Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি ২০১০

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ও বাংলাদেশ

৮ সেপ্টেম্বর। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো এদিনটিকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে দিনটি। নাগরিকতা এবং সামাজিক উন্নতিতে সাক্ষরতার ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের প্রতিপাদ্য সাক্ষরতাই ক্ষমতা। সাক্ষরতা বলতে সাধারণত অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নতাকেই বোঝায়। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এর পরিধি। এখন শুধু স্বাক্ষর জ্ঞান থাকলেই সাক্ষরতা বলা চলে না। বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিসরে সক্ষরতা শব্দের প্রথম উলেখ দেখা যায় ১৯০১ সালে লোক গণনার অফিসিয়াল ডকুমেন্টে। শুরুতে স্ব অক্ষরের সঙ্গে অর্থাৎ নিজের নাম লিখতে যে কয়টি বর্ণমালা প্রয়োজন তা জানলেই তাকে সাক্ষর বলা হতো। ১৯৪০-এর দিকে পড়ালেখার দক্ষতাকে সাক্ষরতা বলে অভিহিত করা হতো। ষাটের দশকে পড়া ও লেখার দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে সহজ হিসাব-নিকাশের যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ সাক্ষর মানুষ হিসেবে পরিগণিত হতো। আশির দশকে লেখাপড়া ও হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি সচেতনতা ও দৃশ্যমান বস্তুসামগ্রী পঠনের ক্ষমতা সাক্ষরতার দক্ষতা হিসেবে স্বীকৃত হয়। বর্তমানে এ সাক্ষরতার সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, ক্ষমতায়নের দক্ষতা, জীবন নির্বাহী দক্ষতা, প্রতিরক্ষায় দক্ষতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাও সংযোজিত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৬২.৬৬ ভাগ। এ হিসাব বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত। উইকোপিডিয়া এবং ইউনেস্কোর তথ্য মতে, বাংলাদেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৪৭.৫০ ভাগ। বিশ্বে র�্যাংকিং-এ এর অবস্থান ১৬৪ তম। প্রথমে রয়েছে জর্জিয়া। সাক্ষরতার হার ১০০ ভাগ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যৌথভাবে কিউবা, ইস্টোনিয়া এবং পোল্যান্ড। এদের সাক্ষরতার হার ৯৯·৮০ ভাগ। ৯৯.৭০ ভাগ সাক্ষরতা নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বারবাডোস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৮তে। সাক্ষরতার হার ৯৯ ভাগ। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১৪৭ ও ১৬০-এ। সাক্ষরতার হার ৬১.০০ ও ৪৯.০০ ভাগ। সাক্ষরতায় সর্বনিম্নে অবস্থানকারী দেশ বারকিনো ফ্যাসো। ১৭৭-এ অবস্থানকৃত এ দেশটির সাক্ষরতার হার ২৩.৬০ ভাগ। ১৭৬ স্থানে রয়েছে মালি। সাক্ষরতার হার ২৪.০০ ভাগ। এ বছর সাক্ষরতার বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কার পাচ্ছে ৪টি দেশ। এগুলো হলো আফগানিস্তান, বারকিনো ফ্যাসো, ভারত এবং ফিলিপাইন। বাংলাদেশের সাক্ষরতা সরকারি হিসেব মত ধরলেও এখন ও প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ নিরক্ষর । অথচ ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন ও নিরক্ষরতা দূরীকরনে দীর্ঘমেয়াদী পিআরএসপি কৌশলপত্র বাস্তআয়নে প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ । অন্যদিকে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এসেছে এ সরকার। এ লক্ষে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এনরোল মেন্ট ১০০ ভাগ পূরনের সিদ্ধান্�ক নিয়েছে সরকা । হাতে সময় ৫ বছর এর মধ্যে নিরক্ষরতা মুক্ত বাংলাদেশ গড়া কতটা সম্ভব তাই দেকার