‘নিউ নরমাল’ ভুবনে ‘প্রমোশন’ ভ্রান্তি?

দেশে করোনায় সীমিত পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সর্বত্র অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ‘অটো পাসে’র পর সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রেও বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে ‘প্রমোশনে’র চিন্তা করছে বলে সংবাদমাধ্যমের তরফে আমরা জানছি। অবশ্য পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত কাঙ্ক্ষিতই ছিল। আগস্টের শেষ সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হয়- এ দুটি ‘পাবলিক’ পরীক্ষার বদলে শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এখন সেই বার্ষিক পরীক্ষাই যদি না হয়, তবে তাদের মূল্যায়ন হবে কীভাবে?

করোনা পরিস্থিতি আমাদের অজানা নয়। এ দুর্যোগের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত সাধারণ ছুটিতে দেশে লকডাউনের মতো পরিস্থিতি ছিল। এরপর সীমিত পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সর্বত্র অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি দফায় দফায় বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। যদিও করোনা সে অর্থে নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তার পরও ‘নিউ নরমাল’ তথা নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সবই যখন চলছে, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ থাকছে- এ প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, অনেক দেশেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। Continue reading

কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ

যদি কর্তৃত্ববাদের আচরণ একই হয়, সেখানে প্রতিবাদের ক্ষেত্রে অভিন্ন কারণও স্পষ্ট।

লেখক: অমর্ত্য সেন

দার্শনিক এমানুয়েল কান্ট যেমনটা বলেছেন, ‘যে কোনো বিষয়ে কারও মত প্রকাশ্যে তুলে ধরার স্বাধীনতার’ মতো গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কান্ট এটাও বলেছেন, সমাজই তর্কের সুযোগ প্রায়শ বন্ধ করে দেয়। কখনও কঠোরভাবেই বন্ধ করে। আজকের বিশ্বের একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রবণতা লক্ষণীয়। অপ্রিয় হলেও সত্য, এ তালিকায় আমার দেশ ভারতকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভারতও সেই দুর্ভাগ্যজনক দেশগুলোর অন্যতম।

ভারত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর কয়েক দশক ধরে ব্যক্তিস্বাধীনতাসহ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছিল। মানুষ তাদের স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়। তারা কঠোর ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার বিলোপ সাধন করে সেই স্বাধীনতার প্রতি তাদের সংকল্পও প্রদর্শন করে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের কথা বলা যায়। যে নির্বাচনে স্বৈরাচারী আইন যাকে ‘জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করা হয়, তাকে মানুষ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সরকার দ্রুতই তা মেনে নেয়।

যা হোক, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাধীনতা দৃশ্যত অনেকের ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তারই আলোকে বর্তমান সরকার সেখানে ভিন্ন ধরনের সমাজ গড়তে আগ্রাসী নজির হাজির করছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, যাকে বিস্ময়করভাবে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় উপাত্ত হাজির করে ও বিরোধী নেতাদের বন্দি করে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করছে সরকার। এ প্রক্রিয়ার ভেতরে স্বৈরাচারী মনোভাবের বাইরেও চিন্তার গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ সরকারের সঙ্গে দ্বিমত মানে রাষ্ট্রদ্রোহ কিংবা কাউকে উৎখাত নয় Continue reading

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কথা ভাবতে হবে- অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ভারতের নয়াদিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ঔষধবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী এ কে আজাদ চৌধুরী ১৯৪৬ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন
সমকাল: কয়েক বছর ধরে উচ্চশিক্ষায় সেশনজট ছিল না বললেই চলে। করোনায় নতুন করে সেশনজটের কথা শোনা যাচ্ছে। আপনার কী মনে হয়।
এ কে আজাদ চৌধুরী: হ্যাঁ, দীর্ঘদিন উচ্চশিক্ষায় সেশনজটের সমস্যা ছিল না। আমি যখন (১৯৯৬-২০০১) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলাম, তখনই সেশনজটমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এ থেকে মুক্ত হয়। এটা সত্য যে, করোনাদুর্যোগের কারণে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সেশনজট খুব বেশি হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন শিক্ষা চালু করেছে।
সমকাল
: প্রশাসন কি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারত?
এ কে আজাদ চৌধুরী: করোনার মধ্যেও আমরা দেখেছি পোশাক শিল্পকারখানাসহ অর্থনৈতিক সবকিছুই খোলা রয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সে সাহসিকতা প্রশাসন দেখাতে পারেনি। এর বাস্তব কারণ অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য সচেতন বটে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তো আবাসিক হলও খুলতে হবে। আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের কোনো কোনো রুমে ১৬/১৭ জনও থাকে। সেখানে কীভাবে শারীরিক দূরত্ব থাকবে? Continue reading

ইসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এনআইডি জালিয়াতি সম্ভব নয়- এম সাখাওয়াত হোসেন

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এম সাখাওয়াত হোসেন ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণের পর তিনি লেখালেখি ও গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। এম সাখাওয়াত হোসেন ২০১৮ সালে নির্বাচনী ব্যবস্থায় সুশাসনের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জন্ম ১৯৪৮ সালে বরিশালে
সমকাল: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পুরোনো। আমরা দেখেছি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের এনআইডির মাধ্যমে পাসপোর্ট করে বিদেশেও গেছে। রোহিঙ্গারা কীভাবে এনআইডি পেল?
এম সাখাওয়াত হোসেন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি একটি দেশের নাগরিক পরিচয়পত্র। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের এনআইডি পাওয়ার কথা নয়। তারপরও তারা এনআইডি পেয়েছে; তা দিয়ে পাসপোর্ট করে বিদেশেও গেছে। কারও জাতীয়তা প্রমাণের জন্য কিংবা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় তথ্যের ওপরেই নিবন্ধন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদত্ত সার্টিফিকেট কিংবা জন্মনিবন্ধনই প্রাথমিক ভরসা। এগুলো ইউনিয়ন পরিষদে গেলেই সহজে পাওয়া যায়; এখানে তেমন যাচাই-বাছাই করা হয় না বিধায় ভুয়া সনদ পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে যখন জাতীয় পরিচয়পত্র করা হয়, তখন আমরা খবর পেলাম রোহিঙ্গারা এনআইডি নিচ্ছে বা ভোটার হচ্ছে।
সমকাল: রোহিঙ্গারা যাতে এনআইডি না পায়, তখন আপনারা কী পদক্ষেপ নেন?
এম সাখাওয়াত হোসেন: আমরা যখন খবর পাই রোহিঙ্গারা ভোটার হচ্ছে, তখন ইসি তদন্ত করে ২০-২৫ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন বাতিল করে। ২০০৯ সালে তখন আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে সিদ্ধান্ত নিই, রোহিঙ্গা বসবাসকারী এলাকাগুলো বিশেষভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এর পর বিশেষ ফরম ও কমিটির মাধ্যমে সেখানে ভোটার করে ইসি। সাধারণত বিশেষ কমিটি অনুমোদন না করলে ওইসব এলাকায় কাউকে ভোটার করা হয় না। Continue reading

ভোক্তাবিষয়ক আলাদা মন্ত্রণালয় দরকার- গোলাম রহমান

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের আগে তিনি বাণিজ্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ষাটের দশকের শেষের দিকে গোলাম রহমান সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন
সমকাল: মঙ্গলবার খাদ্যমন্ত্রী ১৫ দিন আগের দরে চাল বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের মনে আছে, ২০১৭ সালে হাওরে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় উঠেছিল। এরপর এবার সেটা ৪৮ টাকা দেখছি।
গোলাম রহমান: মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কারও ঘোষণা বা আদেশ দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। বাজার নিয়ন্ত্রণের একটাই উপায়, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা। চালের বাজারের জন্যও একই কথা। চালে এবার আমাদের ২০১৭ সালের মতো অবস্থা তৈরির সুযোগ আছে বলে মনে করি না।
সমকাল: তাহলে চালের এই বাড়তি মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী?
গোলাম রহমান: প্রথম কথা হলো, চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন নিঃসন্দেহে। স্বাধীনতার সময় যে জনসংখ্যা ছিল এখন তার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হলেও আমরা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ফসলের ফলন বাড়িয়ে চালে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। সবাই দেখেছে, দুর্যোগের মধ্যেও এবার চালের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে দফায় দফায় চালের মূল্য বৃদ্ধি আমার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় না। সরকার চালকল মালিকদের অসহযোগিতার কারণে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। আরেকটা কারণ আমার মনে হয়, করোনাভাইরাসের মধ্যে যারা গ্রামে ফিরে গেছে, তাদের অনেকেই বেশি করে চাল কিনে মজুদ করেছে।
সমকাল: আপনি চালকল মালিকদের অসহযোগিতার কথা বলেছেন, সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি এসেছে। Continue reading

বিসিএসের চেয়ে জীবন অনেক বড়-ড. মোহাম্মদ সাদিক

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক সিভিল সার্ভিসে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। তিনি শিক্ষা সচিব ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র ড. সাদিক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘সিলেটি নাগরী লিপির’ ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জন্ম ১৯৫৫ সালে সুনামগঞ্জে। লেখালেখিতে সক্রিয় ড. মোহাম্মদ সাদিক ২০১৭ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন

সমকাল: আপনি পিএসসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগের তুলনায় যে জনআস্থা ও বিশ্বাস আমরা দেখছি তার কারণ কী বলে আপনি  মনে করেন?

ড. মোহাম্মদ সাদিক: আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি যারা বাইরে আছেন আপনারা দেখবেন। পিএসসি পরীক্ষা ও ফল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী সুপারিশের কাজ করে। কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য আমাদের বিজ্ঞ সদস্যবৃন্দ, পিএসসির সচিব ও সংশ্নিষ্ট সবাই মিলে আমরা একটি টিম হিসেবে কাজ করেছি। এখানে প্রশ্নকারী, মডারেটর, পরীক্ষক, নিরীক্ষক, পরিদর্শক এবং ভাইভা বোর্ডে যারা থাকেন, সবাই মিলেই কাজটি সম্পন্ন হয়। Continue reading

সাইকেলের ‘স্বর্ণযুগে’ আমাদের দুর্দশা

আলাদা লেন না থাকায় ঢাকায় সাইকেল চালানো যেমনি কঠিন, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও

করোনাদুর্যোগের সুযোগ হিসেবে সাইকেলের আলোচনা স্পষ্ট। সংবাদমাধ্যমে ইতোমধ্যে আশাজাগানিয়া কিছু খবর আমরা দেখেছি। সমকালের খবর- ভরসা দিচ্ছে দুই চাকার যান। প্রথম আলো বলছে- করোনায় ঘুরছে বাইসাইকেলের চাকা। করোনা থেকে বাঁচতে গণপরিবহনের বদলে অনেকেই সাইকেলে ঝুঁকছেন; এ সময়ে সাইকেলের বিক্রি বেড়েছে; ব্যবসায়ী ও সাইকেল উৎপাদনকারীদের বক্তব্য, কেবল দেশেই সাইকেলের চাহিদা বাড়েনি, বিদেশেও সাইকেল রপ্তানির আদেশ বাড়ছে। এটি সাইকেলের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর। কিন্তু সাইকেলের সুযোগ বাড়লেও ব্যবহার কতটা বাড়বে সে শঙ্কা রয়ে গেছে নানা কারণেই। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় বড় শহরে চাইলেই দুই চাকার এ বাহনটি স্বাচ্ছন্দ্যে চালানো সম্ভব নয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকের পক্ষেই সাইকেল চালানো সম্ভব হয় না। নিয়মিত সাইকেল আরোহী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা বলছে, আলাদা লেন না থাকায় শহরে সাইকেল চালানো যেমনি কঠিন, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও বটে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে সাইকেলকে অগ্রাধিকারে রেখে যেভাবে করোনা ও পরিবহন- দুই সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে আমাদের দেশে তা দেখা যায়নি বললেই চলে। অন্তত প্রতিবেশী কলকাতার উদাহরণও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। সেখানে কিছু সড়কে নিরাপত্তার কারণে সাইকেল চালানো বন্ধ ছিল। জুন মাসে কলকাতার সড়কে সাইকেল চালানোর অনুমতি দেয় পুলিশ। বাসের ঠাসাঠাসি ভিড়ে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা থেকেই শহরের রাস্তায় সাইকেলে ছাড় দেওয়া হয় কলকাতায়। সেখানে সাইকেল বিক্রি দুই-তিন গুণ বেড়ে গেছে। এমনকি সম্প্রতি সরকারি উদ্যেগে স্বল্প খরচে নিউ টাউন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদ (এনকেডিএ) মানুষের জন্য সাইকেল শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে কলকাতায় সাইকেল লেন তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে কলকাতা পৌরসভা, কলকাতা পুলিশ ও পরিবহন দপ্তর। Continue reading

প্রকল্প ও দিবসনির্ভর সাক্ষরতা

করোনাদুর্যোগের মধ্যেই এবারের সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য বহুমুখী। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোও বিষয়টি ধরে দিবসটির প্রতিপাদ্য করেছে- ‘কভিড-১৯ সংকট :সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’। অর্থাৎ করোনার নতুন পরিস্থিতিতে সাক্ষরতা শিক্ষায়ও পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখবেন শিক্ষক বা শিক্ষাবিদরা। বলাবাহুল্য, দেশে সাক্ষরতার যতটুকু অর্জন, সেখানে শিক্ষকরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে এসেছেন। আর সাক্ষরতার হার বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবদানই বেশি। রোববার সাক্ষরতা দিবসের সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪.৭ শতাংশ। গত এক বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। সাক্ষরতার হার নিয়ে বেসরকারি তথ্যে অমিল থাকলেও সরকারি হিসাব অনুযায়ীই চার ভাগের এক ভাগ মানুষ এখনও নিরক্ষর।

অথচ সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপর অর্ধযুগ পার হলেও আমরা শতভাগের কাছে যেতে পরিনি। এখানে ব্যর্থতা প্রকল্পের। সাক্ষরতা সংক্রান্ত দুটি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হলেও সেগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়নি বলেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। অবশ্য সাক্ষরতার যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, সেগুলোর ফলও সন্তোষজনক নয়। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষকে সাক্ষর করতে ২০১৪ সালে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া চলমান ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (৬৪ জেলা)’ ফলও হতাশাজনক। ৩ সেপ্টেম্বর সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে, চার বছরের এই প্রকল্প দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছর করলেও সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে বিশেষ কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে সংসদীয় কমিটি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ একে ‘ব্যর্থ’ প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংসদীয় কমিটি প্রকল্পটির মেয়াদ আর না বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন নেওয়ার পরামর্শ দিলেও মুজিববর্ষের কথা বলে প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয় দফায় ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেখার বিষয়, এই প্রকল্প আর কতদূর যায়। Continue reading

পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বন্ধ হোক- ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন ও ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছাড়াও তিনি উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ছাত্র কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ পিএইচডি করেছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই) থেকে। তিনি ২০০৯ সালে দারিদ্র্য বিমোচনে একুশে পদক লাভ করেন এবং ২০১০ সালে সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন

সমকাল : আপনি ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকার শিক্ষানীতি সংশোধন, পরিমার্জন ও সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ :সময়ের প্রয়োজনে সবকিছুর পরিবর্তন হতে পারে। শিক্ষানীতির ভূমিকায় আধুনিক মানসম্মত শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। যেটি সময়ের দাবি অনুযায়ী, বাস্তবতার নিরিখে পরিমার্জন করা যেতেই পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের আগে আমরা যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করেছি। আগের সব শিক্ষা কমিশন ও কমিটির প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা ছাড়াও শিক্ষানীতির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সব অংশীজন যথা শিক্ষক, শিক্ষা ব্যবস্থাপক, প্রশাসক, সংশ্নিষ্ট সংগঠনসহ যতদূর সম্ভব সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলা হয় এবং ওই সময়ের বাস্তবতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দক্ষ মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন করা হয়। এখন যারা শিক্ষা বিষয়ে সরকারে দায়িত্বে আছেন, তারা হয়তো ভাবছেন শিক্ষানীতিটি সংশোধন করা দরকার। তবে মনে রাখা জরুরি, শিক্ষা এমন একটি বিষয়, এ নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই। কারণ সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। Continue reading

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনই খুলে দেওয়া সংগত হবে না-রাশেদা কে চৌধুরী

সাক্ষাৎকার

রাশেদা কে চৌধুরী গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক। ২০০৮ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। রাশেদা কে চৌধুরীর জন্ম ১৯৫১ সালে সিলেটে। শিক্ষায় করোনা দুর্যোগের প্রভাব নিয়ে তিনি সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন

সমকাল :করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তোড়জোড় আমরা দেখছি। বাংলাদেশের জন্য এটি কি যথোপযুক্ত সময়?

রাশেদা কে চৌধুরী :করোনার কারণে পৃথিবীর অনেক দেশেই এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ১৬০ কোটি শিক্ষার্থীর ওপর এ মহামারির প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত আমাদের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী ১৮ মার্চ থেকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ আমরা দেখছি। এসব বিষয় নিয়ে প্রশাসনিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। তারাও চিন্তাভাবনা করছেন খুলে দেওয়া যায় কিনা। স্কুুল খোলার পরিকল্পনার বিষয়টি গণমাধ্যমেও ক্রমাগত আসছে। তবে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সংগত হবে বলে আমি মনে করি না। করোনা পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটা যথোপযুক্ত সময় নয়। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার এখনও বিশ শতাংশের মতো। ফলে শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই ঝুঁকির মুখে ফেলা ঠিক হবে না। করোনায় সম্মুখযোদ্ধা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরাও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথাই বলছেন। হ্যাঁ, খোলার সময় আসবে। আমরা যখন দেখব করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসছে, তখন খোলার চিন্তা করতে হবে।

সমকাল :শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পূর্বপ্রস্তুতি কতটা জরুরি? Continue reading