Monthly Archives: অক্টোবর ২০১০

স্বপ্নের দোলাচলে বিনামূল্যের পাঠ্যবই

আগের বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় সরকার আগামী বছরের আগেই শিক্ষার্থীদের হতে বই পেঁৗছে দিতে চায়। মার্চ থেকেই এর কার্যক্রম শুরু করে। ১৫ মার্চের মধ্যেই সব প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা নিজ নিজ শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জানায়। মার্চে সরকার কাগজ কেনার দরপত্র আহ্বান করে, যদিও এ নিয়ে অযথাই দেরি হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রের নামে বাংলাদেশের টি কে পেপারমিল এবং কর্ণফুলী পেপারমিল বাদে ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোই বেশি কাজ পায়। বই মুদ্রণের শেষ দিন অক্টোবরের ৩০ তারিখ। ৯ অক্টোবর প্রকাশিত সমকালের সংবাদ অনুসারে এ দিনে মুদ্রণ কাজ শেষ হওয়া দূরে থাক, পুরো কাগজ হাতে পেতেই লেগে যাবে ৩০ নভেম্বর। এ বছর কাগজের চাহিদা ২৩ হাজার টন। এর মধ্যে রুপানা পেপারমিল নামে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান দুই হাজার টন কাগজের কার্যাদেশ পায়। প্রতিষ্ঠানটি এখনও এনসিটিবিকে কাগজ দেয়নি। অথচ কাগজের অভাবে কোথাও কোথাও পাঠ্যবই ছাপার কাজ এখন বন্ধ। কাগজ পাওয়ার পর কাজ শেষ হতে ডিসেম্বরও লেগে যেতে পারে। এর অর্থ, বছরের প্রথম দিন থেকে শিক্ষার্থীদের নতুন বই পাওয়ার স্বপ্ন আগত শিক্ষাবর্ষে বাস্তব হবে কি-না, যথেষ্ট সংশয় থেকেই যাচ্ছে।আগামী শিক্ষাবর্ষে বইয়ের মোট চাহিদা ২৩ কোটি। বই ছাপা হচ্ছে এক হাজার বিশটি প্রেসে। এনসিটিবি বই ছাপার কাজ পর্যবেক্ষণ করছে। ৪৩টি প্রেসকে ঝুঁকিপূর্ণ, এর মধ্যে ১০টি প্রেসকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনসিটিবি। এ প্রেসগুলোর কারণেও নির্দিষ্ট সময়ে মুদ্রণকাজ শেষ হবে না।বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের নতুন, রঙিন কিংবা ভালো কাগজের বই যেমন দরকার, সে বইটি মানসম্মত কিংবা যুগোপযোগীও হওয়া দরকার। আমাদের মাধ্যমিকের বর্তমান সিলেবাস ১৯৯৫ সালে প্রণীত। প্রাথমিকের সিলেবাসের বয়সও কম নয়। স্বাভাবিকভাবেই ১৫ বছর আগের সিলেবাসের প্রাসঙ্গিকতা বর্তমানে নেই। মাধ্যমিকের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ২০১২ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাসের বই পাবে। প্রাথমিকের জন্যও এ রকম ঘোষণা দ্রুত আসা চাই। প্রচলিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাঠ্যবই-ই পেতে যেখানে দেরি হচ্ছে, সেখানে নতুন সিলেবাস প্রণয়নে কতটা দেরি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সরকার এ বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারে।যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পেঁৗছে দেওয়ার বাধা হিসেবে প্রতি বছরই \’সিন্ডিকেট\’র কথা শোনা যায়। এ বছরও সিন্ডিকেট সমস্যাকে নাকচ করছে না পত্রিকাগুলো। বই কার্যক্রমে সরকার তিন শতাধিক কোটি টাকা খরচ করছে। এ বিরাট অঙ্কের প্রতি লোলুপ দৃষ্টিই তৈরি করছে সিন্ডিকেট। প্রশাসন স্বচ্ছ, সক্রিয়, সচেতন এবং নিয়মমাফিক সব কাজ করলে সিন্ডিকেট থাকার কথা নয়।বই নিয়ে রাজনীতি, ব্যবসা, বিলম্বিত সংস্কৃতি আর নয়। আগামী বছরের আগে বই পেঁৗছে দিতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। সব সমস্যার দ্রুত সমাধান করে শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পেঁৗছে দেওয়া চাই।