বিষয় । নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন আমাদেও দেশে অনেক আগ থেকেএ শুরু হয়েছে । ফল আমরা সেভাবে পাইনি । এর অন্যতম কারন ঝরে পড়া। সাক্ষরতা একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সঙ্গে সাক্ষরতার আর সাক্ষরতার সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে দেশের সাক্ষরতার হার যত বেশি সে দেশ তত উন্নত। সাক্ষর জাতি সচেতন জাতি। শি ক্ষসাধারণত তিনটি উপায়ে অর্জিত হয়।। আনুষ্ঠানিক, উপানুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক। যারা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত বা যারা আনুষ্ঠানিক শি ক্ষা পায়নি তাদের সাক্ষরতার জন্য উপানুষ্ঠানিকভাবে শি ক্ষা দেয়া হয়। বাংলাদেশে সরকারি প্রচেষ্টার বাইরে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা সাক্ষরতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের হারকে বৃদ্ধি করতে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। সবাই সাক্ষও হলেই পূরন হবে ডিজিটাল বাংআদেশের স্বপ্ন । আসুন আমরা সচেতন হই।

Published at jaijaidin in 8 september2009

জলবায়ুর পরিবর্তনঃ এ রোড টু কোপেনহেগেন

climate-changeউত্তপ্ত হচ্ছে পৃথিবী। পরিবর্তিত হচ্ছে জলবায়ু। পৃথিবীর এ উষ্ণতার প্রধান কারণ গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন। কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, সিএফসি-১২ প্রভূতির গ্যাস অধিক পরিমাণে নির্গমণের ফলেই বাড়ছে এ উষ্ণতা। ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে। গরম হচ্ছে সমুদ্রের পানি। এক্ষেত্রে ইন্টার গর্ভনরমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ তথা আইপিসিসির প্রতিবেদন প্রতিধানযোগ্য। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আইপিসিসির তিনটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত সার প্রকাশ করেছে। ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর পর্যালোচনা অনুযায়ী , ১৭৫০-এরপর থেকে মানুষের নানাবিধ কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বনডাই অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রোস অক্সাইড সহ বহু তাপ শোষণকারী গ্যাসের ঘনত্ব ক্রমশ বেড়েছে। ফলে ২০২০ দশকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়বে ০·৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওয়ার্কিং গ্রুপ-২ বলছে, উষ্ণতা বৃদ্ধির যে হার ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে তা বিশ্বকে নিয়ে চলেছে ভয়াবহ পরিণতির দিকে। আইপিসিসি আরো জানিয়েছে-১৭৫০ সালের আগের সাড়ে ছয় লাখ বছরে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ছিল ১৮০ থেকে ৩০০ পিপিএম, ২০০৫ সালে তা হয়েছে ৩৭৯ পিপিএম, মিথেন ছিল ৩২০ থেকে ৭৯০ পিপিব, ২০০৫ সালে তা হয়েছে ১৭৭৪ পিপিবি, নাইট্রাস অক্সাইড ছিলো ২৭০ পিপিবি, ২০০৫ এ হয়েছে ২১৯ পিপিবি (পার পার্টস বিলিয়ন)। ফলে এভাবে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে যা হবে তা হলঃ- গড় তাপ, তাপদাহ ও তীব্র বৃষ্টি পাত বাড়বে অধিক হারে – খরা টাইফুন ও হ্যারিকেন সহ মৌসুমী ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপকতা এবং উঁচু জোয়ারের প্রচন্ডতা বাড়বে তীব্রভাবে। – আর্কটিক ও এন্টার্কটিকার বরফ দ্রুত কমে আসবে ও গ্রীষ্মকালে তা বিলোপ পাবে। এর জন্য দায়ী কারা? দায়ী উন্নত বিশ্ব। বিশ্বব্যাংক ক্লাইমেট্‌ ডাটাবেজ -২০০৪ থেকে জানা যায়, ২০০২ সালে একজন আমেরিকান গড়ে ২০টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমণ করেছে। অষ্ট্রেলিয়ায় এর পরিমাণ ১৬টন, যুক্তরাজ্যে ৯টন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮টন। উন্নত বিশ্বের বিলাসিতা আর শিল্পায়নই এর জন্য দায়ী। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত কার্বন গ্যাস নির্গমণে বিভিন্ন দেশের দায় ভার এবং জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচিতে তাদের অবস্থানের ভিত্তিতে ধনী দেশের ব্যয় সক্ষমতার মাত্রা নির্ধারণ করে অঙ্ফাম দাবী করেছে যে, গরীব দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন ব্যয়ের শতকরা ৪৪ ভাগ বহন করতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে, শতকরা ১৩ ভাগ বহন করতে হবে জাপানকে, ৭ ভাগের কিছু বেশি বহন করতে হবে জার্মানীকে, ৫ ভাগের কিছু বেশি বহন করতে হবে যুক্তরাজ্যকে, শতকরা ৪-৫ ভাগের কিছু বেশি বহন করতে হবে ইতালি, ফ্রান্স ও কানাডাকে এবং শতকরা ৩ভাগ বহন করতে হবে স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে। উন্নয়নশীল এ বিশ্বগুলো শিল্পায়নের নামে অধিক গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমণ করে নিজেরা উন্নত হয়েছ। কিন্তু ক্ষতি করেছেন উন্নয়নশীল এবং দারিদ্র বিশ্বকে। উন্নয়নশীল বিশ্ব আজ মারাত্মক ক্ষতিতে রয়েছে। যার প্রকৃষ্ট মডেল বাংলাদেশ। তাই এ জলবায়ুর পরিবর্তনের যেমন দায়ী উন্নত বিশ্ব ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলায় সব দায় উন্নত বিশ্বের ঘাড়েই। কোন প্রকার অপরাধ না ,করেই উন্নয়নশীল বিশ্ব যে ক্ষতির শিকার হয়েছে তার মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বের দুটি প্রধান দায়িত্ব। প্রথমটি হচ্ছে যে ক্ষতি আমাদের হয়েছে তার ক্ষতি পূরণ আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমণ বন্ধকরণ। তাই এখানে ন্যায্যতার প্রশ্ন। জলবায়ু পরিবর্তনে যাদের কোন ভূমিকা নেই সেসব ক্ষতিগ্রস্থ দেশের জনগণের প্রতি ন্যায়বিচারের স্বার্থে উন্নত দেশ গুলোরই উচিত প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা। কিন্তু এ ব্যাপারে উন্নত বিশ্বের আচরণ খুবই দুঃখজনক। ইউএনএকসিসির চুক্তি মতে আমরা তিন ধরনের দেশ পাই NX1 ভুক্ত দেশ। যারা উন্নত। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ দায়ী। তাদের কাজ হলো ক্ষতিপূরণ দেয়া। NX2 ভুক্ত দেশ যারা উন্নত কিন্তু খুব বেশি দায়ী নয় এরাও পরোক্ষভাবে দায়ী। ক্ষতিপূরণ দেয়ার দলেই। আর শেষ হলো NX3 ভুক্ত দেশ। যারাভুক্ত ভোগি তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দিবে। যেমন বাংলাদেশ। UNFCC স্বাক্ষরিত দেশগুলোর বৈঠক অর্থাৎ COP এর বৈঠকের মাধ্যমে এগুলো স্বীকৃত। এ ব্যাপারে COP আর্টিকেল ৮ এর ৯ এ অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশ গুলোকে সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।এসবই ছিল চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে সবচেয়ে দায়ী আমেরিকা সহ অন্যান্য উন্নত দেশ গুলোর অনেকে বের হয়ে গেছে কিয়োটো প্রটোকল থেকে, ফলে অকার্যকর হয়ে গেছে এ চুক্তি। উন্নত বিশ্বের আগের আচরণ ছিল বৈষম্যমূলক। যেখানে তারা জলবায়ুর পরিবর্তনে দায়ী করছিলো। উন্নয়নশীল বিশ্বকেই। বলেছে-তোমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এর জন্যই এ জলবায়ুর পরিবর্তন। সবচেয়ে চমকপ্রদ এক তথ্য দিয়েছেন আল গোর। তাঁর বইয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ দায় এড়াতে যে গোপন কৌশল করেছে তা ফাঁস করেছেন। বইয়ের ৪২ নং পৃষ্ঠার (বাংলা অনুবাদ) কিয়দংশ হুবহু তুলে ধরছি- “১৯৯০ সালের ধরিত্রী দিবসের প্রাক্কালে বুশ প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত হোয়াইট হাউস নীতি বিষয়ক মুখপাত্র কর্মকর্তাদের কাছে একটা গোপন স্মারক পাঠায়। যাতে আভাস দিয়ে বলা হয় যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে কার্য ব্যবস্থায় জনগণকে তাদের সমর্থন না দেয়ার ব্যাপারে বোঝানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হবে। এ ধরনের সমস্যার আদৌ অস্তিত্ব নেই একথা সরাসরি না বলে এ ব্যাপারে অনেক অনিশ্চিত বিষয় রয়েছে এরকম বক্তব্য তুলে ধরা। বলা বাহুল্য হোয়াইট হাউসের এই স্মারকটি সংবাদপত্রে ফাঁস হয়ে যায়। কাজেই হোয়াইট হাউস দিয়ে গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়ার মোকাবেলা যে প্রতিশ্রুতি বুশ করেছিলেন তার স্বরূপ এরকমই”।অবশ্য আজকের ধনী দেশ গুলোর টনক নড়েছে। মার্কিন প্রশাসনেও বারাক ওবামার নেতৃত্ব বিশ্ববাসীর পক্ষেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের ন্যায্যতা আদায়ে সোচ্চার। মালদ্বীপ যেমন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তেমনি বাংলাদেশের ভূমিকাও কম নয়। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের বক্তব্যে ভূয়সী প্রশংসা করেছে বারাক ওবামাসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। আজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন এগিয়ে আসছে সাথে সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। জলবায়ুর পরিবর্তনে সবার দায়িত্ব পালনে সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।‌ সবার দৃষ্টি এখন ডিসেম্বরের কোপেনহেগেন এ। জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলায় দায় দিতে প্রস্তুত উন্নত বিশ্ব। তার ফলে বলা চলে গোটা বিশ্ব এ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ। তাই সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দ্যা নিউইয়র্ক টাইমসে এক নিবন্ধে “আমরাই পারি” শিরোনামে লিখেছেন “জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সারাবিশ্বের নেতাদের যুক্ততা ও নেতৃত্ব দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শতাধিক দেশের জলবায়ুর পরিবর্তন সম্মেলনে যোগ দেন। তাঁর এ অংশগ্রহণ সংহতি ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট বার্তাবাহী। একইভাবে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা দূষণমুক্ত জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নতি ঘটানো ও কোপেনহেগেন সম্মেলন সফল হওয়া নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নরওয়ে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নির্গমন কমাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। বন ধ্বংসের ফলে যে নির্গমন তা প্রচুর পরিমাণে কমানোর পরিকল্পনা হাজির করেছে ব্রাজিল। নির্গমন কমাতে ভারত ও নানা কার্যক্রম নিচ্ছে। বান কি মুন তার নিবন্ধে আরো উল্লেখ করেছে- ধীরে ধীরে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোপেনহেগেন সম্মেলনের কাছাকাছি চলে এসেছি। আর সে সম্মেলনের সফলতার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। সম্প্রতি লন্ডনে অথনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী ১৭টি দেশের (যারা বিশ্বের ৮০ ভাগ কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী) এর সভায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন জানিয়েছেন, দেশ গুলো এতে সম্পৃক্ত হয়ে পরিবর্তনের কোন সমন্বিত এজেন্ডা তুলে ধরলে কোপেনহেগেন সম্মেলনের সফলতা দূরবর্তী কোন জিনিস হবে না।”