শিক্ষার্থীদের বারোটা বাজানোর কত দেরি

ডিসেম্বরে (২০২০) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খোলার আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা

করোনা দুর্যোগের প্রভাব সব খাত কাটিয়ে উঠতে পারলেও শিক্ষা খাত পিছিয়ে থাকার পেছনে প্রশাসনের দায় কম নয়। গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কিছু স্তরে সম্ভাব্য পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের ফল নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে অটোপাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতেও উঠেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা সম্পন্ন করছে। সে বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, শুধু পিছিয়ে আছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে সত্য। কিন্তু অনলাইনে পরীক্ষা না হওয়ায় সেশনজটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। খুবই আশ্চর্যের বিষয়, অনলাইনে ক্লাস হলে পরীক্ষা কেন হতে পারবে না? এখন ১৪ মাস পর এসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে!

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনার প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি ছিল না বললেই চলে। বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তারা শিক্ষা নেয়নি। অজুহাত হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। যদি অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়, তবে পরীক্ষা কেন হতে পারবে না!

প্রশ্ন শুধু অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কিংবা পরীক্ষা নিয়ে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবাসিক হল খোলা নিয়েও প্রশাসনের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার খেসারত শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে। Continue reading

বিজেপির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছি-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচনে জয়লাভ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া টুডের মুখোমুখি হন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি তার নির্বাচনী লড়াইয়ের পথপরিক্রমা, রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং করোনা প্রসঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজদ্বীপ সরদেশাই। ইংরেজি থেকে ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক

ইন্ডিয়া টুডে: শুরুতেই আপনাকে অভিনন্দন জানাই। আপনি কি এমন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয় আশা করেছিলেন? এবার এমনকি ২০১৬ সালের নির্বাচন থেকেও বেশি ভোট পেয়েছেন…

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: দেখুন, আমার টার্গেট ছিল ২২১টি আসন পাওয়া। কারণ এখন ২০২১ সাল চলে, তাই সিম্বলিক হিসেবে ২২১। এবার নির্বাচন কমিশন যে আচরণ করেছে, তা ছিল ভয়ংকর। কেন্দ্রীয় সরকারসহ সব এজেন্সিও আমাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলকভাবে কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা আমাদের জন্য কাজ করেছে এবং তাদের কারণেই আমরা যুদ্ধে জয়লাভে সক্ষম হই। মাঠে তারাই ছিল আমাদের যোদ্ধা। করোনা-দুর্যোগের এ সময়ে আমরা কোনো ধরনের বিজয় উৎসব পালন করিনি। আমরা করোনা রোগীদের জন্য কাজ করছি। দেশের সবাইকে টিকা দেওয়ার জন্য আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে আহ্বান জানাই। তারা যদি এটি না করে, তাহলে আমি অহিংস আন্দোলনে নামব। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য হবে এ আন্দোলন।

ইন্ডিয়া টুডে: আপনি বললেন, আপনার টার্গেট ছিল ২২১। এমন আত্মবিশ্বাস আপনি কীভাবে পেলেন। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, বিজেপি এবার খুব আগ্রাসী প্রচারণা চালায়। অনেকে বলেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ব্যাকফুটে আছে। এরপরও এমন আত্মবিশ্বাসের হেতু কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি শুরু থেকেই বলে আসছিলাম, আমরা ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করব। আর বিজেপি ৭০ আসনের বেশি পাবে না। নির্বাচন কমিশন যদি এভাবে তাদের সহায়তা না করত তারা ৫০টির বেশি আসন পেত কিনা সন্দেহ। আমাদের কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের ব্যালট নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের অভিবাদন জানাই। তারাই পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের জন্য লড়াই করেছেন। আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে হবে। আমি আমার জন্মভূমিকে ভালোবাসি। ভালোবাসি পশ্চিমবঙ্গকে। পশ্চিমবঙ্গ গোটা দেশকে পথ দেখাবে।

