উইকিপিডিয়ায় বাংলা কেন পিছিয়ে

বিনামূল্যে সবার জন্য তথ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনলাইন জ্ঞানভান্ডার হিসেবে ২০০১ সালে উইকিপিডিয়ার যাত্রা শুরু হয় মার্কিন ইন্টারনেট উদ্যোক্তা জিমি ওয়েলসের হাতে। অনলাইনে কেউ যখন কোনো তথ্য ও তত্ত্বের অনুসন্ধান করেন, কোনো কিছু জানতে চান, তখন শুরুতেই যে বিশ্বকোষ আলাদিনের চেরাগের মতো কোনো উত্তর হাজির করে সেটিই উইকিপিডিয়া।

অবশ্য এতে উপস্থাপিত নিবন্ধের তথ্য কোনো কোনো সময় বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করে। কারণ উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার হওয়ায় অনেকে উইকিপিডিয়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্যও যুক্ত করে থাকেন- যা যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনার আগেই অনেক অনুসন্ধানকারীর কাছে পৌঁছে যায়।

উইকিপিডিয়ার বাংলা সংস্করণ হিসেবে বাংলা উইকিপিডিয়া ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রথম যাত্রা শুরু করে। এর আগে ২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তৎকালীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহ আসাদুজ্জামান বাংলায় উইকিপিডিয়া তৈরির অনুরোধ করে জিমি ওয়েলসের কাছে প্রথম ই-মেইল করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত এতে নিবন্ধ যুক্ত হয়েছে এক লাখ চার হাজার ১৪৭টি; যেখানে বাংলা ভাষাভাষী রয়েছেন ২৩ কোটি। নিবন্ধের সংখ্যার হিসাবে উইকিপিডিয়ার ৩০৩টি ভাষার মধ্যে বাংলা উইকিপিডিয়ার অবস্থান ৬৮-তে। ২০২০ সালে সারাবিশ্ব থেকে ২৯ কোটি ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯৩ বার এই উন্মুক্ত বিশ্বকোষে অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে পড়া হয়েছে সাত লাখ ৯৪ হাজার ৬৩০ বার।

উইকিস্ট্যাটস অনুযায়ী, উইকিপিডিয়ায় ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬৪টি নিবন্ধ রয়েছে। নিবন্ধের সংখ্যার দিক থেকে উইকিপিডিয়ায় উপমহাদেশীয় ভাষা উর্দু সবার ওপরে- সম্মিলিত তালিকার ৫৪তম স্থানে। উপমহাদেশে হিন্দি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে এবং সম্মিলিতভাবে ৫৭তম স্থানে। সম্মিলিত তালিকায় ৬১তম স্থানে থাকা তামিলেরও পরে ৬৮তম স্থানে অবস্থান করছে বাংলা ভাষা। অথচ তামিল ভাষাভাষীর সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি।

উইকিপিডিয়ায় নিবন্ধের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিলিপাইনের সিবুয়ানো ভাষা। এ ভাষার ব্যবহারকারী প্রায় দুই কোটি, নিবন্ধ সংখ্যা ৫৫ লাখ। কিন্তু ভাষাভাষীর দিক থেকে বাংলা পঞ্চম ভাষা হলেও নিবন্ধ ও ব্যবহারকারীর দিক থেকে বাংলা উইকিপিডিয়ার অবস্থান বেশ দূরে। Continue reading

মাওলানা আজাদ : শিক্ষা আন্দোলনের অগ্রপথিক

শিক্ষা বিস্তারে উজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণে রেখে প্রতি বছর মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জন্মদিন (১১ নভেম্বর) সমগ্র ভারতে ‘জাতীয় শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। যদিও মাওলানা আজাদের খ্যাতি শিক্ষার চেয়েও রাজনীতিতে বিস্তৃত হয়েছে বেশি। তিনি আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’-এর উৎসর্গে লিখেছেন ‘ফর জওহরলাল নেহরু ফ্রেন্ড অ্যান্ড কমরেড’। বলাবাহুল্য, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ও স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সঙ্গে কেবল তার বন্ধুত্বের সম্পর্কই ছিল না, একই সঙ্গে উভয়ই ছিলেন একই আন্দোলনের সহযোদ্ধা। এমনকি নেহরুর মন্ত্রিসভার মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

