Monthly Archives: এপ্রিল ২০১২

শিক্ষা উপকরণের দাম ও দেশীয় সক্ষমতা

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জাপান টাইমস পত্রিকার একটি সম্পাদকীয় শিরোনাম ছিল— Costly price of expensive education (দামি শিক্ষার ব্যয়বহুল মূল্য)। এতে বলা হয়, জাপানের শিক্ষার মান উন্নত হলেও সেখানে শিক্ষা ব্যয় আগের মতোই চড়া; যদিও দেশটির বাজেটের একটা বড় অংশ শিক্ষার্থীদের বিশেষ অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকে। জাপান উন্নত দেশ হিসেবে সেখানকার শিক্ষা ব্যয়বহুল হবে, এ রকমটা হয়তো আমরা ভাবতেই পারি। যদিও তার সমালোচনা করেছে সম্পাদকীয়টি এবং জাপান টাইমস এ শিক্ষা ব্যয় কমানোর সুপারিশও করেছে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যয় আমরা কীভাবে দেখব? আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বাইরে প্রাথমিক শিক্ষা হলো অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক; আবার উচ্চশিক্ষায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কম মূল্যে যে কেউ পড়াশোনা করতে পারে। পড়াশোনার জন্য এর বাইরে অন্য বিষয়ও রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা উপকরণের কথা বলতেই হবে। ঢাল-তলোয়ার বিহীন নিধিরাম সর্দার হয়ে যেমন যুদ্ধ করা যায় না, তেমনি শিক্ষা উপকরণ ছাড়াও শিক্ষাগ্রহণ অসম্ভব। ফলে শিক্ষা উপকরণ গুরুত্বপূর্ণ। স্বস্তির বিষয় হলো, শিক্ষার অন্যতম উপকরণ ‘বই’ প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে পাচ্ছে এখন। তবে শিক্ষার অন্যান্য উপকরণের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীকে তথা তার অভিভাবককেই করতে হয়। বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দামই পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে আর শিক্ষা উপকরণও এর বাইরে নয়।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়ছে’ বলে সংবাদ দিয়েছে বণিক বার্তা। এক মাস পর ২৫ মার্চ আরেকটি পত্রিকা (আমার দেশ) বলছে, ‘বাড়ছে সবরকম শিক্ষা উপকরণের দাম স্কুল ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে অভিভাবক’। প্রতিবেদনগুলো দেখাচ্ছে, গত এক বছরে শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর দাম বেড়েছে ১০-১৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে কাগজ, খাতা, কলম, পেনসিল, রঙ পেনসিল, ইরেজার, জ্যামিতি বক্স প্রভৃতি উপকরণের কথা উঠে এসেছে, যেগুলোর প্রত্যেকটির দামই সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। এ ছাড়া বেড়েছে আমদানি করা বইয়ের দামও। এর মধ্যে কাগজের দাম বাড়ায় বেড়েছে ফটোকপির খরচ; এভাবে প্রিন্ট, বাইন্ডিংসহ অন্যান্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট উপকরণের দাম বাড়ায় মোটের ওপর বেড়েছে শিক্ষা ব্যয়।
শিক্ষা উপকরণের দাম হঠাৎ এভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা ডলারের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের শিক্ষা উপকরণের ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে কোনো দ্রব্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও আমদানির ক্ষেত্রে মুদ্রার মান একটা বড় প্রভাবক। দেখা গেল, বিশ্ববাজারে এসব শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়েনি অথচ সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে তা বেড়ে গেছে কারণ ডলারের দাম বেড়েছে; আরও সহজভাবে বললে আমাদের টাকার মান ডলারের তুলনায় কমে গেছে। এ বিষয়ে পরে আসছি।
