Monthly Archives: মার্চ ২০১৩

সম্পর্কের সূত্র

46thConvocation_Page_12

২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম সমাবর্তন

বিখ্যাত, ক্ষমতাশালী কিংবা জনপরিচিতদের সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ থাকার কথা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করা মানুষের সাধারণ প্রবণতা। তাদের আপনজন, নিকটাত্মীয়-দূরাত্মীয়, পরিচিত এমনকি অপরিচিতজনও হয়তো এই ‘সম্পর্কে’র কথা বলেন। কোনো সন্তান যেমন বলতে পারে, এই আমার বাবা কিন্তু সচিব। কেউ আবার বলবে, আমার দুলাভাইয়ের মামা কিন্তু এমপি। কিংবা কেউ বলবে, অমুক মন্ত্রী কিন্তু আমাদের পাশের এলাকার। আবার কেউ হয়তো কোনো লিংক খুঁজবে, অমুক নায়ক কিন্তু আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছিল। হুমায়ূন আহমেদ এই ছাত্রাবাসে একসময় ছিলেন, আর সেখানে আমি এখন থাকি_ কারও কাছ থেকে এরকম শোনাও অসম্ভব নয়। হুমায়ূন আহমেদের (১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮ – ১৯ জুলাই, ২০১২) প্রসঙ্গ যখন এসেছে, বলে নেওয়া ভালো, তার মৃত্যুর পর এ রকম ‘সম্পর্কের’ অসংখ্য সূত্র ধরে অনেকের লেখা পাঠক দেখে থাকবেন।
বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে ‘সম্পর্কে’র এ রকম একটা সূত্র খুঁজছিলাম। Continue reading

গ্রিন স্কুল, রবীন্দ্রনাথ এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা

GreenSchool-Bali

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অবস্থিত গ্রিন স্কুল

রবীন্দ্রনাথ কি আজকের দুনিয়ার গ্রিন আন্দোলনের কথা জানতেন? সবকিছুকে গ্রিন করার যে আয়োজন এখন সর্বত্র। ‘গ্রিনের’ তালিকায় কত কিছুই না আছে; গ্রিন টেকনোলজি, গ্রিন পার্টি, গ্রিন ইকোনমি, গ্রিন টি, গ্রিন ডে, গ্রিন বুক ইত্যাদি। জানুয়ারিতে ব্রিটেনের গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদন পড়ে এই তালিকায় গ্রিন স্কুলের খবরও জানা গেল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক বছর ধরে এই গ্রিন স্কুল রয়েছে। আমাদের দেশে গ্রিন স্কুল এখনও সেভাবে নেই। গ্রিন স্কুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচিতি না থাকলেও রবীন্দ্রনাথের বিদ্যালয়ের ধারণা থেকে সহজেই তা অনুমান করা যায়। প্রায় একশ’ বছর আগে তিনি যে ধারণা দিয়েছেন সেটাই তো প্রকৃত গ্রিন স্কুল। লোকালয় থেকে দূরে নির্জন পরিবেশে গাছপালার মধ্যে স্থাপিত বিদ্যালয়কেই আদর্শ বিদ্যালয় বলেছেন রবীন্দ্রনাথ। যেখানে শিক্ষকরা নিভৃতে নিজেরা জ্ঞানচর্চা করবেন এবং ছাত্রদের শিক্ষা দেবেন। যে বিদ্যালয়ের সঙ্গে ফসলি জমি থাকবে, দুধের গরু থাকবে; এগুলো ছাত্ররাই পড়াশোনার অবসরে দেখাশোনা করে নিজেদের আহারের ব্যবস্থা করবে। Continue reading

পেছনের গান

Image-burntBusবোধশক্তিসম্পন্ন প্রত্যেক মানুষই বোধহয় স্বপ্নচারী। প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো স্বপ্ন থাকে। কারও স্বপ্ন ভালোভাবে বেঁচে থাকার, কেউ চান বাড়ি-গাড়ি, কারও দরকার ক্ষমতা। প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্নও বিচিত্র নয়। প্রত্যেক স্বপ্নের পেছনে একটা গানও থাকে। যে তিনবেলা পেটপুরে খেতে পারে না তার গানটা খাবারের নিরাপত্তার; তার কাছে ঠিকমতো বেঁচে থাকাই হয়তো স্বপ্ন। যে ভালোভাবে খেতে পারছে তার গান আবার আরেকটা, সে আরও কিছু চায়। স্বপ্নের পেছনের গান তার নিজের অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন। এর বাইরে কি কোনো স্বপ্ন আছে, কিংবা ভেতরকার কোনো গান? উত্তরটা খুঁজতে হয়তো রাজনীতিবিদদের দ্বারস্থ হতে হবে। Continue reading

দুঃখের নদী

riverবাস্তবের নদীর সঙ্গে চোখের নদীর মিল আছে। কাঁদলে চোখ দিয়ে যে পানি বের হয় তার স্বাদ নোনতা, অনেক নদীর পানিও নোনতা। চোখের পানি, নদীর পানি উভয়ই তরল। সত্যিকার নদীর মতো চোখের নদীও শুকিয়ে যায়_ এ রকম মিলের অভাব নেই। মিল না থাকলেও কল্পনায় মিল পাওয়া যায়। পাহাড়ি ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়ে নদীর সৃষ্টি; সেটা পাহাড়ের কান্না। আর মানুষের হৃদয়ের বেদনা প্রকাশের কান্নায় সৃষ্টি হয় চোখের নদী। বাস্তবের নদীর মতো চোখের নদীতে ডুব দেন অনেকে। সাঁতরানো, ঝাঁপ দেওয়া কত কিছুই না হয়। উভয় নদীতে জোয়ার হয়, ভাটা আসে। উভয়ের সুদিন আছে, আছে দুর্দিন। Continue reading