বান কি মুনের এ নিবন্ধ প্রমাণ করে জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নত বিশ্বের যে দায় রয়েছে সেটি পূরণ করতে উন্নত বিশ্ব প্রস্তুত। এখন উন্নত বিশ্বের মিটিগেশন (নির্গমন হ্রাস) এবং অ্যাডাপটেশন (অভিযোজন) এর মাধ্যমে তাদের দায় পালন করবে। কিছু সংস্থা এ মিটিগেশন ও অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় সম্পর্কে একটি অনুমান করেছে। উন্নত বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তাদের দায় দিতে প্রস্তুত। সেটি যত উপায়ে সম্ভব তা করবে। এর পাশাপাশি আমাদের ও অনেক করণীয় রয়েছে। আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ জলবায়ুর অভিঘাতে বিপর্যস্ত। আমাদের প্রাণের দেশকে রক্ষা করতে হবে আমাদেরই। জলবায়ুর পরিবর্তনে আমরা কোনভাবেই দায়ী নই। গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমনের তালিকায় আমাদের অবস্থান বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ১৮২ তম। অথচ যে গ্রীনহাউজের নির্গমনের কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, বিশ্ব উষ্ণতা বাড়ছে তার অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ দেশের মডেল বাংলাদেশ। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্তদের বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে চ্যাম্পিয়নশীপটি বাংলাদেশের হাতে। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর ডিজাস্টার রিডাকশন এর মতে খাদ্য ঝুঁকিতে বাংলাদেশের স্থান প্রথম। আবার ক্লাইমেন্ট রিস্ক ইনডেক্স (জলবায়ু ঝুঁকি সূচক) এর তালিকায় প্রথম নামটি বাংলাদেশের। বাস্তবতা ও তাই বলে। সাম্প্রতিক বছর গুলির প্রাকৃতিক দূর্যোগ। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় তারই লক্ষণ মাত্র । ২০০৭ এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর। এর পর বন্যা, আবার আইলা ইত্যাদিতে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ। দেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের ক্লাইমেট চেন্‌জ সেল এর তথ্য মতে -১৯৯১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৯৩টি বড় বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে, ফলে প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে ক্ষতি হয়েছে ৫·৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্ষার সময় বৃষ্টি না হওয়া, সমুদ্রে ঘনঘন বিশাল বিশাল সংকেত এ সবই জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলেই হচ্ছে। এসব দূর্যোগ যেমন জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে হচ্ছে পাশাপাশি আরো কিছু বাস্তব কারণ ও রয়েছে। ভৌগলিকভাবে আমাদের অবস্থানই আমাদের এ ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর আর উত্তরে হিমালয়। আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব আর জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি জলবায়ুর পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। আমাদের সামাজিক অবস্থান আর অর্থনৈতিক অবস্থাও এর জন্য কম দায়ী নয়। এসব অবস্থা বিদ্যমান থাকলে, জলবায়ুর পরিবর্তন বর্তমানের মত এত দ্রুত হতে থাকলে আমাদের অস্তিত্ব বাঁচানোই দায়। বিজ্ঞানীদের ধারণা বাংলাদেশ আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ২ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং ৪৫ সেন্টিমিটার বা তার বেশি সমুদ্র স্ফীতির মুখোমুখি হতে পারে। ফলে স্থায়ীভাবে প্লাবিত হতে যাওয়া ও লবনাক্ততা বৃদ্ধির কারণে দেশের ব্যাপক উপকূলীয় এলাকা ও অন্যান্য নিম্নাঞ্চলে বসবাস এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য উপযুক্ততা হারাবে। এসব এলাকার মানুষ যে শুধু আর্থ-সামাজিক বিপর্যয়ের কবলে পড়বেন তাই নয় বরং তাদের মধ্যে অসংখ্যজন উদ্বাস্তুর কাতারে যোগদান করতে বাধ্য হবে। বিধ্বংসী বন্যার প্রকোপ বাড়লে বাড়িঘর, মাঠের ফসল, ছোট ছোট শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, টেলিযোগাযোগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পুনর্বাসন ব্যবস্থাও ব্যাহত হবে। বন্যার ফলে দেখা দিবে নানা রোগ। দরিদ্ররা হবে হতদরিদ্র। জলবায়ুর পরিবর্তনে জীব বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিনষ্ট হবে। খাদ্য নিরাপত্তা ব্যাহত হবে। কৃষি ফসলের জমি কমবে সমুদ্রে পানির উচ্চতা বেড়ে তলিয়ে যেতে পারে আমাদের স্বদেশ। জলবায়ুর পরিবর্তনে বাংলাদেশের প্রধান প্রভাব পড়বে পানি সম্পদ, উপকূলীয় অঞ্চল, কৃষি, স্বাস্থ্য, জীবনধারা, খাদ্য, বাসস্থান এর উপর। আমরা যখন এসব হতাশাচ্ছন্ন প্রতিবেদন দেখছি পাশাপাশি আমাদের আশার আলোও আছে। আশার আলোর প্রদীপটিকে প্রজ্বলিত করতে সেটি চারদিকে আলোকিত করতে আমাদের করণীয় অনেক। করণীয়র পথে আমরা ইতিমধ্যে হাঁটতে শুরু করেছি। এপথের বাকী আরোও অনেক। প্রথমতঃ জলবায়ুর পরিবর্তনে আমরা যে দায়ী নই আর যারা দায়ী তাদের কাছে আমাদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সাহসের সাথেই তুলে ধরতে পেরেছি। সাম্প্রতিক মাস গুলোতে আমাদের সরকারের সে তৎপরতায় বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। আমাদের এ ক্ষতির মোকাবিলা সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যে গবেষণা প্রয়োজন তার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্লাইমেট চেঞ্জ সেল। আর সবচেয়ে বড় বিষয়টি অ্যাডাপটেশন তথা অভিযোজন। এর জন্য যে অর্থায়ন প্রয়োজন তার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। ২০০৭ এর বন্যা আর ঘূর্ণিঝড়ের পর সে বছরের ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত জলবায়ুর পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং ধনী দেশের সহযোগিতার দাবিতে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য সরকারের আগ্রহে ২০০৮ সালের ২৫ মাচ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় “বাংলাদেশ ইউকে কনফারেন্স অন ক্লাইমেট চেঞ্জ” এ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশ আবার ও উন্নত বিশ্বের প্রতি জোরালোভাবে আহ্বান জানায় গ্রীন হাউজ গ্যাস কমানোর জন্য এবং বাংলাদেশের মত ক্ষতিগ্রস্ত দেশ গুলোর অভিযোজনের ব্যয় বহনের জন্য। সে দিন বিশ্বব্যাংক, এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক বাংলাদেশকে সহযোগিতার দৃঢ় আশ্বাস দেন। ডাচ রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, বাংলাদেশ পানির নিচে তলিয়ে যাবেনা। সেদিন সবাই মিলে বলেন তারা বাংলাদেশের জন্য একটি “মাল্টি ডোনারট্রাস্ট ফান্ড” প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছেন। বাংলাদেশ ও ক্লাইমেট চেঞ্জ ফান্ড নামে ২০০৯ এ একটি ফান্ড তৈরী করেছে। অ্যাডোপটেশনের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সম্মেলনে ২ শত কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। উন্নত বিশ্ব আমাদের ক্ষতিপূরণ দিলে সেটি যাতে যথার্থ কাজে লাগানো যায় এর নিশ্চয়তার দরকার সবচেয়ে বেশি। আমাদের প্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ, মেরামত, উদ্বাস্তুদের পূনর্বাসন ইত্যাদির কাজ সুন্দরভাবে করতে হবে। কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ। এর সাথে জড়িত একদিকে ৭০ ভাগ মানুষের পেশা কৃষি, অন্যদিকে ১০০ ভাগ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা। ফলে এ খাতের গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন সবার আগে। কোন কোন জেলাতে লবণাক্ততার কারণে ধান হয় না। জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু পদক্ষেপ নেয়া যায়। যেমন-১. গ্রীন টেকনোলজির ব্যবহার।