আনন্দবাজার পত্রিকা তার অবয়ব এভাবে বর্ণনা করেছে, ‘ছিপছিপে চেহারায় রোদচশমা চোখে, কালো টুপি আর ধোপদুরস্ত পোশাক’। আমরা তাকে দেখি মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে। তিনি ১৯১৯ সালে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে মাহাত্মা গান্ধীর অহিংস মতবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে অসহযোগ আন্দোলন সংঘটনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৩ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মাওলানা আজাদ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে সভাপতি নির্বাচিত হন।

মাওলানা আজাদের সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও রাজনীতি সমানতালে চলেছে। এর মধ্যেও তিনি শিক্ষাচিন্তা সযতনে লালন করেছেন। ২০১৫ সালে প্রকাশিত ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার ফ্রাইডে রিভিউতে ‘মাওলানা অ্যান্ড মাও’ শিরোনামের একটি প্রবন্ধে বলা হয় মহাত্মা গান্ধী মাওলানা আজাদকে ‘দ্য এম্পেরোর অব লানির্ং’ বলে জ্ঞানের দিক থেকে প্লেটো, অ্যারিস্টটল ও পিথাগোরাসের সমমর্যাদার ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। Continue reading

বাংলা ভাষার দুর্দশায় তরুণ প্রজন্ম একা দায়ী নয়-অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান

বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা শামসুজ্জামান খান বিভিন্ন সময় মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক এবং সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারও লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ সালে মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

সমকাল: আপনি সম্প্রতি প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে বলেছেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেই বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি বিস্তারিত বলবেন?

শামসুজ্জামান খান: হ্যাঁ, আমি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক সেমিনারে বিষয়টি বলেছি। আমি তথ্যটি পেয়েছি কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকা থেকে। ৭ জুলাই ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘কয়েক দিন পরই পাকিস্তান প্রতিভাত হবে। শুনতে পাচ্ছি, পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। যদি তাহাই হয় তাহলে ১৯৪০ সনের লাহোর প্রস্তাবের আলোকে আমাদের পূর্ব বাংলায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ফিরিয়া যাইতে হইবে।’ বঙ্গবন্ধু উপর্যুক্ত বক্তব্য দিয়েছিলেন তার মাত্র ২৭ বছর বয়সে। অর্থাৎ তিনি যুক্তিপূর্ণ ভাষায় বাঙালি জাতিসত্তা ও তার মৌল উপাদান বাংলা ভাষার অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য পূর্ব বাংলায় স্বাধীন স্টেট করার কথা ভেবেছিলেন। বাস্তবেও অবস্থা যখন তেমনি গড়াল, তখন পাকিস্তানি সামন্ততান্ত্রিক দুঃশাসন ও স্বৈরাচার থেকে মুক্তির লক্ষ্যে স্বাধীনতার দাবি তুলতে বাধ্য হয়েছিলেন। তারই ফলে আমরা একাত্তর সালে পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি।

সমকাল: এবার ভিন্ন পরিস্থিতিতে একুশে ফেব্রুয়ারি এসেছে। ভাষার মাস শুরু হলেও বাংলা একাডেমির বইমেলা হচ্ছে না। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? Continue reading

উচ্চ মাধ্যমিকের ফল নয়, ভর্তি পরীক্ষা গুরুত্ব পাক

জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো। এই প্রবাদের মতোই প্রত্যাশা থাকবে- এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা না হোক কিংবা ফল যা-ই হোক উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি ঠিকভাবে হওয়া চাই। সে লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে ৬ ফেব্রুয়ারির সমকালের প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি। কার্যত অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়ও শেষ হয়ে আসছে। এগুলো অবশ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। বস্তুত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনগুলোতে বিশেষ করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনাই বেশি আসে। অথচ শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও যেভাবে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হচ্ছে, দিনে দিনে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চশিক্ষায় প্রভাব ও ভূমিকা রাখছে; সেখানকার ভর্তিযজ্ঞের খবর এখন অনেকেরই আগ্রহের বিষয়।

সমকালের প্রতিবেদন থেকেই অবশ্য আমরা জানছি, ‘দেশের ৪৬টি সরকারি ও ১০৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পা রাখবেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী।’ এ বছর পাবলিক তথা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুখবর হলো, অধিকাংশই গুচ্ছপদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যাচ্ছে। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের মতো পরীক্ষা নেবে। কিন্তু এদের কোনো প্রতিষ্ঠান এখনও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। এমনকি সংবাদমাধ্যমের তরফে আমরা জানছি, এপ্রিলের আগে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমনিতেই সবকিছু দেরি হয়ে গেছে, তারপরও অবস্থার দোহাই দিয়ে এভাবে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার যুক্তি কী?

ইতোমধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই দোটানায় পড়বেন। কেউ হয়তো এখানে ভর্তি হয়ে থাকবেন, পরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলে সেখানে চলে যাবেন। অথচ প্রতিটি ভর্তিতেই খরচ ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। Continue reading

সেনা অভ্যুত্থান: রোহিঙ্গাদের জন্য দুঃসংবাদ

লেখক:  মেরভে শেবনেম ওরুচ

এ সপ্তাহে ( ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। মিয়ানমারের নেত্রী ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, সু চির বিশ্বস্ত ও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি তথা এনএলডির সদস্যদের গ্রেপ্তার করে সেনা শাসক এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রায় সব ক্যু-ই নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি’ কিংবা ‘অনিয়মের’ নামে হয়ে থাকে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, যাদের দাপ্তরিক নাম তাৎমাদো-ও একই অভিযোগ এনেছে। মিয়ানমারে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এনএলএডির ভূমিধস বিজয়, যেখানে ক্ষমতাসীন দলটি ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। তারা ২০১৫ সালের চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছে। নির্বাচনে সু চির দল ভুয়া ভোটারের অভিযোগ এনেছে। মিয়ানমারের নির্বাচনে সংসদের ৪৭৬টির মধ্যে এনএলডি ৩৯৬ আসনে জিতেছে। আর সেনাসমর্থিত দি ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) মাত্র ৩৩টি আসন পেয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগমুহূর্তেই সেখানে সামরিক অভ্যুত্থান হলো। দেশটির শক্তিশালী কমান্ডার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাবাহিনীর সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইং এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

১৯৬২ সালের পর প্রায় অর্ধশতক সামরিক জান্তার শাসন দেখেছে দেশটি। যেখানে বার্মিজ জাতীয়তাবাদী ও থেরাভাডা বৌদ্ধদের মিলমিশের শাসনে দেশটির সংখ্যালঘুরা মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হয়। সেখানে অন্তত একশ জাতিগোষ্ঠী বাস করছে। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী সেখানে ১৬টি সশস্ত্র জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করে আসছে, যাদের অনেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর অন্যরা স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন কিংবা দেশটিতে ফেডারেল সরকার চায়। Continue reading

এক বছরেই বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব- মো. সোহরাব হোসাইন

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: সাব্বির নেওয়াজ ও মাহফুজুর রহমান মানিক

মো. সোহরাব হোসাইন গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান পদে যোগদানের আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গ্র্যাজুয়েট সোহরাব হোসাইনের জন্ম ১৯৬১ সালে নোয়াখালীর চাটখিলে।

সমকাল: পিএসসির হাত ধরেই আপনার সরকারি চাকরিতে প্রবেশ। এখন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান- আপনার অনুভূতি কী?

সোহরাব হোসাইন: আমি বলব সরকারি কর্ম কমিশন তথা পিএসসির চেয়ারম্যান হওয়া আমার প্রত্যাশা ও যোগ্যতার তুলনায় বিশেষ পাওয়া। সরকার আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছে, যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তা রক্ষায় আমি সচেষ্ট থাকব। পিএসসির যে সম্মান ও জনআস্থা রয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিতে আমি সহকর্মীদের নিয়ে চেষ্টা করব।

সমকাল:  সেপ্টেম্বরে আপনি পিএসসিতে যোগ দিলেন। নভেম্বরের মধ্যে পিএসসির দুটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সামনে প্রিলিমিনারি পরীক্ষাও রয়েছে। করোনাদুর্যোগের মধ্যেও পিএসসির কাজ এগিয়ে চলেছে…

সোহরাব হোসাইন: পিএসসি কেবল বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিই দেয়নি। ইতোমধ্যে আমরা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২১৫৫ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ভাইভা নিয়েছি। আরও কয়েকটি পদের জন্যও ভাইভা নেওয়া হয়েছে। করোনায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও আমাদের বিজ্ঞ সদস্যদের সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে। আমি যখন শিক্ষা সচিব ছিলাম, তখনই এ নিয়োগের ব্যাপারে সুপারিশ করি। আমরা দেখেছি, সরকারি স্কুলগুলোতে অনেক শিক্ষকের সংকট। অনেক সময় দাপ্তরিক একজনের অতিরিক্ত কাজ আরেকজন করতে পারে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয়ে ক্লাস নেবে কীভাবে? তাই নিয়োগটা জরুরিও ছিল। ২৯ ডিসেম্বর পিএসসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে।

