরফে জানা যাচ্ছে, এই বিমান হামলা এক ঘণ্টার বেশি সময় অব্যাহত ছিল। গোটা সময় ধরে হাসপাতালটি আগুনে পোড়ার চিত্র দেখা গেছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে। এমএসএফের বিবৃতিতে দেখা যাচ্ছে, একজন নার্স বলছেন, আমরা জ্বলন্ত হাসপাতালটির স্থাপনা দেখছি। সেখানে ছয়জন রোগী তাদের বিছানায় জ্বলছিল। সেখানে নূ্যনতম ২২ জন মানুষ, ১০ জন রোগী ও এক ডজন এমএসএফ কর্মী মারা যায়। মৃতদের মধ্যে তিনটি শিশুও ছিল। আহত তিন ডজন মানুষের মধ্যে শিশু রয়েছে। রয়েছে এমএসএফ স্টাফ। যাদের সেবার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এমএসএফের মতে, সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।
হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গেছে। বলা চলে এটি শেষ হয়ে গেছে। তবে রেখে গেছে পাঁচটি প্রশ্ন।
এক. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাসপাতালে হামলা করল কেন? Continue reading

বয়সের বাধা জয়!

04_105খেলার সঙ্গে বয়সের গভীর সম্পর্ক। খেলাকে সবাই একটা নির্দিষ্ট বয়সের ফ্রেমে বাঁধেন। শুরুর সময় নির্ধারিত না হলেও শেষটা সবাই মানেন। শিশু থেকেই নানা খেলার মাধ্যমে সবাই বড় হয়। একটা বয়স পর্যন্ত অনেকেই খেলেন। এরপর ছেড়ে দেন। একেবারে প্রফেশনালিও যারা খেলেন, যত বড় খেলোয়াড়ই হোন চলি্লশের পর কমই খেলতে দেখা যায়। কারণ খেলার জন্য যেমন কৌশল প্রয়োজন, তেমনি শক্তি-সামর্থ্যেরও প্রয়োজন। চলি্লশের পর সে সামর্থ্য ও মানসিকতা সাধারণত থাকে না। তারপরও কিছু খেলা থাকে যেগুলো অনেক বয়স পর্যন্ত খেলা যায়। শখ করে কিংবা ব্যায়ামের কাজ হিসেবেও যেমন অনেকে ব্যাডমিন্টন খেলেন। কিন্তু ফুটবল সে ধরনের নয়। এটি শক্তির খেলা। অথচ শনিবার ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের সে ফুটবল খেলাই দেখা গেল কিশোরগঞ্জে। ‘এ বয়সেও ফুটবল!’ শিরোনামে সোমবার সমকালে প্রকাশিত প্রতেবদনে জানা যায়, সেখানে একটি সংগঠন এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে। ষাটোর্ধ্বদের জন্য আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় আশির কোটা পেরোনো বৃদ্ধও অংশ নেন। এমনকি ৮৬, ৮৩, ৮২ বছরের তিন খেলোয়াড়ও সেখানে ছিলেন। Continue reading

ভালো মানুষের উদাহরণ

মানুষ নানাভাবে অনুপ্রাণিত হয়। মাঝে মাঝে এমন কিছুও অনুপ্রেরণার বিষয় হিসেবে হাজির হয় যে বিষয়ে ব্যাক্তি নিজেও হয়তো জানে না। একজনের সঙ্গে আরেকজনের যে প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেটাও একটা অনুপ্রেরণার উৎস।
আমার নগণ্য যে লেখালেখি তার সূচনার বিশেষ ঘটনা থাকলেও বলার মত না। তবে তা ধরে রাখার কারণ বোধহয় এটাই ছিলো যে সংবাদপত্র লেখাগুলো ছাপতো। একইসঙ্গে এটাও কারণ যে, আমার মতো তখন অনেকেই লিখতো। তাদের ধারাবাহিকতাও আমার জন্য একরকম ঈর্ষার কারণ ছিলো। ভাবতাম তারা পারলে আমি কেন পারব না। তাদেরই অন্যতম সোহেল নওরোজ।
তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র স্বাভাবিকভাবেই লেখালেখি। আর ঘনিষ্ঠতার কারণও এর বাইরে নয়। তারপর সেটা লেখালেখির গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর বিস্তৃত হয়েছে। কতদূর? তা নিরূপণ করা অসম্ভব। এটি পরিমাপের নির্ধারিত পাল্লা নেই। সেটা হৃদয় ও মনের ব্যাপার।সরাসরি সম্বোধনে তাকে যদিও স্যার ডাকি। মেইলে, মেসেজে স্যারই লিখি। কিন্তু বাস্তবে তা স্যারের ফ্রেমে বাঁধা নেই। এত সহজ সম্পর্ক অথচ গুরুগম্ভীর সম্ভাষণ কেন জানি না। তবে আমার কাছে যেটা মাঝে মাঝে মনে হয়, কাউকে ভাই বললে একটা শব্দ ধরে বলতে হয়। সেখানে সোহেল নওরোজের কাছে এসে যেন তা হয় না। যেমন, সোহেল ভাই বললে আমার কাছে কেমন যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আবার নওরোজ ভাইও মিলে না। একসঙ্গে সোহেল নওরোজ ভাই বললে সম্বোধনে আড়ষ্টতার ব্যাপার থাকে। এজন্য বোধ হয় স্যারই ভালো। এর বাইরে অবশ্য সবার কাছে সোহেল নওরোজই বলি। হয়তো নাম ধরেই বলি। আসলে এটা অন্যের বোঝার জন্য সহজ। কারণ দুইটা শব্দ মিলেই একজন অনন্য সোহেল নওরোজ। বিখ্যাত মানুষের নাম যেমন পুরোটা সবাই বলে- হুমায়ূন আহমেদ বা অমুক।

Continue reading