২. লবণাক্তজমিতে ও ধান চাষকরা যায় এমন বীজ উদ্ভাবন। ৩. বৃষ্টি ছাড়াই ধান হতে পারে এমন ধানজাত উদ্ভাবন ।৪. বছরের যে কোন সময়ে রোপন করা যায় এমন ধান উদ্ভাবন।৫. বিশ্ব উষ্ণতা বাড়লে ও উচ্চতারোধকারী ফসল ধান উদ্ভাবন।৬. কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা কৃষকদের জন্য সহজে কৃষি ধানের ব্যবস্থাকরণ ৭. অল্পসময়ের মধ্যে ফসল হতে পারে এমন ব্যবস্থাকরণ।৮. বেশি পানিতে ও যাতে ফসল জন্মে এমন বীজ উদ্ভাবন।৯. সবসময় খাদ্য মজুদ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি। এ ছাড়াও আমাদের সচেতনতা আমাদের অন্যতম করণীয়। সেটা হতে পারে কোন ঝড়ের সময়ে শেল্টারে আশ্রয় গ্রহণ। কিংবা সাগরে মাছ ধরতে গেলে কোন বিপদের আভাস পেলে সাথে সাথে ফিরে আসা, বন না কাটা। বেশি বেশি গাছ লাগানো ইত্যাদি। গ্রীন হাউস গ্যাস আমরা যতটুকু নির্গমন করি তা জলবায়ু পরিবর্তনে তেমন কোন ভুমিকা না রাখলে ও এটি নিঃসরণ আমাদের দ্বারা যেন না হয়। কিংবা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। আমাদের ঘর বাড়ী, টিউব ওয়েল ল্যাট্রিন ইত্যাদি অনেক উঁচু করে নির্মাণ করা। যে কোন দুর্যোগ একদল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত লোক সবসময় রাখা। কৃষক শ্রমিক চাকুরীজীবি ব্যবসায়ী তথা সর্বস্তরের মানুষের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ। সমাজের অতিদরিদ্রদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ। যেকোন উন্নয়ন কর্মকান্ডে যেন জলবায়ু বিষয়ক বাড়তি ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে। জলবায়ুর পরিবর্তনের অভিঘাত এলাকাভিত্তিক ভিন্নভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি মোকবিলায় এলাকাভিত্তিক বা সময়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় কর্মসূচী নেয়া যেতে পারে। সর্বোপরি আজকের পৃথিবীতে কৃষি উন্নয়ন আর শিল্প উন্নয়নকে ছাপিয়ে আরেকটি উন্নয়নের কথা স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। আমরা যদি প্রত্যেকটি নাগরিককে মানব বোঝা মানব সম্পদে পরিণত করতে পারি তবে দেশের সকল সমস্যা উত্তরণ সম্ভব। আর জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতও এমানব সম্পদ দ্বারাই সহজে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। অবশ্য দেশের তরুণ সমাজের ও এখানে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে, আর আমাদের দেশে সবকিছুর আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। জলবায়ু পরির্বতন ইস্যুটি শুধু বাংলাদেশের সংকটই নয় বিশ্ব সংকটও বটে। বিশ্বের এ বার্নিং ইস্যুর মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বই যথেষ্ট। আমরাও আমাদের করণীয় পালন করবো। আমরা আশা করছি কোপেহেগেন ডিসেম্বরের (৭-১৮) সেদিনেই জন্যই অপেক্ষা করছে যেদিন উন্নত বিশ্ব বলবে আমাদের প্রাণের এ পৃথিবীকে আমরা ধ্বংস করবোনা। বাসযোগ্য পৃথিবীতে সবাই শান্তিতেই বাস করবো। আমাদের অপরাধের কারণে নিরীহ মানুষদের শাস্তি দেবোনা। স্বপ্নের পৃথিবীর সত্যিকার রূপেই বাস্তবে ধরা দিবে। আর বাংলাদেশ বলবে আমরা এটাই চেয়েছি, আমাদের সবুজ শ্যামল দেশটির সবুজ ধরে রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞ।