অন্যের চরকায় তেল দেওয়ার বাতিক

‘পাছে লোকে কিছু বলে’- এটাই বাস্তবতা। তবে তাদের জন্য যথার্থ উত্তর ‘নিজের চরকায় তেল দাও।’

অন্যের বিষয়ে নাক গলাতে আমরা অনেকেই সিদ্ধহস্ত। একনজর দেখেই মন্তব্য করার মতো বিশেষজ্ঞ সমাজে কম নেই। সহপাঠীকে ভালোভাবে ডাকার মতো বন্ধুর সংখ্যা যেন বিরল। অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীকে সম্বোধন করে যে ‘বডি শেমিং’ করে ফেলছেন, সে হুঁশও নেই। খোশগল্পে সুযোগ পেলেই অনেক সময় কাউকে আকাশে উঠাচ্ছি, আবার কাউকে জমিনে আছড়ে ফেলছি। পরচর্চায় বাঙালির মুনশিয়ানা বলে কথা।

কারও থেকেই যেন নিস্তার নেই। কোনোভাবেই যেন রেহাই নেই। শারীরিকভাবে লম্বা হলে তো কথাই নেই। খাটো হলেও কথা শুনতে হবে। মোটা হলেও উপদেশের বান আপনার দিকে ধেয়ে আসবে। চিকন হলেও সমস্যা। কালো হওয়ার বিপদ ভুক্তভোগীরাই জানেন। আর সুন্দরী হলেও মাপ নেই। আমরা চিন্তাও করতে পারি না, অপরের দিকে মুখ নিঃসৃত যে শব্দ বেরিয়ে যাচ্ছে তার প্রতিক্রিয়া কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ বছরের কিশোর আজওয়াদ আহনাফ করিমের মৃত্যুর খবর আমরা দেখেছি। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আমাদের হতবাক করেছে। Continue reading

উপমহাদেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী বিভ্রান্তি

শিল্পীর আঁকা পলাশি যুদ্ধের চিত্র

মূল: অমর্ত্য সেন

ভারতে ব্রিটিশ শাসন শুরু হয় ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে। যুদ্ধটা ছিল সংক্ষিপ্ত, প্রত্যুষে শুরু হয়ে সূর্যাস্তের ক্ষণে শেষ। পলাশি অবস্থিত কলকাতা ও মুর্শিদাবাদের মাঝামাঝি পর্যায়ে। আম্রকাননে অনুষ্ঠিত ওই যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনী নবাব সিরাজউদ্দৌলা সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয় এবং তার বাহিনীকে পরাজিত করে। তারপর ব্রিটিশরা প্রায় দুইশ বছর রাজত্ব করে। এত দীর্ঘ সময়ে তারা ভারতে কী অর্জন করে? আর তাদের ব্যর্থতাই বা কী?

১৯৪০-এর দশকে আমি যখন পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রাগ্রসর স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন এসব প্রশ্ন আমাদের আলোচনায় এসেছিল। এখনও সে প্রশ্নের গুরুত্ব শেষ হয়ে যায়নি। কেবল এ কারণে নয় যে, ব্রিটিশ রাজত্ব প্রায়ই বৈশ্বিক সুশাসনের সফলতায় এ আলোচনা সামনে আনে বরং এ কারণেও যে আজ তারা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিষয়টি দেখাতে চায়। কয়েক দশক আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনের স্কুলে এসব আলোচনায় জটিল প্রশ্নে বিরক্তই হতাম। আমরা কীভাবে গত শতকের চল্লিশের দশকে চিন্তা করতে পারতাম যে, ভারতে কখনও ব্রিটিশ শাসন ছিল না? ১৭৫৭ সালে যখন ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শুরু হয় তার সঙ্গে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের যাওয়ার সময়কার ভারতের পার্থক্য ছিল সামান্যই। যদিও একেবারে পরিবর্তন হয়নি তা নয়। কিন্তু পরিবর্তনগুলোর জবাব আমরা কীভাবে দিতে পারি?

অতীতে ভারতের ইতিহাসে বড় অর্জন হলো- দর্শন, গণিত, সাহিত্য, কলা, স্থাপত্য, সংগীত, চিকিৎসাশাস্ত্র, ভাষা ও জ্যোতির্বিদ্যা। ঔপনিবেশিক শাসনের আগে ভারতের অর্থনৈতিক অর্জন বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল। ভারতের অর্থনৈতিক সম্পদের বিষয়টি অ্যাডাম স্মিথের মতো ব্রিটিশ পর্যবেক্ষকরাও স্বীকার করেছিলেন। এসব অর্জন সত্ত্বেও ইউরোপের যে অর্জন ছিল, আঠারোশ শতকের মধ্যভাগে ভারত তা থেকে পিছিয়েই ছিল। পিছিয়ে পড়ার ধরন ও তার তাৎপর্য আমাদের স্কুলের বিকেলে বিতর্কের বিষয় ছিল। Continue reading

কৃষি বাজেটের সুফল সরাসরি কৃষকের ঘরে পৌঁছান- আবদুল লতিফ মণ্ডল

আবদুল লতিফ মণ্ডল খাদ্য সচিব হিসেবে ২০০২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে এক বছর রাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই সংবাদপত্রে বিশেষত কৃষি খাতের নানাদিক নিয়ে লিখছেন নিয়মিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আবদুল লতিফ মণ্ডল শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও সিএসপি অফিসার হিসেবে সিভিল সার্ভিসে প্রবেশ করেন স্বাধীনতারও আগে। তিনি রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

সমকাল: বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষি খাতকেন্দ্রিক হলেও জাতীয় আয়ে কৃষি খাতের অবদান সেই অর্থে কম। বাজেটেও কি এর প্রভাব রয়েছে?

আবদুল লতিফ মণ্ডল: কৃষি খাতের অবদান জাতীয় আয়ে একেবারে কম নয়। এটা ঠিক, স্বাধীনতার পর জিডিপিতে কৃষির অবদান অনেক বেশি ছিল। তার কারণ তখনও অন্যান্য খাত সেভাবে বিকশিত হয়নি। ধীরে ধীরে অন্যান্য খাত বিশেষত শিল্পের বিকাশে কৃষির অবদান কমেছে। তবে মনে রাখতে হবে, কৃষি খাত অনেক বড় বিষয়। এর সঙ্গে শস্য, মৎস্য, বন এমনকি প্রাণিসম্পদও অন্তর্ভুক্ত। জিডিপিতে কৃষির অবদান ২০ শতাংশের নিচে নেমে এলেও বাজেটে কৃষি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না তা কিন্তু নয়।

সমকাল: কৃষি কীভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে?

আবদুল লতিফ মণ্ডল: আমরা দেখেছি, দেশের সব বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ ছিল। প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যন্ত সব পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও কৃষিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যথাযথভাবে। মনে রাখা দরকার, শিল্পের অগ্রগতিতে কৃষি খাতে জিডিপিতে অবদান কমলেও কৃষিই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষি আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। দেশের মোট কর্মসংস্থানের অন্তত ৪০ শতাংশ কৃষিকেন্দ্রিক। এমনকি আমরা যদি হিসাব করি, দেখা যাবে অন্যান্য খাতও কৃষির ওপর প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত। যেমন হোটেল-রেস্তোরাঁ, পর্যটন এবং অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা। Continue reading

বাংলাদেশের উন্নতি থেকে পাকিস্তানের শিক্ষা

মূল: আবিদ হাসান

বর্তমান সরকারসহ পাকিস্তানের সব সরকারই সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাপী ধরনা ধরেছে। আমরা ঋণে হাবুডুবু খাচ্ছি এবং প্রবৃদ্ধির হার একই বৃত্তে আবদ্ধ। অদূর ভবিষ্যতে এভাবেই চলবে বলে মনে হচ্ছে। কারণ, কোনো সরকারই পাকিস্তানের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের গভীরে দৃষ্টি দেয়নি। অথচ ২০ বছর আগেও এটি অকল্পনীয় ছিল- বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় পাকিস্তানের প্রায় দ্বিগুণ হবে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে দেশটি ২০৩০ সালে অর্থনীতির বড় শক্তি হয়ে উঠবে। আর পাকিস্তানের এই দুরবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ থেকে আমাদের সহায়তা নেওয়ার অবস্থা তৈরি হবে।

পাকিস্তানের এই মন্দাবস্থার দায় আমাদেরই। যদিও আমাদের নেতারা সহজেই আমাদের শত্রু এবং আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের দোষ দিয়ে থাকেন। এটা অস্বীকার করা যাবে না, আইএমএফ কিংবা বিশ্বব্যাংকের দুর্বল নীতি ও মন্দ ঋণের গভীর খাদে রয়েছে পাকিস্তান। দুর্নীতি ছাড়াও সন্ত্রাসবাদের প্রভাব রয়েছে অর্থনীতিতে। কর্মক্ষমতায় দুর্বলতার ফলে দায়িত্বহীন ও অযৌক্তিক নীতি এবং উদ্যমহীন সংস্কার করা হচ্ছে। বেপরোয়া নীতির দুটি উদাহরণ হলো :জাতীয় ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থের অধিক সরকারি ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় অনেক বেশি আমদানিনির্ভরতা বাইরের ঋণও বাড়িয়ে তুলছে।

নানা দিক থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সাযুজ্য থাকায় বাংলাদেশের সাফল্য একটি ভালো উদাহরণ। একই ধর্ম, কাজের ক্ষেত্রে নৈতিকতায় ঘাটতি, নোংরা রাজনীতি, সুশাসনের অভাব, দুর্বল জনপ্রশাসন ব্যবস্থা, দুর্নীতি ও অভিজাতদের তোষণের নীতিতে দুই দেশের অবস্থান প্রায় সমান হলেও বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। গত ২০ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়েছে কয়েক গুণ। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় যেখানে দুই হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার, সেখানে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় মাত্র এক হাজার ১৯০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য অর্জন আর পাকিস্তানের দুর্যোগের পেছনের গল্প কী? Continue reading

কর্মক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীর বৈশ্বিক সংকট

কর্মজীবী নারীর গর্ভধারণকাল নিয়ে চাকরির জটিলতার চিত্র বিশ্বব্যাপী প্রায় অভিন্ন। এমনকি বিশ্বের ৩৮টি দেশে গর্ভবতী নারীর চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে। ১৩ মে বিশ্বব্যাংকের ব্লগে প্রকাশিত ‘ইন থার্টি এইট কান্ট্রিস উইম্যান ক্যান স্টিল বি ফায়ারড ফর বিয়িং প্রেগন্যান্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি শুরু হয়েছে ইতালির ভলিবল খেলোয়াড় লারা লাগলির চাকরিচ্যুতির ঘটনা দিয়ে। লারার ঘটনা ইতালির আদালত থেকে সিনেট পর্যন্ত গড়ায়। বিশ্বব্যাংকের মতে, কর্মজীবী গর্ভবতী নারীর এমন সংকট চীন, গ্রিস, যুক্তরাজ্য এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও রয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ তথা সিডো সনদ অনুযায়ী নারীর গর্ভধারণ কিংবা সন্তান জন্মদানের কারণে চাকরিচ্যুতিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নারী কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্যের স্বীকার হলে কিংবা অবৈধভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হলে অধিকাংশ দেশেই আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক বলছে, বিশ্বের অন্তত ২০ শতাংশ অর্থনীতিতে গর্ভধারণের কারণে নারী চাকরিচ্যুত হলেও তার আইনের আশ্রয় নেওয়ার কোনো অধিকারই নেই। যেখানে নারীর আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে, সেখানেই কর্মজীবী গর্ভবতী নারী হেনস্তার শিকার হন আর যেখানে সেই অধিকারই নেই, সেখানকার অবস্থা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

নারীর গর্ভধারণের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক অনেক বিষয় জড়িত, যেগুলোর প্রভাব রয়েছে কর্মক্ষেত্রেও। গর্ভকালে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম, বিশেষ যত্ন, খাদ্য ও পুষ্টি পাওয়া এবং তার চেয়েও বড় বিষয় মানসিক সমর্থন। কর্মক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতিসহ গর্ভধারণের কারণে অন্য ধরনের বৈষম্যও দেখা যায়। যেমন ধরা যাক, গর্ভবতী কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি আটকে দেওয়া, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কাজের অ্যাসাইনমেন্ট না দেওয়া, মাঝে চিকিৎসককে দেখানোর জন্য ছুটি না দেওয়া। অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সহমর্মিতামূলক আচরণ না করে বিপরীতমুখী ব্যবহারে গর্ভবতী নারী ভেঙে পড়তে পারেন। তাতে ওই নারীই নন বরং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গর্ভের সন্তানও। Continue reading

শিক্ষার্থীদের বারোটা বাজানোর কত দেরি

ডিসেম্বরে (২০২০) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খোলার আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা

করোনা দুর্যোগের প্রভাব সব খাত কাটিয়ে উঠতে পারলেও শিক্ষা খাত পিছিয়ে থাকার পেছনে প্রশাসনের দায় কম নয়। গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কিছু স্তরে সম্ভাব্য পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের ফল নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে অটোপাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতেও উঠেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা সম্পন্ন করছে। সে বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, শুধু পিছিয়ে আছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে সত্য। কিন্তু অনলাইনে পরীক্ষা না হওয়ায় সেশনজটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। খুবই আশ্চর্যের বিষয়, অনলাইনে ক্লাস হলে পরীক্ষা কেন হতে পারবে না? এখন ১৪ মাস পর এসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে!

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনার প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি ছিল না বললেই চলে। বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তারা শিক্ষা নেয়নি। অজুহাত হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। যদি অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়, তবে পরীক্ষা কেন হতে পারবে না!

প্রশ্ন শুধু অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কিংবা পরীক্ষা নিয়ে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবাসিক হল খোলা নিয়েও প্রশাসনের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার খেসারত শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে। Continue reading

বিজেপির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছি-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচনে জয়লাভ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া টুডের মুখোমুখি হন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি তার নির্বাচনী লড়াইয়ের পথপরিক্রমা, রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং করোনা প্রসঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজদ্বীপ সরদেশাই। ইংরেজি থেকে ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক

ইন্ডিয়া টুডে: শুরুতেই আপনাকে অভিনন্দন জানাই। আপনি কি এমন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয় আশা করেছিলেন? এবার এমনকি ২০১৬ সালের নির্বাচন থেকেও বেশি ভোট পেয়েছেন…

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: দেখুন, আমার টার্গেট ছিল ২২১টি আসন পাওয়া। কারণ এখন ২০২১ সাল চলে, তাই সিম্বলিক হিসেবে ২২১। এবার নির্বাচন কমিশন যে আচরণ করেছে, তা ছিল ভয়ংকর। কেন্দ্রীয় সরকারসহ সব এজেন্সিও আমাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলকভাবে কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা আমাদের জন্য কাজ করেছে এবং তাদের কারণেই আমরা যুদ্ধে জয়লাভে সক্ষম হই। মাঠে তারাই ছিল আমাদের যোদ্ধা। করোনা-দুর্যোগের এ সময়ে আমরা কোনো ধরনের বিজয় উৎসব পালন করিনি। আমরা করোনা রোগীদের জন্য কাজ করছি। দেশের সবাইকে টিকা দেওয়ার জন্য আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে আহ্বান জানাই। তারা যদি এটি না করে, তাহলে আমি অহিংস আন্দোলনে নামব। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য হবে এ আন্দোলন।

ইন্ডিয়া টুডে: আপনি বললেন, আপনার টার্গেট ছিল ২২১। এমন আত্মবিশ্বাস আপনি কীভাবে পেলেন। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, বিজেপি এবার খুব আগ্রাসী প্রচারণা চালায়। অনেকে বলেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ব্যাকফুটে আছে। এরপরও এমন আত্মবিশ্বাসের হেতু কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি শুরু থেকেই বলে আসছিলাম, আমরা ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করব। আর বিজেপি ৭০ আসনের বেশি পাবে না। নির্বাচন কমিশন যদি এভাবে তাদের সহায়তা না করত তারা ৫০টির বেশি আসন পেত কিনা সন্দেহ। আমাদের কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের ব্যালট নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের অভিবাদন জানাই। তারাই পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের জন্য লড়াই করেছেন। আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে হবে। আমি আমার জন্মভূমিকে ভালোবাসি। ভালোবাসি পশ্চিমবঙ্গকে। পশ্চিমবঙ্গ গোটা দেশকে পথ দেখাবে।

ইন্ডিয়া টুডে: আপনার ভূমিধস বিজয় আমরা দেখছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের হিসাবে নন্দীগ্রামে আপনি হেরেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আসলে এটা হারা নয়। সেখানে আবার ভোট গণনার দাবি জানিয়েছি আমরা। নির্বাচন কমিশন ইভিএম মেশিনে কারসাজির চেষ্টা করেছে। অভিযোগ পেয়ে একটি বুথে আমি প্রায় তিন ঘণ্টা বসে ছিলাম। আমাদের ভোটারদের অনেককেই ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। নন্দীগ্রামে আসলে একটি ষড়যন্ত্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ষড়যন্ত্র। তাই আমি শুরু থেকেই ভোট পুনরায় গণনার কথা বলেছি। যাতে সেখানে কী ঘটেছে, তা জনগণ জানতে পারে। Continue reading

মোদি সরকার টিকা নিয়ে বৈষম্য করছে-সোনিয়া গান্ধী

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী সম্প্রতি করোনাদুর্যোগ, টিকা ও সেখানকার সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে দেশটির জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দুর সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক সন্দ্বীপ ফুকান। ইংরেজি থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক।


দ্য হিন্দু: করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত। সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভারতে সবচেয়ে বেশি জনস্বাস্থ্য সংকট স্পষ্ট। এ সংকটের জন্য দায় কার?

সোনিয়া গান্ধী: ভারতের এ জাতীয় বিপর্যয়ে আমার মনে হয় একটি সম্মিলিত ব্যাপক প্রচেষ্টা দরকার। আমাদের একসঙ্গে কাজ করে প্রয়োজনীয় সব জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে যত দ্রুত সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তবে এটা বলতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক মাস আগে করোনা নিয়ন্ত্রণের এক অকালপকস্ফ বিজয় উদযাপন করেছিল। সেখানে বাস্তবতা ছিল উপেক্ষিত। এমনকি সংসদীয় কমিটি করোনার প্রস্তুতির জন্য যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলোও আমলে নেওয়া হয়নি। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ভারত ও বিশ্বের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য দেশের অবস্থার আলোকে আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, কী ঘটতে পারে। অথচ আমরা তাতে কর্ণপাত না করে প্রগল্‌ভ অহংকার আর আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি। করোনা সংক্রমণের প্রভাবের কথা চিন্তা না করেই ভাইরাসটি আরও ছড়ানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

দ্য হিন্দু: এখন তাহলে করণীয় কী?

সোনিয়া গান্ধী: এখন ব্লেম গেম খেলার সময় নয়। বরং আমাদের করণীয় হলো, মানুষের জীবন রক্ষা করা। মানুষের বেদনা উপশম করা। আমাদের লাখ লাখ নাগরিকের দুর্ভোগ লাঘব করা। অক্সিজেন সংকট দূর করা। জরুরি ওষুধ এবং হাসপাতালে আসনের ব্যবস্থা করা। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসও সব রাজ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। আমরা যেভাবে পারছি, এ সহযোগিতা করে আসছি।

কৃতিত্ব নেওয়া বা এটা প্রচারের সময় এখন নয় যে, আমরা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কী করছি। কোনো ধরনের প্রচারণা পাওয়ার আশা ছাড়াই কাজ করার সময় এখন। আমি এখানে ধন্যবাদ দিতে চাই, বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যারা গত কয়েকদিন ধরে আমাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।

তবে এটা সত্যিই বেদনাদায়ক, সরকার এখনও অগ্রাধিকারের বাইরে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প। বেহুদা এখন প্রকল্পটি নির্মাণের কাজ চলছে। তবে যেসব সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগ ত্রাণসহ অন্যান্য সাহায্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রশংসা করতেই হবে। একই সঙ্গে আমাদের সম্মুখযোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মীবৃন্দ যারা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিচ্ছে, তাদের ঋণ শোধ করার মতো নয়।

দ্য হিন্দু: সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং টিকা নিয়ে ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী এবং আপনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু পরামর্শ দিয়ে চিঠি লিখেছেন। তার সমালোচনাও রয়েছে। বলা হচ্ছে, কংগ্রেস সংকট নিয়ে রাজনীতি করছে। Continue reading

মন খারাপের ডায়েরি

রাজধানীর পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাননি রায়হানের মা। অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান!

প্রতিদিন বিপর্যয়ের নতুন রেকর্ড আমাদের মন ভেঙে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা দেয়ালে রায়হানের অসহায় অর্তনাদের ছবি দেখে কে-ই বা নিজেকে ধরে রাখতে পারে! রাজধানীর পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাননি রায়হানের মা। অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান! গত বছর করোনা সংক্রমণের পর থেকেই এমন অসহায় দৃশ্য আমরা দেখে আসছি। এবারের পরিস্থিতি যে আরও নাজুক; এক সপ্তাহের চিত্রেই তা স্পষ্ট। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল ২০২১) সর্বোচ্চ ৬৬ জনের মৃত্যু ও ৭ হাজার ২১৩ জনের সংক্রমণের খবরের হিসাব মেলাতে যখন সবাই ব্যস্ত; পরদিন বুধবারই সেই হিসাব ভেঙে আমরা দেখেছি, নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত ৭ হাজার ৬২৬ জন। করোনাকালে বাংলাদেশে এটাই এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এভাবে পরিসংখ্যান আমাদের কতদূর নিয়ে যাবে, জানি না।

আমরা ভাবছিলাম, করোনা জয় করে আমরা বুঝি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি। সবার টিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিগগিরই বাংলাদেশ বুঝি করোনামুক্ত হয়ে যাবে। বছরব্যাপী বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখও ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু মাসখানেক ধরেই আমরা দৃশ্যপট পাল্টে যেতে দেখলাম। করোনা সংক্রমণের উল্লম্ম্ফন। হঠাৎ সংক্রমণ আর মৃত্যুহার বাড়তে থাকে। এমনকি তা গত বছরের রেকর্ডও ভেঙে দেয়। নতুন রেকর্ড হয়, পুরাতনটা ভাঙে। সপ্তাহখানেক ধরে এই ভাঙা-গড়ার খেলাই চলছে। আর তার পেছনে ঘটে চলেছে কত মানবিক-অমানবিক গল্প! কোনো গল্প সংবাদমাধ্যমে আসে; ইন্টারনেটের কল্যাণে ভাইরাল হয়; আর কোনো গল্প চোখের আড়ালেই থেকে যায়।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ‘স্বাস্থ্য’। অথচ আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন হযবরল, স্বাস্থ্যবিধিও তথৈবচ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা নাজুক; এ ভাইরাসের সংক্রমণ না হলে মনে হয় তা এতটা স্পষ্ট হতো না। Continue reading

প্রচলিত উন্নয়ন কৌশলের কারণে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে-ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পিপিআরসির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান। দীর্ঘ সময় তিনি বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইউএসএইড, জাইকাসহ বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষার্থী হোসেন জিল্লুর রহমান পিএইচডি করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে। ১৯৫১ সালে চট্টগ্রামে তার জন্ম।


সমকাল: যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ, যাকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলা হয়েছে। সেখান থেকে আমাদের উত্তরণ কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: বাংলাদেশের শুরুর কথা চিন্তা করলে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত, আপনি যেটা বললেন, বিদেশিরা কী বলেছে, অর্থাৎ তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা ইত্যাদি। আরেকটা হলো, আমরা কী স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং সেখান থেকে কতদূর এগোলাম। তলাবিহীন ঝুড়ির প্রশ্নে আসি- এ অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। বাংলাদেশের যে বহুমুখী পরিবর্তন হয়েছে, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। দুর্যোগপ্রবণ দেশে আগে দুর্যোগ হলে আমরা ভেঙে পড়তাম। এখন ভেঙে পড়ি না, বরং দাঁড়াতে শিখেছি। আমাদের সবদিক থেকে সক্ষমতা বেড়েছে। যদিও উপরি কাঠামোতে নানা পালাবদল ঘটেছে।

সমকাল: উপরি কাঠামো বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: উপরি কাঠামোতে পরিবর্তন মানে আমরা রাজনৈতিক নানা পরিবর্তন দেখেছি। সামরিক শাসন দেখেছি; ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখেছি। এখানে নানা টানাপোড়েন হলেও দেশের অর্থনীতি কিন্তু ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে। Continue reading