সার সংক্ষেপ: জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ শিক্ষামন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এ মাসের তিন তারিখ। একত্রিশ মে’তে মন্ত্রীসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। এ শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনার আগে দেখা দরকার এখানে কি আছে। যে কেউ ঊনাশি পৃষ্ঠার পুরো শিক্ষানীতি না পড়েও যাতে বুঝতে পারে এতে কি আছে। সে জন্যেই এ প্রয়াস। ঘুরে আসা যাক তাহলে-
প্রাক-কথন: শিক্ষানীতির শুরুতেই আছে প্রাক-কথন। কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচশত পয়ষট্টি শব্দের এ কথনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা লাইন তুলে ধরছি।
* ”আওয়ামী লীগ আগামী প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধ, জাতীয় ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রস্তুতি পূর্বেই গ্রহণ করেছিল।
* বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকছিলেন
* এই শিক্ষানীতির উল্লেখযোগ্য দিক হল এখানে ধর্ম, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এতে মানুষের স্বভাবজাত অনুভুতিকে যেমন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তেমনি পার্থিব জগতে জীবন জীবিকার সুযোগ সৃষ্টিকারী শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে- যা কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত করবে। দেশ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসম্পন্ন জ্ঞানলাভ করে বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”
মুখবন্ধ: মুখবন্ধ আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর। এগারশ তিনশব্দ বলার পর মুখবন্ধ শেষ হয়েছ্।ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কথা এখানে এসেছে।
(১) এটা কোনো দলীয় শিক্ষানীতি নয়- জনগণ তথা জাতির আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে তৈরি করা হয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি।
(২) শিক্ষানীতিকোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়, এর পরিবর্তন ও উন্নয়নের পথ সব সময়ে উন্মুক্ত থাকবে। কোনো ভুল-ত্রুটি হলে তা সংশোধন করা যাবে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে- ‘ শিক্ষানীতির মূলে প্রতিফলিত হয়েছে জনগণের রায় ও প্রত্যাশা এবং আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতিফলন এবং আমাদের সংবিধানের মূল দিকনির্দেশনা। সবরকম বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য শিক্ষানীতির মৌলিক ভিত্তি হিসেবে অনুসরণ করা হয়েছে।’
আটাশটি এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো দেখা যাক-
শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য: সাতশ ঊনষাট শব্দের এ অধ্যায়ে মোট ত্রিশটি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ কর হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বলা আছে এভাবে- ‘এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুষম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত,বিজ্ঞান মনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও রণকৌশল হিসেবে কাজ করবে।’ ত্রিশটি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে আর যেসব বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া আছে সেগুলো হলো- সংবিধান, দেশের স্বাধানতা সার্বভৌমত্ব, দেশজ আবহ, জাতীয় ইতিহাস ঐতিহ্য, গণতান্ত্রিক মনোভাব, বিশ্বপরিমন্ডলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ইত্যাদি।
প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা: পুরো শিক্ষানীতির কথা বললে বড় পরিবর্তনটা আসলে এখানেই। আগে প্রাক-প্রাথমিক ছিলোনা এখন প্রথম শ্রেণীর আগে করা যোগ করা হলো এট্ ি। একবছর মেয়াদের। শিক্ষানীতিতে এটাকে দেখানো হয়েছে বিদ্যালয় প্রস্তুতি পর্ব হিশেবে। শিক্ষাদান প্রক্রিয়া শিশুসুলভ হবে তা বলা আছে। শিক্ষার কৌশল হিশেবে এখানে ধর্মকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেমন বলা আছে- ‘ মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত সকল ধর্মের শিশুদেরকে ধর্মীয়জ্ঞান, অক্ষরজ্ঞান সহ আধুনিক শিক্ষা ও নৈতিকতা শিক্ষাপ্রদানের কর্মসূচি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে।”