ইন্ডিয়া টুডে: আপনার ভূমিধস বিজয় আমরা দেখছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের হিসাবে নন্দীগ্রামে আপনি হেরেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আসলে এটা হারা নয়। সেখানে আবার ভোট গণনার দাবি জানিয়েছি আমরা। নির্বাচন কমিশন ইভিএম মেশিনে কারসাজির চেষ্টা করেছে। অভিযোগ পেয়ে একটি বুথে আমি প্রায় তিন ঘণ্টা বসে ছিলাম। আমাদের ভোটারদের অনেককেই ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। নন্দীগ্রামে আসলে একটি ষড়যন্ত্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ষড়যন্ত্র। তাই আমি শুরু থেকেই ভোট পুনরায় গণনার কথা বলেছি। যাতে সেখানে কী ঘটেছে, তা জনগণ জানতে পারে। Continue reading

মোদি সরকার টিকা নিয়ে বৈষম্য করছে-সোনিয়া গান্ধী

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী সম্প্রতি করোনাদুর্যোগ, টিকা ও সেখানকার সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে দেশটির জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দুর সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক সন্দ্বীপ ফুকান। ইংরেজি থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক।


দ্য হিন্দু: করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভারতে সবচেয়ে বেশি জনস্বাস্থ্য সংকট স্পষ্ট। এ সংকটের জন্য দায় কার?

সোনিয়া গান্ধী: ভারতের এ জাতীয় বিপর্যয়ে আমার মনে হয় একটি সম্মিলিত ব্যাপক প্রচেষ্টা দরকার। আমাদের একসঙ্গে কাজ করে প্রয়োজনীয় সব জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে যত দ্রুত সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তবে এটা বলতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক মাস আগে করোনা নিয়ন্ত্রণের এক অকালপকস্ফ বিজয় উদযাপন করেছিল। সেখানে বাস্তবতা ছিল উপেক্ষিত। এমনকি সংসদীয় কমিটি করোনার প্রস্তুতির জন্য যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলোও আমলে নেওয়া হয়নি। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ভারত ও বিশ্বের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য দেশের অবস্থার আলোকে আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, কী ঘটতে পারে। অথচ আমরা তাতে কর্ণপাত না করে প্রগল্‌ভ অহংকার আর আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি। করোনা সংক্রমণের প্রভাবের কথা চিন্তা না করেই ভাইরাসটি আরও ছড়ানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

দ্য হিন্দু: এখন তাহলে করণীয় কী?

সোনিয়া গান্ধী: এখন ব্লেম গেম খেলার সময় নয়। বরং আমাদের করণীয় হলো, মানুষের জীবন রক্ষা করা। মানুষের বেদনা উপশম করা। আমাদের লাখ লাখ নাগরিকের দুর্ভোগ লাঘব করা। অক্সিজেন সংকট দূর করা। জরুরি ওষুধ এবং হাসপাতালে আসনের ব্যবস্থা করা। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসও সব রাজ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। আমরা যেভাবে পারছি, এ সহযোগিতা করে আসছি।

কৃতিত্ব নেওয়া বা এটা প্রচারের সময় এখন নয় যে, আমরা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কী করছি। কোনো ধরনের প্রচারণা পাওয়ার আশা ছাড়াই কাজ করার সময় এখন। আমি এখানে ধন্যবাদ দিতে চাই, বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যারা গত কয়েকদিন ধরে আমাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।

তবে এটা সত্যিই বেদনাদায়ক, সরকার এখনও অগ্রাধিকারের বাইরে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প। বেহুদা এখন প্রকল্পটি নির্মাণের কাজ চলছে। তবে যেসব সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগ ত্রাণসহ অন্যান্য সাহায্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রশংসা করতেই হবে। একই সঙ্গে আমাদের সম্মুখযোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মীবৃন্দ যারা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিচ্ছে, তাদের ঋণ শোধ করার মতো নয়।

দ্য হিন্দু: সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং টিকা নিয়ে ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী এবং আপনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু পরামর্শ দিয়ে চিঠি লিখেছেন। তার সমালোচনাও রয়েছে। বলা হচ্ছে, কংগ্রেস সংকট নিয়ে রাজনীতি করছে। Continue reading

মন খারাপের ডায়েরি

রাজধানীর পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাননি রায়হানের মা। অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান!

প্রতিদিন বিপর্যয়ের নতুন রেকর্ড আমাদের মন ভেঙে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা দেয়ালে রায়হানের অসহায় অর্তনাদের ছবি দেখে কে-ই বা নিজেকে ধরে রাখতে পারে! রাজধানীর পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাননি রায়হানের মা। অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান! গত বছর করোনা সংক্রমণের পর থেকেই এমন অসহায় দৃশ্য আমরা দেখে আসছি। এবারের পরিস্থিতি যে আরও নাজুক; এক সপ্তাহের চিত্রেই তা স্পষ্ট। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল ২০২১) সর্বোচ্চ ৬৬ জনের মৃত্যু ও ৭ হাজার ২১৩ জনের সংক্রমণের খবরের হিসাব মেলাতে যখন সবাই ব্যস্ত; পরদিন বুধবারই সেই হিসাব ভেঙে আমরা দেখেছি, নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত ৭ হাজার ৬২৬ জন। করোনাকালে বাংলাদেশে এটাই এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এভাবে পরিসংখ্যান আমাদের কতদূর নিয়ে যাবে, জানি না।

আমরা ভাবছিলাম, করোনা জয় করে আমরা বুঝি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি। সবার টিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিগগিরই বাংলাদেশ বুঝি করোনামুক্ত হয়ে যাবে। বছরব্যাপী বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখও ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু মাসখানেক ধরেই আমরা দৃশ্যপট পাল্টে যেতে দেখলাম। করোনা সংক্রমণের উল্লম্ম্ফন। হঠাৎ সংক্রমণ আর মৃত্যুহার বাড়তে থাকে। এমনকি তা গত বছরের রেকর্ডও ভেঙে দেয়। নতুন রেকর্ড হয়, পুরাতনটা ভাঙে। সপ্তাহখানেক ধরে এই ভাঙা-গড়ার খেলাই চলছে। আর তার পেছনে ঘটে চলেছে কত মানবিক-অমানবিক গল্প! কোনো গল্প সংবাদমাধ্যমে আসে; ইন্টারনেটের কল্যাণে ভাইরাল হয়; আর কোনো গল্প চোখের আড়ালেই থেকে যায়।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ‘স্বাস্থ্য’। অথচ আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন হযবরল, স্বাস্থ্যবিধিও তথৈবচ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা নাজুক; এ ভাইরাসের সংক্রমণ না হলে মনে হয় তা এতটা স্পষ্ট হতো না। Continue reading

প্রচলিত উন্নয়ন কৌশলের কারণে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে-ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পিপিআরসির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান। দীর্ঘ সময় তিনি বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইউএসএইড, জাইকাসহ বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষার্থী হোসেন জিল্লুর রহমান পিএইচডি করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে। ১৯৫১ সালে চট্টগ্রামে তার জন্ম।


সমকাল: যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ, যাকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলা হয়েছে। সেখান থেকে আমাদের উত্তরণ কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: বাংলাদেশের শুরুর কথা চিন্তা করলে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত, আপনি যেটা বললেন, বিদেশিরা কী বলেছে, অর্থাৎ তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা ইত্যাদি। আরেকটা হলো, আমরা কী স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং সেখান থেকে কতদূর এগোলাম। তলাবিহীন ঝুড়ির প্রশ্নে আসি- এ অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। বাংলাদেশের যে বহুমুখী পরিবর্তন হয়েছে, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। দুর্যোগপ্রবণ দেশে আগে দুর্যোগ হলে আমরা ভেঙে পড়তাম। এখন ভেঙে পড়ি না, বরং দাঁড়াতে শিখেছি। আমাদের সবদিক থেকে সক্ষমতা বেড়েছে। যদিও উপরি কাঠামোতে নানা পালাবদল ঘটেছে।

সমকাল: উপরি কাঠামো বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: উপরি কাঠামোতে পরিবর্তন মানে আমরা রাজনৈতিক নানা পরিবর্তন দেখেছি। সামরিক শাসন দেখেছি; ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখেছি। এখানে নানা টানাপোড়েন হলেও দেশের অর্থনীতি কিন্তু ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে। Continue reading

এত সহজেই খাবার অপচয় করি!

একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের কঙ্কালসার দেহ, আরেকদিকে প্লেটভর্তি নষ্ট করা খাবার- দুটি বিপরীত চিত্র। উভয়টিই পৃথিবীর নিদারুণ বাস্তবতা। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী বছরে প্রায় ১০০ কোটি টন খাবার নষ্ট হয়। জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক সংস্থা-ইউএনইপির ‘ফুড ওয়াস্ট ইনডেক্স রিপোর্ট ২০২১’ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতি ঘরে বছরে গড়ে ৬৫ কেজি খাবারের অপচয় হয়। এমনকি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকান ও জাপানিদের তুলনায় বাংলাদেশিরা বেশি খাবার অপচয় করে। খাদ্যশস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ঘরে তোলা এবং থালা পর্যন্ত নানাভাবে খাবারের অপচয় হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চলে যেন খাবার নষ্টের প্রতিযোগিতা। মনে রাখা দরকার, খাবার অপচয় করা কোনো ফ্যাশন নয় বরং এটি অমানবিকতা এবং অপরাধ।

খাবারসহ জীবন ধারণের যে কোনো বিষয়ে অপচয় না করার তাগিদ রয়েছে বিভিন্নভাবে। কেবল খাবার নষ্ট করাই নয়; সময় এবং জীবনের উপায়-উপকরণেও সব ধরনের অপচয় পরিত্যাজ্য। এর মধ্যে খাবার অপচয়ের বিষয়টি একেবারে ভিন্ন। কেউ যদি মনে করেন, আরেকজনের বিয়েতে এসেছেন; খেতে যেমন বারণ নেই, তেমনি ফেলতেও সমস্যা নেই; বিষয়টি তা নয়। এটা মনে করা যাবে না, অপচয়ের ফলে নিজের টাকা খরচ হচ্ছে না। আমাদের মানসপটে যদি আফ্রিকার ক্ষুধার্ত শিশুর চেহারা ভেসে ওঠে কিংবা না খেয়ে থাকা ইয়েমেনের কোনো মানুষের কথা; তখন কেমন লাগবে? বেশি দূরে যাওয়া নয়, হয়তো আমাদের পাশের কোনো ঘরেই সবার ঠিকমতো তিন বেলা খাবার জোটে না। তাহলে কীভাবে খাবার অপচয় সম্ভব! খাবারের যদি কথা বলার সামর্থ্য থাকত, জানি না নষ্ট হওয়া খাবারগুলো ঠিক কী বলত! যে খাবার এত মজা করে খাওয়া হচ্ছে, অর্ধেক খাওয়ার পরই যদি বলা হয়, আর পারছি না, তাহলে এ খাবার যাবে কোথায়? কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সুস্বাদু খাবারটা পরিণত হলো স্রেফ ঝুটায়? আপনি কতটুকু খেতে পারবেন, খাবার নেওয়ার আগেই তা চিন্তা করা উচিত।

রেফ্রিজারেটর তথা ফ্রিজ আসায় খাবার অপচয় অনেকখানি রোধ করা সহজ হয়েছে; এটা সত্য। কিন্তু সদিচ্ছা না থাকলে ওই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রটি কিছুই করতে পারবে না। আবার ইচ্ছা থাকলে ফ্রিজ ছাড়াও খাবার সংরক্ষণ করা অসম্ভব নয়। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি, কীভাবে আমাদের মা-দাদিরা ফ্রিজ ছাড়া খাবার সংরক্ষণ করতেন। অপচয় বন্ধে সদিচ্ছাই যখন প্রধান, তখন ধনী কী, আর গরিবই বা কী? জাতিসংঘের পরিসংখ্যানে আমরা দেখছি, উন্নত দেশগুলোতে যত খাবার অপচয় হয়, তার চেয়ে বেশি অপচয় হয় নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। অপচয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, এর পর নেপাল। Continue reading

উইকিপিডিয়ায় বাংলা কেন পিছিয়ে

বিনামূল্যে সবার জন্য তথ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনলাইন জ্ঞানভান্ডার হিসেবে ২০০১ সালে উইকিপিডিয়ার যাত্রা শুরু হয় মার্কিন ইন্টারনেট উদ্যোক্তা জিমি ওয়েলসের হাতে। অনলাইনে কেউ যখন কোনো তথ্য ও তত্ত্বের অনুসন্ধান করেন, কোনো কিছু জানতে চান, তখন শুরুতেই যে বিশ্বকোষ আলাদিনের চেরাগের মতো কোনো উত্তর হাজির করে সেটিই উইকিপিডিয়া।