প্রকৃত অর্থে ডলারের দামের বিষয়টি না ধরলেও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বলা চলে শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে। ভোজ্যতেল, ডিম, আটা, কসমেটিকস, শিশুখাদ্য এবং সবজিসহ সব দ্রব্যের দাম যেমন সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে; একই সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষা উপকরণের দাম। এভাবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছুর দাম যখন বাড়ছে তখন শুধু শিক্ষা উপকরণই নয়, শিক্ষার অন্যান্য খরচও অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিভাবক সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ান না, তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে বেড়েছে ফি-বেতন। বলা চলে ঢাকাসহ সারা দেশেই এখন মধ্যবিত্ত শ্রেণী তাদের সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ের চেয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যেমন— কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রভৃতিতে টাকা দিয়ে পড়াতে পছন্দ করেন। ফলে সংকটটা এখন যেমন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একই সঙ্গে নিম্নবিত্তদেরও। নিম্নবিত্ত, যাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ব্যবস্থাই বড় বিষয়, তাদের সন্তানদের উচ্চমূল্যে শিক্ষা উপকরণ কেনাটা তো স্বপ্নের ব্যাপার। আবার যারা মধ্যবিত্ত, তাদের জন্য নিত্যদিনের বাজার, একই সঙ্গে সন্তানের বিদ্যালয়ের ফি-বেতন বহন আর চড়ামূল্যে শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে।
শিক্ষা উপকরণে আসি। পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা গেল, দেশের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ শিক্ষা উপকরণই দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এর মানে আমরা দেশীয়ভাবে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষা উপকরণের জোগান দিতে পারছি। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, চাইলেই ৮০ শতাংশ শিক্ষা উপকরণ দেশেই উত্পাদন করতে পারি।
শিক্ষার প্রধান উপকরণ কাগজের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমএ) সূত্র ধরে পত্রিকাগুলো বলছে, দেশে সব ধরনের কাগজের মোট চাহিদা ৭ লাখ টনের বেশি নয়। আবার বিপিএমএ বলছে, দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট কাগজকল রয়েছে ৬১টি, যেগুলো বছরে ৯ লাখ ১৮ হাজার টন কাগজ উত্পাদন করে। স্বাভাবিকভাবেই এ কাগজ দিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়েও রফতানি করতে সক্ষম বাংলাদেশ। অনেক কল প্রতি বছর রফতানি করেও থাকে। সমস্যা হলো, এখনো আমাদের দেশে কাগজ আমদানি করা হয়। এ আমদানিতে একদিকে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এমন অভিযোগও রয়েছে, একটি চক্র শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে নিম্নমানের কাগজ আমদানি করছে। ফলে বিদেশ থেকে কাগজ আমদানি বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিপিএমএ।
শিক্ষার আরেক উপকরণ কলমের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরনের সক্ষমতাও রয়েছে আমাদের। এখনো চাহিদার ৭০ শতাংশ কলম দেশী আর বাকি ৩০ শতাংশ বলা চলে ভারতীয়। দেশীয় মেটাডোর কোম্পানিই ৫০ শতাংশ কলম উত্পাদনে সক্ষম এবং আমাদের পুরো বলপেনের চাহিদা দেশে উত্পাদিত কলমই মেটাতে পারে। এখন পর্যন্ত ওয়াটার বেইজড জেলপেনটা বাইরে থেকে আনতে হয়। দেশীয় কোম্পানিগুলো এ ধরনের জেলপেন উত্পাদনের দিকে যাচ্ছে। সরকারের যথাযথ সহায়তা পেলে কলমেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হবে আশা করা যায়।
এ ছাড়া অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ যেমন— পেনসিল, ইরেজার প্রভৃতি দেশে অল্প পরিমাণে হলেও উত্পাদন হচ্ছে। এ অবস্থায় ৮০ শতাংশ শিক্ষা উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানির বিষয়টা মেনে নেয়া যায় না। আবার একই সঙ্গে ডলারের দাম বেড়ে গেলেই এগুলোর অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়বে, তাও হওয়ার কথা নয়। সবচেয়ে বড় কথা, শিক্ষা উপকরণের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিতভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে। ফলে এগুলোর দাম স্বাভাবিক রাখা সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে যেহেতু আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে, সেহেতু শিক্ষা উপকরণ উত্পাদনসংক্রান্ত শিল্পকে প্রমোট করাও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া উচিত।