প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেনী হতে তিন বছর বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত করা হয়েছে। শিক্ষানীতির ভাষায় ‘। দেশের সব মানুষের শিক্ষার আয়োজন এবং জনসংখ্যাকে দক্ষ করে তোলার ভিত্তিমূল প্রাথমিক শিক্ষা’। আরও বলা আছে ‘ প্রাথমিক শিক্ষা হবে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক এবং সকলের জন্য একই মানের’। এ শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একে কোন এনজিওর হাতে তুলে দেবেনা, বলছে শিক্ষানীতি। ২০ ১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করার জন্য নতুন পাঠক্রম, শিক্ষক, অবকাঠেিমার আবশ্যকতা মেটানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় বিভিন্ন ধারার মাঝে সমন্বয় করতে নির্দিষ্ট শ্রেণীর পাঠ্যসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়সমূহ অর্থাৎ বাংলা, ইংরেজি, নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, গণিত, সামাজিক পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিচিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার বয়স ৬+ এতে ২০১৮ সালের মধ্যে শিক্ষক শিক্ষার্থী আনুপাত হবে ১ : ৩০। বিদ্যালয় পরিবেশ শিশুসুলভ করা, ঝরে পড়া রেধে দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা, ভালো শিক্ষক নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ও বলা আছে। প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষার কতা বলা হয়েছে এভাবে ‘ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং তৃতীয় থেকে সকল শ্রেণীতে ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা চালু থাকবে। পঞ্চম শ্রেণী শেষে উপজেলা/পৌরসভা/থানা (বড় বড় শহর) পর্যায়ে সকলের জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অষ্টম শ্রেণী শেষে আপাতত: জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা নামে একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং এই পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হবে”। প্রাথমিক শিক্ষার মনোন্নয়নে জনস্পৃক্ততা বাড়ানো। আদিবাসী, প্রতিবন্ধী এবং বঞ্চিত শিশুদের পড়ার সুযোগের কথা বলা আছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা: এবারের শিক্ষা নীতিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ শিক্ষানীতির প্রাথমিকের পর বড় পরিবর্তণটা এখানে। নতুন শিক্ষা কাঠামোয় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর হিসেবে বিবেচিত হবে। এ শিক্ষার পর শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধারায় যেতে পারবে তেমনি কেউ ইচ্ছে করলে আবার বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভিত্তিতে বা আরো বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকার্জনের পথে যেতে পারবে। এখানে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হিসেবে যেসব কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত মেধা ও সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশে সাহায্য করা। উচ্চশিক্ষার ভিত শক্তিশালী করা। কৌশল হিশেবে পাঠ্যসূচীর বিষয়ে বলা হয়েছে- সব ধারাতেই জন-সমতাভিত্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে
যথা- বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ স্টাডিজ, সাধারণ গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় অভিনড়বড়ব শিক্ষাμম ও
পাঠ্যসূচি বাধ্যতামূলক থাকবে। মাধ্যমিকের মূল্যায়ন পদ্ধতির বিষয়ে বলা হয়েছে- ‘দশম শ্রেণী শেষে জাতীয় ভিত্তিতে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষার নাম হবে মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বৃত্তি প্রদান করা হবে। দ্বাদশ শ্রেণীর শেষে অরো একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, এর নাম হবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। উভয় পরীক্ষা হবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে এবং পরীক্ষার মূল্যায়ন হবে গ্রেডিং পদ্ধতিতে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করা হবে।’ ইংরেজী মাধ্যমের ও লেভেল এবং এ লেভেলকে সাধারণ ধারার অন্তর্ভূক্ত করতে শিক্ষানীতি বলেছে- ‘ও’লেভেল উত্তীর্ণকে এস.এস.সি এবং ‘এ’ লেভেল উত্তীর্ণকে এইচ.এস.সি-র সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মাদরাসা শিক্ষা: শিক্ষানীতি মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা রেখে একে সাধারণ ধারার সাথে মিলানোর প্রয়াস হিশেকে দেখেছে। উদ্ধেশ্য ও লক্ষ্যে বলেছে- শিক্ষার্থীর মনে সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর রাসূল (সা:)-এর প্রতি অটল বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রকৃত মর্মার্থ অনুধাবনে সমর্থ করে তোলা। মাদরাসা শিক্ষাকে সাধারন ধারার সাথে – ইবতেদায়ি আট বছর , দাখিল দুই এবংআলিম দুই বছর করা হবে। সাধারণ ধারায় উচ্চশিক্ষার সাথে সমন¦য় রেখে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পনড়ব শিক্ষক ও অন্যান্য উপকরণ নিশ্চিতকরণ সাপেক্ষে ৪ (চার) বছর মেয়াদি ফাজিল অনার্স এবং এক বছর মেয়াদি কামিল কোর্স চালুর কথা বলা হয়েছে। সিলেবাস হিশেবে এখানে – ইবতেদায়ি পর্যায়ে নির্দিষ্ট শ্রেণীর শিক্ষাμম অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়সমূহ, অর্থাৎ বাংলা, ইংরেজি, গণিত ,নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, সামাজিক পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিচিতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান
বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরন করা হবে। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা প্রদান করা হবে। দাখিল পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, বাংলাদেশ স্টাডিজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় বাধ্যতামূলক থাকবে। মাদরাসা শিক্ষা আলিম পর্যন্ত দেখবে মাদরাসা বোর্ড এরপর ফাজিল কামিল দেখবে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়।

ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা: এখানে ইসলাম ধর্মসহ প্রচলিত চারটি ধর্মের ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় বলা আছে। শিক্ষানীতি এর বাইরে ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কথা ও বলেছে। নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারে বলছে- নৈতিকতার মৌলিক উৎস ধর্ম। তবে সামাজিক ও সংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং দেশজ আবহও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। নৈতিকতা শিক্ষার ক্ষেত্রে এসকল বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করে নৈতিক শিক্ষাদান পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। তবে কোন শ্রেণী হতে কোন শ্রেণী এ শিক্ষা থাকবে সেব্যাপারে শিক্ষানীতি কিছুই বলেনি।

উচ্চশিক্ষা: শিক্ষানীতি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য দেখেছে- জ্ঞান সঞ্চারণ ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বমানকে ও প্রাধান্য দেয়ার কথা আছে। শিক্ষানীতি চার বছরের সম্মান ডিগ্রিকে সমাপনী ডিগ্রি হিসেবে এবং উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষকতা ব্যতীত অন্য সকল কর্মক্ষেত্রে যোগদানের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেছে। ফলে যে সকল কলেজে তিন বছর মেয়দি স্নাতক ডিগ্রি কোর্স চালু আছে পর্যায়μমে সেখানে চার বছরের স্নাতক সম্মান ডিগ্রি কোর্স চালুর কথা বলেছে। মাস্টার্স, এম.ফিল বা পি.এইচ.ডি-কে বিশেষায়িত শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং শুধুমাত্র গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষকতা করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। ছাত্রবেতনের বিষয়টিও এনেছে শিক্ষানীতি বলেছে- সরকারি অনুদান ছাড়াও উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যয়নির্বাহের জন্য শিক্ষার্থীর বেতন ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা চালাতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ভর্তি ফি ও বেতন খুবই সামান্য। তবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপের কথাও এসেছে এ নীতিতে- প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদেও গবেষণার উদ্দেশ্যে যথেষ্ট সংখ্যক আকর্ষণীয় মূল্যের গবেষণা অনুদান এবং স¤প্রতি প্রবর্তিত বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ছাড়াও আরো ফেলোশিপের ব্যবস্থা করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ডিগ্রি কলেজগুলোতে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উচ্চশিক্ষার শিক্ষকদের গবেষনায় উৎসাহিত করেছে এ নীতি।
বাছাই ব্লগের লেখাটি রয়েছে সামহোয়ার-ইন ব্লগে

National education policy

National Education policy 2010 was approved by the Cabinet on 31 May this year. Though five months have already passed since its approval we are yet to see any moves to implement it. According to a news report published on 24 September (Preface delays education policy) only the writing of a preface is delaying its gazette notification. The question is, does it take this long to write a preface? The report also said that the formulation committee formed on 28 June has not had any meeting to discuss the implementation process. Some other newspapers also published similar reports. We have bitter experiences with education policies. Before this report, eight education commissions/committees had been formed. From Qudrat-e-Khuda education report of 1974 to the Moniruzzaman Mia commission of 2004, recommendations were never implemented as an education policy. On an average every four to five years we got an education policy. When a new government ascends to power it forms a committee for a national education policy. It seems that our national education policy is a matter of politics, and only for political reasons not a single report has been of any use. All the reports are suffering from what maybe termed as `draft` disease.
From the very beginning this government started working on an education policy as it was an important issue in the Awami League’s election manifesto. They formed a committee headed by professor Kabir Chowdhury and it submitted the draft report within three months on 2 September of last year. The draft report was published on the website of the education ministry to get opinions from the people.
The government said that it would start its implementation process from January 2010. But the regrettable reality is, the implementation process is far behind the schedule.
A national education policy and its implementation is a lengthy process, and it needs time. But while it is delaying without any reasonable cause it worries us because it is a serious issue. If we look to the policy, approved by the cabinet meeting, we understand that some important things are missing from it. See the name “national education policy”, as the policy for our nation, simply it should define from the very first of the report, what kind of nation this policy want to build, after a long future where will the position of this nation be, with the competition of other nations how will we survive; how to prove us as a fit nation to this world? We don’t find the answer from the policy. There is no chapter written on ‘aim and objectives of the national education policy’ instead of this, the first chapter of the policy is‘aim and objectives of the education’.
However, as a nation we are not child, we are 39 years old as a nation from 1971. But a pathetic reality is that we have not a tangible education policy. So, we are lagging behind to compete with other countries. This is a hindrance to our development also. If we see to the world many nations have developed them within this time, and they proved in the world. It also true, we formed about nine policies but none was implemented. If this education policy can fulfill the demands of our society, we will be able to say that, we have also an education policy.
We understand, the government is very much in favour of this education policy, but because of the dilly dallying in implementation of the policy, question simply arises” What fate awaits the national education policy”. We know education policy is a serious matter, and that is why the government should take it seriously. Unreasonable delay is not desirable at all.

Daily Independent 12 November10

Thinking education (Primary education-1,2)


Education is a chance or right? Obviously, it is a right. Human being got this right by birth, certified universally. State is compelled to provide this right. Education serves as the means to bring about the desired change in society, to develop a generation of virtuous individuals and thus contribute to the development of good human beings. Any change can possible with education. As a student of education as a discipline of study itself, I have to think about education. Thinking education is must for all, especially youth, as youth is growing stage. I think to work with a long run. Every stage of education, its problem, education policy and every detail are continuing.