অবশ্য এতে উপস্থাপিত নিবন্ধের তথ্য কোনো কোনো সময় বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করে। কারণ উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার হওয়ায় অনেকে উইকিপিডিয়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্যও যুক্ত করে থাকেন- যা যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনার আগেই অনেক অনুসন্ধানকারীর কাছে পৌঁছে যায়।

উইকিপিডিয়ার বাংলা সংস্করণ হিসেবে বাংলা উইকিপিডিয়া ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রথম যাত্রা শুরু করে। এর আগে ২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তৎকালীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহ আসাদুজ্জামান বাংলায় উইকিপিডিয়া তৈরির অনুরোধ করে জিমি ওয়েলসের কাছে প্রথম ই-মেইল করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত এতে নিবন্ধ যুক্ত হয়েছে এক লাখ চার হাজার ১৪৭টি; যেখানে বাংলা ভাষাভাষী রয়েছেন ২৩ কোটি। নিবন্ধের সংখ্যার হিসাবে উইকিপিডিয়ার ৩০৩টি ভাষার মধ্যে বাংলা উইকিপিডিয়ার অবস্থান ৬৮-তে। ২০২০ সালে সারাবিশ্ব থেকে ২৯ কোটি ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯৩ বার এই উন্মুক্ত বিশ্বকোষে অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে পড়া হয়েছে সাত লাখ ৯৪ হাজার ৬৩০ বার।

উইকিস্ট্যাটস অনুযায়ী, উইকিপিডিয়ায় ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬৪টি নিবন্ধ রয়েছে। নিবন্ধের সংখ্যার দিক থেকে উইকিপিডিয়ায় উপমহাদেশীয় ভাষা উর্দু সবার ওপরে- সম্মিলিত তালিকার ৫৪তম স্থানে। উপমহাদেশে হিন্দি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে এবং সম্মিলিতভাবে ৫৭তম স্থানে। সম্মিলিত তালিকায় ৬১তম স্থানে থাকা তামিলেরও পরে ৬৮তম স্থানে অবস্থান করছে বাংলা ভাষা। অথচ তামিল ভাষাভাষীর সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি।

উইকিপিডিয়ায় নিবন্ধের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিলিপাইনের সিবুয়ানো ভাষা। এ ভাষার ব্যবহারকারী প্রায় দুই কোটি, নিবন্ধ সংখ্যা ৫৫ লাখ। কিন্তু ভাষাভাষীর দিক থেকে বাংলা পঞ্চম ভাষা হলেও নিবন্ধ ও ব্যবহারকারীর দিক থেকে বাংলা উইকিপিডিয়ার অবস্থান বেশ দূরে। Continue reading

মাওলানা আজাদ : শিক্ষা আন্দোলনের অগ্রপথিক

শিক্ষা বিস্তারে উজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণে রেখে প্রতি বছর মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জন্মদিন (১১ নভেম্বর) সমগ্র ভারতে ‘জাতীয় শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। যদিও মাওলানা আজাদের খ্যাতি শিক্ষার চেয়েও রাজনীতিতে বিস্তৃত হয়েছে বেশি। তিনি আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’-এর উৎসর্গে লিখেছেন ‘ফর জওহরলাল নেহরু ফ্রেন্ড অ্যান্ড কমরেড’। বলাবাহুল্য, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ও স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সঙ্গে কেবল তার বন্ধুত্বের সম্পর্কই ছিল না, একই সঙ্গে উভয়ই ছিলেন একই আন্দোলনের সহযোদ্ধা। এমনকি নেহরুর মন্ত্রিসভার মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

আনন্দবাজার পত্রিকা তার অবয়ব এভাবে বর্ণনা করেছে, ‘ছিপছিপে চেহারায় রোদচশমা চোখে, কালো টুপি আর ধোপদুরস্ত পোশাক’। আমরা তাকে দেখি মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে। তিনি ১৯১৯ সালে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে মাহাত্মা গান্ধীর অহিংস মতবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে অসহযোগ আন্দোলন সংঘটনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৩ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মাওলানা আজাদ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে সভাপতি নির্বাচিত হন।