সমকাল:  আমরা বিসিএসের কথা বলছিলাম।

সোহরাব হোসাইন: হ্যাঁ, দুটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে ৪২তম বিসিএস বিশেষ হবে। কেবল চিকিৎসকদের জন্য। আর ৪৩তম বিসিএস সাধারণ। আমি চেয়েছি একটু আগেই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে। মানে, এমন যেন না হয় যে করোনা সংক্রমণের মধ্যে কারও বয়স ৩০ হয়ে গেল অথচ সে আবেদন করতে পারল না।

উষ্ণতার এক ফালি হাসি

রথ দেখা এবং কলা বেচা- দুটোরই ইচ্ছে ছিল আমাদের। মানে, একদিকে নিঝুম দ্বীপ দেখা, অন্যদিকে সেখানকার অসহায় শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা। চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার বা ফোরসি টিম শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে যেমন চেষ্টা করছে, তেমনি মেডিকেল ক্যাম্পসহ এসব কাজের মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছে। নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার আগেই টিম ফোরসি সেখানকার স্থানীয় শিশুদের মাঝে শীতের উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। বছরের শেষ দিনের গোধূলিতে লঞ্চটি যখন হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়, আমাদের মানসপটে তখন ভেসে ওঠে ইন্টারনেটে দেখা নিঝুম দ্বীপের মনোহর দৃশ্য আর মায়াময় কিছু শিশুর চেহারা।

নতুন বছরের প্রথম সকালে চোখ মেলেই দেখি হাতিয়া দ্বীপ। নদীর পাড়ে ভিড়েছে লঞ্চ। চারদিকে শতব্যস্ত মানুষ। আমরাও নেমে পড়লাম। সৌন্দর্যের দিক থেকে হাতিয়ার মাধুরীও কম নয়। নিঝুম দ্বীপে শিশুদের বস্ত্র দেওয়ার চাপ মাথায় নিয়েও আমরা যাওয়ার পথে হাতিয়ায় দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট দেখে ফেলি। প্রথমটি কমলার দিঘি। এখানে কেবল দিঘিই নেই, আছে মনোমুগ্ধকর সৈকত। কমলার দিঘিতে একই সঙ্গে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত আর সুন্দরবনের আমেজ পাওয়া যাবে। সেখান থেকে আমরা যাই নিমতলী সৈকতে। এরপর মোক্তারিয়া ঘাট পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত নিঝুম দ্বীপ। Continue reading

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে জো বাইডেনের এগিয়ে আসা উচিত

লেখক: ম্যাথু স্মিথ ও অ্যান্ড্রু রিলে

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা ও গণহত্যা পরিচালনা করার সময় বাংলাদেশে সাত লক্ষাধিক পুরুষ, নারী ও শিশু পালিয়ে আসে। যারা পেছনে রেখে আসে বুলেট, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ। সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে দেয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনেকের দীর্ঘ শারীরিক ক্ষত সারলেও এখনও মানসিক আতঙ্ক কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে তাদের জন্য কিছু করা উচিত।

বাংলাদেশে এখন দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বাস। তারা এক ধরনের আতঙ্ক, হতাশা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এসেছে। ফর্টিফাই রাইটসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা ৮৯ শতাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীই ভীষণ হতাশায় ভুগছে। ৬২ শতাংশ ভুগছে ট্রমা-পরবর্তী বিষণ্ণতায়। এই চরম হতাশা কোন দিকে মোড় নেবে?

মিয়ানমারে চলমান গণহত্যা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশবিশেষ। অপরাধ সংঘটিত করেও সেখানে দায়মুক্তির ব্যবস্থা রোহিঙ্গাদের মানসিক অবস্থার ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলছে। ট্রমা নিয়ে গবেষণা হয় সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে ফোকাস করে। তা হলো- কোনো দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, প্রিয় কোনো মানুষের মৃত্যু কিংবা কোনো সহিংস আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া। তবে এর মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে দীর্ঘমেয়াদে শরণার্থীদের ওপর পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে সৃষ্ট ট্রমার যথাযথ আলোচনা নেই।
Continue reading

টিকা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলুক- ড. ছিদ্দিকুর রহমান

ড. ছিদ্দিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হিসেবে ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউনিসেফসহ দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ও ১৯৮২ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট ডক্টরেট অর্জনকারী ছিদ্দিকুর রহমান কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন

সমকাল: করোনা দুর্যোগের প্রভাব শিক্ষা খাত কতটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বলে আপনি মনে করেন?