Primary education: Primary education is the most important stage of education. It’s called universal education, also free and compulsory education. State takes the responsibility of this stage. The constitution of Bangladesh ensured primary education, article seventeen-(1) `The State shall adopt effective measures for the purpose of – establishing a uniform, mass-oriented and universal system of education and extending free and compulsory education to all children to such stage as may be determined by law.’ To know this stage we see its history in Bangladesh-

Attempts for Primary Education: Of course, primary education has a long history; it may more than thousand years. Here we show the first organize attempt for primary education. `Bengal primary education act of 1919` can say the first state attempt for the spreading of primary education in our sub-continent, but this was only belonging to the cities. It also true before this time primary education existed. However, this act only for cities, but of the are of cities were limited, so the whole country deprived and for this reason this could not permanent. To cover the whole country another act named `Bengal (rural) primary education act` formed on 1930. This to spread education among all 6-11 age groups, Zilla board got the responsibility of primary education under this act. This act also goes in vein for financial crisis.

Pakistan got independent on 1947, after its independence the member of provincial assembly passed another act for education named `Bengal (rural) primary education (east Bengal amendment) act`. This was as a project for ten years, but it ended within two years because of many problems. Problem of teacher, school building, teaching aids etc. Though this act had an impact and for this act many school was established newly, the number of teacher an student increased.

Another act formed in 1957 “East Bengal Primary Education act” under this act government took the responsibility of primary education instead of Zilla Board. Primary education was compulsory for some area at that time. The school of compulsory area called “Model School” the other school were non model school. This is according to the Education commission of 1959.

Bangladesh Chapter: Bangladesh to its independence of 1971, got the primary education with full of problems. According to the act of 1974 government take the full responsibility of the primary education. Qudrat e khuda commission, the first education commission of Bangladesh recommended that the primary education will be up to class eight, this be universal education. From class one to five, this will be compulsory and it must be ensure within 1980, also recommendation of The commission. Commission suggested to provide enough text book, ensure qualified teacher, increase female teacher, start class on second shift in fifteen thousand primary school, provide attractive teaching aids and establish ten thousand new school. These recommendation undoubtedly important to develop the condition of primary education. Regrettably true that these recommendation were not implement.

The Education policy of 1979 also recommended that. The same recommendation came in Mofiz Uddin Education Commission of 1988. Then an order for primary education published, The government published this gazette on 13 february of 1990 named ‘Compulsory primary education act 1990’. This act implementation started from 1st January of 1992 through the whole country.

Shamsul Haque Education Committee formed in 1997. This committee also recommended same as Qudrat e khuda commission. Primary Education will extend to class eight from class five. Later this another education commission formed in 2003 named ‘Mohammad Moniruzzaman Mia Commission-2003’. This commission suggested not to extend class. Its means the primary education will be same as present, class one to five.

Education policy 2010: The education policy 2010 recently (3 October) come to light, though yet it to implementation. The main feature of this policy is primary education. The policy followed the Qudrat e khuda commission of 1974 and Shamsul haque commission of 2003 to recommend to extend the primary education to class eight. It also told to pre-primary education, before primary education. The policy saw pre-primary education as the preparation to enter in education. Here they emphasis on religion telling to mosque, temple, pagoda etc.

The education policy 2010 told to one way primary education, and for this they selected some common subject, like Bengali, English, Moral education, Bangladesh studies and mathematics. This education will free, compulsory and universal. Also the same as standard to all institutions.

The policy highly recommended not to put it to the NGO. Here for class one and two will not have formal examination instead of no formal. In this education there will be two central examination, after class five and eight. For class three the eight out of central exam three exam will held same as present.

The education policy also suggest many things to decrease the number of drop outs, like feeding in the school, increase the facilities of school, special care for special needs child and also for indigenous child.