মাওলানা আজাদের সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও রাজনীতি সমানতালে চলেছে। এর মধ্যেও তিনি শিক্ষাচিন্তা সযতনে লালন করেছেন। ২০১৫ সালে প্রকাশিত ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার ফ্রাইডে রিভিউতে ‘মাওলানা অ্যান্ড মাও’ শিরোনামের একটি প্রবন্ধে বলা হয় মহাত্মা গান্ধী মাওলানা আজাদকে ‘দ্য এম্পেরোর অব লানির্ং’ বলে জ্ঞানের দিক থেকে প্লেটো, অ্যারিস্টটল ও পিথাগোরাসের সমমর্যাদার ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। Continue reading

বাংলা ভাষার দুর্দশায় তরুণ প্রজন্ম একা দায়ী নয়-অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান

বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা শামসুজ্জামান খান বিভিন্ন সময় মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক এবং সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারও লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ সালে মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

সমকাল: আপনি সম্প্রতি প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে বলেছেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেই বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি বিস্তারিত বলবেন?

শামসুজ্জামান খান: হ্যাঁ, আমি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক সেমিনারে বিষয়টি বলেছি। আমি তথ্যটি পেয়েছি কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকা থেকে। ৭ জুলাই ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘কয়েক দিন পরই পাকিস্তান প্রতিভাত হবে। শুনতে পাচ্ছি, পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। যদি তাহাই হয় তাহলে ১৯৪০ সনের লাহোর প্রস্তাবের আলোকে আমাদের পূর্ব বাংলায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ফিরিয়া যাইতে হইবে।’ বঙ্গবন্ধু উপর্যুক্ত বক্তব্য দিয়েছিলেন তার মাত্র ২৭ বছর বয়সে। অর্থাৎ তিনি যুক্তিপূর্ণ ভাষায় বাঙালি জাতিসত্তা ও তার মৌল উপাদান বাংলা ভাষার অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য পূর্ব বাংলায় স্বাধীন স্টেট করার কথা ভেবেছিলেন। বাস্তবেও অবস্থা যখন তেমনি গড়াল, তখন পাকিস্তানি সামন্ততান্ত্রিক দুঃশাসন ও স্বৈরাচার থেকে মুক্তির লক্ষ্যে স্বাধীনতার দাবি তুলতে বাধ্য হয়েছিলেন। তারই ফলে আমরা একাত্তর সালে পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি।

সমকাল: এবার ভিন্ন পরিস্থিতিতে একুশে ফেব্রুয়ারি এসেছে। ভাষার মাস শুরু হলেও বাংলা একাডেমির বইমেলা হচ্ছে না। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? Continue reading

উচ্চ মাধ্যমিকের ফল নয়, ভর্তি পরীক্ষা গুরুত্ব পাক

জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো। এই প্রবাদের মতোই প্রত্যাশা থাকবে- এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা না হোক কিংবা ফল যা-ই হোক উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি ঠিকভাবে হওয়া চাই। সে লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে ৬ ফেব্রুয়ারির সমকালের প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি। কার্যত অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়ও শেষ হয়ে আসছে। এগুলো অবশ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। বস্তুত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনগুলোতে বিশেষ করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনাই বেশি আসে। অথচ শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও যেভাবে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হচ্ছে, দিনে দিনে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চশিক্ষায় প্রভাব ও ভূমিকা রাখছে; সেখানকার ভর্তিযজ্ঞের খবর এখন অনেকেরই আগ্রহের বিষয়।

সমকালের প্রতিবেদন থেকেই অবশ্য আমরা জানছি, ‘দেশের ৪৬টি সরকারি ও ১০৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পা রাখবেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী।’ এ বছর পাবলিক তথা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুখবর হলো, অধিকাংশই গুচ্ছপদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যাচ্ছে। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের মতো পরীক্ষা নেবে। কিন্তু এদের কোনো প্রতিষ্ঠান এখনও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। এমনকি সংবাদমাধ্যমের তরফে আমরা জানছি, এপ্রিলের আগে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমনিতেই সবকিছু দেরি হয়ে গেছে, তারপরও অবস্থার দোহাই দিয়ে এভাবে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার যুক্তি কী?

ইতোমধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই দোটানায় পড়বেন। কেউ হয়তো এখানে ভর্তি হয়ে থাকবেন, পরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলে সেখানে চলে যাবেন। অথচ প্রতিটি ভর্তিতেই খরচ ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। Continue reading