ছিদ্দিকুর রহমান: গত বছরের মার্চ মাসে দেশে যখন প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়, স্বাভাবিকভাবেই সবার মধ্যে একধরনের আতঙ্ক ছিল। আমরা দেখেছি, একে একে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। লকডাউনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর ধীরে ধীরে সব খুললেও এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু হয়নি। এখন বলা চলে সবই প্রায় স্বাভাবিক। হাট-বাজার, কল-কারখানা, অফিস-আদালত, পরিবহন- কোনো কিছুই বন্ধ নেই। দীর্ঘ সময় শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকার ফলে আমাদের শিক্ষার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

সমকাল: করোনার এ সময়ে অনলাইনসহ নানাভাবে দূরবর্তী শিখন কার্যক্রম আপনি দেখেছেন নিশ্চয়ই। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

ছিদ্দিকুর রহমান: বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনলাইন কিংবা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে দূরবর্তী শিখন কার্যক্রমের বিকল্প ছিল না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশই কেবল এর মাধ্যমে শেখার সুযোগ পেয়েছে। অধিকাংশই সে সুযোগ পায়নি। তার ওপর শিশুদের জন্য সশরীরে শিক্ষাঙ্গনে উপস্থিত থেকে শেখা আর অনলাইনে শেখা এই দুইয়ের মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে।

সমকাল: শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে দেখছেন?

ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার জন্য অটোপাসের সিদ্ধান্ত যথোচিত বলে আমি মনে করি না। Continue reading

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে চল্লিশের দশকের সাম্প্রদায়িকতা ফিরিয়ে আনতে চায়-অমর্ত্য সেন

অমর্ত্য সেন নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ। সম্প্রতি তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সঙ্গে অনলাইনে ও পিটিআইর সঙ্গে ই-মেইলে সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন। সেখানে তার বাড়ির সীমানা, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন, বিজেপির রাজনীতি ও ভারতের কৃষক আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার দুটি ঈষৎ সংক্ষেপে ইংরেজি থেকে ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক

আপনার শান্তিনিকেতনের বাড়ি ‘প্রতীচী’র সীমানায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ঢুকে গেছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

অমর্ত্য সেন: আসলে এ ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি অর্থনীতির কথা বলতে পারি। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট আমরা দেখছি। এর মধ্যে আমার বাড়ি নিয়ে কী বলব? ৮০ বছর আগে ওই জায়গাটি লিজ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। এখন এসে বলা হচ্ছে, লিজে সমস্যা আছে। লিজের বাইরেও আমার বাবা আরও কিছু প্লট কিনেছিলেন। তারা যে জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে, তার আগে আমাকে কোনো চিঠি দেয়নি। আমার সঙ্গে কোনো কথাও বলেনি।

তার মানে আপনি বলতে চাইছেন, আপনার বাড়ি ‘প্রতীচী’র ব্যাপারে এত বছরেও বিশ্বভারতী কোনো লিগ্যাল নোটিশ বা চিঠি দেয়নি বা কোনোভাবে জানায়নি?

অমর্ত্য সেন: না। আমার বাবা মারা গেলেন। এর পর আমার মা। লিজ নিয়ে তাদের সঙ্গে অনেক আগে কথা হয়েছে। স্বাভাবিক কথাবার্তা। তারা মিডিয়াতে বলেছে, আমি আরও অনেক জমি নিয়েছি। জমির ব্যাপারে কোনো সমস্যা নেই। কারণ এর সব কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারা আমার সঙ্গে কথা না বলে মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। শান্তিনিকেতনের নিজস্ব ঐতিহ্য ও উপাচার্যের আচরণের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারতাম। কারণ, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ওপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত হয়েছেন। বিজেপি আমাকে মানুষ হিসেবে নীচু করছে। সত্যটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভালো করেই জানে। সামনে নির্বাচন আসছে। এর মধ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়ানোর এজেন্ডা থাকতে পারে। ১৯৪০-এর দশকে আমরা ঢাকা ও কলকাতায় বাংলার সাম্প্রদায়িকতার কদর্য রূপ দেখেছি।

আপনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। তিনি আপনাকে সমর্থন করেছেন। এমনকি আপনাকে একটি চিঠিও লিখেছেন।

অমর্ত্য সেন: যারা আমার প্রতি সমবেদনা প্রদর্শন করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আমাকে যে চিঠি দিয়েছেন, তা আমাকে স্পর্শ করেছে। তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। Continue reading