Continue on YOUTH THINKERS

প্রাথমিক শিক্ষা: শুধু ‘জীর্ণ গৃহে শীর্ণ পাঠ’ই নয়





গত ২৯ আগস্ট দৈনিক সমকাল প্রাথমিক বিনের ১৮ নম্বর পাতাজুড়ে বিশেষ আয়োজন হিসেবে বিদ্যালয়দ্যালয় ভবন নিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করে। এর সঙ্গে সমকাল একই দি ভবনগুলোর বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে। সমকালের প্রতিবেদনগুলোর মাধ্যমে সহজেই সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চিত্র একনজরে দেখা সম্ভব। এগুলোর মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট, প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনগুলো শিশুসুলভ তো নয়ই, উল্টো জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিরোনামই তা বলে দেয়, ‘জীর্ণ গৃহে শীর্ণ পাঠ’ কিংবা ‘রাতের বেলায় গোয়ালঘর, দিনে শ্রেণীকক্ষ।’ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মোট বিদ্যালয়ের নয় শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভবনের কোনোটির ছাদ থেকে খসে পড়েছে পলেস্তারা, কোনোটি বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীতে, কোনোটির ছাদ ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে, কোনো কোনো ভবন দেবে গেছে কিংবা ভেঙে পড়েছে। কোথাও আবার ভবনই নেই। এসব বিদ্যালয়ের শিশুরা কেউ পাঠ নেয় উন্মুক্ত খোলা ময়দানে, কেউ মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পাঠ নেয় ভবনের ভেতরেই, কেউ আবার নেয় চেয়ার-টেবিল ছাড়াই নিচে বসে। বেহাল দশা বলতে যা বোঝায় আর কি।নয়ভাগ বিদ্যালয়ের অবস্থা এ রকম, অন্যগুলোর অবস্থা যে ভালো তা ভেবে প্রবোধ পাওয়ার অবকাশ নেই। সে বিদ্যালয় ভবনগুলো হয়তো ভালোভাবে দাঁড়িয়ে আছে, জীবননাশের ঝুঁকি নেই। এর বাইরে একটি শিশুর পড়ার পরিবেশ বলতে যা বোঝায় তার কিছুই নেই। খেলার মাঠ, ভালো টয়লেট, পানির কল_ এ সাধারণ বিষয়গুলোই নেই। এর বাইরে শিশুসুলভ শিক্ষা উপকরণের কথা না-ইবা বললাম। প্রাথমিক শিক্ষার যাত্রা সাম্প্রতিক কোনো বিষয় নয়। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পর বাহাত্তরের সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদেই এ শিক্ষার ব্যাপারে জোর তাগিদ দেওয়া আছে। ২০১৫ সালের মধ্যে আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনা এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থীর ভর্তির কথা বলা আছে। খুব বেশি বাকি না থাকলেও আমাদের বিদ্যালয়ের বর্তমানে এই হাল। প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা শুধু ভবন তথা অবকাঠামোই নয়, অন্য সব সমস্যায় এ শিক্ষা জর্জরিত। শিক্ষক সংকট, বই সংকট, শিশুসুলভ সিলেবাস সংকট, ভবন সংকট। শিক্ষক সংকট কতটা প্রকট তা একটি বিভাগের অবস্থার মাধ্যমেই অনুমান করা সম্ভব। ২৮ আগস্ট সমকালের এক প্রতিবেদন অনুসারে সিলেট বিভাগে ৩৫৫ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই আর সহকারী শিক্ষকের পদ খালি আছে ১ হাজার ১৮টি। এতসব সমস্যার ফল যেটা হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঝরে পড়ছে। এখন বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষায় নিট ভর্তির হার ৯০ ভাগ আর স্থূল ভর্তির হার ৯৭ ভাগ। এ হার দেখে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা খারাপ বোঝার কোনো উপায় নেই। যখন দেখা যাচ্ছে, প্রথম শ্রেণীতে যত শিশু ভর্তি হচ্ছে, পঞ্চম শ্রেণী পার না হতেই তার অর্ধেক ঝরে পড়ছে, সেটা নিশ্চয়ই সুখকর নয়। এ চিত্রটা খুব সহজেই পাওয়া সম্ভব। প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষায় দেশে প্রায় ৪০ লাখ শিশু ভর্তি হয়। গত বছর শুরু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উনিশ লাখের কিছু বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাহলে বাকি শিশুরা কই? উত্তর হলো, ঝরে পড়েছে।প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো কিংবা নানা সমস্যার কথা যখন বলি, দৃষ্টিটা আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ওপরই পড়ে। এসব বিদ্যালয়ে দরিদ্র এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের শিশুরা পড়াশোনা করে। বিত্তবানদের সন্তানরা এসব বিদ্যালয়ে পড়ে না। তারা মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয় বা প্রাইভেটভাবে পরিচালিত উন্নত, আলিশান অট্টালিকায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়ান। এমনকি বিভিন্ন দেশের (বাংলাদেশে অবস্থিত) ইন্টারন্যাশনাল স্কুলগুলোতে পড়ান, যাদের কোনো কোনোটির মাসিক খরচ লাখ টাকার ওপর। সমাজে স্পষ্ট একটা বৈষম্য। কেউ দশতলায়, কেউ নিচতলায় (বস্তিতে)। যাদের অর্থ আছে তারা এসব প্রতিষ্ঠানে তাদের সন্তানদের পড়াবেন, এটিই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হলো, দেশের অধিকাংশ শিশু যেসব বিদ্যালয়ে পড়ছে, সরকার কি এখানে আরেকটু দৃষ্টি দিতে পারে না?

Taliban’s warn: Bangladesh should not send troops

Bangladesh now is on a dilemma about sending troops to Afghanistan, The plea of US, on the other hand the warning of Taliban. Taliban warned Bangladesh just after the request of US about sending troops. Though yet US not request in a formal way. Richard Holbrooke, US special envoy to Afghanistan and Pakistan, made this request to our foreign minister Dipu Moni, in a short meeting in NewYork at her Hotel suite. For the justification of this request Holbrooke presented some populist speech “Bangladesh troops could help ensure security and stability in the war tron Afghanistan.

We astonished , while the US decided to withdraw all the troops from Afghanistan within 2011, and already witdrawn a part of the military, at that time why they needs Bangladesh’s troops. Taliban Show some reasons about warning, in the SITE website published its on 27 september-

“(We) believe that the leader of Bangladesh has enough Islamic knowledge and political wit not to involve his [Sic] people in the fight against Islam and against the Afghan people by sending a few hundred soldiers to Afghanistan,” they also included in the message- ”Assuming that the leader would commit such a historic mistake, the religious Muslim people of Bangladesh will not allow their leaders to assist the eternal enemy of Islam against an Islamic neighbouring country.”

The argue of Taliban is not totally unreasonable, But about sending any force to any country, Bangladesh have to think the country’s welfare. This news (Taliban’s warn) has come to the media of Bangaldesh on 29 september, seeing the news the eminent politicians, intellectuals and specialists advised not to send the troops. They shown many reasons behind it, the security first of course. Afghanistan is a SAARC country, as its our regional country we should not taking descion sending our military.

From the media we informed that, our foreign minister just assured the US envoy of further talks on the issue. Bangladseh, as a country and it’s leaders, have not strength stand strictly against the stronger, now it is super power, US. But it’s true that while the issue is our existence of living and dying, they can refuse strictly, in the short time we got this example of the last BNP government about sending troops to Iraq.

Taliban’s threaten is not all, Bangladesh have to think it’s reality and sensivity. After the terrorist attack on twin tower of 11 september 2001, US start military attack against Afghanistan in the name of “war against terrorism”. They destroyed Afghanistan and ascend them’s favour president in power. Still one and half lakhs of military staying there.

Bangladesh send to it’s troops to UN peace keeping mission, the contribution of Bangladesh in this mission is remarkable, but yet Bangladesh not send in Afghanistan. Afghanistan is a muslim country, as a muslim how our people can fight against muslim, this may a matter of argue (Taliban shown). without this there are stronger argument , As a country character, Afghanistan is our friend, Bangabandhu started this friendship, if we send the troops, it would be opposite of our foreign policy.

By the name of peace and ensuring security, US themselves break the peace and everywhere the establish their powers. In all consideration Bangladesh should not send troops.

On the Category of বাছাই ব্লগ it has published at YouThinkers English Blog