বণিক বর্তা ২৬.০৪.২০১২

পিএসসির দায় প্রার্থীর ঘাড়ে?

বিসিএসের বিজ্ঞাপন যারা দেখেছেন, শেষে একটা বাক্য লক্ষ্য করার কথা_ ‘পড়াশোনা এবং জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ভালোভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন’। ৩৩তম বিসিএসের জন্য আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ৭ এপ্রিল। পিএসএসি (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) ইতিমধ্যে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে ১ জুন। কিন্তু তারিখ যত এগিয়ে আসছে বিসিএস প্রার্থীদের পড়াশোনার টেবিলের পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে মাঠে-ময়দানে, আন্দোলন-মানববন্ধনে। কারণটা অজানা নয়; কারিগরি ত্রুটির কারণে সাড়ে এগারো হাজার প্রার্থী পরীক্ষা দিতে পারছেন না। টেলিটকের অসামর্থ্য আর পিএসসির অনৈতিক সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হচ্ছে এই সাড়ে এগারো হাজার প্রার্থীকে।
পিএসসি এবারই প্রথম অনলাইনে বিসিএসের আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অনলাইনে আবেদন আর আবেদন ফি মোবাইলে নেওয়ার জন্য সরকারি টেলিকম সংস্থা টেলিটক সহযোগী হিসেবে কাজ করে। ৮ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। পিএসসির তথ্যমতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ জন প্রার্থী আবেদন যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছেন। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই সাড়ে এগারো হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেন; কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে তাদের টাকা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় টেলিটক।
কারণ তারা প্রার্থীদের শেষ দিনের অপেক্ষায় না থেকে আগেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বারবার সতর্ক করেছিল। পিএসসি বারবার তাগাদা দিয়েছে বটে, তবে সাড়ে ১১ হাজার প্রার্থীর আবেদন সম্পন্ন না হওয়ার ন্যায্যতা কখনোই তা নয় বা পিএসসি এ কথা বলে কখনও তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। যেহেতু পিএসসি ৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সময় দিয়েছে, ফলে কোনো শিক্ষার্থী এই সময়ের ১০ মিনিট আগেও যদি তার আবেদন করেন কিংবা টাকা পাঠান আইনত তার দায় পিএসসির। এখানে পিএসসির ওয়েবসাইট কিংবা তাকে সহায়তাকারী টেলিটকের যে কোনো সমস্যার জন্য দায় পিএসসির এবং কোনো প্রার্থী এদের সমস্যার কারণে আবেদনে অসমর্থ হলে তার ব্যবস্থাও পিএসসি নেবে।
সমস্যাটা টেলিটকের, এটা খুবই স্পষ্ট। যেটা দেখা গেল, অনেকের অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলেও টেলিটক টাকা নিতে পারেনি। এটা কেবল শেষ দিনই নয়; শেষ সপ্তাহ থেকেই টেলিটকে টাকা পাঠাতে প্রার্থীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আর শেষ দু’দিন তো এই সাড়ে এগারো হাজার শিক্ষার্থীর টাকা নিতেই পারেনি। বিসিএসে আহামরি সংখ্যায় কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করেননি। গত ৩১তম বিসিএসে এক লাখ ৬৪ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এবার ৩৩তম বিসিএসে এক লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ আর বাকি সাড়ে এগারো হাজার যোগ করলে মোট সংখ্যা দুই লাখও ছাড়ায়নি। এই দুই লাখ সংখ্যাকেই সামলাতে ব্যর্থ হলো টেলিটক, অথচ টেলিটকের নিজেরই গ্রাহক সংখ্যা ১২ লাখ। যদিও বিসিএসের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়ায় টেলিটককে সংযুক্ত করা নিয়েই অনেকের অভিযোগ রয়েছে, যেহেতু এর অবকাঠামো ভালো নয় তার ওপর সারাদেশে নেই এর নেটওয়ার্ক। যদিও টেলিটক নাকি পিএসসিকে টাকা জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, এমনকি যারা মেসেজ পাঠিয়েছে কিন্তু টাকা নিতে পারেনি তাদের জন্যও অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল টেলিটক কিন্তু পিএসসি সময় বাড়াতে রাজি হয়নি। অথচ পিএসসি চাইলেই কয়েক দিন সময় বাড়াতে পারত।
প্রতিটি প্রার্থীর কাছে বিসিএস একটা স্বপ্ন। যে সাড়ে এগারো হাজার শিক্ষার্থীর বিষয়ে পিএসসি বলছে_ ‘আমাদের কিছুই করার নেই’ তাদের এক বছর নষ্ট করার অধিকার পিএসসির নেই। তাদের মধ্যে হয়তো এমন অনেকে আছে যার বয়স এবারই শেষ। অবশ্য এর চেয়ে বড় বিষয় হলো তাদের নিজেদের কোনো দোষ নেই বরং কর্তৃপক্ষের কারণেই সঠিকভাবে আবেদন করতে পারেননি। বলা যেতে পারে, দীর্ঘ এক মাস সময় থাকলেও শেষের দিকে আবেদন করার কী আছে। আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর আর সার্টিফিকেটের সাল, পরীক্ষার নম্বর চাওয়া হয়েছিল_ এসব সংগ্রহ করতেও দেরি হতে পারে কিংবা অনেকের ইন্টারনেট সংযোগই নেই বা টেলিটক সিম নেই, সে ক্ষেত্রেও দেরি হতে পারে।
আর এটা পিএসসির ৭ তারিখের পরপর বা এর আগেই বোঝা উচিত ছিল। সাড়ে এগারো হাজার প্রার্থী কম কোনো সংখ্যা নয়। এত শিক্ষার্থী কোথায় যাবেন? ফলে প্রতিদিনই তারা আন্দোলন করছেন; সংবাদ সম্মেলন করছেন, মানববন্ধন করছেন, বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে। ুপিএসসি আর টেলিটকের কারিগরি সমস্যা আর অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তের দায় শিক্ষার্থীরা নিতে পারেন না। পিএসসিকে অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত, এবারই যেহেতু প্রথম অনলাইন আবেদন হচ্ছে পিএসসি অন্তত এবারের জন্য ছাড় দিতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সবাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করেছেন। এখনও হয়তো পিএসসি চাইলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই বঞ্চিত প্রার্থীদের একটা ব্যবস্থা করতে পারে_ যেহেতু তারা আবেদন করেছেন এবং আবেদনপত্র পিএসসি-টেলিটকের সার্ভারে আছে।

              সমকালে প্রকাশিত ১৯ এপ্রিল ২০১২